সত্যেন প্রামাণিক ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া-য় চাকরি করেন। হাওড়ায় অফিস। অফিস যাওয়া তো দূরের কথা তার নাওয়া খাওয়া মাথায় উঠেছে। নিতুর মা দিবারাত্র কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। কুচুটে প্রতিবেশীরা বেশ মজা পাচ্ছে। এইসব মজার অপেক্ষায় বছরভর বসে থাকে তারা। সন্ধের দিকে গলির মুখে অসীম মান্নার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। বলল, ‘এই যে সত্যেনবাবু .... আপনাকেই খুঁজছিলাম। শুনলাম, নিত্যানন্দ নাকি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেনি ....’, বলে যেন কিছুই জানে না এইভাবে সত্যেনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ... ...
‘রাতদিন মাঠে ঘাটে খেলে বেড়ালে কি আর পড়াশোনা হয়। আমি মরলে ছেলের কি দশা যে হবে ঈশ্বরই জানেন। সারারাত দুচোখের পাতা এক করতে পারিনা নানা ভাবনা চিন্তায়’ - এ হল নিতুর বাবা সত্যেন প্রামানিকের নিজের একমাত্র সন্তান সম্পর্কে দৈনন্দিন খেদোক্তি। নিতুর মা মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন এই সময়ে। জানেন যে, তার এ সময়ে যে কোন বাক্যস্ফূরণ হওয়া মানে আগুনে ঘি পড়া। ... ...
জয়তী ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে বলল, ‘ ওঠ ওঠ .... বেলা নটা বাজে ... আর কত ঘুমোবে। ওঠ তাড়াতাড়ি। আজ রোববার। ঘরের ঝুল ঝাড়ব। পড়ে পড়ে ঘুমোলে জীবন চলবে ? ‘অর্ণব কথা না বাড়িয়ে বিছানা ছেড়ে বাইরে বেসিনের দিকে যায়। সেখানে তখন তার সাত বছরের ছেলে চিন্টু দাঁত ব্রাশ করছে। আজ রবিবার বলে দেরিতে দাঁত ব্রাশ। বাবাকে দেখে মাজনের ফেনা ভরা মুখে বলল, ‘ বাবা বাবা ...... আমাদের স্কুলে না সায়েন্স একজিবিশান হবে নেক্সট স্যাটারডে অ্যান্ড সানডে। সবাইকে হান্ড্রেড রুপিজ করে দিতে হবে। দেবে তো ? ‘চিন্টুর শিশুমনে এই মুহুর্তে এইটাই চিন্তা ও উত্তেজনার প্রধান বিষয়বস্তু।‘ হ্যাঁ, ঠিক আছে ..... ... ...
অমলেন্দুবাবু অনেকদিন বাদে চারতলার ছাদে উঠলেন। চারতলার ছাদে চিলেকোঠার ঘর। ঠাকুর্দার করা একান্নবর্তী পরিবারের এতবড় বাড়ি। বাড়িতে লোক অনেক। কিন্তু বাড়ি দেখভাল করার মতো মানুষের নিতান্তই অভাব। ... ...
চিন আর ভারতের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হয় একবার ১৯৯৬ সালে এইচ ডি দেবগৌড়ার সময়ে আর আর একবার ২০০৫ সালে মনমোহন সিং-এর প্রধানমন্ত্রীত্বের কালে। চুক্তি অনুযায়ী মোদ্দা কথা হল, নিয়ন্ত্রণরেখার দু কিলোমিটারের মধ্যে কোন পক্ষই গুলি গোলা বোমা পটকা কোন কিছু নিয়ে মাস্তানি করতে পারবে না। শুধু পেছনে হাত ভাঁজ করে রেখে ভদ্দরলোকের মতো আলাপ আলোচনা করতে পারে। ... ...
ওয়াশিংটনে পৌঁছলাম সন্ধেবেলায়। ক্যাব ড্রাইভার বলল যে আটলান্টায় নতুন করে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। পুলিশের গুলিতে একজন ব্ল্যাক মারা গেছে।সেই নিয়ে ওখানে বিরাট গন্ডগোল হচ্ছে ... ...
২৫শে মে-র আগের মিনিয়াপোলিস আর ২৫শে মে-র পরের মিনিয়াপোলিসে অনেক ফারাক। পিটারের পরিবার আগে মিনিয়াপোলিসে থাকত। চুপচাপ সাতে পাঁচে না থাকা একটা জায়গা। এখন সেখান থেকে প্রতিবাদের গর্জন উঠে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা আমেরিকায়। ... ...
নিউ ইয়র্ক সিটি।আমি অনাবিল চ্যাটার্জি। এদেশে এসেছি বছর তিনেক হল। খুব জমকালো রাস্তাঘাট। ঝলমলে দোকানপাট। রাত নামলে আলোয় ঝলমল করতে থাকে গোটা শহর। অজস্র শপিংমলের ঔজ্জ্বল্যে ভেসে যায় চারপাশ। বসন্ত যেন দিনরাত আকাশে বাতাসে হেসে খেলে নেচে নেচে বেড়ায়। ... ...
তেমন গরম পড়েনি এখনও। সন্ধের ঝটকা হাওয়ায় ধুলো উড়ছে এলোমেলো। পার্বতী মেঠো উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে সনিষ্ঠ যত্নে।বসে থাকলে চলে না। সে বসে গেলে পরিবারও বসে যাবে।আরো তিনটে ছেলেমেয়ে আছে। কাঁচা বয়েস, কাঁচা মন। তবে পেকে যাচ্ছে অকালের বাতাসে। ... ...
সাগরের খাড়ির ধারে ও-ই মস্ত উঁচু টাওয়ারে পতাকাটা শনশনিয়ে পাক খাচ্ছে কদিন ধরে। ঘোলাটে আকাশ। বাতাসে ভিজে ঢেউ। জব্বর একটা ঝড় আসছে নাকি।ম্যানগ্রোভের সংসারে যেন কিসের শংকা। কড়াক লড়াইয়ের প্রস্তুতি। ঝরঝর ঝরঝর করে বেপরোয়া ডাকাবুকো হাওয়া জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দৌড়োদৌড়ি করছে যুদ্ধবাজের মতো। আজ রাতেই বুঝি ঝাঁপাবে ওরা বুকে কাঁপ ধরানো দস্যুর মতো। এখন দুপুর বেলা। যদ্দুর চোখ যায় খাড়ি আর জঙ্গলের ডাঁয়ে বাঁয়ে সামনে পিছনে—ছাইরঙা গহন ছায়া লেপটা লেপটি।ওর বোধ হয় জলতেষ্টা পেয়েছিল। পায়ে পায়ে বেরিয়ে এল গোড়ালি জলে ডোবা কেঁদুর বন থেকে। ওই খড়িয়ালের পাড়ে দাঁড়িয়ে জলে জিভ ঠেকায় ও। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমনি ঠেকিয়ে আসছে। ... ...