এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • নিছক ই একটা গল্প---

    koli
    অন্যান্য | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৯ | ২১১৪৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aishik | 122.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:৫০425471
  • এম্নিই সোম্বার সক্কাল বেলায় কাজ করতে ইচ্ছা করে না,তার পরে এমন গল্প :) খুব ভালো লাগছে।
  • koli | 115.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৮:৫১425482
  • :) থ্যাঙ্ক ইউ........
  • koli | 115.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৯:১৩425493
  • সকাল সাতটায় তন্ময় এলো শুভশ্রী দের পড়াতে। গেট দিয়ে ঢুকতেই চৈতীর মা দেখতে পেলেন-"কিরে! তোর মুখ চোখের এই অবস্থা কেন?সারারাত ঘুমোস নি?'
    -হে হে মাসীমা,একটু কাজ ছিলো তাই রাত জাগতে হয়েছে।আচ্ছা আসি এখন। বিকেলে কথা হবে।বলেই তড়িঘড়ি পাশের বাড়িতে চলে গেলো।ওদের পড়িয়ে যখন ফিরছিলো... একবার চোখাচোখি হলো চৈতীর সঙ্গে, অপূর্ব সামনে ছিলো বলে একবারটি তাকালো না পর্যন্ত্য! দাদাকে বললো-কিরে আমাদের সেই পাঠাগারের ব্যপারে কি ভাবলি অপু? ঘরটা তো পাওয়া গেছে। বই জোগাড়ের ব্যাপারটা তুই দেখ। সবাইকে বললে নিশ্চই যে যার পুরোনো বইগুলো দেবে ওখানে রাখার জন্য।
    দাদা বললো-- হ্যাঁ রে সেসব এগোচ্ছে আস্তে আস্তে।
    এহেন কিছু দরকারি কথাবার্তা সেরে তন্ময় চলে গেলো। চৈতী ও স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরী হলো। সবাই জড়ো হতেই স্কুলের দিকে পা বাড়ালো।
    সঙ্গীতা নামে যে মেয়েটি সে খুব ই শান্ত শিষ্ট,অনেকটা চৈতীর মত। তবে পড়াশুনায় চৈতীর চেয়ে একটু ভালো। পড়া ছাড়া জগতের আর কিছুই সে বোঝে না। তাই প্রিয় বন্ধু হওয়া সত্বেও প্রেমে পড়া জনিত কারণে চৈতীর মধ্যে ইদানীং যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো সেসব সে দেখেনি। হিমানী নামের যে মেয়েটি সে হলো গিয়ে সর্বজ্ঞ টাইপের। পড়াশুনো,গান শেখা-- এবং কে কে ওর প্রেমে পড়লো, কিংবা অন্য কেউ কে কার প্রেমে কতটা পড়লো--কতটা হাবুডুবু খেলো ইত্যাদি সব বিষয়গুলোতে ওর সমান আগ্রহ। ও ছিলো চৈতীদের ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। স্কুলে যাওয়ার পথে ও চৈতীকে জিজ্ঞেস করলো- কি রে তন্ময়দা কেমন পড়াচ্ছে?
    -ভালো, চৈতী উত্তর দিলো
    -শুধুই পড়াচ্ছে? না মাঝে মাঝে নিজেও পড়ছে?
    -মানে? চৈতী অবাক হওয়ার ভান করলো
    -না কোনো মানে নেই ছাড়, আজ সুবীর স্যার এর পড়া করেছিস তোরা?-বলেই কথা ঘুরিয়ে দিলো হিমানী..
    চৈতী আর সঙ্গীতা দুজনেই মৃদু স্বরে হ্যঁ বললো।
    স্কুলে যাওয়ার পথে একটা আচারওয়ালা আছে--চৈতী কে রোজ স্কুল যাওয়ার সময় একটা টাকা দিতেন মা। আচার ভালোবাসে বলে প্রায় ই ঐ এক টাকায় আচার কিনে কোনোরকমে সবার মধ্যে ভাগ করে দিয়ে খেতে খেতে স্কুলে যায় ওরা।তাই আচারওয়ালাটা ও রোজ ই যাওয়ার পথে চৈতী দি আচার নিয়ে যাও বলে ডাকতো।এইসব করতে করতে স্কুলে পৌঁছে যাওয়া.. অ্যাসেমব্লী, ক্লাস,ক্লাসের মাঝখানে তেষ্টা পেলে কলতলায় গিয়ে জল খেয়ে আসা(ওয়াটার বটল ছিলো না যে,এত খরচ পোষায় না) সব ই নিয়মমত চলছে--
  • M | 59.*.*.* | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৯:৫০425504
  • :)
  • koli | 115.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:১৬425515
  • রোজ যেমন বিকেল সাড়ে ছ'টা বাজে,আজ ও বাজলো।আজ তন্ময় একটু আগে এসেছে। অপূর্ব বাড়িতে ছিলো। ওরা দুই বন্ধুতে মিলে আসন্ন শীতে কোথাও একটা পিকনিকে যাওয়ার প্ল্যান করছে। চৈতী একটু একটু শুনতে পাচ্ছে। এখন পরীক্ষা এগিয়ে এসেছে তবু তার সেসবের টেনশন নেই। সামনেই জ্যাঠতুতো দাদার বিয়ে তাই দেশে যেতে হবে সবাইকে। তার পর ফিরেই আবার পিকনিক! কি মজা!
    বধুদের কথা শেষ হলে গৃহশিক্ষক মশায় এলেন পড়াতে। --কিরে মন দিয়ে পড়ছিস? পরীক্ষা তো এসে গেলো। নে কিছু এঁকেছি এগুলো কাল সাইন করিয়ে নিস। পরীক্ষার আগে বাকিগুলো এঁকে দেবো আবার আরেকদিন নিয়ে গিয়ে।
    চৈতী বললো- আপনি কেন এঁকে দিলেন? আমি দাদাকে দিয়ে আঁকিয়ে নিতাম নাহয়। সবসময় তো দাদা রা ই এঁকে দেয়। এবার ও নাহয়---
    তন্ময় বললো-- এবার থেকে আমি এঁকে দেবো... সবসময়। বুঝলি?নে, আর কথা নয় পড়া শুরু কর।মন দিয়ে পড়।
    -হুঁ পড়ছি, পরীক্ষার পর কদিন আপনার ছুটি। বলেই চৈতী পড়ায় মন দিলো।
    -কেন? কিসের ছুটি?কে দেবে ছুটি?আমার ছুটি চাইনা....চৈতী থামালো, নাহলে আরো বলে যেতো দাঁড়িওয়ালা ভদ্রলোক।
    -বলছি শুনুন, লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেই দেশে যেতে হবে। জ্যাঠতুতো দাদার বিয়ে। সেখানে ৪-৫ দিন থাকতে হবে তো। তাই আপনার ছুটি হলো কিনা? তন্ময় বললো-বুঝলাম। কিন্তু বিয়ে তো একদিন। ৪-৫ দিন ধরে ওখানে কি করবি তুই? আর তাছাড়া প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা গুলো তো বাকি থেকে যাবে। সেগুলোর জন্যে তো তাড়াতাড়ি চলে আসতে পারিস? এতদিন থাকতে হবেনা এই বলে দিলাম আমি।
    চৈতী বললো--প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা তো কিছুদিন পর হবে। মাঝে ৬ দিন সময় আছে। আমরা আগের দিন ই এসে যাবো তো। আর ঐ তো প্র্যাক্টিক্যাল হবে--অভিস্রবন,ব্যাপন,সালোকসংস্লেষ। ওগুলো আমি পারবো।
    মানতে চাইলো না তন্ময়, কিন্তু করার ও কিছু নেই। তাই "আচ্ছা' বলে চুপ করে পড়ানোয় মন দিলো।এখন আবার নতুন একটা অভ্যাস হয়েছে--পড়া শেষ করে যাওয়ার সময় দুজন দুজনের দিকে তাকাবে। এমন ভাব করবে যেন কতদিন দেখা হবেনা। বোকা বোকা চৈতীর আবার মাঝে মাঝে দু এক ফোঁটা করে অশ্রুজল ও বইতে ঢালছে--আর তন্ময় সেসব দেখে বলে যায়- পাগলী, এই তো আমি,কাল আবার আসবো।এমনি করিস না। সবাই দেখলে কি ভাববে বল তো? সব বুঝে যাবে যে।চৈতীর বাম হাত ওর দুহাতে নিয়ে আলতো চাপ দিয়ে বলে-আমি সবসময় তোর সঙ্গে তোর কাছেই আছি। কাঁদলে তোকে পুরো প্যাঁচা র মতো লাগে বুঝেচিস? আর প্যাঁহআ দেখতে মোটেই ভালো নয়.....সেদিনের মত চলে যায় তন্ময়।আর চৈতী লাইফ সাইন্সের প্র্যাক্টিক্যাল খাতার ভেতর থেকে চিঠি বের করে পড়তে শুরু করে...
  • pinaki | 67.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:২৮425526
  • এবার একটু চুমুটুমু আসবে না? পরীক্ষার আগে একটা গুড লাক কিসি হয়ে যাক পাব্লিক ডিম্যান্ডে। :-)
  • koli | 115.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:৩৫425537
  • :D :D
  • koli | 115.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:৩৮425548
  • এত স্লো হলে এ গল্প কেউ পড়বেনা :(। সিনেমা সিরিয়াল এসব জীবন কী সুন্দর ১০ বছর ২০ বছর করে এগোয়। আর আমার গল্প এগোচ্ছে মাত্র ১১ ঘন্টা!
  • SB | 114.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৭:৫২425559
  • কই, পড়ছি তো!
  • daadaa | 59.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৮:২৪425571
  • কলির গল্প তো বেশ এগোচ্ছে। গোলমালটা বাধতে পারে ঐ কিসি নিয়েই। ফাঁকা বাড়িতে দুজনে একটু দু:সাহসী হতে গিয়েই বিপত্তি - দাদা বোধয় বেরিয়ে পড়ে খেয়ল করেছে কিছুএকটা ফেলে এসেছে বাড়িতে আর সেটা নিতে এসেই বিপতিই।।।।।
    কে জানে বাবা.........
  • koli | 115.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৯:৪৭425573
  • :) এইতো একটু পরেই লিখছি
  • koli | 115.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৫৫425574
  • চৈতীর হাতের লেখা যত খারাপ, তন্ময় এর হাতের লেখা ছিলো ততোধিক সুন্দর। আর খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারতো ছেলেটি।সে যাই হোক। চৈতীর খুব ইচ্ছে ছিলো অনেকটা সময় নিয়ে চিঠি টা পড়বে। কিন্তু অত সময় কে দেবে ওকে? এই বয়েসে প্রেম পত্র পড়ার চান্স পেয়েছে এই কত না, আবার সময় নিয়ে পড়বে!---খুব দ্রুত চিঠি পড়ে নিলো চৈতী। ৯ টা বাজতে আরো কিছু সময় লাগবে।তড়িঘড়ি চিঠির উত্তর লিখতে বসে গেলো(তন্ময় চলে যাওয়ার পরেও চৈতী ঘন্টা খানেক পড়ার টেবিলে থাকে).....

    প্রিয়---

    এত সুন্দর চিঠি লেখেন কি করে আপনি? আমার হাতের লেখা কেন আপনার মত সুন্দর নয়? আমি ভালো আছি তো, আমি খুব ভালো আছি। একটুও রেগে নেই। বরং আরো বেশি ভালোবাসি আপনাকে। যত ইচ্ছে প্রশ্ন করবেন--আমি সব উত্তর দেবো তো। বৃষ্টি হলে? বৃষ্টি দেখি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে। টিনের চালায় যখন বৃষ্টির ফোঁটা ঝমঝম করে ঝড়ে--আমার শুনতে ভালো লাগে।বৃষ্টির পরে যখন জল নেমে গিয়ে উঠোন একটু ভেজা ভেজা থাকে? তখন আমি এক্‌পায়ে দাঁড়িয়ে গোল গোল হয়ে ঘুরি। একটা গোল গর্ত হয়ে যায় সেই জায়গাটা তে.. আমার খুব ভালো লাগে দেখতে। দেবদাস পড়ে আমি তো দেবদাসের জন্যই কেঁদেছি। দেবদাস তো খুব ভালোবাসতো পারোকে। পারো ততটা বাসতে পারেনি। পারলে অন্য কাউকে বিয়ে করে সেজেগুজে থাকতো বুঝি?
    আপনি কি সুন্দর সব বুঝে যান! আমি তো আসলে কোনো প্রশ্ন ই করিনি, শুধু তিনটে লাইনেই লিখতে চেয়েছি--ভালোবাসি,ভালোবাসি,ভালোবাসি। তবু আপনি এত সুন্দর লিখনেন সবটা। আপনি খুব ভালো।আপনি লুকিয়ে লুকিয়ে বুঝি আমার বান্ধবীদের দেখেন!! খুব খারাপ হচ্ছে কিন্তু। না দেখলে আমার প্রিয় ফুল এর ব্যাপারটা জনলেন কি করে হ্যাঁ? আর দেখবেন না বলছি।আমিও বুঝতে চাই একটু একটু করে আপনাকে। আপনার চোখে তাকিয়ে আমিও আপনার মন পড়তে চায় তন্ময়দা।আর সাহসের কথা বলছেন? সব সাহস আমার আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর হচ্ছে তো। কোনোদিন আপনি যদি না থাকেন, আমি আবার ভীতু হয়ে যাবো।খুব ভীতু। আপনি নিশয় আমাকে আবার ভীতু করে দেবেন না?হুঁ আপনাকে তুমি বলবো তো নিশ্চই বলবো।কিন্তু কবে বলবো তা জানিনা।হুস্‌স আমি আপনার মত এত গুছিয়ে চিঠি লিখতে পারি না। যা যা লিখিনি সেসব আপনি বুঝে নেবেন।ছোটরা এর চেয়ে ভালো চিঠি লিখতে পারেনা।।আর প্র্যাক্টিক্যালের আঁকা এঁকে দিলেন বলে থ্যাঙ্ক ইউ বলবো না আমি।
    এই যে শুনুন-আমি যে পরীক্ষার পর কদিন থাকবো না সে কদিন অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকানো চলবে না। বেশি অসুবিধা লাগলে আমি একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিয়ে যাবো ওটা দেখে নেবেন মাঝে মাঝে। আপনার দেওয়া সব কিছু স্কুলের ব্যাগটা তেই লুকিয়ে রাখি তো।কেউ দেখবে না।কাল আসার সময় আপনার একটা ছবি নিয়ে আসবেন। সাদাকালো পাসপোর্ট সাইজ। বাড়ি থেকে ফিরে আবার চিঠি দেবো।এখন পরীক্ষার মধ্যে আর নয় কেমন?আপনি উত্তর দেবেন কিন্তু এটার।ভালো থাকবেন। সবসময় প্যাঁচার খেয়াল রাখবেন। ওকে মনে মনে জিনিয়া ফুল ও দেওয়া চাই। একদিন আমার রান্না খাওয়াবো আপনাকে। রাখি......

    আপনার প্যাঁচা..
  • koli | 115.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ ২১:০৩425575
  • ইতিমধ্যে চৈতীর পরীক্ষা শেষ হলো। আজ ওরা সবাই দেশে যাবে। তন্ময় ছিলো এমন একজন যাকে সবাই কাজের জন্যই ডাকতো। অপূর্ব সেদিন যেতে পারবে না তাই বাক্স প্যাঁটরা নিয়ে বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সেই তন্ময় এর ই ডাক পড়লো। সেও যথারীতি হাজির। স্ট্যান্ডে পৌঁছে সবাইকে যার যার সিতে বসিয়ে দিলো। চৈতী বসেছিলো একটা জানালার ধারের সিটে।সবার চোখের আড়ালে বাস থেকে নেমেই দাঁড়িয়ে চৈতীর হাত ধরে বললো- সাবধানে থেকো সোনা। তোমার কথা খুব মনে পড়বে। তাড়াতাড়ি ফিরে এসো প্লিজ।আমাকে ভেবো শুধু।আর ভালোবেসো রোজ রোজ একটু বেশি করে। পাঁচদিনের আসন্ন বিরহের কষ্টের কথা ভেবে চৈতীর চোখ ভরে জল জমলো। তন্ময় সে জল মুছিয়ে দিতে পারেনি সবাই দেখে যাবে এই ভয়ে।বাস ছেড়ে দিলো। প্রেমিক প্রেমিকার পাঁচদিনের বিরহ পর্ব শুরু হলো....
  • Nina | 68.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৮:২৩425576
  • জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায়না, হায় ভীরু প্রেম হায় রে।
    একটু সাহসী করে দে কলি দুটোকেই--
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:২৮425577
  • :)
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:৪৫425578
  • শহর ছাড়িয়ে ৪০ কিলোমিটার দূরে দেশের বাড়ি। কাকু, কাকীমা, জেঠু, জিঠিমা, তাঁদের সব ছেলেমেয়ে, আবার তাদের ও কারো কারো ছেলেমেয়ে---সবাইকে নিয়ে একটা গ্যালারি ভর্তি হয়ে যাবে-- চৈতীরা বাড়ি গেলে এরকম ভীড় হয়ে যায় বাড়ির উঠোনে। ভীড়ে মতে যায় চৈতীর মন ও। এ বেলা এই ঘরে ওবেলা আরেক ঘরে খাওয়ার ডাক আসে---সময়মত বিয়ে বাড়ির বিয়ে ও চুকে যায়। তারপর বৌভাত, বৌভাতে আসা অনেক সুন্দর সুন্দর ছেলেরা---তাদের দিকে ও তাকায় চৈতী। তখন একবার টুক করে তন্ময় কে ভেবে নয়! বৌভাতের পরদিন নাকি নিয়ম আছে দাদা কে বৌ আর নিজের কোনো ভাই বোন নিয়ে শশুর বাড়ি যেতে হবে। ঠিক হলো চৈতীর এক জ্যাঠতুতো বোন তাপসী আর চৈতী যাবে দাদার সঙ্গে।সেখানে নাকি আড়াই বেলা থাকতে হবে। মানে যেদিন যাওয়া হবে সেদিন আর পরের দিন বিকেল অবধি। সেখানে গিয়ে একদিন কাটলো বেশ আনন্দেই। পরের দিন সল্কালে অন্য অনেক ছেলেমেয়ের সঙ্গে কিছু একটা খেলছিলো চৈতী। হঠাত রাস্তার দিকে চোখ পড়তেই দেখতে পেলো ওর এক খুড়তুতো ভাই এর সঙ্গে তন্ময় রিক্সা করে আসছে!ভয় পেয়ে গেলো চৈতী। তন্ময়কে কিছু না বলে ভাইকে বললো কি রে? কি হয়েছে? বাড়িতে সবাই ভালো তো? এই সময় তুই ওকে নিয়ে কোত্থেকে এলি। তন্ময় হসে ফেললো- সব ঠিক আছে রে। কোনো কারণে তোদের পরীক্ষা টা একদিন এগিয়ে গেছে। স্কুল থেকে খবর এসেছে তাই কাকু আমাকে পাঠিয়ে দিলেন তোকে নিয়ে যেতে। চল তৈরি হয়ে নে। নাহলে ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। আজ আবার বাস স্ট্রাইক আছে তো। সব শুনে চৈতীর ভয় দূর হলো। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে সেই এক ই রিক্সা তে তিনজন মিলে(!) বড় রাস্তার উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলো। মনে মনে বাবাকে ধন্যবাদ দিতে লাগলো চৈতী। বাবা ওকে পাঠিয়েছেন বলে...
    চুপচাপ রিক্সা যাত্রার মধ্যে তন্ময় কথা বলে উঠলো-- কিরে পরীক্ষার জন্য চিন্তা করছিস?
    --না না কিছু চিন্তা করছি না তো!
    --আচ্ছা চল নাম, এখান থেকে অটো ধরতে হবে। তারপর সেখান থেকে একটা অটো রিজার্ভ করে চৈতী আর তন্ময় শহরের দিকে চললো। ভাই অন্য রাস্তা ধরে বাড়ির দিকে চলে গেলো।........
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:৫৮425579
  • মেতে******
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:০৪425580
  • :( আরো অনেক বানান ভুল হলো। কেউ প্লিজ রাগ করবেন না...
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:৩৫425581
  • একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে তার প্রাপ্তবয়স্ক প্রেমিকের সঙ্গে ৪০ কিলোমিটার এর ও বেশি রাস্তা একসঙ্গে যাবে। ওদের দুজনের মনে কি হচ্চিলো তা আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয় পুরোটা। তবু ও ...কিছুদূর যাওয়ার পর তন্ময় ই নীরবতা ভঙ্গ করে কথা বললো-- কেমন ছিলে এ কদিন? আমায় ভেবেছো? এখন এখানে তো আর কেউ চেনা নেই তাই আজ তোমাকে "তুমি' বলি সোনা।
    চৈতী উত্তর দিলো-- ভালো ছিলাম, আপনাকে ভেবে ভেবে আর...
    --আর? তন্ময় আগ্রহ নিয়ে চৈতীর মুখের দিকে তাকালো
    -- আর দাদার বিয়েতে ওর অনেক শালা এসেছিলো মাঝে মাঝে ওদের দিকেও তাকিয়েছি--
    হোহো করে হেসে উঠলো তন্ময়-- তাকিয়েছ? বেশ করেছ... তুমি আমার দিক থেকে সব সময় স্বাধীন চৈতী। আমি কখনো তোমাকে কিছু করতে আটকাবো না। আমি জানি যতই তুমি অন্য কারো কথা বলো, তুমি শুধু আমাকেই ভালোবাসো। তন্ময় এর কথা শুনে ভালো লাগায় মন ভরে গেলো চৈতীর।ভালোবাসা ভারি অদ্ভুত তাই না?--প্রশ্ন টা চৈতীর দিকে ছুঁড়ে দিয়ে চৈতীর একতা হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নিলো তন্ময়। চৈতী ঘাঁড় নেড়ে বললো শুধু -"হুঁ'.. চৈতী বুঝতে পারছে এই মুহূর্তে তন্ময় অধৈর্য্য হয়ে উঠছে। প্রাপ্ত বয়ষ্ক হতে এখনো কিছুদিন বাকি আছে ঠিক ই কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার বোঝার জন্য হয়তো ঐ কিছুদিন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না।--এই এখন তো কেউ নেই আমায় একবার প্লিজ তুমি বলো?--তন্ময় বললো।
    চৈতী বললো- না পরে, আজ নয়। একটু অভিমান হয়েছিলো তন্ময় এর। কিন্তু এত ভালোবাসে যে অভিমান ও বেশিক্ষণ টিকলো না ওর। একটা হাত চৈতীর কাঁধে দিয়ে ওকে একটু কাছে এনে বসালো। বললো--আমাকে ছেড়ে কোনোদিন যাবেনা তো তুমি? তুমি না থাকলে আমি পারবো না বাঁচতে। মরে যাবো দেখো। "চুপ'---একটু ধমকের সুরে বললো চৈতী।--আমি কোথাও যাচ্ছি না। না থাকার কথা হচ্ছে কেন?এখনো তো থাকাই হলোনা। অনেক দিন বাকি পড়ে আছে না সামনে?এ খন ই এসব কেন বলছেন? রেগে গেলে কিন্তু আমি... আর আপনাকে ছেড়ে যাবো ই বা কেন?আপনি তাড়িয়ে দিলো ও যাবোনা। আমি বুঝি ভালোবাসিনা? আমি ও আপনাকে খুব খুব ভালোবাসি তো ..দুপুর হয়ে এলো একটু খিদে খিদে পেয়েছে দুজনের ই। রাস্তায় অটো থামিয়ে দোকান থেকে কিছু কিনে খেলো। আবার যাত্রা শুরু। ঘন হয়ে বসা দুটো মানুষের। দুজনের তখন অটোঅলা টাকে শত্রু বলে মনে হচ্ছিলো (হিহিহি)!ভালোবাসায় ভাসতে ভাসতে পৌঁছে গেলো শহরে। তন্ময় চৈতীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বললো - আসি রে। বলেই বেরিয়ে যাচ্চিলো তখন ই পাশের বাড়ীর মামী ডাকলেন-- তন্ময় শোন, জামাইবাবু (চৈতীর বাবা) বলেছেন তোকে রাতে এখানে খেয়ে যেতে। আমি রান্না করে দেবো। চৈতীর দাদু একটু অসুস্থ্য হয়েছেন বলে ওর মা, দাদার বিয়ের পরদিন দাদুর বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তাই বাড়িতে এখন চৈতী একা। পাশে মামা মামীরা রয়েছেন অবশ্য। মামীর কথা শেষ হতেই চৈতী বললো-- মামী, আমি করে নেবো। ভাত, ডাল, আলু ভাজা, আর ডিমের ঝোল.. এসব আমি করে নেবো। তুমি সকালে রুটি টা করে দিও আমি একটুও পারিনা।আচ্ছা বলে মামী চলে গেলেন ঘরে। তন্ময় এর দিকে তাকিয়ে চৈতী বললো--তাড়াতাড়ি চলে আসবেন। এখন বাড়ি যান। তন্ময় একটু হেসে বললো --আচ্ছা চলি। কিন্তু তোর তো কাল পরীক্ষা তুই পড়বি কখন? চৈতী বললো- পড়ে রেখেছি আগে। কাল যাওয়ার সময় একটু দেখে নেবো।
    আচ্ছা বেশ, বলে তন্ময় চলে গেলো।
  • | 72.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ১২:৫৫425583
  • আরে! এতো জমে ক্ষির হয়ে গেছে
    চালিয়ে যাও কন্যা
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৯:২৮425584
  • :D
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৩৯425585
  • আটটা নাগাদ চৈতীর বাবা ফিরলেন। একটু পরে তন্ময় ও এলো। দুজন বসে গল্প করছিলো। চৈতীর ও ভাত ডাল আলু ভাজা আর ডিমের ঝোল রান্না প্রায় হয়ে এসেছে। সাড়ে নটার সময় খেতে দিলো দুজনকে। কিন্তু ওনার আবার ইচ্ছে চৈতীও একসঙ্গে খাবে। প্রচুর ইশারা করে চলেছে তুমিও বোসো আমাদের সঙ্গে।চৈতী ও বসে খেয়ে নিলো। চৈতীর একটা ইচ্ছে পূর্ণ হলো। তন্ময়কে রেঁধে খাওয়ানোর ইচ্ছে। কে জানে আর কোনোদিন সুযোগ হবে কিনা...
    --রান্না খুব ভালো হয়েছে রে--খেয়ে উঠে এই বলে চলে গেলো তন্ময়।

    কিছুদিন হলো তন্ময় পড়াতে আসছেনা। এখন তো পরীক্ষা শেষ তাই কিছুদিনের ছুটি। এমনি মাঝে মাঝেই আসে, চৈতীকে দেখে যায়। একটু শুভশ্রীদের ঘরেও যায়।মামীর সঙ্গে আড্ডা দেয়। অপূর্ব র সঙ্গে আড্ডা দেয়। আর পিকনিক এর আলোচনা চলে। একটা দিন ঠিক হয় পিকনিক এর।পাড়ার অনেকেই যাবে। চৈতীরা ও সবাই যাবে। শুধু ওর বাবা যাবেন না। কাজ থেকে ছুটি পাবেন না তাই।......একটা পুরো দিন আবার তন্ময়কে দেখতে পাবে সেই আনন্দে চৈতী মশগুল হয়ে আছে। এসিকে শুভশ্রী, জয়শ্রী এই দুটোতে মিলে ওকে একটু শান্তিতে ভাবতেও দিচ্ছে না! --এই দিদি এই জামাটা পড়বো রে? এই চুড়িগুলো দেখ না মানাবে? কি রে বল না! কি আর করা ভাবনা ছেড়ে ওদের প্রতি মন দিলো। ক্রমে পিকনিকের দিন এলো। ভোর পাঁচটার সময় সবাই মিলে একতা বাসে উঠে রওয়ানা হলো পিকনিক স্পটের উদ্যেশ্যে।বাসে চড়ায় চৈতীর আবার প্রচুর অসুবিধা। তন্ময় যেহেতু সব জানে, ও আগে থেকেই ওষুধ কিনে রেখেছিলো। বাসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চৈতীকে ওষুধ দিয়ে দিলো। - এই নে এটা খেয়ে নে তো। চৈতী বললো-- কিসের ওষুধ দিচ্ছে? -- ঘুমের বুঝলি? যাতে তুই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পৌঁছে যেতে পারিস। কি মুশকিল! তোর বাসে উঠলে বমি হয় এটাও ভুলে গেছিস? নে খা শিগ্গির। কয়েকটা সিট সামনে চৈতীর মা আর মামী বসেছেন। মা বললেন--হ্যাঁ রে দেখেছিস আমার মনেই নেই। খুব ভালো করেছিস ওষুধ এনে। নাহলে সারাটা রাস্তা কি করে যে যেতো কে জানে। যাই হোক ওষুধ খেয়ে চললো চৈতী, তন্ময় এবং বাকিরা ......চৈতী বসেছে জানালার ধারে। ওর পাশে শুভশ্রী। হঠাৎ তার মন এহলো সে ও জানালার ধারে বসবে। কারণ এদিকে বসে সে প্রাকৃতিক দৃশ্য ভালো দেখতে পাচ্ছে না! কেউ জানালার ধারের সিট ছাড়বে না ওর জন্য। কিন্তু ঐ যে তন্ময়? উনি সঙ্গে সঙ্গে রাজী। --আয় তুই আমার সিটে বসে পড়। আমি বসছি ওখানে......
  • koli | 115.*.*.* | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ২০:৪৪425586
  • বাকিটা চারদিন পর লিখবো....
  • SB | 114.*.*.* | ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৪:১০425587
  • সাহসি চুম্বন আজো পারেনি সে ---
  • Ami | 125.*.*.* | ১৮ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৬:০৬425588
  • বাহ্‌ বাহ্‌ !! বেশ ভালো লাগ ছে কোলি।
  • koli | 115.*.*.* | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ ০৯:৫০425589
  • পাশাপাশি বসে দুজনে অনেক অনেক কথা বলতে বলতে চললো। পিকনিকে খুব মজা হয়েছিলো। লাল মাটির পাহাড় ছিলো, শাল সেগুনের বন ছিলো-- একটা ছোত্ত দিঘী ছিলো--আর অনেকের সঙ্গে তন্ময় আর চৈতী ছিলো। সেই দিঘী তে নৌকা চলছিলো। দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই মিলে ঠিক করা হলে নৌকায় করে পুরো দিঘী টা তার আশপাশ ঘুরে দেখা হবে--তাই সবাই মিলে দু তিনটে নৌকায় চেপে সবাই নৌকা ভ্রমন এ চললো। দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্য ক্রমে চৈতী আর তন্ময় দুজন আলাদা নৌকায় উঠলো। দুজনের মন ই পড়ে ছিলো দুজনের কাছে। নৌকা ভ্রমন শেষ হতেই তন্ময়দের নৌকা আগে তীরে পৌঁছালো। আর তন্ময় সবাইকে, মানে মেয়েদেরকে হাত ধরে নামালো। চৈতীকে যখন নামাতে গেলো হাত ছাড়তে একটু দেরী হলো। চৈতীর মা দাদা হয়তো খেয়াল করলো কিন্তু ওদের দুজনের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রথম প্রেমে পড়লে এমন ই হয় কিনা কে জানে! যাই হোক সন্ধ্যে হলো। আবার বাসে চেপে সবাই গন্তব্যের উদ্যেশ্যে রওনা দেবে। সবাই উঠে গেছে কিন্তু তন্ময় এখনো আসেনি। সবাই খোঁজাখুঁজি করছে। একসম উনি এলেন হাতে কয়েকটা জিনিয়া ফুল নিয়ে। বন্ধুরা জানতে চাইলো কিরে তুই কোথায় ছিলি? আর এই জঙ্গলে ফুল কোথায় খুঁজে পেলি? তন্ময় উত্তরে বললো-- এখানে একটা বাঁলো আছে দেখলাম। সেই বাংলোর ই বাগান থেকে চুরি করে নিয়ে এলাম। শুনে সবাই ওকে বকাবকি করছিলো। কারণ কেউ জানেনা। কেউ জানেনা যে প্রেমের জন্য চুরি করলে কিছু হয়না। শুধু ওরা দুজন জানে ভালোবাসলে এমন আরো কত কি হয়! বাসে উঠে তন্ময় সবার অলখে চৈতীকে ফুলগুলো দিয়ে বললো -- নাও তোমার জন্যে। খুব খুশী হয়েছিলো মেয়েটি। একে প্রিয় ফুল তার ওপর প্রিয় মানুষের দেওয়া। বাস ছেড়ে দিলো। সবাই গান করছে চিৎকার চেচামেচি করছে। এসবএর মধ্যে দুজন মানুষ ওনেক দূরে বসেও দুজনের সঙ্গে গল্প করতে করতে ফিরছে গন্তব্যে!

    এমনি চলছিলো সব। দিনগুলো কি সুন্দর কেটে যাচ্ছিলো। তন্ময়, অপূর্ব আর ওদের কয়েকজন বন্ধু মিলে পাঠাগার এর জন্য বই কালেক্ট করছিলো। বেশ অনেক বই হয়ে গেছে। তন্ময় সেই বইগুলো থেকে নিজের পছন্দমত বই নিয়ে আসতো চৈতী পড়বে বলে। সমরেশ, শীর্ষেন্দু, হর্ষ দত্ত, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, হুমায়ুন, বঙ্কিম্‌চন্দ্র আরো অনেক অনেক বই চৈতীর জন্যে নিয়ে আসতো ও। সব স--ব পড়ে নিতো চৈতী। বই পড়ার অভ্যেসটা আরো বেশি বাড়িয়ে দিয়েছিলো তন্ময়।
    এর মধ্যে চৈতীর ক্লাস টেনের টেস্ট পরীক্ষার সময় হয়ে গেলো। পড়াশুনায় চৈতী বরাবর ই এক ই রকম। সব কিছু সময়মত আর নিয়মে করাই অভ্যেস ওর।তাই সব নিয়মেই চলছিলো। এ কদিনে তন্ময় এর বন্ধু মহলেও চৈতীকে নিয়ে আলোচনা চলতে শুরু করেছিলো। প্রায় অনেকেই জানতো ওদের দুজনের মধ্যে কিছু চলছে। শুধু অপূর্ব জানতো না কিছুই---
  • a | 59.*.*.* | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৩:৫৪425590
  • বস কলিদি, এই প্রেমটা যেন ভেঙ্গে না যায়।
  • koli | 115.*.*.* | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৮:৪১425591
  • :)
  • koli | 115.*.*.* | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ১০:৫৪425592
  • আজ বাড়ির পরিবেশ বেশ গম্ভীর। চৈতী র সঙ্গে তন্ময় এর সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে গেছে। তন্ময় আর অপূর্ব'র একজন কমন ফ্রেন্ড অপূর্ব কে সব বলে দিয়েছে। বাড়ি ফিরে অপূর্ব সব জায়গা খুঁজে সব প্রমাণ ও জোগাড় করে নিয়েছে ইতিমধ্যে। সব চিঠি, সব উপহার-- যে ব্যাগটাতে চৈতী রাখতো.. সব পেয়েছে। সব চিঠি গুলো পড়েছে এক এক করে। প্রচন্ড রেগে আছে তন্ময় এর ওপর।চৈতীর দিকে তো ফিরেই দেখছে না।মা ও কথা বলছে না চৈতীর সঙ্গে। বাবা তো কাজে বেরিয়ে গেছে। বাবা এসে কি করবে চৈতী এখনো সেটা আন্দাজ করতে পারছে না। একসময় অপূর্ব বেরিয়ে গেলো বাইরে। চৈতী খুব কাঁদছে। দাদা হয়তো তন্ময়কে অপমান করবে যা ইচ্ছে তাই বলে। ওরা যখন প্রেমে পড়েছিলো তখন তো এতসব কিছু নিয়ে ভাবেনি। কে ছোট কে বড়, কার কত বেশি টাকা, কার কত কম এসব ভেবে একটা ১৪-১৫ বছরের মেয়ে হয়তো প্রেমে পড়তে পারেনা।তাই চৈতী ও আগে কোনোদিন এসব ভাবেনি।
    কিছুদিন হলো চৈতী দের অবস্থার একটু উন্নতি হয়েছে। তাই এই সব ছোট বড় ভেদাভেদ গুলো আলোচনায় আসে, শুনতে পায় মাঝে মাঝেই।এইসব নিয়ে চৈতী ভেবে চলেছে। দাদা এখনো ফেরেনি বাড়িতে।বিকেলের দিকে চৈতীকে একা একটা ঘরে ডেকে মা জানতে চাইলো-- কবে থেকে তোদের এসব চলছে? চৈতী বললো -- কি চলছে মা? মা ব্লললো- তোর সঙ্গে তন্ময় এর এইরকম সম্পর্ক কবে হলো? কেন হলো? আমি কেন কিছু বুঝতে পারিনি? কতদূর এগিয়েছিস তোরা? তুই একবার ও ভেবেচিস যে এই সমপর্ক হতে পারেনা?
    এতগুলো প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চৈতী শুধু বললো--এই সম্পর্ক কোনোদিন ভাঙ্গবে না মা। আর কতদূর এগিয়েছি এই প্রশ্নের উত্তর তুমি নিজেই নিজের কাছে খুঁজে নাও। আমি তোমার মেয়ে। তুমি ঠিক বুঝবে উত্তর টা কি হতে পারে।খুব কষ্ট হচ্ছিলো চৈতীর। বলার মত কাউকে পায়নি ও। মায়ের কাছ থেকে এত কঠিন প্রশ্ন ও আশা করেনি। এইতো কাল অবধি ও সব কত সুন্দর চলছিলো। ওর মত লক্ষ্মী মেয়ে হয়না। ও কত ভালো মেয়ে। পাড়ার অনে্‌কই ওর উদাহরণ দিয়ে নিজেদের মেয়েদের বকতো। কেন তোরা চৈতীর মত লক্ষ্মী মেয়ে হতে পারিস না। আর আজ এক মুহূর্তে সব কেমন পাল্টে গেলো। আজ হয়তো তন্ময় ও আর আসবে না এ বাড়িতে। দাদা এমন রেগে ছিলো বেরোনোর সময়, এতক্ষনে হয়তো মেরে ওকে আধমরা করে দিয়েছে....
  • M | 59.*.*.* | ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯ ১৫:২০425594
  • গজবকা ইয়ে দিন শোচো জরা
    ইয়ে দিবানাপন দেখো জরা.... :P
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন