মল্লিকবাজারের ওই ডাক্তার ছেলেটার সঙ্গেই চন্দনার বিয়ের ঠিক হল। ছেলের বাবাও ডাক্তার। বাসন্তীদেবী উদগ্রীব ছিলেন বড় মেয়ের বিয়ের প্রাক্কালে ভবিষ্যতদ্রষ্টারূপী প্রতিবিম্বর সঙ্গে একবার পরামর্শ ক'রে তার নিদান নেওয়া। জ্যোতিষীঠাকুরের ওপর তার অগাধ বিশ্বাস। তিনি সেদিন অলোকেন্দুবাবুর কাছে খোঁজ নিলেন, ' হ্যাগা ... সেই জ্যোতিষীবাবা তো আর এল না ...' অলোকেন্দুবাবু বললেন, ' হ্যাঁ আসবে আসবে ... ...
সাগর রাত্রিকে নিয়ে কালীবাবুর ঘরে ঢুকল। কালীবাবু উৎসুক দৃষ্টিতে শ্যামবর্ণা রাত্রির পরিশীলিত বুদ্ধিদীপ্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন কালীকিঙ্করবাবু। মনে মনে সাগরের পছন্দের তারিফ না করে পারলেন না তিনি। ----- ' আসেন আসেন বসেন ... বসেন ... 'রাত্রি হাতজোড় করে বলল, ' নমস্কার... '---- ' হ্যাঁ ... বসেন বসেন ... সাগরবাবুর কাসে আপনের নাম অনেক শুনসি... চা খাবেন ... ...
কালীবাবু বললেন, ' আপনের শরীর ঠিক আছে তো সাগরবাবু ? '----- ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... তেমন প্রবলেম কিছু নেই। পেইন তো আছেই। যাবে আস্তে আস্তে ... এখন অনেক বেটার ফিল করছি ... 'সাগরের কথার ধরণে কালীবাবুর বিস্ময়ের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। তিনি একটু সময় নিয়ে চায়ের গ্লাসে দুটো চুমুক দিলেন। একজনকে ডেকে সাগরের জন্য একটা ... ...
বেলা দুটো থেকে অমল উৎকর্ণ হয়ে বসে আছে। সিঁড়িতে কারো পায়ের আওয়াজ পেলেই তার বুকের ভিতর টুপটাপ বৃষ্টি পড়তে থাকছে। এরকম কয়েকবার হল। এইভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক কাটল। তবে হ্যাঁ, অমলের প্রতীক্ষা শেষ পর্যন্ত সার্থক হল। পায়ের আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে দুই বন্ধুর গলার অন্তরঙ্গ অস্পষ্ট কাকলি কানে এল। অমল 'কে কে?' বলে একটা পরিকল্পিত ভান ... ...
নিখিল স্যার সবাইকে আজকের মতো ছুটি দিয়ে দিলেন। বললেন, ' আজ একটু কাজ পড়ে গেছে বুঝলে ... আবার সোমবার হবে ... ঠিক আছে ? ' ছাত্রীরা বই খাতা গুছিয়ে নিয়ে উঠে পড়ল। ওরা বেরিয়ে যাবার পর নিখিলবাবু বাইরে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কাল খান্নার মোড়ে সিগারেটের খোলে যাকে বাড়ির ঠিকানা লিখে দিয়েছিলেন সেই লোকটি দাঁড়িয়ে আছে। নিখিল ব্যানার্জী বললেন, ' আপনি ? মানে ... সাগর ... ...
গণেশ বলল, ' দাদা পান খাবেন তো ? '----' নাঃ ... একটা সিগারেট দে বরং ... '---- ' কি সিগারেট দেব বলুন ... '---- ' ক্যাপস্টান... ক্যাপস্টান... দারুন লাগে ... তামাকের গন্ধই আলাদা ... ' ----- ' যা বলেছেন ... গোল্ড ফ্লেক, ফিল্টার উইলস এর কাছে কিছু না ... 'সাগর সিগারেটে একটা টান মেরে বলল, ' যা বলেছিস ... '----- ' দাদার শরীর এখন ... ...
সাগর এর আগে একদিন রাত্রির পাশাপাশি হেঁটেছিল। সেই তাদের প্রথম সাক্ষাতের দিন। পটলের দোকান থেকে রূপবাণীর মোড় পর্যন্ত। মনে হচ্ছিল রূপবাণীর মোড় যেন দূরে সরে সরে যায়। বেশ লাগছিল চারপাশের লোকজন, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বাস ট্রাম। সবকিছুর ওপর একটা সোনালী আলো এসে পড়ছিল আকাশ থেকে এসে। তবে মনে কোন ভার ছিল না। একটু নাটুকে ভাষায় বললে আকাশ বাতাস ... ...
বাজারে এখন ছোট রেডিওর খুব চল হয়েছে। ট্রানজিস্টর না কি বলে যেন। মাঝারি সাইজের সুটকেসের মতো মারফি কোম্পানির রেডিওর মতো ঘরের বাইরে এরিয়াল তার টার কিছু টানাতে হয় না। একটু বড় মাপের পান জর্দার কৌটোর মতো একটা যন্তর। ওটার পিছন দিকটা খুলে দুটো নস্যির ডিবের সাইজের ব্যাটারি লাগিয়ে নিলেই হল। নিতাইবাবু শখ করে কিছুদিন আগে একটা কিনেছেন ওই ট্রানজিস্টর। সন্ধেবেলায় ... ...
কালীবাবুর অবশ্য ঘটনাক্রমে এরকম একটা অস্বস্তিকর ঝক্কি নেবার দরকার হল না শেষ পর্যন্ত। সাগর সন্ধেবেলা সেদিন সাইকেল চালিয়ে কর্ণওয়ালিস স্ট্রিট দিয়ে শ্যামবাজারের দিকে যাচ্ছিল। হাতিবাগানে নেমে একবার বাজারে ঢুকল সাইকেল নিয়েই। একটু দূর থেকে নিজেকে আড়াল করে নজর রাখল মনোরমা ভান্ডারের দিকে। না, ওখানে দোকানের সামনে টুল চেয়ার ... ...
তিন সপ্তাহ কেটে গেল এরপর। পুজো এসে পড়েছে দোরগোড়ায়। বারোয়ারি পুজোর প্যান্ডেল বাঁধার কাজ চলছে জোর কদমে। বিভূতিবাবু টুকটুক করে কাছাকাছি পাড়ার প্যান্ডেল বাঁধার কাজ দেখে বেড়াচ্ছেন সকালে কিংবা বিকেলে। একদিন বিকেলে জন্মেজয়বাবুর সঙ্গে দেখা হল রামদুলালের মোড়ে। বিভূতিবাবু বললেন, ' বিবেকানন্দ স্পোর্টিং-এর প্যান্ডেল বাঁধা দেখতে যাচ্ছি ... হয়ে এল প্রায় .... চলুন ... ...