
১। শতরূপ ঘোষ সন্দীপ ঘোষের ভাইপো। অসত্য ২। পুলিশের দাবী, ঘটনাস্থলে বাইরের লোক ছিলেন না। ( আগের সেকশনের পয়েন্ট ২০) আংশিকভাবে অসত্য। খুব সম্ভবত দুজন ডাক্তার ছিলেন, অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। ( ১০০% নিশ্চিত না। কিছু বদল হলে বদলে দেওয়া হবে) ... ...

আজ জাতীয় শিক্ষক দিবস। আমি নিজে পেশায় একজন শিক্ষক-অধ্যাপক, উচ্চশিক্ষাকর্মী। সেই পেশায় অর্থ, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, যশ সব-ই বেশ দুর্লভ, অন্ততঃ আমার অভিজ্ঞতায়। কেউ কেউ পেয়ে থাকলেও সিংহভাগ কর্মীই আলোর বৃত্তের বাইরেই কাটিয়ে দেন জীবন, আর সামগ্রিকভাবেই সম্মান বা সামাজিক প্রতিষ্ঠাও গত দুই-তিন দশক ধরে ক্রমশঃ নিম্নমুখী, শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন দুর্নীতি ও বিষাক্তচক্রের কথাও প্রায় সবাই জানেন, এবং সেই ধ্বংসের দায়ভার কেন্দ্র-রাজ্য, সবার-ই। নিয়োগ দুর্নীতি কী সাংঘাতিক আমাদের সামান্য ধারণা আছে। সে ক্ষত সারবে না কোনোদিন। তার উপরেই, এই কিছুদিন আগেই নীট পরীক্ষা নিয়ে বীভৎস কেলেঙ্কারি হয়ে গেলো। যদিও সে এখন অতীত, রিয়ারভিউ মিররে অপসৃয়মাণ দৃশ্য। এইগুলো তাও খুব বড়ো দুর্নীতি – খবর হয়, চোখে পড়ে, অল্প লেখালিখি হয়, এর আড়ালে খুচরো দুর্নীতিও কম নয়। ভেতরে ভেতরে যতই ঝাঁঝরা করে দিক, সেইসব দুর্নীতির বিচার দূরস্থান, সবসময় যে সেগুলো দুর্নীতি – তাইই প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এর-ই পাশাপাশি আরেক দৈত্য লাগামছাড়া বেসরকারিকরণ – ফলতঃ অকল্পনীয় অসাম্য, আর শিক্ষাকে ক্রমশঃ মানবাধিকার থেকে মুনাফাজাত পণ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া। গত ২০ বছর ধরে ফুলেফেঁপে এই দৈত্য গোলেম এখন আমাদের হাতের বাইরে। গতকাল প্রোফেসর অম্বর হাবিবের লেখায় পড়ছিলাম, এই বছরেই শুধু ২৪ লাখ ছাত্র পরীক্ষায় বসেছে ১ লাখ এমবিবিএস আসনের জন্য, যার আবার মাত্র অর্ধেক সরকারি, অর্থাৎ সাধারণের আয়ত্তে। ওদিকে ১১ লাখ ইউজিসি-নেট পরীক্ষায় রেজিস্টার করেছেন মাত্র চার হাজার ফেলোশিপ, আর চার হাজার লেকচারারশিপের সার্টিফিকেটের জন্য প্রতিযোগিতায়। অন্যদিকে জোর করেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কুয়েট, কমন ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন টেস্ট, তাতে শুধুই মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন অর্থাৎ এমসিকিউ-র জ্বলন্ত জঞ্জাল। সেই এমসিকিউতেও বিচার্য শুধুই গাদা মুখস্থবিদ্যা আর অপ্রাসঙ্গিক খুচরো তথ্য-উপাত্ত। এর-ও ফল সেই এক-ই। ‘পেটের মধ্যে শুকনো পুঁথির শুকনো পাতা খসখস গজগজ’। স্কুলশিক্ষাকে, বৃহত্তর শিক্ষাকে আরও একটু অপ্রাসঙ্গিকতার দিকে ঠেলে দিয়ে খুব সংকীর্ণ ঐ কম্পিটিশন-সাকসেস মার্কা কিছু ট্রেনিং-এর দিকে ঝুঁকে পড়া ছাড়া গতি নেই ছাত্রদের। প্রোফেসর হাবিব এক্কেবারে শেষে যথার্থই লিখেছেন, ‘coaching no longer supplements the regular education, but supplants it.’ ... ...

যতক্ষণ কোনো প্রকল্প ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব এবং ধর্মীয় মৌলবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায় ততক্ষণই তা ভালো। ধর্মনিরপেক্ষতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে বিপুল ধার্মিক জনতার নৈতিক বোধকে অসাম্প্রদায়িক লক্ষ্যে চালিত করার এ এক উপায় হতে পারে। তবে এই উপমহাদেশে রাষ্ট্রশক্তির কাছে মৌলবাদ প্রশ্রয় পায়। সেখানে লোকধর্ম তার বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়তে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ... ...

এটা আগস্ট ৩১ পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত নোট। যাঁদের ধৈর্য্য আছে একটু দেখতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাদ গেলে ধরিয়ে দেবেন। ভুল থাকার সুযোগ কম, তবু বাইচান্স কিছু থাকলে বলবেন। জুড়তেও থাকুন। আমিও থাকব। আপডেটও করব সময় মতো। সূত্রগুলোর লিংক সবকটা রাখা হয়নি। থাকলে সেটাও দেবেন। আমিও দেব। আর দয়া করে এই সুতোয় আবোলতাবোল লেখা থেকে বিরত থাকলে ভালো হয়, আমার কাছে এক নম্বর পয়েন্টটাই প্রতিবাদের জন্য যথেষ্ট। ... ...

কিছু মনে করবেননা, আপনাদের গোয়েন্দা-গল্পগুলো অত্যন্ত খাজা হচ্ছে। লালমোহনবাবুর রহস্যরোমাঞ্চের চেয়েও। কেউ কেউ অবশ্য এগুলোকে সাংবাদিকতাও বলছেন, কিন্তু এর নাম ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম হলে, আমার নামও মারাদোনা। একটা অডিও ক্লিপ নিয়ে আকাশ-থেকে-পড়া শুনে মনে হচ্ছে সত্যিই মঙ্গলগ্রহ থেকে আপনারা এইমাত্র ল্যান্ড করেছেন। সেই জন্যই আপনারা জানেনা, ক্লিপটা সত্যি হোক মিথ্যে হোক, পশ্চিমবঙ্গে ওইরকম করেই মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়। শুরুতে ভাঙা হয়না। কাজটা ভাল না মন্দ সে অন্য কথা, কিন্তু ওইরকমই হয়। ওতে রহস্যের কিচ্ছু নেই। আত্মহত্যা বলার মধ্যেও কিস্যু রহস্য নেই। ... ...

সারা জীবনে এই প্রথম কোনো প্রশাসনিক প্রধানকে ফাঁসির দাবী করতে দেখলাম। অভিষেক আরও এক ধাপ এগিয়ে এনকাউন্টার বলেছিলেন, এখন বলেছেন, কই সন্দীপকে গ্রেপ্তার কর। পাবলিক এনিমি যখন হয়েই গেছে, ওই ব্যাটাকেই বলি দেওয়া যাক, এরকম ব্যাপার। পুরোটাই উন্মাদনা তৈরির চক্কর। এমনিতেই সন্দীপ ঘোষকে পারলে লোকে ধরে ফাঁসি দিয়েই দেয়। আরও ছজন ডাক্তারের নাম বাজারে ঘুরছে দেখলাম, "আমাদের হাতে ছেড়ে দিন" দাবী সহ। কে তালিকা বানায়, কে ছেড়ে দেবে, কার হাতে দেবে, কে জানে। এবার অবশ্য খুব কেয়ারফুলি মুসলমান নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট কথা, সবাই সব জানে, শুধু সিবিআই ছাড়া। যেটা বাকি আছে, সেটা হল জাস্টিস ফর সঞ্জয় রাই পোস্টার বেরোনো। ... ...

আরজিকরও রাজনীতিই নয় তো? ... ...

এই ডামাডোলে, মূল দাবীটা কিন্তু ভুলতে দেওয়া যাবেনা, যে তদন্ত এবং বিচার চাই। আরেকটা জিনিসও কিন্তু নজর এড়াচ্ছে, যে, এই লম্বা সময়ে সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা কার্যত খোঁড়া। এমনি এমনি না, একজন ডাক্তার খুন হয়েছেন এবং জুনিয়ার ডাক্তারদের যথাযথ কিছু দাবীও আছে। দাবীগুলো সুসংহত ভাবে আসেনি, এক এক করে এসেছে। আদালতে আইনজীবী সুবিচারের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবী করেছিলেন। তারপর আসে অধ্যক্ষ সহ কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণের দাবী। এবং নিরাপত্তার দাবী। এই কটা একসঙ্গে না এলেও, মোটের উপর যথাযথ। এবং সবই মোটামুটি নানা পক্ষ মেনে নিয়েছে। ... ...

এ সমস্ত ঐতিহাসিক মতাদর্শগত নৈতিক অবস্থানের জায়গা থেকেই বিজেপি দলটি দেশের ঘটে চলা ক্রমবর্ধমান ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্বপূর্ণ জাতি হিংসা এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী-পিতৃতান্ত্রিক নারী হিংসা ও ধর্ষণের পক্ষ নেয়। এমন অবস্থান তারা নিজেদের দলের ভেতরেও অনুশীলনের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করে। এর ফলে রাজ্য বিজেপি দলটির ভেতরেও নারী নেত্রী, কর্মীর আত্মহত্যা খবর সমাজের বুকে উঠে এসেছে। এখন এরাই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অসহায়তার সুযোগে, ফাঁক তালে এ রাজ্যে ক্ষমতা দখলে আর.জি.করের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রাজনৈতিক সৎকার করতে চাইছে। এ কী রাজ্যের নারী সমাজের অপমান বলে গণ্য হবে, নাকি বিজেপির ঐতিহাসিক মতাদর্শগত নৈতিকতার সন্মানের পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে? ... ...

বীরদের মিছিল আসছে। তাদের যে গপ্পোটা প্রথম থেকেই বিপুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে হোয়াটস্যাপ এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমে, নিশ্চয়ই প্রায় সবাই পড়েছেন। হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটা কোনো একজন একা ঘটায়নি। ঘটানো সম্ভব না। খুনের আগে নিঃসন্দেহে হয়েছে গণধর্ষণ।যারা করেছে, তাদের মধ্যে আরজিকরের অধ্যক্ষ ছিলেন। তা ছাড়া, যারা সঙ্গে ছিল সবাই সংখ্যালঘু। একজন ছাড়া, যাকে তৃণমূল-নেতার ছেলে ভাবা হয়েছিল। এবং গল্পে আছে একটি মেয়েও, সেও সংখ্যালঘু, যে নাকি নির্যাতিতার বেস্ট ফ্রেন্ড, এবং পুরোটা চলার সময়, সে নির্যাতিতার হাত চেপে ধরে ছিল। ... ...

১৯৭৭ সাল। সকাল সকাল ইন্দোরের মহারানী ঊষারাজে ট্রাস্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ড( অধুনা হোলকার স্টেডিয়াম)-এ ইন্ডিয়া ট্যুরে আসা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব( এম.সি.সি) আর বম্বে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে ক্রিকেট ম্যাচ। রেডিওয় খেলার ধারাবিবরনী শোনার জন্য শত ব্যস্ততার মধ্যেও কান পেয়েছেন শহরের জনতা। কিন্তু এ কী! চেনা সব পুরুষ কন্ঠের পাশাপাশি খেলার প্রতিটি বল- প্রতিটি ব্যাটিং স্ট্রোক আর ফিল্ডিংয়ের প্রতিটি মুভমেন্টের ধারাভাষ্য দিচ্ছেন এক মহিলা কন্ঠ! শ্রোতারা অবাক হয়ে জানলেন কখনও হিন্দি আর কখনও বা চোস্ত ইংরেজিতে খেলার এমন অনায়াস ধারাবিবরণী দিয়ে চলা এই মহিলা ধারাভাষ্যকারের নাম চন্দ্রা নাইডু। ... ...

আদালতে ঠিক কী হয়েছে, এই নিয়ে নানা মাধ্যমে নানা জল্পনা চলছে। পুরোটা নিজেই পড়ে নিন। ট্রানস্ক্রিপ্টের অনুবাদ করা হয়েছে এআই দিয়ে। অনুবাদ আড়ষ্ট হতে পারে, ছোটোখাটো ভুলভ্রান্তিও থাকতে পারে, কিন্তু ব্যাপারটা মোটামুটি এই রকমই। একটু কষ্ট হলেও পড়ে নিয়ে মতামত তৈরি করুন। ... ...

সুমন দে বলেছেন ২০২২ স্বাস্থ্যরত্ন তাঁরা দিয়েছেন আরজিকর প্রতিষ্ঠানকে, ব্যক্তি সন্দীপ ঘোষকে না। ঠিক কথা। ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠানের তফাত আমরা জানি। প্রতিবার এক্সিট পোলে এবিপি যে গোল্লা পায়, সেটা প্রতিষ্ঠানটা অপদার্থ বলে। ব্যক্তি সুমন দে নিশ্চয়ই হাতে বাক্স ধরে এক্সিট পোল করতে বেরোননা। তা, মানতে কোনো অসুবিধে নেই, প্রতিষ্ঠান হিসেবেই আরজিকর ২০২২ সালে ছিল একটি রত্ন, এশিয়ায় কত নম্বর একটা যেন। ... ...

এতদিনে সব্বাই নিশ্চয়ই সুবিধাজনকভাবে ভুলে গেছেন, যে, পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগদুর্নীতি নামক একটি বস্তু নিয়ে একদা সিবিআই তদন্ত করছিল। তার একমাত্র ফলাফল ছিল, না, দুর্নীতির পান্ডাদের শাস্তিদান নয়, কিছু শিক্ষকের চাকরি যাওয়া। সেটা এখনও সুপ্রিম কোর্টে ঝুলেই আছে। তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি, অনেক গরম-গরম কথা চালাচালি হয়ে গেছে। "গোপন সূত্র" থেকে অনেক কিছু বেরিয়েছে মিডিয়ায়। তাতেই শান্তি। দুর্নীতিগ্রস্তরা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, যাদের আগাপাস্তালা শাস্তির প্রয়োজন ছিল, সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু তাতে কী। ... ...

একখানা কথা বললে আবার অনেকেই রেগে যাবেন, কিন্তু বলতেই হবে, যে, বাংলাদেশ নিয়ে খোয়াব দেখবেননা। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপারটাই আলাদা। ওখানে প্রচুর রক্ত ঝরেছে, অন্তত ৬০০ মানুষ মারা গেছেন ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে, পরে কত কেউ জানেনা। ওটার পুনরাবৃত্তি হওয়া কাম্যও না। এছাড়া, এপারের অ্যাকটিভিস্টরা আন্দোলন বলতে কার্নিভাল বোঝেন, লাঠিতেই কাতর হয়ে পড়েন, দোষের কিছু নেই আমিও পড়তাম। কিন্তু রাষ্ট্রবিপ্লব করতে হলে গুলি-টুলি চলার কথা। তার চেয়েও বড় কথা হল, দখল করবেন টা কী। পশ্চিমবঙ্গ কোনো রাষ্ট্র না। দখল করতে হলে দিল্লি দখল করতে হবে। কলকাতা দখল করলে খুব বেশি হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। আনন্দবাবুর শাসন হবে। ওই অবধিই। ... ...

১৯শে আগস্ট, ১৯৩৬, ভোরের আলো ফুটতে তখনো দেরী খানিকটা। গ্রানাদার ঠিক বাইরে যে মেঠো রাস্তাটা জুড়েছে ভিজনার আর আলফাকার শহর-কে, সেইখানে থামলো একটি গাড়ি – দরজা খুলে একে একে নেমে এলেন চারজন বন্দী আর পাঁচজন বন্দুকধারী সৈন্য। বন্দীদের দুজন নৈরাজ্যবাদী বুলফাইটার, একজন পক্ককেশ স্কুলশিক্ষক যাঁর একটি পা কাঠের, আর চতুর্থ ব্যক্তিটির পরণে একটি ব্লেজার আর শাদা পাজামা, অন্ধকার আন্দালুশিয়ান আকাশের নীচে উদ্যত মাউজার রাইফেল আর অ্যাস্ট্রা-৯০০ পিস্তলের নিশানার তাঁরা হেঁটে যাচ্ছেন আল পেরিয়ে একটি জমিতে, জলপাই গাছের সারি উজ্জ্বল ভাসমান হয়ে আছে ঘাতকদের গাড়ির তীব্র হেডলাইটের আলোয়। ওঁরা জানেন সেই রাত্রিটির শেষ নেই। ... ...

সরকারের সতেরো দফা দেখে আমি হুব্বা। পুরোটা না, দুখানা পয়েন্ট দেখে। ১। কোনোভাবেই মহিলাদের ১২ ঘন্টার বেশি শিফটে কাজ করানো যাবেনা। ২। যথাসম্ভব কম নাইট শিফট দেওয়া হবে। তার মানে পুংদের ১২ ঘন্টার বেশি এবং নাইট শিফট দেওয়া হবে, মহিলারা দুবলা বা আক্রমনের টার্গেট বলে দেওয়া হবেনা। আমার যদ্দূর ধারনা কোত্থাও মহিলারা এরকম তুতুপুতু দুধেভাতে ট্রিটমেন্ট চাননি। ei জন্য রাত দখল করতে চাননি। কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার এবং নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। আপনি কাজ করতে গেছেন একটা জায়গায়, হঠাৎ জানলেন পাশের কনফারেন্স রুমে একজনকে চুপচাপ বা সশব্দে খুন-ধর্ষণ করা হয়েছে, এর থেকে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, শিরদাঁড়া দিয়ে যে ভয়ের স্রোত নেমে আসে, তার থেকে মুক্তি চেয়েছেন। একটা জনাকীর্ণ সরকারি হাসপাতালে যদি এ জিনিস ঘটতে পারে, তো আরও সর্বত্রই ঘটতে পারে, এই তো ভয়ের কারণ। এটা নির্জন পোড়ো ডক-ইয়ার্ড নয়, যে, চুপচাপ কেউ ছুরি চালিয়ে দিয়ে চলে গেল। এটা একটা সরকারি হাসপাতাল। কর্মক্ষেত্র। এবং তারপর যেটা ঘটেছে, সেটা তো আরও অকল্পনীয়। কোনো অফিসে কোনো দুর্ঘটনাতেই কোনো কর্মী মারা গেলে, কী হয় আমরা জানি। সবাই শঙ্কিত হয়ে থাকেন, বড়কর্তারা দৌড়ে আসেন। বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়। সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। এখানে তার কিছুই হয়নি। মরেছে তো মরেছে, রেপ হয়েছে তো হয়েছে, এবার জিনিসটা মিটলে বাঁচি, এরকম একটা ব্যাপার। তারপর সেই ব্যক্তিকে জামাই-আদর করা হয়েছে। এটা একটা সংগঠিত দুষ্টচক্রের ইঙ্গিত দেয়, যা ভয়ের অনুভূতিকে বাড়িয়েছে। অপরাধীর ফাঁসি হল না দ্বীপান্তর, সেটা অবান্তর। কিন্তু এই সর্বগ্রাসী আতঙ্কটাকে অ্যাড্রেস করা দরকার ছিল সরকারের। সেটা না করে, যেটা হল, সেটা নিরাপত্তার গ্যারান্টি না, "রাত্তিরে আসবেননা" এরকম একটা প্রেসক্রিপশন। নিরাপত্তার গ্যারান্টি না থাকলে এ তো দিনের বেলায়ও হতে পারে। তখন কী বলা হবে? বাড়ি থেকে চিকিৎসা করুন? ... ...

#আরজিকর ... ...

আমাদের দেশের নতুন পেনাল কোডের নাম ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, সংক্ষেপে বিএনএস। সেই ন্যায় সংহিতায় খুব স্পষ্ট করে বলা আছে, কিছু কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা আইনতঃ দণ্ডনীয়। এর সাজা আর্থিক জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল। এর দু-একটি ব্যতিক্রম আছে, যদি সেই ভিকটিম বেঁচে না থাকেন, বা যদি সে শিশু হয় বা মানসিকভাবে অসমর্থ (“of unsound mind”), তাহলেও শুধু তার নিকটতম আত্মীয় “রেকগনাইজ়ড অথরাইজ়ড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজ়েশন”কে অনুমতি দিতে পারেন ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ করার। এই “রেকগনাইজ়ড অথরাইজ়ড ওয়েলফেয়ার অর্গে”র সংজ্ঞাও দেওয়া আছে, সহজে বলতে গেলে তাদের সরকারীভাবে স্বীকৃত হতে হবে। ... ...
