শুভ জন্মদিন ...জয় গোস্বামী জয় গোস্বামীর কবিতা আমার খুব প্রিয়। কয়েকজন প্রিয় কবিদের কবিতা পড়লে, কিছু আবছা মতো ছায়াঘোর ঘনায়। যেন খরের ঘর হলো। এবার হালকা কুয়াশা পড়া শুরু হবে। ধানগাছের শুকনো শরীরে পা দিয়ে দিয়ে অনুভব করতে হবে শীতঋতুর ঘাম, তাতে কেটে যাবে গোড়ালির ত্বক। ঘরে ফিরে আমিও লিখতে পারব তখন হেমন্তকাল নিয়ে দু চারটি ঝরা পাতার চিঠি। আমার চোখ বিষাদ নিয়ে নেমে আসুক আশ্চর্য সব প্রেমের কবিতায়। তাই সমস্ত শব্দহীনতা এবং লেখাশূন্য দিনে আমি জয় গোস্বামীর কবিতা পড়ি। তারপর কবিতাগুলো কোথাও একটা ছেড়ে দেয় আমাকে, এই ছেড়ে দেওয়াটা ব্যাপক মুশকিলের, পোকার মত অসহ্য, চোখে মুখে অস্থিরতা, যেন কিছু একটা ... ...
কবিতার কাছে আসতে চাওয়া উচিত নয়। কবিতা একটি অনির্নীত প্যারাডক্স। আধুনিক কবিতা কি হবে, কেন হবে ভাবতে ভাবতে আমরা জড় হয়ে যাচ্ছি। জড়বাদের এবং ব্যক্তিবাদের সংকট, বিশ্বাসহীনতার অসহায়তা, নাস্তিকতার সংকট সব মিলিয়ে একটি "vast spiritual disorder", আধুনিক সময়টাই আসলে "age of discontinuity" কারণ আমরা চাই যে অতীতের বোঝা এবং ঐতিহ্যের দায় ঝেড়ে ফেলি, আধুনিক মনন তখন, "disinherited mind", আর আধুনিক মানুষদের মধ্যে যোগাযোগের ভাষা হচ্ছে, "metaphors of scilence"। ... ...
বিহার নির্বাচনের একদম শেষ পর্বে এসে লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, বস্তুত তৃণমূলের সঙ্গে বাম জোটের খোলাখুলি প্রস্তাব দিয়ে ফেললেন। বামরা বিহারে অসাধারণ ফলাফল করে ফেলেছে এমন নয়, তবে নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের চেয়ে ভালো। সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিপিআইএমএল লিবারেশন। এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের সাইটের খবর অনুযায়ী তারা ৯ টি আসনে জিতেছে এবং আরও ৩ টিতে এগিয়ে আছে। এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে দীপঙ্কর স্পষ্ট করেই বলে দিলেন, যে, সর্বভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে এবার পশ্চিমবঙ্গের বামদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাদের অগ্রাধিকার কী? তৃণমূলের বিপক্ষে গিয়ে বিজেপির সুবিধে করা? নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়ে তৃণমূলের হাত ধরা? শত্রুর বিচারে কংগ্রেস এবং তৃণমূল, দীপঙ্করের বিচারে বিজেপির কাছাকাছিও আসেনা, এই হল দীপঙ্করের মোদ্দা ... ...
২১ মার্চ ছিল না কি ১৪? দেখতে হবে। দেবেশ রায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ। অনেকক্ষণ কথা হলে, অনেকবার কথা হলে, প্রগলভ হয়ে পড়া যায় কিছুটা৷ দে রা-র সঙ্গে তেমন প্রগলভতা চলেই আসত, যা হয়ত অনধিকারও বটে। সেই অনধিকারের স্পর্ধায় প্রশ্ন করেছিলাম অনেক। সেই স্পর্ধিত প্রশ্নের মধ্যে অনধিকারীর স্পর্ধাবোধে যেমন থাকে, উত্তর বগলে নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তার অন্যতম ছিল, নকশাল আন্দোলন নিয়ে শিল্পোত্তীর্ণ ও কালোত্তীর্ণ সাহিত্য কটা আছে? যে আন্দোলন এত বড় ঘটনা বাংলায়, তা নিয়ে? দে রা বুঝেছিলেন, উত্তর আমিই দেব, সম্ভবত সে কারণেই নীরব ছিলেন। এবং আমি বের করেছিলাম আমার আস্তিনের তাস। দীপেনের শোকমিছিল। আর কিছু নেই, আর কিছু হয়নি, ... ...
কিছু কথা ছিল যা বলা হয় নিএবং বলা হবেও না কোনদিনকারণ তারা কোন বলবার মত কথা নয়তাদের শব্দবন্ধগুলি জোড়হীন ভাবেপরস্পরের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে শুধু,শব্দবন্ধ থেকে বাক্যবন্ধ হবার নিয়তিসে তাদের নয়।তবুও তাদের অস্তিত্বের পদধ্বনিতাদের শব্দে শব্দে সুখদুঃখের ছায়াএসবই তাদের কাহিনীকে আখ্যায়িত করে চলেনৈর্ব্যক্তিক, কারণ তাদের শোনার কেউ নেইতবু উচ্চারিত না হয়েও তাদের ঠিকনীরব বলা যায় না।কারণ সব কথা বলতে নেই উচ্চারণেসব শব্দ সশব্দ হবার প্রয়োজন নেইকারণ নিঃশব্দ মানেই নিস্তব্ধ নয়।অন্তহীন শব্দের সাগরে আমিনিঃশব্দ ভেসে থাকি। ... ...
এ এখন কারও অজানা নয়, যে, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটের ইতিহাসে পয়লা নম্বরে আছেন জো বাইডেন। অর্থাৎ, এর আগে এত ভোট কেউ পাননি। কিন্তু যেটা নিয়ে তেমন কথা হচ্ছেনা, সেটা হল দুই নম্বরে কে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, যে, প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে দুই নম্বর আলো করে আছেন শ্রীযুক্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইডেনকে বাদ দিলে এত ভোট আর কেউ কখনও পাননি। এইটা কেন বলা হচ্ছে? কারণ একটাই। এইটুকু খালি বলা, যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কিন্তু কিচ্ছু কমেনি। বরং আগের থেকে বেড়েছে। এবং ২০২০ ছাড়া অন্য যেকোনো নির্বাচনে এইরকম সমর্থন পেলে ট্রাম্প হইহই করে জিততেন। সেটা এবার হয়নি, দেখাই যাচ্ছে, ... ...
তুমি অমন করে হেসো না তো! তুমি অমন করে হাসলে আজকাল আমার ভীষণ অসুবিধা হয়, বুকের ভেতর ছলকে যায় পদ্ম পুকুর, মাইনাস সিক্স চশমা ফস্কে যায় খুব কাজের সময়, অন এয়ারে চলে যায় ভুলভাল সংবাদ। এবং আরো অনেক, যা তা ইতং। তাই বিনয় করে বলি, ওই সর্বনাশা হাসি এখন স্থগিত রাখ, কেননা তোমার হাসিতে আজকাল আমার বেশ সমস্যা হয়, পর পর ঘটে যায় আরো বেশকিছু অঘটন... আমার মা জানালেন, তোমার কাচভাংগা হাসিতেই এবার নাকি শহর রক্ষা বাধ বিপন্ন হয়েছে, ওই হাসিতেই এবার যমুনা ভাসিয়েছে সিরাজগঞ্জ, আমার বন্ধু কালায়ন চাকমার দাবি, তোমার হাসিতেই এবার মধ্য রাতে পাহাড়ে ঘটেছে প্রলয়, এরকম আরো বেশ কিছু লণ্ডভণ্ড ... ...
জ্যোৎস্নার বিষণ্ণ হরিণেরা / ধীরে নেমে আসে / বি টি রোড ধরে
সারাটা রাস্তা গাঁজার গন্ধ। সারা রাস্তা গাঁজার গন্ধ। আমি গর্ভস্থ ভ্রূণের মত নিজেকে জড়িয়ে নেই। বুড়ো আঙ্গুল চুষতে চুষতে ভেসে বেড়াই চরম মৌতাতে। সদ্য পাড়া ডিম বিক্রি হয় উচ্চস্বরে কুড়িটা কুড়িটা।
আর যাব না তোমার বাড়িতোমার সাথে এবার আড়িকথা দিয়ে ফেরাও খালিআসবো বলে দিচ্ছো ফাকি।আর যাব না- তোমার বাড়িতোমার বাড়ি নি:স্ব ভারিদিবা-রাত্রি একলা পুরিবুকের ক্ষতে জোড়ায় তালিস্বপ্ন দিয়ে কাথা শেলি।আর যাব না- তোমার বাড়িতোমার বাড়ি গারদ মুখিপানে-চুনে খসেই যদিকুটনা কাটে শাশুড়িনিননদিনিও কম না যায়শরীর জুড়ে কথা ফোটায়।আর যাব না- তোমার বাড়িতোমার বাড়ি ব্যথা ছড়ায়কথার তরে আমায় কাদায়।আর যাব না- তোমার বাড়িতোমার বাড়ি কষ্ট জাগায়তুমি নামের অসুক বাড়ায়। ... ...
মুজবান হকের প্রস্থান ওরা কখনো দেখেনি। তবে মাছের পেট চিরে যেমন পেটি গড়ায়, তেমনি প্রকাশ পেত ওর না থাকাটুকু। বাড়ির উঠোনের চার কোণে বিনীত অথচ অদম্য সেনাপতির মতন কাঠের ফ্রেমে ঝুলে থাকতো চারটে সাদা পাঞ্জাবী। প্রতিবার একই রকম নির্ভুল কাকতাড়ুয়া দৃশ্য রেখে মুজবান হক হারিয়ে যেত। প্রথমবার নিখোঁজের দিনগুলিতে স্ত্রী জয়তুন ভয়ে, অনিশ্চিয়তায়, সন্দেহে -স্বামী বশীকরণ, পলাতক লোক ফিরে পাওয়া, হারানো মানুষের সন্ধান, একান্তে কাছে পাওয়া, আশেকের সাথে মিলন, বাড়ি বন্ধ, শত্রু দমন, জ্বীন তাড়ানো, সুখ শান্তি লাভ- এরকম পঞ্চাশ রকমের তাবিজ গাছে ঝুলিয়েছিল, মাটিতে পুঁতে ছিল। ওদের ছেলে পানু ভাবতো পানি দিলে একদিন সারে সারে তাবিজের গাছ হবে ওদের ... ...