-----------------------------
কালীসায়রের পাশের রাস্তা দিয়ে গিয়ে বড় মাঠ পেরিয়ে, বাঁঁ দিকে ঘুরে ডিপার্টমেন্ট। সামনেই মাঘ মেলার মাঠ। ডিপার্টমেন্টের দোতলার করিডরে দাঁড়ালে দূরের সবুজের হাতছানি। নীচে, অ্যাকাউন্ট সেকশনের পাশে, কাঞ্চন গাছটা ফুলে ফুলে সাদা। অডিও ভিস্যুয়াল ইউনিটের বাইরে, চালতার কুঁড়ির উঁকিঝুঁকি। এসব পেরিয়ে লাইব্রেরীর পথ ধরলো কলি। ছোট্ট লাইব্রেরী। এই বইভূমিতে বেশ লাগে কলির। রিডিং রুমের জানলার বাইরে রঙীন প্রজাপতি আর পাখিদের আলাপন। আত্মশাসন করেও দৃষ্টিকে স্ব-বশে রাখতে পারেনা কলি। ... ...
( শেষাংশ ) কালিপুজোর দিন সকালে শিশিরবিন্দু স্পীড পোস্টে একটা লেফাফা পেল। খামের ভেতর একটা চিঠি। কনসার্টের বিচারকদের রায়ে ‘বশিষ্ঠ’ গ্রুপ প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং ঢাকবাদক বশিষ্ঠ বাউরি সর্বসম্মতিক্রমে শ্রেষ্ঠ বাদকের পুরষ্কার প্রাপক মনোনীত হয়েছে। পুরষ্কার মূল্য দু লক্ষ টাকা।
কমল কিছুই জানে না অমিয়ার বিষয়ে, শুধুমাত্র ওর চোখের চাওয়াটুকুই পড়তে পারে। এক নারী তার আকুল কামনায় তাকে ডাক দিয়েছে আর সে ফিরে দেখবে না -এটা কমলের স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ। তাই কমলের হৃদয়ে রামধনুর খেলা চলে।কমলের বাবা গরীব চাষী। গরীব এই কারণে যে তাদের চাষযোগ্য জমি খুব কম। ওই অল্প জমির আবাদ করে যা শষ্য পাওয়া যায় তাতে তাদের পরিবারের চারজন প্রানীর দিন গুজরান একপ্রকার অসম্ভব। কমল বাপকে সাহায্য করে। ... ...
আমি বুকের ভিতর একবিন্দু জল নিয়ে জন্মেছিলাম। / জল, স্বাতী নক্ষত্রের জলবিন্দু-জলেরই ভিতর। / এখন গায়ে জন্মায় শ্যাওলা, অমসৃণ ধূসর ত্বক / কঠিন, কর্কশ মোহ আবরণ।
( ১ ) মাথার ওপরে নীল লিটমাসতোমার ঝাঁঝেতে লাল; অম্ল ধারায় হত মধুমাসপোড়ায় প্রিয়ার গাল!
বশিষ্ঠ নিমগাছটা থেকে একটা কচি ডাল ভাঙল দাঁতন করার জন্য। দাঁত আর কটাই বা আছে। ছিয়াত্তর বছর বয়েস হল। হাতে পায়ে তেমন বল নেই। শুধু ঢাকের দুটো কাঠি হাতে নিলে কি যেন ভর করে হাতে পায়ে। সাত পুরুষের ঢাকির পরিবার। তিন পুরুষ আগে তার কে যেন কলকাতায় রাজা নবকৃষ্ণের শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় ঢাকের বোল তুলতে যেত। তার নাম ছিল দুর্গাচরণ। সেই অষ্টমীপুজোর সকাল সন্ধেয় আরতির সময়ে দুর্গাচরণের ঢাকের বোলে রাজবাড়ির আনাচ কানাচ দুলতে থাকত ভাবের দোলায়। এইসব শোনা কথা অবিশ্যি। ... ...
সেই কত, কত্তো জন্ম আগে, কথা দিয়েছিলে- / একদিন, অনেক অনেক চাঁদ পেরিয়ে- / দুজনে বসব পাশাপাশি, বাঁশিলইয়ের কূলে, / কত সূর্য, কত তারা, কত রক্ত হারিয়ে।
ব্যাক্তিগত থাক না কেন পড়েসমষ্ঠিতে'ই মুক্তো পড়ুক ঝরে। তবু কে যেন,নেই আজকে কাছে-বহুদিন আগে ছেড়ে চলে গেছে!
কি মজা আবার স্কুল খুলবে। এবার থেকে সক্কাল সক্কাল সেজে গুজে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবো। ঘরে বসে থেকে থেকে হাত পায়ে মরচে পরে গেছিলো। খুব মিস করতাম জানেন দিন গুলো। ঘুম থেকে উঠে রেডী হয়ে চাট্টি ভাত খেয়ে হাত ধরে বেরিয়ে পড়া। তারপর কেউ বাসে, কেউ টোটো তে, কেউ গাড়িতে করে সোজা স্কুলের দরজায়। কত গল্প, সুখ দুঃখের কাহিনী, মন কষাকষি। নম্বর পাওয়া নিয়ে রেষারেষি। বসার জায়গা নিয়েও ঝামেলা করেছি। ... ...
সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর জন্মদিন আজ (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৯)। “আমরা বড় হয়েছিলাম স্বাধীনতা সংগ্রামের আবহাওয়ায়। ব্রিটিশ শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে আমাদের মধ্যে ছিল প্রচণ্ড জ্বালা। তারপর আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম শোষকশ্রেণির কোনো জাত নেই। জাতীয়তাবাদ তাদের কাছে মুখোশ মাত্র। যখন পড়ে-শুনে একটু চোখ খুলল, তখন আমরা হলাম সেকালের রাগী ছোকরা। পুরোনো মূল্যবোধে আস্থা হারালাম, দেবদ্বিজে ভক্তি উবে গেল। কাউকে মানি না, কিছুতে বিশ্বাস নেই, সমস্ত ব্যাপারেই সন্দেহ — এই রকমের একটা ভাব। ... ...
আজ চলছে মেদিনীপুর বিখ্যাত ভীম পূজা। বিস্তারিত জানবো আমার বই-এ যা প্রকাশের পথে। তবে কিছু video দেখতে পাবেন পরে। একটু বলি - ভীমপুজো হয় মাঘ মাসের শুক্লা একাদশীতে। এই একাদশী করলে সব একাদশী করার ফল পাওয়া যায় বোধহয় ব্যাদবাস এরকম বিধান দিয়েছিলেন।
তেল। এনার্জি মার্কেটে যার আর এক নাম ব্ল্যাক গোল্ড। পৃথিবীর একমাত্র পার্থিব পণ্য বা ‘কমোডিটি’ যার অধিকার নিতে একের পর এক যুদ্ধ হয়েছে। কখনও সামনে, কখনও বা আড়ালে। অর্থনীতিতে তেলের গুরুত্ব যত বেড়েছে, ততোই তীক্ষ্ণ হয়েছে এই প্রতিস্পর্ধা। অয়েল সুপ্রিমেসির এই দৌড়ে যুক্ত হয়েছে একের পর এক শক্তিশালী দেশ। একদিকে কূটনীতিক কৌশল, অন্যদিকে ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির গোপন পরিকল্পনা। ... ...
বরফের ঝড়ে পথ হারিয়ে একটা গুহায় আশ্রয় নিলাম। সেখানে দেখা হল ইয়েতির সঙ্গে।প্রথমে ভেবেছিলাম মানুষ। মোটকা পশমের কোট পরে আছে। হয়তো অন্য পর্বতারোহী দলের লোক। কথা বলতে বলতে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে এগিয়ে দিয়েছিলাম তার দিকে। ইয়েতি আপত্তি করেনি।গুহাটা দেখার জন্যে টর্চ জ্বালতে গিয়ে তার ইয়া বড়কা মুখ আর চারটে আঙুলওয়ালা গাবদা গোবদা পা দেখে ভুলটা কেটে গেল। পড়ি কি মরি করে পালিয়ে এলাম। বহু কষ্টে ক্যাম্পে ফিরলাম। ইয়েতি কিন্তু আমার পিছু ছাড়ল না। ... ...
সম্প্রতি বিবিসি ওয়ান 'ইম্যাজিন' বলে একটা সিরিজ করেছে, তার একটা এপিসোড দেখতে গিয়ে একজন শিল্পীর কথা জানতে পারলাম। শুধু জানতে পারলাম না, বলা উচিত জেনে বোমকে গেলাম। বর্তমান সময়ে পারফরম্যান্স আর্ট জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং একইসঙ্গে সবচেয়ে বিতর্কিত শিল্পী ও তারকাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মারিনা আব্রামভিচ। গত পঞ্চাশ বছরে তিনি শিল্প জগতে যে ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করছেন, তার হিসেব করতে হলে ইয়া মোটকা বই হবে। এমনিতেও পারফরম্যান্স আর্ট বিষয়ে আমাদের ধ্যানধারণা খুবই সীমিত, মঞ্চানুষ্ঠান বা থার্ড থিয়েটার (সেটা পারফর্মিং আর্ট) বাদেও যে শিল্পের একাধিক ফর্ম হতে পারে, এক্সপ্রেশনকে ভিন্ন মাত্রায়, ভিন্ন মাত্রায় গিয়ে সেলিব্রেট করা যায়, সেরকম কোনও শিক্ষা আমরা পাইনি। ... ...
Saikatদা একটা পোস্ট দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে, তাতে একটা লোকের কথা ছিল। মাঝেমাঝে রাতের একান্তে বারান্দায় একা চেয়ার টেনে বসেন। কানে হেডফোন, দুই আঙুলের মধ্যে সিগারেট নিয়ে একটা গান শুনে যান... একটাই গান।আজ যানে কি জীদ না করো...সৈকতদার অনেক লেখা পড়েই মনের ভিতর আবেগী বাতাস উমড়ে আসে, মনে পড়ে যায় হারিয়ে যাওয়া কোনও স্মৃতি। কিন্তু এই পোস্টটা আমার কাছে বিশেষ ভাবে স্মরণীয় হয়ে রইল। কারণ, এই পোস্টটা পড়ার কিছুক্ষণ আগেই আমি আবিষ্কার করেছি, এই গানটার পিছনে থাকা অনেক কথা। এই গান, এই কম্পোজিশন তৈরি হওয়ার পিছনে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আছে, ঐশ্বরিক কোনও উপায়ে বহু মানুষের জীবনও জড়িয়ে গিয়েছে এই গানের সৃষ্টির সঙ্গে। ... ...
#পুরনোলেখা চার্লি চ্যাপলিনের অটোবায়োগ্রাফি পড়ে এই নোটটা লিখে রেখেছিলাম। ১৯১৮ সালের ছবি। চার্লি চ্যাপলিন ওয়াল স্ট্রিটের সাব ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে লিবার্টি লোন বা লিবার্টি বন্ডের প্রচার চালাচ্ছেন। তখনও চ্যাপলিন নিজে সিনেমা পরিচালনা শুরু করেননি সেভাবে, দ্য কিড আসতে আরো তিন বছর বাকি। কিন্তু সিনেমায় তাঁর 'ট্র্যাম্প' অবতার ( ট্রাম্প নয় রে বাবা!) দেখে জনতা তাঁকে নায়কের আসনে বসিয়েছে ইতিমধ্যেই। আসল চ্যাপলিনকে কেউ না চিনলেও 'ট্র্যাম্প'-কে সারা দুনিয়ার লোক চেনে, তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। এমন সময় মার্কেটে এল লিবার্টি লোন। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এই ফিনান্সিয়াল বন্ড লঞ্চ করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই। উদ্দেশ্যে মিত্রশক্তি বা 'অ্যালাইড পাওয়ার্স' এর জন্য ... ...
( শেষ পর্ব )নিখিল চিৎ হয়ে শুয়ে আছে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে। বিধ্বস্ত, বিভ্রান্ত, দিশাহারা। নিশ্চিতভাবে জেনে নিয়েই দিন্দা উকিল খবরটা দিয়েছে। একদম সরকারি খবর। প্রথম খবর, অনিন্দিতার স্বামী হাজতের মধ্যেই ব্লেড দিয়ে শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছে প্রাইমা ফেসি এভিডেন্স অনুযায়ী। তদন্তের এখনও আদেশনামা আসেনি। আর, দ্বিতীয় দুর্ঘটনা হল ট্রেনের চাকার তলায় অনিন্দিতার শরীর সমর্পণ করা। বডি পোস্ট মর্টেমে গেছে। কেই বা অনিন্দিতার স্বামীকে ব্লেড সরবরাহ করল আর কেনই বা করল সবই তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার।ঘন ধূসর অবসন্নতার গভীরে ডুবে রইল নিখিল। অকারণেই অপরাধবোধের ভাবনা চেপে ধরল তার মস্তিষ্ক। সন্তাপের স্রোত ছোট ছোট ঢেউ তুলতে লাগল মনের মধ্যে। নিখিল ভাবল, সে ... ...
ভারতের রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে দুর্নীতি দমন শাখা তৎপর- ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ নেবার খবর নাকি পান তারা। ঘুষসহ হাতেনাতে এক সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মমতা যাদব বলেন, ‘ঘুস তো মন্দিরের প্রসাদ। কেউ দিলে তা নিষেধ করতে নেই।’ আহা, বাংলাদেশে এমন যে কতো কতো লোক ড়াওয়া যাবে! স্বয়ধ দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযুক্ত! কিন্তু তার বিচার এখনো হলোনা! ... ...