এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • নিছক ই একটা গল্প---

    koli
    অন্যান্য | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ | ২১১৪৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • koli | 115.*.*.* | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:০৫425237
  • সন্ধ্যা হয়ে এলো.... চৈতী দুয়ারে জল দিয়ে সন্ধ্যে দিচ্ছিলো-- ওদের বাইরের দরজা টা খোলার আওয়াজ পেয়ে মাকে বললো "" মা দেখ কেউ এলো মনে হয়''

    একজন অপরিচিতের কন্ঠস্বর এলো--মাকে বলছে মাসীমা আমি--তন্ময়। আপনার ছেলে অপূর্ব'র বন্ধু।
    মা বললো--- ও তুই তন্ময়?হ্যাঁ তোর কথা শুনেছি বুড়ো র কাছে (মা দাদাকে ঐ নামেই ডাকে), আয় বোস। কেমন আছিস?তোদের দোকান কেমন চলছে?আর তোর পড়াশোনা?তোর ভাই দুটো কে কোন ক্লাসে পড়ে এখন?আর তোর বোন?ও কিসে পড়ে রে?

    চৈতী সন্ধ্যে দিতে দিতে সব ই শুনছে।।যে এসেছে তার কন্ঠস্বর বেশ ভালো লাগলো ওর।।জানালায় উঁকি দিয়ে উঠোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো ছেলেটিকে।।
    বাহ কি সুন্দর একটা সোয়েটার পড়েছে।।একটু একটু দাঁড়ি গোঁফ আছে, ঐ খোঁচা খোঁচা আরকি।।।

    এই তুই চৈতী নাকি রে?
    এই রে দেখে নিলো :-( (কেন যে মরতে উঁকি দিলাম)
    হ্যাঁ আমি কলি,
    কেমন আছিস?
    ভালো,আপনি কেমন আছেন?
    ভালো আছি রে,

    এই অবধি আমার সঙ্গে দাদার বন্ধু তন্ময় এর প্রথম কথাবার্তা।।।এক ই পাড়ায় থাকি,অথচ আমি কোনোদিন দেখিনি তো!!!দেখবো ই বা কি করে?আমি তো চলতে চলতে বাবা মা সামনে দিয়ে হেঁটে গেলেও দেখিনা :-(..... ও নিশ্চই আমাকে দেখেছে।।নাহলে এইটুকু উঁকি দেওয়া মুখ দেখে ওমনি করে কেউ কথা বলে???
    যাক মাসীমার সঙ্গে তিনি কথা শুরু করেছেন আবার....

    মাসীমা আমার বোনের বিয়ের ঠিক হয়েছে.... অপূর্বকে পাঠিয়ে দেবেন সেদিন..

    মা বললো--তাই?এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিস বোনের?সবে তো ১৮ হলো না রে?
    হ্যাঁ গো আর বলো না--বোন এমন বিয়ে বিয়ে করে পাগল হচ্ছে---
  • koli | 115.*.*.* | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:৩২425348
  • নিমন্ত্রন পর্ব সেরে আবার আসার কথা বলে সেদিনের মত তন্ময় বিদায় নিলো। আর যদি চৈতীর সঙ্গে ওর দেখা না হতো তাহলে এই গল্প ও তৈরী হতো না।কারণ একটি ১৪ বছর বয়সী মেয়ে আর একটি কুড়ি বছর বয়সী ছেলের মধ্যে প্রথম দেখায় কি আর এমন ঘটনা ঘততে পারে যা দিয়ে একটা গল্প হতে পারে।কিন্তু গল্প তৈরী হওয়ার ছিলো,তাই ওদের আবার দেখা হয়েছে।এরপর তন্ময় মাঝে মাঝেই অপূর্ব র সঙ্গে কিংবা এমনি কখনো ঘুরতে চলে আসতো। চৈতীর মায়ের সঙ্গে,ছোড়দার সঙ্গে,বাবার সঙ্গে খুব অল্প দিনেই ওর একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরী হয়ে গিয়েছিলো।চৈতীদের সঙ্গেই এক ই বাড়িতে আরো একটা পরিবার থাকতো।ওনারা চৈতীর দূর সম্পর্কের মামা মামী,ওনাদের তিন ছেলে মেয়ে-শুভশ্রী,জয়শ্রী আর সুদীপ।ওরা ওদের চৈতী দি কে খুব ভালোবাসে।ওরা তিনজন,চৈতী,আর চৈতীর দুই বন্ধু হিমানী আর সঙ্গীতা এরা সবাই মিলে হই হই করে স্কুলে যেতো,মাঝে মাঝে ছোড়দা ও সঙ্গে যেতো
  • koli | 115.*.*.* | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৩:১৮425459
  • আজ সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার।অনেক মেঘ জমেছে।শুভশ্রী,জয়শ্রী,সুদীপ,হিমানী,সঙ্গীতা সবাই বৃষ্টি হবার বাহানা দিয়ে স্কুলে যাবেনা বলে দিলো।কিন্তু চৈতীর যে আজ খুব স্কুল যেতে ইচ্ছে করছে কোনো এক অজানা কারণে।তাই চৈতী যথারীতি কাজ কর্ম সেরে খেয়ে দেয়ে স্কুলের বই পত্র গুছিয়ে নিয়ে স্কুলের দিকে পা বাড়ালো। একা একা কখনো সে আগে স্কুলে গিয়েছে বলে মনে পড়েনা।মা ও বারণ করছিলো ""যাসনা,কেউ যাচ্ছেনা''।চৈতী বললো ""কি হবে মা এইতো ছাতা নিয়ে যাচ্ছি''।
    এমনিতেই চৈতী খুব সাধারন মানের ছাত্রী,খুব বেশি পড়াশুনা করা তার কখনৈ ভালো লাগতো না।কিন্তু স্কুলে যেতে খুব ভালোবাসতো।তাই খুব একটা অ্যাবসেন্ট থাকতো না ক্লাসে।ক্লাসের অনেকে ওকে শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট বলেও খেপানোর চেষ্টা করতো।কিন্তু এই এক মেয়ে খেপে খুব কম।আচ্ছা জা বলছিলাম।।।চৈতী একা একা স্কুলে যাচ্ছে।ছাতাটা খুব বড়।তখনো ছোটো ছাতা কিংবা ফোল্ডিং ছাতা ওদের বাড়ীতে আসেনি।সবার জন্য ঐ বড় বড় ছাতা গুলো।চৈতী হাঁটতে সুবিধা হবে বলে ঘাঁড়ের পেছনে জামার সঙ্গে ছাতা টা ঝুলিয়ে নিলো।হঠাৎ পেছন থেকে পরিচিত কন্ঠ-''চৈতী--দাঁড়া একটু,''।দাঁড়িয়ে পড়লো চৈতী,আর মনে মনে ভাবলো ওর সঙ্গে দেখা হবার আশায় কি আমি আজ একা একা স্কুলে যাওয়ার জন্যে বেরোলাম?এসব ভাবতে ভাবতে ততক্ষনে তন্ময় কাছাকাছি এসে পড়েছে।""কিরে?আজ একা স্কুল যাচ্ছিস?আর কেউ এলো না?ছাতাটা এরকম পেছনে ঝুলিয়েছিস কেন?''
    চৈতী বললো " হ্যাঁ একাই যাচ্ছি আজ,কেউ আসতে চাইলো না,দেখুন না ছাতাটা এত বড় যে হাতে নিয়ে হাঁটতে পারছি না,তাই ঐরকম করে নিয়ে যাই।''
    ""আচ্ছা তা ভালো করেছিস স্কুল কামাই না করা ভালো,পরীক্ষা এসে যাচ্ছে তো।এই শোন-তুই আমায় কেন আপনি বলিস?অপূর্ব কে তো তুই বলিস, আমাকে অন্তত তুমি তো বলতে পারিস?''
    এই প্রশ্নের উত্তর চৈতী নিজেও জানেনা,দাদার বাকি বন্ধুদের তো ও তুমি ই বলে,তন্ময়কে কেন আপনি সম্বোধন করে জানেনা নিজেই।
    কোনো উত্তর না দিয়েই চৈতী বললো-""আপনি এসময় এদিকে?আজ কলেজ যাননি?""
    প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়াটা তন্ময় খেয়াল করলো,কিন্তু কিছু বললো না।""না রে আজ কলেজ যাইনি,একটু কাজে যাচ্ছিলাম এক জায়গায়,তোকে দেখে এদিকে এলাম''
    আমাকে দেখে!কিন্তু কেন?এরকম তো আর কত কাউকে দেখ তুমি।তাদের দেখেও এরকম এগিয়ে এসে কথা বলো বুঝি? এই প্রশ্নগুলো চৈতীর ইচ্ছে হয় তন্ময় কে করতে কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি।শুধু একটু হেসে বললো ''আচ্ছা,আসি তাহলে?''
    ""না যাবিনা এক্ষুনি,আরেকটু থাক''
  • koli | 115.*.*.* | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:১৯425570
  • আরো কিছুক্ষণ কথা বলে চৈতী স্কুলের দিকে এগোলো।যাওয়ার সময় তন্ময় বললো"" সবসময় এমনি করে হাস্বি বুঝলি?হাসলে তোকে ভালো দেখায়''।
    চৈতী ভাবলো মানে কি? না হাসলে পঁচা দেখায় নাকি? মনে মনে একটু দু:খ পেলো। ছোট্ট মেয়ে তো।তো যক সেইসব দু:খ ঝেড়ে ফেলে দিয়ে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করে বাড়ি ফিরে এলো চৈতী।তারপর রোজকার মতো সন্ধ্যে দিয়ে পড়তে বসলো--বসলো ঠিক ই কিন্তু পড়া হচ্ছেনা তো! মাথার মধ্যে ঐ এক লাইন কথা ঘুরঘুর করছে ""যাবিনা এক্ষুণি,আরেকটু থাক''-- কি আছে কে জানে এই কথাটার মধ্যে! এত ভাবছেই বা কেন চৈতী এসব নিয়ে? মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত ভয় আর ভালোলাগা মেশানো অনুভুতি হচ্ছে।কারণ খুঁজতে খুঁজতে পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো---

    পরেরদিন আবার ভোর হলো রোজ যেমন হয়--আর চৈতীর তো আকাশ দেখতে খুব ভালো লাগে ভোরবেলা--আজ ও দেখলো--আজ আকাশ বেশ ঝলমলে। কাল বিকেলের সব অন্যমনষ্কতা ভুলে আজ এখন হোম ওয়ার্ক করা হয়নি মনে পড়লো!
    একটু পরেই স্যার আসবেন পড়াতে।কিছুই তো পড়া হয়নি--সব দোষ ঐ তন্ময় নামের খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা টার।দাড়ি আর ঝলমলে হাসি দিয়ে এইটুকু একটা পুচকে মেয়েকে এমনি করে এলোমেলো করে দিতে হয় নাকি! চৈতী মনে মনে ঠিক করে আর কক্ষনো ভাববে না ওকে নিয়ে।ভাবনা এখানেই স্টপ---
  • M | 59.*.*.* | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৩৫425582
  • লেখা স্টপ করো না যেন।
    :)
  • koli | 115.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:৩৬425593
  • নাহ,না ভেবে থাকেনি চৈতী।রোজ ভেবেছে যখন ই অবসর পেয়েছে,কিংবা অনেক কাজের মধ্যে ও অবসর খুঁজে নিয়ে ভেবেছে।কদিন হলো তন্ময় আর আসছেনা।কি হলো?ভাবতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল হলো ও! ওর বোনের বিয়ে।ওর নাম শ্রাবনী।অপূর্ব গিয়েছিলো বিয়ের নেমন্তন্ন খেতে খুব ই সামন্য একটা উপহার নিয়ে। চৈতী রা ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও বলা চলে।তাই দামী উপহার দেওয়ার সাধ্য নেই।দাদা যখন রাতে ফিরে এলো তখন অনেক রাত।চৈতী ততক্ষনে ঘুমিয়ে পড়েছে। সকালে উঠে দেখে পড়ার ঘরে টেবিলের উপর একটা আধশুকনো গোলাপ।দাদা কে দেখতে পেয়ে জানতে চাইলো ""এটা কে আনলো দাদা?''দাদা বললো --"" তন্ময় দিলো''--""তোমাকে ই শুধু দিলো?না সবাইকে ই?""
    ""না রে আমাকেই দিলো দেখলাম,আর কাউকে দেয় নি।বললো অপু এটা তুই বাড়ি নিয়ে যা''
    ""আচ্ছা বেশ'' বলে চৈতী পড়তে শুরু করলো দাদার সামনে। দাদা চলে যেতেই ফুল টা হাতের মধ্যে নিয়ে বসে রইলো---একসময় ওটা চেপ্টে গেলো হুমায়ুন আহমেদ এর ""জয় জয়ন্তীর'' ভেতর। দিন বেশ কাটছিলো কি রকম একটা অদ্ভুত আনন্দ মেশানো কষ্টের মধ্যে দিয়ে--কষ্ট কারণ চৈতী অনেকদিন বাদামী রঙ এর ফতুয়া আর ফ্যাকাশে সাদা পায়জামা পরা দাড়িওয়ালা হাসি হাসি মুখের পাঁচ ফুট ৬ ইঞ্চি মত উচ্চতার দাদার বন্ধু তন্ময়কে দেখেনি।আর আনন্দ? --অনেকদিন পর যেদিন দেখা হবে সেদিন ও বলবে ""কি রে? কেমন আছিস? এতদিন হেসেছিলি তো?''
  • koli | 115.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৫৬425604
  • এর মধ্যে কিছুদিন কেটে গেছে।মাঝে কয়েকবার তন্ময় এসেছিলো।শুভশ্রী জয়শ্রী আর সুদীপ কে পড়ানোর জন্য ওকে বলা হয়েছে।ও যথারীতি নিয়ম করে মন দিয়ে ওদের পড়িয়ে যাচ্ছে।আসা যাওয়ার পথে চৈতীর সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময়,হাসি বিনিময়,কুশল বিনিময় এসব হচ্ছে প্রায় দিন ই। ভাবনার কথা কিচ্ছুটি জানতে দেয়নি চৈতী কাউকে এখনো অবধি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? এবার তো ওর হিংসে হচ্ছে! শুভশ্রী ও তো প্রায় চৈতীর সমবয়সী, মাত্র ৫ মাসের ছোট। আর তন্ময় তো ওকে পড়াচ্ছে ! কি জ্বালা এত হিংসে ছিলো ওর মনে ও নিজেই টের পায়নি এতদিন। চৈতী এমনিতে একটা কোচিং এ পড়ে অঙ্ক আর বিজ্ঞান--বাকি বিষয়গুলো এতদিন নিজে নিজেই পড়ছিলো। কি জানি মায়ের কি খেয়াল হলো মা ঠিক করলো এবার থেকে তন্ময় ওকে বাকি বিষয়গুলো একটু দেখিয়ে দেবে। চৈতী এসব আগে থেকে জানতো না কিছুই।একদিন তন্ময় এসে বললো "" কাল সন্ধ্যে সাড়ে ছটায় আমি আসবো,কেমন?''
    চৈতী বললো ''কেন?কোনো কাজে?না এমনি আসবেন?''
    ""না রে মাসীমা তোকে কিছু বলেন নি?আমি কাল থেকে তোর প্রাইভেট টিউটর''
    খুব সিরিয়াস ভঙ্গিমায় বললো।
    চৈতী বললো "" তাই?আচ্ছা বেশ আসবেন''
    বাকিটা আর কিছুতেই বলতে পারলো না।কাউকে জানাতে পারলো না ঠিক এই জিনিসটাই কদিন ধরে ও নিজেও চাইছিলো।এখন আর শুভশ্রী র প্রতি ওর কোনো হিংসে নেই। বসে বসে সারাটা বিকেল সব বইয়ে মলাট লাগালো। সুন্দর করে নিজের নাম লিখলো।নামের নিচে একটা লতা---কেন? কে জানে--
  • Samik | 59.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৫৮425615
  • এটাও কি হহপাপ্রে? (শব্দটা কিরকম জলপ্রপাতের মত দেখাচ্ছে :-)
  • koli | 115.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২১:১৬425626
  • আজ সেই দিন যেদিন সন্ধ্যে সাড়ে ছটায় তন্ময় আসবে চৈতীর টিউটর হয়ে--আজ চৈতী স্কুল থেকে এসেই কাজ কর্ম তাড়াতাড়ি সেরে পড়তে বসে গেছে। পড়ছে তো কিছুই না আসলে অপেক্ষা করছে দাড়িওয়ালা প্রাইভেট টিউটর এর জন্যে।।যেখানে চৈতী বসে পড়তে সেই ঘরে একটা ছোট খাট,তার এককোণায় একটা টেবিলের প্রস্থের দিকটা রাখা।আর একটা দৈর্ঘ্যের দিক দরজার, তার সামনেই একটা চেয়ার,সেখানেই তন্ময় এসে বসবে।আর চৈতী বসেছে খাটের কোণায়।আর টেবিলে বই রেখে পড়তে বসেছে।অবশেষে ভদ্রলোক এলেন।চৈতী অমনি হুড়মুড় করে উঠে দাঁড়ালো--"" একি ! কিরে? উঠে দাঁড়াচ্ছিস কেন?বোস বোস।কি মুশকিল! এটা কি স্কুল নাকি?আর হলেও বা আমাকে দেখে কক্ষনো এমনি উঠে দাঁড়াবি না।কেমন?''
    "" আচ্ছা বেশ'' বলে ১৪ বছরের ছেলেটি আর ২০ বছরের মেয়েটি যথাক্রমে খাটের কোণায় আর চেয়ারে বসে পড়লো--
    "" নে এবার দেখা তো তোর বইগুলো,কি কি আছে দেখি--আমি তোকে কি পড়াবো কে জানে--আমি নিজেই তো কিছু জানিনা।তবু মাসীমা বললেন যখন চেষ্টা করে দেখি বুঝলি? আর হ্যাঁ শোন কোনোদিন যদি মনে হয় আমি তোকে পড়াতে পারছিনা তাহলে প্লিজ আগে আমাকে বলিস''
    "ওহ কি ছেলে রে বাবা! এসেই এইসব কি বলছে?কোথায় ভালো ভালো কথা শুনবো বলে কাল থেকে বসে আছি!আর উনি কি না এসেই ভালো না লাগার কথা শুরু করেছেন!ভালো লাগে এসব?''--এইসব মনে মনে বকতে বকতে চৈতী অঙ্ক আর বিজ্ঞান ছাড়া বাকি বইগুলো বের করে দিলো ওর সামনে।""নিন''
    ""দে,আচ্ছা এবার বল তোর কি ভালো লাগে?''
    ""তোমাকে''-অস্পষ্ট ভাবে এই কথাটা বলেই সঙ্গে সঙ্গে চুপ করে গেলো চৈতী--
    ""কিছু বললি?শুনতেই তো পেলাম না''
    ""হ্যাঁ বলছিলাম আমার বাংলা ভালো লাগে''-- এই দাড়িওয়ালার সঙ্গে দেখা হয়ে চৈতী আবিষ্কার করলো ও কি সুন্দর কথা ঘোরাতে শিখে গেছে!
  • koli | 115.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২১:১৯425238
  • হেহে না না না--- এটা হহপাপ্রে নয় একদম ই নয়। নয় নয় এবং নয়
  • koli | 115.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২১:২১425249
  • ইস বিচ্ছিরি একটা ভুল করেছি --- যেটা ঠিক সেটা হবে ""চৌদ্দ বছরের মেয়েটি আর কুড়ি বছরের ছেলেটি'
  • Samik | 122.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২৩:৩০425260
  • ভুল ... ঠিক আছে। কিন্তু "বিচ্ছিরি' কেন? চোদ্দ বছরের পোলা আর কুড়ি বছরের কুরি হলেই বা ক্ষেতি কী? আরো জমত মনে হয় :-)
  • koli | 115.*.*.* | ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ ২৩:৫৯425271
  • জমতো জমতো জমতো ই তো কিন্তু আমার স্টকেই নেই হি হি হি
  • aishik | 122.*.*.* | ১১ ডিসেম্বর ২০০৯ ১১:৫৪425282
  • তাপ্পর?????????
  • koli | 115.*.*.* | ১১ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৯:৪৪425293
  • "আচ্ছা বেশ চল বাংলা দিয়েই শুরু হোক। আচ্ছা বলতো দেখি একটু হাসো- একে ভাববাচ্যে বল তো'
    "একটু হাসা হোক?' চৈতীর উত্তর শুনেই তন্ময় হোহো করে হেসে উঠলো যেন ওকেই হাসতে বলা হয়েছে!এরকম ই মজার ছিলো ওদের প্‌ড়াশোনার প্রথম দিনটা।তবে ঐ আরকি চৈতী বড়ই চুপচাপ স্বভাব এর।মনের ভেতর ৩০০ কি:মি:/ঘন্টা বেগে ঝড় বয়ে গেলেও বাইরে থেকে মনে হয় কই একটা গাছের পাতা ও তো নড়ছে না!এমনি করে দিন যাচ্ছিলো।চৈতী এখন বেশ ভালো নম্বর পাচ্ছে বাংলা ইংরেজী ভূগোল ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ে।বাবা মা দাদা সবাই মোটামুটি সন্তুষ্ট যে মেয়েটার পড়ায় মন বসেছে।সব ই নাকি তন্ময় এর ক্রেডিট। চৈতী তখন ঐ গানটা খুব গুনগুন করতো "এমনি করে যায় যদি দিন যাকনা'--
    এরকম ই গুনগুন করতে করতে পড়ার টেবিলে মাথা নীচু করে বসে ছিলো ছটা পঁচিশ নাগাদ।হঠাৎ ই মাথায় গাট্টা! "একি! কে?'-বলে মাথা তুলে তন্ময় কে দেখে বুঝতে পারে যে সাড়ে ছটা বেজে গেছে।খেয়াল ই করেনি।
    "তোর কি হয়েছে রে আজ?এত অন্যমনষ্ক কেন তুই? আমি এলাম দেখতেই পেলি না?'
    ইস! এলেই দেখতে হবে নাকি?কি আমার উত্তম কুমার এলেন!'-আবার বিড়বিড় করে বললো চৈতী
    "কিছু বললি?উত্তম কুমর না কি বললি যেন?'
    "না না সেসব কিছুই বলিনি আমি। আজ মনে হয় আপনি ই অন্যমনষ্ক। আমি বললাম আমি প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখস্থ করছিলাম'--এই বলে কথা গোরালো চৈতী।
    "বেশ, নে দে তো দেখি এবার'-- চৈতী খাতা এগিয়ে দিচ্ছিলো ওমনি লোডশেডিং হয়ে গেলো। লোডশেডিং হওয়া আর তন্ময় এর খাতা নেওয়ার জন্য হাত বাড়ানো এই দুটো ব্যাপারের মধ্যে পড়ে খাতার বদলে অন্ধকারে চোদ্দ বছরের ডান হাত চাপা পড়লো কুড়ি বছরের ডান হাতের নিচে--- " একি চৈতী!' "হুঁ বলুন'--কাঁপা স্বরে বললো চৈতী।
    "তোর হাত এত ঠান্ডা কেন রে! অন্ধকারে ভয় পেলি?ভয় কিসের আশেপাশে তো সবাই আছে,আমি ও আছি তো এখানে। পাগলী মেয়ে ভয় পাসনা'---এত কথা পটপট করে বলে গেলো তন্ময়।
    চৈতী বললো--- "না না ভয় পাইনি আমার এরকম ই থাকে।আর একটু আরশোলার ভয় ও পাচ্ছিলাম,আজকাল খুব উপদ্রব হয়েছে ওদের'---চৈতী ওকে যে কথা টা বলতে পারলোনা সেটা হলো " তোমাকে দেখলেই আমার কদিন ধরেই এমন হচ্ছে যে!'
    কারেন্ট এসে গেছে।পড়াশুনা আবার শুরু---সেদিনের সেই হাতে হাত ছুঁয়ে যাওয়ার অনুভুতি থেকে গেলো চৈতীর মনে একটা অদ্ভুত ভালোলাগা হয়ে---কিছুদিন এমনি আরো কেটে গেলো, রোজকার কাজ, স্কুলে যাওয়া আসা, গান শোনা,হাসাহাসি,কান্নাকাটি,ঝগড়াঝাটি,মারামারি(ছোড়দার সঙ্গে) এই সবের মধ্যে আরো একটা ব্যপার চৈতীর মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। ও নাকি নিজের মনে কথা বলছে আজকাল।আর মাঝে মাঝেই হাসছে। আয়নার সামনেও আজকাল একটু দাঁড়াচ্ছে(আগে দাঁড়াতো না)।।।।
  • koli | 115.*.*.* | ১১ ডিসেম্বর ২০০৯ ২১:৩০425304
  • চৈতীর মনে হচ্ছে তন্ময় কে ও একটু একটু ভালোবাসতে শুরু করেছে।যদিও এই বয়েসে ভালোবাসা বোঝার ক্ষমতা হয়েছে কি হয়নি সেটাও একটা ভাববার বিষয়।সে যাকগে।ও এসব কিছু ভাবছে না,ভালোবাসি বাসি আবার এত ভাবার কি আছে! কিন্তু কাউকে বলতে পারবে না। শুভশ্রী কে কি বলবে? ও ই তো চৈতীর মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন খেয়াল করছে আজকাল।নাহ থাক ওকেও বলবেনা বলেই ঠিক করলো চৈতী।তন্ময় এর কথা তো ও কিছুই জানেনা। বুঝতে পারলে হয়তো পড়াতে আসাই বন্ধ করে দেবে---এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে চলছিলো।
    একদিন ছুটির দিন,সেদিন ও তন্ময় আসবে কিন্তু কেন যেন দুপুরের দিকে এলো একবার। এসেই চৈতীর পড়ার টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো। মা জিজ্ঞেস করলেন--" কি রে? কোনো কাজ ছিলো?এসময় এলি?চৈতী কে ডাকবো?'
    হুঁ মাসীমা একবার একটু ডাকুন তো'
    চৈতী------ ডাক শুনে চৈতী এলো-- "বলো--কি বলছো?'
    দেখ তো তন্ময় এসেছে ঐ ঘরে। তোকে ডেকে দিতে বলল্লো'
    "আচ্ছা দেখছি'
    "এই তো এসেছিস-- নে তো এই প্যাকেটটা, এখন খুলবি না বুঝলি?আমি চলে গেলে যখন একা থাকবি তখন দেখে নিস সময় করে।'
    "কি আছে এতে?'
    "কি আছে দেখতেই পাবি, মাসীমা জিজ্ঞেস করলে বলবি একটা নোট দিয়ে গেলাম। এখন আসি সন্ধ্যায় আসবো যেমন আসি'
    "আচ্ছা আসুন।কিন্তু মাকে মিথ্যে বলবো কেন?'
    "কেন?কারণ সত্যি টা বলবি না বলে'।"একটু পরে তু নিজেও বুঝবি কেন বারণ করলাম'
  • pepe | 165.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ০০:৩১425315
  • এর পরে????
  • Koushik | 207.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ০১:৪৭425326
  • চালিয়ে যান !!
  • Nina | 68.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:০৫425337
  • তাড়াতাড়ি প্যাকেটটা খোল কলি---- শনি-রোববার বেশ জমিয়ে অনেকটা করে লিখিস প্লিজ।
  • koli | 115.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:১৭425349
  • দুপুরে খেয়ে উঠেই তাড়াতাড়ি সব গুছিয়ে নিলো চৈতী। মা আর মামী(শুভশ্রীর মা) আজ একটু পাশের পাড়ায় যাবে আড্ডা দিতে।।তাই মা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো ও।
    একটু পরে মা বেরিয়ে যেতেই তন্ময় এর দেওয়া হাল্কা গোলাপী রঙ এর প্যাকেটটা আস্তে আস্তে যত্ন করে খুললো চৈতী।অদ্ভুত একটা ভয় করছিলো,কি জানি কি আছে?কেন মাকে বলা যাবেনা?আজ অবধি এমন কিছু প্রয়োজন তো ওর পড়েনি যার জন্য মাকে মিথ্যে বলতে হবে---এইসব ভেবে প্যাকেটের ভেতল হাত দিলো-- একটা গল্পের বই-- "লাল গোলাপ'! আমার জন্য? তুমি আমাকে উপহার দিলে?কিন্তু কেন?তোমার ও কি আমাকে---?যাক ভাবনা চালিয়ে যেতে যেতে ই বইটা খুললো চৈতী---বইয়ের ভেতর একটা লাল গোলাপ(ততক্ষনে অনেকটাই দুমড়ে গেছে) আর তার সঙ্গে একটা কাগজ চারভাজ করা---কাগজটা খুলে দেখলো ওটা একটা ছিঠি(প্রথম ভাজে লেখা তোকে দেওয়া আমার প্রথম চিঠি--পড়িস প্লিজ। আর পরের ভাজে--আমার ও তোকে ভালো লাগে---ভালোবাসি)।
    কাঁপা হাতে চিঠি টা খুললো চৈতী-- যার লেখাটা এইরকম--

    আমার তুমি,
    তোমাকে লেখা আমার প্রথম চিঠি। যে ধারণা আর অনুভুতি থেকে আজ এই চিঠি তোমাকে দিলাম, আমার সে ধারণা যদি ভুল হয় কিংবা অনুভুতি যদি তোমার অনুভুতির সঙ্গে না মেলে, তাহলে প্লিজ রেগে গিয়ে চিঠি ছিঁড়ে ফেলোনা তুমি।আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিও না। এটাই অনুরোধ। তুমি খুব অবাক হচ্ছো নিশ্চই যে কেন আমি চিঠির ওপরে লিখেছি "তোমাকেও আমার ভালো লাগে'--তোমার মনে আছে প্রথম দিন পড়াতে এসে তোকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি বলেছিলে "তোমাকে'--অমি শুনেছিলাম সেটা। অনেক ভেবেছি সেই নিয়ে। তোকে কিচ্ছু বুঝতে দি ই নি। ভেবেছি এই কারণে--আমাকে কেন তোমার ভালো লাগে? আমি তো উত্তম কুমার নই (এটাও শুনেছিলাম), কেন তুমি আমার চোখের দিকে তাকাতে পারোনা বলো? কেন ভালোবাসো আমায়? আছে এসব প্রশ্নের উত্তর? জানি নেই হয়তো।কারণ আমি তো খুব সাধারন। দু:খ হলে মনমরা হই, আনন্দতে খুশী---
    আচ্ছা শোন না, আমি জানি তুমি গল্পের বই পড়তে খুব ভালোবাসো, আমার তো ক্ষমতা খুব কম তাই এই সামন্য ছোট একটা গল্পের বই তোমাকে দিলাম, মনের কাছাকাছি আমাকে রাখো না রাখো এই বইটা কাছে রেখো সবসময় এইটুকু অনুরোধ রাখলে খুব ভালো লাগবে।তুমি হয়তো ভাবছো চিঠি পড়তে পড়তে--তোমাকে কেন আজ হঠাৎ "তুমি' বলছি? আমার ভালো লাগছে যে তুমি বলতে--তুমি না চাইলে বলবো না কেমন?
    চিঠির উত্তর দিও, যা তোমার মনে হবে তাই লিখো। আমি অপেক্ষা করবো---তুমি যদি অপেক্ষা করাতে চাও অনন্তকাল করবো।
    পড়া হয়ে গেছে?এবার চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলে দাও কেমন? ভালো থেকো, সবসময় এমনি থেকো।

    তন্ময়
  • koli | 115.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:৩২425360
  • আজকের লেখাটায় অনেক টাইপো হলো হুস্‌স্‌স্‌স্‌স্‌স। ।সরি সরি সরি
  • pinaki | 67.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৫:০৮425371
  • আত্মকেন্দ্রিক নাগরিক যাপনের ক্লান্তি যখন আমাদের ক্লান্ত করে, তখন চৈতীর অমলিন সারল্য, তন্ময়ের অপাপবিদ্ধ ভালোবাসা যেন এক ঝলক টাটকা বাতাস নিয়ে আসে। এইজন্যেই বোধহয় কবি বলেছেন -

    ""ঝিন্টি দুপুরে চক্ররেলের কামরায়
    চল ফাঁকা থাকে শুধু তুই আর আমি বসব
    জীবনের যত জটিল কুটিল ফ্যাক্টর
    X = প্রেম ধরে নিয়ে কষব""

    চৈতী ও তন্ময়ের প্রেম অক্ষয় হোক।
  • koli | 115.*.*.* | ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৫৫425382
  • বাহ! x= প্রেম--

    আমিও চাই ওদের দুজনের প্রেম অক্ষয় হোক :)
  • koli | 115.*.*.* | ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:০০425393
  • জীবনের প্রথম প্রেমপত্র পেয়েই চৈতী ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো (যদিও শীতকাল ছিলো! কিন্তু এতটাও নয় যে কাঁপতে হবে)। কাঁপতে কাঁপতেই বিচ্ছিরি হাতের লেখায় একটা চিঠি লিখতে বসে গেলো---

    এই যে,
    এত প্রশ্ন কেন হ্যাঁ? আমি এত পরীক্ষা দিতে পারবো না বলে দিলাম। প্রথমবার বলে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। পরেরবার থেকে আর এরকম হবেনা বুঝেছেন? আপনাকে খুব ভালো লাগে, ভালোবাসতে ইচ্ছে করে তাই বাসি, সেজন্যই তো চোখের দিকে তাকাতে পারিনা..সময় হলে ঠিক তাকাবো-- হোলো? আর নেই তো প্রশ্ন? থাকলেও আমার ভারী বয়েই গেছে উত্তর দিতে--উত্তম কুমারকে ভালো লাগে বলে তন্ময় কুমারকে ভালো লাগতে পারেনা বুঝি?
    এবার আমার প্রশ্নের লিস্ট:-
    ১?
    ২?
    ৩?
    উত্তর দেবেন কিন্তু। আর হ্যাঁ শুনুন, আমাকে আপনার ইচ্ছে মতো "তুই' "তুমি' যা খুশী বলতে পারেন। বইটা খুব সুন্দর দেখতে--এখনো পড়া হয়নি তাই পড়তে কেমন জানিনা তো..আর গোলাপ আমার যে খুব প্রিয় আজকের আগে আরেকদিন বুঝেছিলাম--কোনদিন জানেন? যেদিন দাদার হাত দিয়ে আপনি আমার জন্য একটা গোলাপ পাঠিয়েছিলেন। সেটাও সুন্দর ছিলো, এটা আরো সুন্দর। বঐটা মনের কাছাকাছি রাখবো, বই যে দিয়েছে তাকেও রেখে দেবো সবসময়--আজকের মত করে ই।
    নিন আমার যা যা মনে হলো লিখে দিলাম। চিঠি ছিঁড়ে ফেলবো কেন? কি মুশকিল! আমি ছিঁড়বো না, না, না..
    ভালো থাকবেন সবসময়---

    আপনার "আমি'
  • koli | 115.*.*.* | ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:১৬425404
  • "চৈতী---- কিরে কোথায় তুই?সন্ধ্যে হয়ে গেলো এখনো ঘরে আলো জ্বলেনি!'--মায়ের গলার আওয়াজ শুনে চৈতীর খেয়াল হলো চিঠি লিখেই সে কিসব ভাবতে বসে গেছে,সন্ধ্যে হয়ে গেলো খেয়াল ই করেনি। কোনরকমে মাকে বোঝালো যে অন্যদিন এইসময় না ঘুমালেও আজ সে কোনোকারণে ঘুমিয়ে পড়েছিলো।তাই খেয়াল নেই... তারপর যথারীতি কাজকর্ম সেরে বই নিয়ে বসে গেলো। এলেন তিনি(তন্ময়) ঠিক সময়মত-- দেখে মন কেমন আজ পড়তেই পারছে না চৈতী। ঐ তো একটুখানি দেখে যখন ও বসে তখন।তারপর তো আর তাকায় ই না। তন্ময় বললো "দে'-- "কী'? হেসে ফেললো তন্ময়-- "পড়া, যা করতে দিয়ে গিয়েছিলাম'
    "হয়নি তো আজ কিছু পড়া'-বইয়ের দিকে তাকিয়েই বলে দিলো চৈতী।
    "হয়নি? আচ্ছা ঠিক আছে এখন পড়ে দে, দেখবি ঠিক পারবি। আমি আছি। তুই পড়।না পড়লে চলবে বল?সব কিছু ঠিক সময়ে করার ই তো তোর অভ্যেস। সব কিছু এত নিয়ম করে করিস যখন এটাও পারবি'
    বাধ্য মেয়ের মতো চৈতী ও বললো "হুঁ'
    চৈতীর হাতদুটো টেবিলের ওপরেই ছিলো। তন্ময় একটা হাত ওর হাতে নিয়ে আলতো চাপ দিয়ে বললো "রাগ করিস নি তো আমার ওপর'? চৈতী খুব আস্তে করে বললো "উঁহু'--খুশীতে আর ভালোলাগায় ঝলমল করে উঠলো চৈতী--তন্ময় সামনে বসে সব দেখলো, বুঝলো ও।
    "নিন' বলে চৈতী বই দিলো তন্ময় এর সামনে--"কি নেব'? মুচকি হেসে জানতে চাইলো তন্ময়। আসলে ও হাসাতে চেয়েছিলো চৈতীকে। হলো ও তাই। ফিক করে হেসে দিলো চৈতী। "পড়া নিন হয়ে গেছে'
    "বাহ! এর মধ্যে হয়ে গেলো? এবার থেকে মনে হচ্ছে সারাদিন তোর সামনে বসে থাকতে হবে বুঝলি? তাহলে পড়া তাড়াতাড়ি কমপ্লিট হবে।তাই না'?
    "হুঁ হবে তো, আপনার তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই তাই সারাদিন আমার সামনে বসে থাকবেন।'
    "এই তুই আবার বিড়বিড় করছিস? এবার কিন্তু আমি আর শুনতে পাইনি। রেগে যাবো এবারে'--বললো তন্ময়।
    "না না, আর বিড়বিড় করবো না। আপনার সময় থাকলে একদিন সারাদিন বসে থেকে পরীক্ষা করে নেবেন'
    প্রেম মানুষকে কেমন পাল্টে দেয় টুক করে! কত কথা বলে ফেলছে একসঙ্গে চৈতী। এই তো সেদিন ও মুখ দিয়ে কথাই ফুটতো না ওর।যাক, পড়া দেওয়া হয়ে গেলো। গৃহশিক্ষক মহাশয় পরের পড়াগুলো খুব ই মন দিয়ে বোঝাতে লাগলেন (সেখানে প্রেম মিশে নেই )। এও বললেন যে "পরের দিন পড়া করে রাখবি কিন্তু'
    চৈতী বললো "আচ্ছা, করে রাখবো'
    "বেশ এবার তাহলে আমি যাই বুঝলি। কিন্তু একি!'
    "কি হলো'? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো চৈতী। তন্ময় বললো "আমাকে কিছু দিলি না যে তুই!'
    চৈতীর মনে পড়লো চিঠি টা দেওয়া হয়নি। বললো "আপনি ওদিকে তাকান একটু'
    বাধ্য ছেলের মত তন্ময় অন্যদিকে মুখ ঘোরালো। "নিন, সেদিন বলাছিলেন প্র্যাকটিক্যালের আঁকাগুলো দেখবেন, এতেই আছে সব,আপনার যা চাই'
    "সব?আচ্ছা বেশ। আসি রে।' সেদিনের মত চলে গেলো চৈতীর গৃহশিক্ষক.............
  • daadaa | 59.*.*.* | ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:০৫425415
  • আরে কি কান্ড দেখ ! ভাগ্যে এদ্দিন পরে হঠাৎ খেয়াল হল গুরু খুলে দেখি কলি দারুন গল্প লিখছে ! আহা ওর যে এমন সোনার কলম জানতাম না তো! দারুন হচ্চে কলি - চালিয়ে যাও
  • ranjan roy | 115.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ০১:১০425426
  • একি, কলি! বারো ঘন্টা হয়ে গেছে,এরপর?
    ইস্‌,ওই বয়সে এমন একটা চিঠি যদি পেতাম!
  • Nina | 68.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৬:১৬425437
  • কলিয়া, জমে উঠেছে---হাত চালা, হাত চালা। বসে রয়েছি।
  • koli | 115.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:২৪425448
  • সবাইকে অনেক ধন্যবাদ :)। এইতো এক্ষুণি লিখছি
  • koli | 115.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:৫২425460
  • তন্ময় রাতে বাড়ি গিয়ে ওর ঐ এক চিলতে একটা ঘরে, যেখানে পুরোনো প্রায় ভাঙাচোরা চেয়ারটায় বসে চৈতীর লাইফ সাইন্সের প্র্যাকটিক্যাল খাতাটা খুলে দেখছিলো চিঠিটা কোথায়--- পেলো চিঠিটা-খুব উদ্বিগ্ন ছিলো, প্রথম প্রেমের প্রথম চিঠি পাওয়ার জন্য। পেয়ে কেমন লাগে জানার জন্য। অতি বাজে হাতের লেখা একটা চিঠি,সেটা পাওয়ার জন্য সরদিন ধরে ও যে অপেক্ষা করেছে। তাই মনে হয় হাতের লেখার দিকে আর অতটা খেয়াল করেনি....
    এক নি:শ্বাসে চিঠি শেষ করলো--মনে মনে ঐ তিনটে প্রশ্ন আর তার উত্তর ভাবতে লাগলো---আপাতত ও চায় একটুও আকঁতে না পারা মেয়ে চৈতী'র প্র্যাক্টিক্যালের আঁকা গুলো আঁকার চেষ্টা করতে।সারারাত জেগে জেগে অনেক আঁকলো। মাইক্রোস্কোপ, ব্যাঙ আরো কিসব ইত্যাদি ইত্যাদি---শেষ রাতে যখন চাঁদ চলে গিয়ে সূর্য্য আসবে সেরকম সময় বসলো চিঠির উত্তর লিখতে---
    আমার তুমি,
    কেমন আছো তুমি? রাগ হয়েছে এত প্রশ্ন করেছি বলে?আচ্ছা বেশ এবার থেকে কম কম প্রশ্ন করবো। তবু তুমি রাগ করোনা। যদিও রাগলেও তোমাকে সুন্দর দেখায় তবুও আমি তোমার রাগ মাখানো সৌন্দর্য্য দেখতে চাইনা। তুমি যেমন তেমন ই সবচেয়ে ভালো। এই অনেকক্ষন প্রশ্ন করিনি। এবার একটু করি হ্যাঁ? আচ্ছা বলো না, তোমার বৃষ্টি ভালো লাগে?আর বৃষ্টিতে ভিজতে? কার কবিতা তোমার বেশি ভালো লাগে? দেবদাস পড়ে তুমি পারো র জন্য কেঁদেছো নাকি দেবদাসের জন্য?আচ্ছা আমি না থাকলে তুমি কাঁদবে? এ বাবা! আবার কত্ত প্রশ্ন করলাম। আচ্ছা ইচ্ছে হলে তবেই উত্তর দেবে। তোমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বলে নিই যখন যেমন ই হোক পড়া কিন্তু ঠিকঠাক করবে।আমাদের সম্পর্ক-কে কেউ যেন দোষ না দেয়। আমিও চেষ্টা করবো। আমি জানি তুমি ও করবে। এবার তোমার প্রশ্নের উত্তরে আসি---
    তোমার হাসিমুখ দেখলে সীমাহীন আনন্দ হয় মনে। মনে হয় ঐ হাসিতে যেন কোথাও না কোথাও আমি মিশে থাকি একটু। তাই তোমাকে ভালোবাসি।তোমার প্রিয় ফুল কি জানতে চেয়েছ? জানি তো--- জিনিয়া তোমার প্রিয় ফুল-- তোমরা সবাই মিলে কিছুদিন আগে সুবীর স্যার এর বাড়ি যাচ্ছিলে, তখন দেখেছিলাম তোমার এক বন্ধু তোমাকে একটা জিনিয়া ফুল দিলো বেগুনী রঙ এর--- খুব খুশী হয়ে তুমি বলেছিলে- "জানিস তো এই ফুলটা আমার খুব প্রিয়। যদিও এই ফুলে গন্ধ নেই তেমন, তবুও আমার ভালো লাগে'
    এই শোনো-অনেক ভাবলাম জানোতো তবুও ঐ তৃতীয় প্রশ্নটা কিছুতেই বুঝতে পারলাম না... পরে বলে দিও আমি ঠিক উত্তর দিয়ে দেবো--তোমায় এত ভালোবাসি যে তুমি না বললেও তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি অনেক কিছু বলতে পারো চৈতী। কোনোদিন ঠিক বুঝবে। আজ এখনো সময় হয়নি।
    তুমি সেদিন বুঝেছিলে আমি তোমার জন্য ই ঐ গোলাপটা পাঠিয়েছিলাম! কি করে?খুব বুদ্ধি তো তোমার! আমি তো তোমাকে ---বাকিটা বললাম না।চিঠি টা ছিঁড়বে না বললে যে রাখবে কোথায়? যে মেয়ে গেটের বাইরে বেরোতে পারেনা। সারাদিন ঘরের কাজ, স্কুল, আর অবসরে যে মাঝে মাঝে এখনো বাড়ির পেছনে রান্না রান্না খেলা খেলে, পুতুল বিয়ে দেয় ২ টাকার চানাচুর কিনে এনে-- সে লুকিয়ে রাখবে একটা প্রেমপত্র?আচ্ছা পারলে নিশ্চয় রেখো। আর তাও যদি না হয় আমাকেই দিও আমি রেখে দেবো। একদিন সব নিয়ে আমার কাছেই তো আসবে বলো?
    ভালো থেকো। সবার সামনে তোমাকে তুমি বলতে পারবোনা এখনি। একটু সময় দাও কেমন? আর তুমি নিশ্চই আমাকে এখুনি "তুমি' বলবেনা? বেশ আমি অপেক্ষা করবো- আজ যেমন ভাবাসো সবসময় এমনি বাসবে?
    আজ রাখি---

    তোমার "এই যে'
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন