( তৃতীয় ও শেষ পর্ব ) আমহার্স্ট স্ট্রীট চোরবাগান লেনে সন্ধে নেমে এসেছে। প্রাচীন বাড়ির দোতলার পাথুরে বারান্দার পাথুরে কার্নিশ। বারান্দার সামনেই একটা সপ্তপর্ণী গাছ। অন্ধকারে একা একা দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো পড়েছে গাছের পাতায়।আমহার্স্ট স্ট্রীটে গাড়ির জ্যাম লেগে গেল হঠাৎ। সম্বুদ্ধ সিংহরায় দোতলার ঘরে বসে জানলা দিয়ে রাস্তার জ্যামের দিকে তাকিয়ে ছিলেন আনমনা হয়ে। তার মনে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে উঠছে উড়ন্ত শ্বেত বলাকার মতো বাতাসে ভেসে আসা এক পেসার। বলটা অফস্টাম্পের একফুট বাইরে থেকে হাওয়ায় ডানদিকে বাঁক খেয়ে ... ...
অভীকের বাম হাতের কড়ে আংগুল আমাকে শান্তি দেয়। নিরাপত্তার আরাম এসে চারপাশে নৃত্য করে। পরশু রান্না করতে করতে আমি আবেগী হয়ে পড়ি। আচমকা বুঝতে পারি কড়ে আংগুল রহস্য! শৈশব কৈশোরে বাইরে গেলে বাবার আংগুল মিস করতাম। আমার সাথে থাকতেন দাদা। আমার বড় ভাই। আমার নিরাপত্তা বা সুবিধায় কখনো এতোটুকু আঁচ আসতে দেননি। স্কুলে নিতেন, ছুটির পর বাসায় পৌঁছে দিতেন। কোনো কারণে দাদার দেরি হয়ে গেলে আমি যেন টিচার্স রুমে বসতে পারি, পরিচিত একজন নারী টিচারকে আমার স্থানীয় অভিভাবক করে দেন। ... ...
শাম্ব পাল আর সেন্টু সেন-কে দিয়ে বোলিং ওপেন করাল প্রত্যয়। বোর্ডে অল্প রান। মৈনাক উইকেট নেওয়া বোলার হলেও ওকে প্রথমে আনল না প্রত্যয় কারন শাম্ব আর সেন্টু একদম জায়গায় বল রাখে। মারার জায়গা দেয় না ব্যাটসম্যানকে। তাছাড়া বল একটু পুরনো হলে হয়ত মৈনাক রিভার্স সুয়িং পেতে পারে এই হিসেবও হয়ত মাথায় ছিল।দীপশিখাকে কিন্তু প্রত্যয়ের এই সিদ্ধান্তে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। সে বাঁশের একটা খুঁটি ধরে একটা পা আড়আড়ি করে দাঁড়িয়ে রইল। ... ...
কথোপকথনে দুজনেই পাশাপাশি হাটছিলাম। এটাকে খুব অসাধারণ ভাবতে পারছিনে।এভাবেই মানুষ প্রতিনিয়ত পাশাপাশি হাটে। তার নীল রঙের শাড়ির সাথে বারবার তুলনায় আনছি সেদিনের আকাশের। পাশাপাশি হাটার তফাৎ টা অতি সামান্য। কখনো কখনো তার বাম হাতটা আমার ডান হাতটা কে ছুঁইছে।তখন সে কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে যায়।
তুই যে আমার শালিক বানু হলুদ ঠোঁটের নিত্য নালিশ
ব্যাংকে কয়েকটি শাখা বন্ধ, কর্পোরেশন পরিসেবা বন্ধ লোকজনের অভাবে। তবে আসল সমস্যাটা হল কেউ ইমিউন হচ্ছে আর কেউ হচ্ছে না, তাই আমি লকডাউন বিরোধী এবং সঙ্গে সমাজের যাবতীয় স্বাভাবিক সবকিছুর পক্ষে, হ্যাঁ মেলারও পক্ষে তার কারণ সব মানুষকে একইসঙ্গে ইমিউন হতে হবে তবেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সঠিক সামাজিক গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠবে। তবে বলে রাখি গঙ্গাসাগর মেলার বিরোধিতা করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। বহু গ্রামীণ মেলা বন্ধ। বিষ্ণুপুরের পোড়া মাটির মেলা বন্ধ। বন্ধ film festival। আচ্ছা বলতে পারেন লক্ষ লক্ষ বহিরাগত সাধু সন্ন্যাসী, ভক্তদের নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলা হলে আজ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বাহী পৌষ মেলা গুলো বন্ধ থাকবে কেন?ভোটের আগে দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা ... ...
My salad days are passing by / I am watching them so silly, / Idle dummy, sitting behind the grills, / Watching my youth spent freely.
অশোকতরু মুখোপাধ্যায় হুইলচেয়ারে ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তার ছায়াসঙ্গী হল বিনোদ। বিনোদবিহারি জাতে বিহারি। সে-ই অশোকতরুবাবুর অন্ধের যষ্ঠি। রান্নাবান্না, বাজারহাট থেকে শুরু করে অশোকতরুবাবুর যাবতীয় পরিচর্যা সবই করে সে। কাজের একজন মাসি আছে অবশ্য। বাসন মাজা, ঘর মোছা, জামাকাপড় কাচার জন্য।অশোকতরুবাবু রুরকি আই আই টি -র অধ্যাপক ছিলেন মেটালার্জি বিভাগে। ষাট বছরে রিটায়ারমেন্ট। তার পরে বছর তিনেক এক্সটেনশান। কিন্তু স্বাভাবিক মেয়াদই তিনি শেষ করতে পারেননি। ... ...
ওরে পৌষ পার্বণ মোর ঘরের অঙ্গন রমনীর হাতের আলাপন।।
জমকালো উৎসব বাড়ি কীভাবে ঢুকেছে এক বেমানান ফেরারী জোকার। তাকে ঘিরে বাড়ছে ভিড় স্খলিত গুঞ্জন
অনুগল্প - ১ সবার উপরে মানুষ সত্যসজল অফিস যাওয়ার সময় বলে যায় তাপসীকে, যদি সম্ভব হয় একবার ব্যাংকে যেতে আজ। ব্যাংকের ম্যানেজার ত্রিদিব মুখার্জীর সাথে দেখা করতে। সজল একটা ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য আবেদন পত্র জমা দিয়েছে, তাপসীকে সই করতে হবে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সামনে। তাপসীর কাজ আর শেষ হয় না সংসারের। সেই সকালে উঠে তাড়াহুড়ো করে সজলের জন্য কিছু রান্না করে অফিসে পাঠানো, বড় মেয়ে বুলি'র জন্য কিছু জলখাবার। ... ...
সাবধান গৃহী সাবধান, দু'বছর কেটে গেলো এ চোর বহুরূপী; বাছাবাছি শুরু হলো!
[প্রথম পর্ব - ১৭/১১/২০২১, দ্বিতীয় পর্ব ১৯/১২/২০২১ এবং তৃতীয় পর্ব ০৭/০১/২০২২ তারিখে প্রকাশিত] হামিদভাই ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা চলে গেলেন, কিন্তু একটা খোঁচা রয়ে গেল আমার মনে। এমন তো হবার কথা ছিল না। আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বালাইয়ের মুখের দিকে তাকালাম। বালাই এতক্ষণ কোন কথা না বলে চুপ করে শুনছিল, এখন ঘাড় কাত করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “কথাটা মন্দ বলেনি কিন্তু - রাজধানীর লোকেদের পেটে আর মুখে আনকথা”, তার চোখেমুখে ফিচেল হাসি, ... ...
[প্রথম পর্ব - ১৭/১১/২০২১ এবং দ্বিতীয় পর্ব - ১৯/১২/২০২১ তারিখে প্রকাশিত] “তা বাবুর কোথা থেকে আসা হচ্ছে? কলকাতা থেকে বুঝি?” “আজ্ঞে হ্যাঁ”। “কলকাতার কোথায় বটে?” আমি বললাম। “অ। আমি অবিশ্যি কলকাতার তেমন কিসুই চিনি না। এমনি জিগ্যেস করলাম। দুবার মাত্র কলকাতায় গেছি, পেথমবার ময়দানে। আরেকবার আলিপুরে। আলিপুরে পুলিশদের টেনিং দেওয়ার ইস্কুল আছে না? চেনেন?” ... ...
এক একটা এমন সময় আসে যখন মনে হয় গোটা পৃথিবীতে একমাত্র নিজেই একা নিজের স্বপ্নকে বিশ্বাস করি! সে বড়ো সুখের সময়, সে বড়োই দুখের সময়।
এ এক অদ্ভুত সময়। এ এক হননকাল। পৃথিবীতে কালান্তক করোনার আক্রমণের বাইরেও ঘটে চলেছে একটানা প্রাণঘাতী হননযজ্ঞ। না, ভাইরাস না। ভাইরাস মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু এখানে যার কথা বলা হচ্ছে, তা রীতিমতো আনুষ্ঠানিকভাবে মানুষেরই নিয়ন্ত্রণে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে, সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক ভাবে নিত্যদিন ধ্বংস করা হচ্ছে, জল, জঙ্গল আবাসভূমি। এ এক অদ্ভুত সময়, যখন সাড়ম্বরে ধ্বংসসাধনের নাম দেওয়া হয়েছে উন্নয়ন, বন্যাকে চিরস্থায়ী করার নাম হয়েছে বন্যানিয়ন্ত্রণ, উচ্ছেদকে বলা হচ্ছে নগরায়ন, আর কর্পোরেট শকুনের নাম বেদান্ত। ... ...
দিনের আলোতেও দেখি সূর্যটা বড়ো ম্রিয়মান / ভরা পূর্ণিমায় দেখি কুয়াশায় ঘোরলাগা রাতের আকাশ
আর আমার রূপকথায় একটু নারীশক্তির প্রকাশ আছে। রাজা, রাজপুত্তুরেরা আর নায়ক নন, ভুল ভ্রান্তি ভরা সাধারণ মানুষ। রানিরা আর রাজকন্যেরা দুর্বল নন, অসহায় নন, তাঁরাই সক্ষম। বিপন্ন হলে উদ্ধারের ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারেন। নিঃসন্দেহে তাঁরাই নায়ক। তাঁরা নিজেরা শত্রুজয় করেন, কিন্তু বাহুবলে নয় বুদ্ধিবলে। রাজ্য উদ্ধার করেন, সুবুদ্ধির বলে। নারী-পুরুষের সামাজিক অসাম্য ঘোচাতে,নারীর আত্মনির্ভরতার প্রতি সম্মান জাগাতে এই দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। ... ...
বড় বড় বইয়ের ঘ্যামা ঘ্যামা ব্যাপার, যেমন গড়ন তেমনই দাম। গুরুচণ্ডা৯ নিয়ে এসেছে চটি বই, যা একাধারে সস্তা ও পুষ্টিকর।