...
সুবণসিরির এক সহোদরা ধানসিড়ি বাংলা সাহিত্যে বিখ্যাত। তবে তাদের অন্য সহোদরারা, ডিহং, ডিবং, গাবরু, জিয়াভরলি তত পরিচিত নয়। ক্ষীণতোয়া মনু নদীর নাতি পুতিও বর্তমান, তাই বা কে জানত? সেসব নদীর জলে সময়ের ছায়া কেমন ভাবে পড়েছিল তাও আমরা সম্যক জানি না। ময়মনসিংহের ঠুনকি, মানকি বা আৎকা পীরের বিষয়েও আমাদের জ্ঞান সীমিত। ভারত ভূখন্ডে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ত্রিপুরা, আসামের বাঙালীদের জীবন কেমন ছিল? আমরা জানিনা। ... ...
'কিউ' এর পরে 'ইউ' এর মতো দাড়ির পাশে টাক
অজুহাত দেখিয়ে থামিয়ে দিয়েছি সকলকে
পাড়ার বন্ধু কবি। পুরানো আমলের। উঠতি বয়সে কবিতার চাষাবাদ করেছিল অনেকগুলো কারণে। দেখতে ভালো মেয়েদের চোখে লাগা রোমান্টিক কবি। নামে স্কুল কলেজ ঠেঙানো। আসলে অশ্বডিম্ব। কাজেও বেকার। কাজকর্মের কোন চেষ্টা ই নেই। মায়ের পয়সা গেঁড়িয়ে অল্পবয়েস থেকেই মদ সিগারেটের ভক্ত। মহিলাদের জন্য নিজেকে পায়জামা পাঞ্জাবীতে মুড়ে আর মিথ্যা গল্পে ঢেকে রোমান্টিসিজমের এক চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ করতে তার জুড়ি মেলা ভার। ... ...
দরজার দিকে চেয়ে বসে, ওই দরজা দিয়ে একটি মেয়ে ঢুকবে, কাউন্টার থেকে খাবারের ট্রে নিয়ে আমার ঠিক সামনের চেয়ারটার পাশের চেয়ারে এসে বসবে। কৌতুক ও কৌতুহল চোখে সুন্দরী মেয়েটি, তারই প্রতীক্ষা করি। দুমাস ধরে সপ্তাহে গড়ে তিন চারবার ক্যান্টিনে আসার টাইমিং মিলে গেলে এই চলে; মেয়েটি আগে এলে আমি এগিয়ে যাই হিসেব করে সামনের চেয়ারটির পাশেরটি দখল করি। নিলাজভাবে চোখ মেলি, চোখাচোখি হয়ে যায়। এই চোখ চাওয়া সুন্দরের প্রতি টানই শুধু নয়, সুন্দর বলে মনে করি এ জানানোর চেষ্টাও। কখনও চোখ আমি আগে নামাই, কখনও মেয়েটি। ... ...
'খুদ্দূর যাত্রা'য় রোদ্দুর রায়, / লাল-নীল সুরে বেঁধে কত গান গায়। / তানপুরা ঘেমে যায়, / সুর বুঝি নেমে যায়, / হারমোনিয়াম বাঁশি করে হায়! হায়!
....
আমার সঙ্গে বিনয়ের শেষ দেখা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে, আমি সেদিন একটু তাড়াতাড়ি দোকান থেকে ফিরছি, বর্ষার রাত, বাড়িতে কৃষ্ণা আর বনি একা আছে, সেই ভেবেই একটু তাড়াতাড়ি দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে, সবে সাইকেলে উঠে হাত দশেক এসেছি, এমন সময় পাশের সুড়কির রাস্তা থেকে বিনয় বেরিয়ে এসে "এই দাঁড়া দাঁড়া" বলে পিচ-রাস্তায় দাড়িয়ে গেল। অবাক হলাম, জিজ্ঞাসা করলাম "কী ব্যাপার?""ভাল আছিস তো?"রাস্তায় ব্যস্ত ভাবে সাইকেল থামিয়ে কেউ কুশল প্রশ্ন করে না। আমি বিনয়কে অনেক দিন চিনি, বিনয় মানুষ খারাপ না, কিন্তু ও একটু এই রকম, কখন কী বলতে হয় সে সেন্সটা ওর চিরদিনই গোলমেলে। আমি কেমন আছি সে কৌতুহলে নয়, ওর ... ...
আমরা জন্মাতে ভালোবাসতাম; তারপর একদিন N.R.S এর আস্তাকুঁড়ে কোটি কোটি জন্ম হল আমাদের।এ খন আমরা মরতে ভালোবাসি।
“কীরে, এসে থেকে মুখটা অমন করে আছিস কেন?”“কেমন করে আছি?”“তোলোহাঁড়ির মতো”!“তোলোহাঁড়ি? তার মানে”?“ধুর বাবা, তার মানে কী আর আমিও জানতে গেছি। যেমন শুনেছি তেমন বললাম”।“কোথায় শুনেছিস?”“ছোটবেলায়। দিদিমার কাছে!”“তোর ছোটবেলা মানে, সেই বর্ধমানের গ্রামের কথা?”“বাঃ বেশ মনে রেখেছিস তো! এমন ভাব করিস, আমাকে যেন পাত্তাই দিস না। অথচ দিব্যি মনে রেখেছিস, আমার ছোটবেলা কেটেছিল বর্ধমানে”!“মনে না রেখে উপায় আছে? একবার শুরু করলে তো, থামতেই চাস না”।“রাগ করিস না রে, সেদিন আর বেশি দেরি নেই, যখন তোর বকবকের ঠ্যালায় আমি এক্কেবারে চুপ মেরে যাবো!”“ইস্ কী মজা, সেদিনটা কবে আসবে রে?”“আসবে খুব শিগ্গিরি আসবে! আচ্ছা তুই বিয়ের পর হাজব্যাণ্ডকে হাবি না ডার্লিং কী ... ...
আমার আঁতেও তেল নেই, ইয়েতেও তেল নেই - তাহলে আর আঁতেল হব কী করে? পাত্রাধার তৈল নাকি তৈলাধার পাত্র-র মতোই আঁতেলদের ভেতরে আধার থাকতে হয়, আমার ভেতরের সবটাই অজ্ঞানের আঁধার - কাজেই এ জন্মে মনেতে গেরো বাঁধার গেরোয় না পড়ে না হয় আঁতেল হলামই না। তাতে খি বা কার আসে যায়? ... ...
জীবনে অনেক সাইটের মেম্বার হয়েছি, এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা হল এই গুরুচন্ডা৯ এর সদস্য হয়ে। এখনও হেসে যাচ্ছি! এইভাবে আজ অবধি কেউ ডুমুরের ফুল বলে নতুন নিষ্ক্রিয় সদস্যকে সক্রিয় করে জানা ছিল না। এই দলের সব মাথাকে প্রণাম, বহুদিন পরে কোন সাইট এইভাবে আনন্দ দিল।
#রহস্যগল্পঃ মেঘলা আকাশ - প্রদীপ দে আমি আর আকাশ আজ চুটিয়ে রঙ খেললাম ওদের ছাদে। কালো বেগুনী রঙ যে তেল দিয়ে মাখালে এত বীভৎস দেখতে লাগে - আগে আমি কোনদিন দেখি নি। আকাশকে চেনাই যাচ্ছিল না। ওকে নিয়ে আমি মজা করে হেসে উঠেছিলাম -- হো হো -- দ্যাখ এবার কেমন লাগে? ... ...
কবিতাঃভালোবাসা খুন হলে প্রদীপ দে ~ দরজাটা খোলা রেখোআমি ফিরবোইসেদিন, যেদিন আকাশে কালো মেঘেরঘনঘটা আর থাকবে নাবৃষ্টির শেষে।বিরহিত তুমি কিছু খুঁজবেভুলত্রুটি ভুলে।
'নেক্রোফোবিয়া' সম্বন্ধে আমরা কমবেশি সবাই একপ্রকার জানি। Google- এ সার্চ করলে প্রথমেই বেশ সুন্দর একটা কবরস্থানের ছবি চোখে পড়ে। সেটিতেও আমার ভীতু হৃৎপৃণ্ড দুর্ধর্ষ রকমের ভয় পায়। বেশ কয়েকবছর পর্যন্ত আমি কোনো শোকবাড়িতে যেতে পারতাম না। কিছুদিন হলো আবার শুরু করেছি। কেননা, ওই যে, কর্তব্যটুকু আগে, সামাজিকতা আগে।
সে দিন সন্ধ্যায় ( ৩ নভেম্বর) আমার ছোট খালা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এলিজা সিরাজী (ডাক নাম মঞ্জু), দীর্ঘ রোগে শোকে ভুগে সিরাজগঞ্জে হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। খালার বড় বোন, আমার মা সৈয়দা আজগারী সিরাজী (৭৭) বছর পাঁচেক ধরে গুরুতর এলঝেইমারে ভুগে স্মৃতিভ্রষ্ট। একদিক থেকে ভালই হয়েছে, শেষ বয়সে এসে এই গুরু শোকভার তাকে বহন করতে হচ্ছে না। আমার মঞ্জু খালা, একজন প্রকৃত মানুষ ছিলেন, ১৯৭১ এর রণাংগনের সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ... ...
সাড়ে নয় লাখ প্রদীপের চিতা; তেল জোগাচ্ছে কাদের পিতা!
উৎসবের এই আয়োজনের ভিড়ে, এত আলো, এত উছ্বাসের সমারোহে প্রাণ ফিরে পায় অন্ধকার গলিটা। যে পথ দিয়ে হয়ত কেউ ফিরেও চায়না বহু দিন। আজ আলোয় সজ্জিত তাঁর শরীর সে উন্মুক্ত করেছে তাদের জন্য, যারা তাকে এতদিন উপেক্ষা করেছে।