।।কোজাগরী।। কে জাগে রে !! ছোটবেলায় দুগ্গা পূজো ছিল পাড়ার পূজো। পূবপাড়া, মাঝেরপাড়া, পশ্চিমপাড়া। আমাদের বাড়িটা পড়তো মাঝেরপাড়ায়। পূজোটা হত ইস্কুলবাড়িতে, আমাদেরই পূজো, তবে পাড়ার, ঢাকিরা থাকতো আমাদের বাড়ীতে সিঁড়ির তলার ঘরে। ঢাকিদের সাথে একটা বাচ্চা ছেলেও আসত কাঁসি নিয়ে নাড়ু। নাড়ুকে হিংসে হোত, ওকে তো ইস্কুলে যেতে হয় না, কেমন পঞ্চমী থেকেই বাপের সাথে দুগ্গা পুজোর মন্ডপে। স্কুলে প্যান্ডেলের বাঁশ পড়ত মহালয়ার পরের দিন, মন উড়ুউড়ু, কবে ষষ্ঠী আসবে, ষষ্ঠী হয়ে ইস্কুলে ছুটি, সেই এক মাসের। সপ্তমী অষ্টমী নবমী টা কেটে যায় কেমন স্বপ্নের মতো, সীতানাথ ওর ভাই পচাকে দুই বেনী প্যাঁচানো সাপ বেলুন কিনে দেয়, সবাই রোল ক্যাপ ফাটায়, ... ...
ধরুন আপনি যেমন খুশি হতে পারেন / আপনার কাছে আলাদিনের চিরাগ আছে
স্পষ্ট বুঝতে পারছে অভিলাষ, তার দৃষ্টিটা সহ্য করতে পারছেন না অনিন্দ্য জোয়ারদার। ব্যাঙ্কের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ম্যানেজারি ঘরে বসেও রীতিমতো ঘামছেন। উশখুশ করছেন। টাইয়ের নট আলগা করে হাঁসফাঁস করছেন।
সামনে এসে বসেছেন আমার ভাগ্যদেবতা / ইনিয়ে বিনিয়ে ইষ্ট আলাপ হয়েছে
- কিন্তু দাদু, মাত্র তো হাফ নোট! - হাফ নোট! হাফ নোটের গুরুত্ব বুঝিস? - দাদু, তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছো!- বাড়াবাড়ি! ওই বেতালা বাঁশিওয়ালার মাথায় আমার এই লাঠি ভাঙবো একদিন! হতভাগা!! শেষের কথাটা দাদু অনিল'দাকে উদ্দেশ্য করে বললো। ভালোই বাজায় অনিল'দা, বেশ ভালো। সুমির তো বেশ লাগে ওর বাজানো শুনতে। বিশেষত রাত দ'শটার পরে যখন অনিল'দা দেশ বাজায়। সুমির প্রিয়তম রাগ। অনিল'দার নিজের পছন্দ অবশ্য দরবারি কানাড়া। সেটা অবশ্য অনিল'দা বাজায় আরো রাতে, পাড়ার সকলে ঘুমিয়ে পড়ার পরে। সক্কলে। রাত দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে। রাতের তৃতীয় প্রহরের রাগ দরবারি কানাড়া। অত রাত অবধি জাগতে পারেনা সুমি। বড়োজোর বারোটা। ... ...
আমার মা এয়োস্ত্রীর আচার নিয়ে খুব একটা অবসেসড্ ছিল না কোনোকালেও। তবুও বিষ্যুদবারে আলতা পরার একটা রেওয়াজ ছিল আমাদের বাড়িতে। রেওয়াজটা মায়ের তরফে সৃষ্ট নয়। রোজ বিকেলে মায়ের কাছে যে একপাল মেয়ের দল আসতো গল্প করতে, তারাই বৃহষ্পতিবার হলে আলতা নিয়ে বসে যেত। তখন আলতার বোতলটা হতো কাঁচের। উপরে একটা কাঠের ছিপি। একটা ছোট্ট প্ল্যাস্টিকের বাটি থাকত। আর একটা কাঠিও থাকতো আলতা পরবার জন্য। যে কাগজের বাক্সটায় থাকতো বোতলটা, তার ওপরে শতাব্দী রায়ের একটা ঘোমটা টানা ছবি ছিল। মায়ের কাছ থেকে তুলো নিয়ে কাঠির মাথায় জড়িয়ে বেশ একটা তুলি তৈরী করে ফেলতো ওই দিদিরা। ... ...
বিনায়করুকুর পুজোর ডাইরি -- লিখেছেন বিনায়ক রুকুপুজো আসছে। বাপ্পাদার স্টুডিও ঠাসা দুর্গা। বাঁশ গুলো প্ল্যাস্টিক বাঁধা। কাদামাখা। পুরোটা পড়ুন
টোকন ঠাকুরের গ্রেফতার নিয়ে লিখলেন এক চলচ্চিত্র-নির্মাতা ও সাংবাদিক
আজ রাতে খুন হবে, বহুল প্রত্যাশিত সেই খুনযার আবেদনে ভূ-রেখা ধরে হেঁটে চলেছে লক্ষ লক্ষ নবীন।চাঁদের আলো মাখানো ছুরিতে হবে সে নিষ্প্রাণ নিঃশব্দ মৃত্যুর কোলাহলে কেঁপে উঠবে ধরণীতলবেদনার আঘাতে- পলকে থমকে যাবে অর্থহীন সমুদ্রঢেউ আর উল্কাপিণ্ড হয়ে সপ্তর্ষিমণ্ডল ধরা দিবে বায়ু সীমানায়শুরু হবে তাণ্ডবলীলা-নিমেষে নেমে আসবে ঘোর কালো অমাবস্যা!
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসোসেই হাসি, যার মায়া মুগ্ধতায় আমার সকল ক্লান্তি আর মন খারাপেরা পাবে লয়!তোমার হাসি ঝরে ঝরে পড়বে ঝর্ণার মতন এই হৃদয় মরুতেআর পলকে পলকে বালুকণারা হবে ধূলিসাৎ! স্মৃতিপটে তোমায় রাখতে চাই না, চাই না তোমার ছবিসেসব যে বড্ড নিষ্প্রাণ, তুমি ছাড়া বড্ড বেমানান! আমি যে কেবল তোমায় চাই, ওগো শুধু তোমায়আমার সকাল-সন্ধ্যা-রাতে এবং এসবের ফাঁকে! ফিরে এসো প্রিয়তমা আমার, অনেক হয়েছে, গিয়েছো অনেকদূরএবার ফেরার পালা, আমার যে বড্ড তাড়া! ... ...
আপাতত সম্পাদনার কাজ চলছে
বলছিলাম কি সমস্যাটা আসলে হল ‘খাপ’-খোলা নিয়ে। সে বিষয়টা মেরুণা মূর্মূ, স্বপ্নময় চক্রবর্তী বা পারমিতা ঘোষ (হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই দেখছেন, পারমিতা ঘোষের কথাই বলছি) যিনিই হোন না কেন, কলের মুখে ছিপি লাগানোটা সবচেয়ে আগে দরকার। ‘যাহা খুশি বলিবার অধিকার’ ছাড়াও এ গণতন্ত্র লইয়া বহু কিছু করিবার আছে, কঙ্গনা রানাউত ছাড়াও বহু রোল মডেল আছে। তাই ফেসবুক নামক একটি ‘অসংরক্ষিত’ দেওয়াল পেয়েছেন বলেই যা মনে আছে ঝেড়ে দিলেন, এটা ঠিক হচ্ছে না ভাই !না না আমি মোটেই সংরক্ষণ নিয়ে বলছি না। সেটা নিয়ে বলতে গেলে তো থোঁতা মুখ ভোঁতা হয়ে যেত। ডাক্তারীর যে সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা বা ‘নীট’ (NEET) এই বছর তার ... ...
এখন তো সবই বেদে আছে বললেই সমস্যা মিটে যায়। তবে কুমারী পূজার সমস্যা বোধহয় মেটে না। কারণ বেদে এই প্রথার উল্লেখ আছে বলে জানা নেই। তন্ত্রপুরাণে আছে। তবে বেদ পরবর্তী কালে এর উদ্ভব এতে সন্দেহ নেই। আমাদের পীঠস্থান বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনে এর প্রচলন অতি অধুনা। স্বামী বিবেকানন্দ কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে এক মুসলমান কন্যাসন্তানের মধ্যে দেবীভাব দেখেছিলেন ও তাকে পূজা করেছিলেন। তারপর থেকেই মিশনে এই কুমারী পূজা চালু হয়। এখন তো অনেকখানেই হচ্ছে।তবে কখনোসখনো দু একটি ছুটকো খবর উড়ে এলেও আর কারো হিম্মত হয়নি 'বেজাতের' কুমারী এনে পুজোবেদীতে বসাবার। শাস্ত্র বলে কুমারীর জাতধর্মবর্ণ না দেখলেও চলে, কিন্তু পুজোর সময় মিশনসহ সব ... ...
কয়েকবছর আগেও আমি পুরো ভেতো বাঙালি ছিলাম। আজকাল তো আদিখ্যেতা করে ভাত না খেলেও কিছু মনে হয় না। দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন আমাদের বাড়িতে ভাত খাওয়ার রেওয়াজ ছিল না। আজও নেই। লুচি আমার পছন্দের তালিকায় কোনও কালেই নেই। আমাদের স্কুলে যেহেতু পুজো হয়, তাই অষ্টমীর দুপুরে ভোগ খেতে যেতাম। বড় হয়ে স্কুল পেরোলে আর যেতে ইচ্ছে করত না। তাই দুপুরে মাছ ভাত খাওয়ার জন্য মেজমা মানে মেজোপিসিমনির বাড়িতে চলে যেতাম। তারপর স্কুল কলেজ পেরিয়ে আবারও যখন নতুন সম্পর্কে জড়ালাম তখন ওদের বাড়ি। ও বাড়িতেও অষ্টমীতে লুচির রেওয়াজ ছিল না। ২০০৬ এ আমার এইচ আইভি ধরা পড়ল দুর্গাপুজোর আগে আগেই। স্বাভাবিক ভাবেই (?) ভালবাসার ... ...
বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রায় শোনাচ্ছিলেন,হয়ত নবান্নে বসে মুচকি হাসছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! এমন অলীক ধারণা আপনার উদয় হলো কীভাবে? না,ঠিক উদয় নয় বিশ্বাস! তবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এই রায় যদি এক মাস আগে আসতো অন্তত পুজো উদ্যোক্তরা এতটা অসুবিধায় পড়তেন না। তাঁরা নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারতেন। আর প্রশাসন যদি আদালতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতো, তাহলে তো কোনও সমস্যাই থাকতো না। ওই যে বললাম, তিনি হয়তো তখন মুচকি হাসছিলেন! কিন্তু মমতার হাসির কারণ কী? পুজোর জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান। একটা, দুটোর জন্য নয়,রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজকোষ ঝেড়েপুছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে ... ...
পুজো শেষ হলেই দুপুরগুলো বদলে যায়। কেমন ওম ওম হয়ে যায় রোদ্দুরটা… চোখে আরাম লাগে। আমার শ্বশুরবাড়িটা মোটামুটি বাগানবাড়ি। একটু ছায়া ছায়া ভাব সারা বাড়িটার গায়ে প্রায় সবসময় লেগে থাকে। পুজোর পরই এ বাড়িতে শীত টুকি দেয়। পামগাছ আর বেগমবাহারের ঝাড় পেরিয়ে নানা রঙের পাতাবাহার আর রঙ্গন লাল সুরকি বিছোনো পথটার দুইদিকে সান্ত্রীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। ... ...
নিবিড় বাঁশবনে ঘেরা ছোট্ট দীঘি। তরঙ্গহীন জলে ছায়ামাখা গোলাপী পদ্ম, গোল ঢেউ খেলানো পাতা। পানকৌড়ি হঠাৎ মুখ ডোবালেই স্থিরজলের তলায় শ্যাওলাদাম উঠত কেঁপে। তরঙ্গেরা ছুঁয়ে ফেলত পদ্মের পাঁপড়ি। ডাকঘরের মতো আকাশ জুড়ে মেঘেদের চিঠি দেওয়া নেওয়া চলত যখন, দীঘির স্বচ্ছ জলের আয়নাবুকে মিলত শরতের গন্ধ। সে গন্ধ এখনও পাই প্রবাসী বারান্দায়। সেই পদ্ম পাঁপড়ির রঙ রামধনু বেয়ে মিশে যায় বেগুনী ল্যাভেন্ডারের মঞ্জরীতে। সেই দিগন্তজোড়া কাশের ঢেউয়ের মিঠে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ বয়ে আসে প্যানপাস গ্রাসের গমরঙা রেশমী চিরল রোঁয়ায়। মার্কিনদেশে মা এসেছেন গোলার্ধ পেরিয়ে। মহাসপ্তমীর আবাহনে দর্পণচর্চিত মহাস্নানের পর মায়ের ত্রিনয়ন জেগেছে কুশের প্রাণপরশে। এদেশের পুজোতে ছেলেবেলায় দেখা বাংলাকে খুঁজে পাই। মন্ডপসজ্জা ... ...
চরণদাস চোর - প্রখ্যাত হিন্দি সাহিত্যিক বিজয়দান দেথা’র কাহিনীর অবলম্বনে দিকপাল নাট্যব্যক্তিত্ব ছত্তিশগড় রায়পুরের হাবিব তনবীর গড়ে তুলেছিলেন এক নাট্য প্রযোজনা ‘চরণদাস চোর’। হাবিব স্বয়ং লন্ডন এবং ব্রিস্টলে ব্রিটিশ রয়াল আকাডেমি অফ ড্রামাটিক আর্টস ইত্যাদিতে আধুনিক নাট্যকলায় শিক্ষিত হলেও জর্মনীতে বার্টল্ট ব্রেখটের থিয়েটার ‘বার্লিনার এন্সেম্বল’ এর প্রযোজনা তাঁকে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছিল বলে মনে হয়। ফিরে এলেন ছত্তিশগড়ে নিজের শেকড়ে, এবং গাঁয়ের লোকনাট্যের শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুললেন ‘নয়া থিয়েটার’। দলটির শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা ‘চরণদাস চোর’ --যা রবিন হুডের মত এক জনপ্রিয় চোরের গল্প--ওঁর হাতে হয়ে দাঁড়াল ছত্তিশগড়ি লোকনাট্য, এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে গেল গ্রামাঞ্চলে। এই নাট্যপ্রযোজনাটি ১৯৮২ সালে এডিনবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ড্রামা ফেস্টিভ্যালে ফ্রিঞ্জ ফার্স্ট ... ...
অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা। কিন্তু এইটুকুতে মন ভরল না। এই বিষয়ে একটি ধারাবাহিক লেখা চাই।
যাপন ২ আজ অরিজিতের বাড়ীতে প্রথমবার ছবি তুলতে এল সৌরদীপ।বাড়িতে ঢুকেই চারপাশে চোখ বুলিয়েই জিতের রুচির প্রশংসা না করে পারল না সে। এত যথাযথ অন্দরসজ্জা অনেকদিন বোধহয় চোখে পড়েনি। যদিও সে জানে তার বন্ধুদের সকলেই বেশ রুচিসম্পন্ন। তবুও রোজকার জীবনে এমন পরিশীলিত রুচি সম্পন্ন মানুষকেই তো চেয়ে এসেছে এতদিন।মনে মনে একটু হলেও ভাল লাগতে শুরু হয় সৌরর।কথায় কথায় সেটা প্রকাশ করতেও ভোলেনা। জিত এর আগে শুনেছে সৌর।কফি পেলে আর কিছু চায় না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কফির কাপ বেশ কয়েকবার পেয়ে বেশ খুশি হয় সৌর। মুখে যদিও বলে, অভ্যেস খারাপ করে দিও না, এরপর সবসময় তোমায় না পেলে... কথা শেষ হওয়ার আগেই জিত ... ...