কোনো কবিই অনন্তকাল মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত থাকেন না। সমস্ত লেখকের রচনাকেই মহাকাল এক দিন গ্রাস করে নেয়। সুতরাং আমার লেখা স্থায়ী হ'বে না, অামি জানি। আমার মৃত্যুর এক দিন পরে আমার লেখা কেউ পড়বে কিনা সন্দেহ। এমন একটি জ্বলন্ত সত্য মাথায় রেখে এই মুহূর্তে আমি লিখব না, তা কিন্তু হয় না। কারণ আমার কাছে আজ সত্যি, এই মুহূর্তের যন্ত্রণা ও ভালোবাসা সব সত্যি। লেখার মধ্যে বাস্তবের সংস্পর্শ থাকতেই হবে। যুগ যেমন, স্থির বা অস্থির, কবিতা-গল্পের মধ্যে তার প্রতিফলন না পড়লে সেটা বাস্তব ঘেঁষা সাহিত্য নয়। তবে পাঠ করার সময় সমস্ত কিছুই পড়লে ভালো। অতীতের ভালো ভালো লেখাও যত সম্ভব পড়তে হ'বে। ক্লাসিক ... ...
উড়ুক্কু কথা শুভশ্রী রায় ওই শোন ওই শোন উড়ে যায় কথা, সবাই ছোট ছোট উড়ুক্কু কথার পেছনে, ধরে আন ভর কানে, শোন মজা করে; আরেকটু মশলা দিয়ে উড়িয়ে দে ওপরে! কত কথা না মাথা, নেই কোনো যুক্তি, গুজব ওড়াউড়ি করে এখানে ওখানে, ফিসফিস ফুসফুস শুনে করি দিলখুশ! যারা কান দেয় না তাদের আছে নাকি হুঁশ? ... ...
সম্প্রতি বর্ধমানে এক আদিবাসী তরুণীকে খুন করা হয়েছে। খুনের কারণ যত দূর জানা যাচ্ছে, প্রাক্তন প্রেমিকের প্রতিহিংসা। তরুণী সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন যা তাঁর প্রেমিকের গোঁসার কারণ। সেই গোঁসা বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছে গেল যে তিনি প্রাক্তনকে খুন করে দিলেন। এই ঘটনা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের তবে এমন অপরাধ এ দেশের গ্রাম, মফস্বল, বড় বড় শহর থেকে প্রায়ই কাগজের শিরোনাম হয়। ব্যাপার হ'ল- প্রেম-ভালোবাসার ... ...
আজ সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রুশনার ভয় লাগছে। সঙ্গে ভীষণ অস্বস্তি। মা গত দু' দিন ধরে মামাবাড়ি। দিদিমার অসুখ। তবু আজ সকাল সাতটা থেকে ন'টার ভেতরে মাকে চারবার মোবাইলে ফোন করেছিল। একবারও পায়নি। মা রিং ব্যাক করেনি মানে সম্ভবত আজ সকাল থেকে দিদার বাড়াবাড়ি হয়েছে। তাই ফোন ধরছে না। দু' বাড়ির ল্যান্ডফোন সংযোগ সেই কবে কেটে দেওয়া হয়েছে।এ দিকে আজ দু'টো থেকে তার স্কুলের পরীক্ষা। কত কষ্ট করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে সে। এখন যদি স্কুলেই যেতে না পারে তাহলে! তার বারো বছরের শরীরটা ভয়ে আশঙ্কায় কুঁকড়ে উঠছে। আজ ভোর থেকে তার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে কিন্তু বাড়িতে ব্যবস্থা নেই। ... ...
সারা জীবন আমরা প্রত্যেকেই অসংখ্য পরীক্ষা দিই। চলার পথে একেকটা বাধা আসে, সেই বাধাকে হারিয়ে দেওয়া অবশ্যই পরীক্ষা ছাড়া কিছু নয়। তার ওপর একটা বাধা এল আর সেটার সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয়ে বাকি জীবনটা আনন্দে কাটিয়ে দিলাম, এমন তো নয়। একটার পর একটা বাধা আসে, পরপর অসুবিধা আর সমস্যা। কোনোটা বড় মাপের, কোনোটা ছোট। প্রতিটি বাধার সঙ্গে লড়তে হয়। বারবার পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষার এই ধারাবাহিকতা জীবনের ... ...
অনেকের পরিষ্কার পরিষ্কার বাতিক থাকে। সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি লোকের চোখে পড়ে যায় বৈকী! ঘরের লোকজনকে বইতে ও সইতে হয়। আর বাইরের লোকজনকে চিরাচরিত ব্যাপার, কইতে হয়। এ সব কথা ছড়াতে সময় লাগে না।আমার মা যখন এম এ ক্লাসের ছাত্রী তখন অদ্ভুত চরিত্রের এক বন্ধুর সংস্পর্শে এসেছিল। এই বন্ধুটা মফস্বলের মেয়ে, কলকাতায় হোস্টেলে থেকে এম এ পড়ত। বাইরের জিনিস সম্পর্কে তার মারাত্মক ছুঁচিবাই ছিল। বাড়ির থেকে চিঠি এলে কাঠি দিয়ে সেই চিঠি ধরত। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলত, বাইরে কত লোকের হাত পেরিয়ে এসেছে, ও চিঠিতে অনেক জীবাণু। হাত দিয়ে ধরা যায় নাকি?আমাদের অতি পরিচিত এক ভদ্রমহিলার মারাত্মক পরিষ্কার পরিষ্কার বাই ছিল। ... ...
অনেকেই আজকাল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট পরকীয়াকে বৈধ বলে রায় দিয়েছে। এবার নাকি সমাজ রসাতলে যাবে। এমন কথা কিন্তু যুক্তিসঙ্গত নয়। শীর্ষ আদালত পরকীয়া নিয়ে ঠিক কী বলেছে, এখানে আমরা সেটাই একটু আলোচনা করব। প্রসঙ্গক্রমে আরো কিছু কথাও বলব। সবার আগে বলি, শীর্ষ আদালত পরকীয়াকে বৈধ বলে ঘোষণা করেনি। ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ আদালত ️ব্রিটিশ আমলের যে আইনটাকে বাতিল করে, সেটাতে কী বলা হয়েছিল আগে দেখা যাক। সেখানে বলা হয়েছিল, একটি বিবাহিত পুরুষ ... ...
কার গায়ে কাদা ছুঁড়তে আপনার বা আপনাদের ভালো লাগে, কেন ভালো লাগে সেটা আপনাদের ব্যাপার। যাদের গায়ে আপনারা কাদা ছুঁড়ছেন, সে বা তারাই আগে শুরু করেছিল, এমন কথাবার্তা অর্থাৎ আপনাদের কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ইতিহাস জানতেও আমার আগ্রহ নেই। আমার জীবনটা তো আমার। আমার নিজের দেশের প্রতি আমার টান, নিজের রাজ্যের প্রতি আমার ভালোবাসা একান্ত ... ...
দুই দুষ্টু খরগোশ মিলে আমার পুরনো মাথার বালিশটা ছিঁড়ে কুটিকুটি করে দিয়েছে। মাথায় দেওয়া যাচ্ছে না। চেনা ধুনুরির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য গত এক মাসে তেজী বৌদিকে অনেকবার বলছিলাম। তা তিনি কিছুতেই দিলেন না। তাই গত সপ্তাহের সোমবার সন্ধ্যায় বাইরে বেরিয়ে রাজা মণীন্দ্র রোডে বহু দিনের ধুনুরি ব্যবসায়ীর কাছে নতুন মাথার বালিশ করাতে দিলাম আর পরের দিন সন্ধ্যাবেলায় নিয়েও এলাম। ৩৪০ টাকা নিল। কার্পাস তুলো। শিমুল তুলোরটা ৫৫০, দামী। এমনিতেও দামী জিনিসটাই নিতে হবে তেমন চিন্তা কোনো কালে আমার নেই। কোনো দিন হাতে অতিরিক্ত পয়সা থাকত না। এখনো থাকে, তা বলব না। তাছাড়া শিমুলেরটা নিয়ে আমি বেশি গভীর ঘুমে ... ...
আমার টিয়াপাখির নাম খুশি ছিল, আছে, থাকবে যদিও অনেক বছর আগে সে উড়ে গেছে। আশা করি সে আবার ধরা পড়েনি। এখানে তার কথা একটু বলি।আমাদের বাড়িতে দু’টি সবুজ টিয়াকে এক সঙ্গে আনা হয়েছিল। দু'জনের কারুরই গলায় লাল দাগ ছিল না। তখনকার পরিচারিকার অসাবধানতায় একজন আগেই উড়ে গিয়েছিল। তার বেশ কিছু দিন পরে খুশি নিজের মুক্তি খুঁজে নেয়।এখানে একটা কথা ৷ পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে রাখা নিঃসন্দেহে পাপ। সন্দেহ নেই, নিজের আনন্দের জন্য সেই পাপ আমি করেছিলাম।খুশি ও তার বন্ধুকে ২০১৩ সালের শেষের দিকে আনা হয়েছিল। তখন আমার মা পুরো সুস্থ ছিল না তবে হাঁটাচলা করতে পারত। আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ... ...