পুরানো কিন্তু ভরানো সে সকাল, / হেলান দিয়ে বসে / হতুম খুন হেসে - / গড়িয়ে গড়িয়ে ঘুরত কত বিকাল।
তখনও বাঙালী অ্যাপার্টমেন্টবাসী হয় নি। বাঙালী তখন সবেমাত্র 'ছোট পরিবার সুখী পরিবার' থিমে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। পরিবারে তখনও ঠাকুমা, দাদু, পিসি, জেঠু, কাকুরা জেঠিমা, কাকিমারা আর সেইসঙ্গে কুচোকাচার দল শোভা পেত। বাঙালির বাঙালিয়ানা রসনার পরিতৃপ্তিতে। বাড়ির হেঁশেলে মাছ, মাংস, শাক সব্জি র মধ্যে অন্যতম স্থান পেত পোস্তর নানা পদ – আলু পোস্ত, ঝিঙে পোস্ত, পোস্তর বড়া ইত্যাদির রূপে। নিরামিষ দিনে ডাল, বিশেষতঃ বিউলির ডালের সঙ্গে আলু বা ঝিঙে পোস্ত বাঙালির অতি পছন্দের পদরূপে সম্মান পেত। তখনও পোস্তর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে না গেলেও পোস্ত একটু দামীই ছিল। সামান্য একটু পোস্ত শিলে মিহি চন্দনের মতো করে বেটে পুরো সংসারের জন্য একটি ... ...
ধ্বনির অর্থ সুচক শব্দ ভাব বয়ে বেড়ায় - তা অবমুক্ত হলে মানুষ প্রীত বোধ করে
এক শিখা মলয়কে ভালোবেসে আকাশকে ছুঁতে চায়!
প্রতিষ্ঠানবিরোধী রাজনীতিতে কিশোর অতিনিবেদিত কাসাব্লাংকা বা সুকান্ত ঘরানার বামপন্থী হিসেবে সংস্কৃতির জগতে বৌদ্ধিক চর্চার জগতে খানিকটা সরলীকৃত যাতায়াতের অভ্যেস ছিল। যেসব বন্ধুরা দেশ পত্রিকায় কবিতা ছাপানোর জন্য আকুলি বিকুলি করত, বা আনন্দ পাবলিশার্স এর আপিসে একদিন সিকিউরিটির বেড়া পেরোতে পারত তাদেরকে ঠিক সিআইএর চর মনে না করলেও আমরা তাদের কলকেতে স্খলন নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় থাকতাম। তরুণ বন্ধুসহ সব লেখকলেখিকাদের মধ্যে আত্মপ্রকাশের আর্তির ওজন, সমাজ সচেতন রাজনীতির থেকে পাল্লায় ভারী হল কিনা খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজেদের লেখালিখি বা তার নিরীক্ষার চর্চা থমকে থাকত। ... ...
আমার মুখোমুখি একটা প্রতিবিম্ব / আমাকে প্রতিবারই প্রশ্ন ও সংশয় জাত / সঙ্কটে সমাকীর্ণ করে ফেলে
He who controls the past, controls the present -- George Orwell কয়েক বছর আগে এক ভারতীয় চ্যানেলে "দাদাগিরি" নামে এক অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী প্রতিযোগীদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন ভারতের কোন রাজ্যের নিজস্ব মুদ্রা ছিল -- হায়দ্রাবাদ না বরোদা?
সদ্য স্কুল পরীক্ষা দেওয়া এক ছেলে একবার তার বান্ধবীর উদ্দেশ্যে হঠাৎ একদিন লিখে ফেলল একটি কবিতা। কবিতার নাম 'একটি চিঠি'। কিছু একটা ভেবে ডাক যোগে বিখ্যাত 'দেশ' পত্রিকার অফিসে পাঠিয়ে দিল সেই কবিতা। ১৯৫১ সালের ৩১শে মার্চ দেশ পত্রিকার মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাটি। দেশ পত্রিকার অফিস থেকে সেই ছেলের নামে আসল ভারী একটা খাম। এত ভারী খামের উপরে নিজের নাম লিখা দেখে ঘাবড়ে গেল ছেলেটি। সেই ছেলেটির নাম ছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ... ...
যেন অতীতচারী মন কেবল / যে কিনা কোনো এক স্থানে আর / স্থির না হয়ে অনির্দিষ্টে ঠাঁই নেয়।
স্বপন বাজার মোড়ের কেইজ বার্ড / আর শুয়ে বসে দিন কাটানোর / বিলাসিতা অন্য কারুর জন্য তোলা থাক
ভাব অলঙ্কার থেকে দূরে সীমাহীনটাকে অতিক্রম করে লভ্য – অলভ্য পরম জাগতিক যাবতীয় প্রলুব্ধকর অবতারণা আর প্রতারণাপূর্ণ চাহনি কথা
আগের যুগে জমিদার বা লর্ডরা শিকারে বের হত এক পাল পোষা কুত্তা নিয়ে। বাবুদের শিকারকর্মে এই পোষা কুত্তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। শিকার চিহ্নিত করার সাথে সাথে প্রথমেই পোষা কুত্তাগুলিকে লেলিয়ে দেওয়া হত। ট্রেনিংপ্রাপ্ত কুত্তাগুলি শিকারকে ধাওয়া করতে করতে ক্লান্তির শেষ সীমায় নিয়ে যেত।
ইন্দ্রাণীদি ফেসবুকে নেই। অর্থাৎ, এই নশ্বর পৃথিবীতেই নেই। যেখানে মানুষে-মানুষে যোগাযোগের পোশাকি নাম নেট-ওয়ার্কিং। যেখানে আলোয় ভেসে থাকার জন্য সর্বদা আকুলি-বিকুলির নাম আলোকপ্রাপ্তি। ইন্দ্রাণীদি এসবের বাইরে। তাঁর সাধনা নৈঃশব্দের। বাক্য নিক্তি মেপে। আখ্যান ছেনি হাতুড়ি দিয়ে কোঁদা। সেও এক ম্যাজিক, তবে অন্ধকারের। যেখানে পৃথিবীর কিমাকার ডায়নামোর পরে মহীনের ঘোড়ারা ঘাস খেতে আসে, এ সেসব এলাকার কাহিনী। হুড়োহুড়ি, গুঁতোগুঁতিতে ইন্দ্রাণীদি নেই। তার বাইরের যে অন্ধকার ইন্দ্রাণীদির ম্যাজিক সেই অঞ্চলের। ইন্দ্রাণীদির প্রথম গল্পের বইয়ের নাম ছিল 'পাড়াতুতো চাঁদ'। যা দেখিয়ে দিয়েছে, নিঃস্তব্ধতারও কিছু অনুসারী আছেন। হয়তো সংখ্যায় বেশিই আছেন, দেখা যায়না, কারণ তাঁরাও নিঃস্তব্ধ। "আমি নিজেকে পড়ুয়া বলে মনে করি, কিন্তু ইন্দ্রাণীর খোঁজ ... ...
'অতি ব্যবহারে ক্লিষ্ট'- এ কথাটা বোধ করি / ভাষার বেলাতেও ঘটে।
সাময়িকতা, যুগ প্রভা, সামাজিকতা / রুপ বিচিত্র, শিল্প ভাবনা অনুষঙ্গ