মধ্যরাতে লক্ষ পায়ের স্রোত 'অর্ধ আকাশ' চিনে নিতে এল পথ রক্ত কণায় সাইক্লোন মারে ঝাপটা আবেগে অথির কাঁপছে জনপদ। পৌঁছে যাবই মোহনায় নিশ্চয় জাহাজ যেখানে বেঁধে রাখা ... ...
রাত্রে খিচুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল আশ্রমে। কাকলি খাওয়াদাওয়া করে ঘরে ফিরে গেল। কলতান দাঁড়িয়ে রইল। কারণ, স্বর্ণালি খেতে আসবে জিমিকে কাকলির জিম্মায় দিয়ে। জিমিকে খাওয়ানো হয়েছে ঘরেই। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ কাকলিরা ঘুমিয়ে পড়ল দরজা ভেজিয়ে রেখে, বোধহয় প্রকৃতির ডাকে জিমির বাইরে যাবার সুযোগ রাখবার জন্য। ঠিক এগারোটার সময় কলতান নীচে নেমে গেল। গ্রামাঞ্চলে রাত ... ...
গেস্ট হাউসের দোতলায় দুটো ঘর খুলে দেওয়া হল। একটা কাকলি আর স্বর্ণালির জন্য এবং তার পাশেরটা কলতানের জন্য। জিমি থাকবে স্বর্ণালিদের সঙ্গে। ঘর দুটোর আকার বেশ বড়। দুটো ঘরেরই একপাশে গ্রীলে ঘেরা বারান্দা আছে। জিমি বারান্দায় শুতে পারবে। কাকলিদের ঘরে ঢুকে কলতান বলল, ' ব্যাস... রাত কাটানোর ব্যবস্থা হয়ে গেল ... মনে রাখবেন বিশ্বম্ভরজি আছেন ওনার ওই অফিসঘরের লাগোয়া ... ...
মাঠের মধ্যে বটতলায় পৌঁছে বিশ্বম্ভর মহারাজ বললেন, ' ও হরি .... তাই তো ... এ তো দেখছি মনোময়েরই গাড়ি ... গাড়ি ফেলে কোথায় চলে গেল .... ওর স্বভাবটা অবশ্য এইরকমই, বাউন্ডুলে টাইপের ... ' ---- ' এখন তা'লে কোথায় খুঁজে পাব ওকে ? আপনি আমাদের কি করতে বলেন ? ' ---- ' সেটা তো আমার পক্ষে বলা মুশ্কিল.... আপনারা পুলিশের ... ...
গেটের সামনে ফিরে এসে কলতান গাড়িটা দেখতে পাওয়ার কথা জানাল কাকলিদের। মা আর মেয়ে বিস্ময়ে স্পৃষ্ট হয়ে তাকিয়ে রইল কলতানের মুখের দিকে। কলতান বলল, ' ব্যাপারটা সত্যি ... ওটা আপনাদেরই গাড়ি ...' কাকলির মুখ থেকে একটাই শব্দ বেরল ---- ' সত্যি ! ' ---- ' হ্যা ... সত্যি ... জিমি খুঁজে বার করেছে ... পুরোটাই ওর ... ...
গরম থাকলেও কোন কষ্ট হচ্ছে না। চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে ঝিরঝির করে মেঠো হাওয়া আসছে। মাঝে মাঝে উড়ো বাতাসে কে যেন জলের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। হাওয়ায় মাঝে মাঝে ভিজে ঝলক। জিমি জানলা দিয়ে মাঠ ঘাট দেখতে দেখতে চলেছে। দুপাশে সবুজ প্রান্তর। গাড়ি বর্ধমান পেরিয়ে বীরভূমে ঢুকে পড়ল। মা তারা কোম্পানির এই মারুতি ভ্যানের ড্রাইভার প্রদীপ দাশ বেশ তুখোড় ছেলে। এদিককার রাস্তাঘাট খুব ... ...
( ৬ ) ---- ' আমরা স্যার শোভাবাজার থেকে আসছি। একটা সমস্যায় পড়েছি। যদি একটু সাহায্য করেন .... ' প্রাণময় বলল। ---- ' আচ্ছা আচ্ছা .... কোন অসুবিধে হয়েছে বলেই তো এখানে এসেছেন .... কোন হেজিটেট করবেন না ... বলুন .... ' ---- ' ওই ডেথ সার্টিফিকেটের ব্যাপারে ... তিনমাসের ওপর হয়ে গেল ... বৌদির পেনশনটা ... ' প্রাণময় অসংলগ্নভাবে বলল। তার কেমন যেন সব তালগোল পাকিয়ে যেতে থাকে। কলতান এদের স্নায়ুর চাপটা অনুভব করতে ... ...
( ৫ ) ভোরের বেলায় আকাশ থেকে নরম আলো ছড়িয়ে পড়ছে। পুজো এসে গেল। শোভাবাজারে কৃষ্ণময় ঠাকু্রের বাড়ি দুশো বছরের দুর্গাপুজো। তিন চার পুরুষের মধ্যে দিয়ে বয়ে এসে প্রাণময়ের কাঁধে এসে পড়েছে। এখন তাদের পড়তি অবস্থা। আগের সে দিন আর নেই। তবু বছরে একবার বংশের ধারা রক্ষা করে চলতে হচ্ছে। দাদা মনোময় থাকলে কোন চিন্তা ছিল না। এত ঝক্কি তার ওপর পড়ত না। তাকে বৌদির এবং ভাইপো ভাইজির ... ...
( ৪ ) সন্ধে সাতটা নাগাদ কলতানের বাইক এসে থামল মনোময়বাবুর বাড়ির সামনে। আশ্চর্যের ব্যাপার কলতানের বাইকের আওয়াজ পেয়ে লেজের দোলা দিতে দিতে নীচের দরজায় আবির্ভূত হল জিমি। রাস্তায় নামার অভ্যাস নেই তার। সে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কলতানের দিকে তাকিয়ে চঞ্চল ঘোরাঘুরি শুরু করল, কলতান কে অভ্যর্থনা করার ভঙ্গীতে। ওপর থেকে স্বর্ণালীর গলা পাওয়া গেল ---- ' জি ..মি ... '। জিমি বাধ্য ছেলের ... ...
( ৩ ) বেলা দশটা নাগাদ মাথায় একটা টুপি পরে, তার ওপর হেলমেট চড়িয়ে আর মুখে মাস্ক লাগিয়ে কলতান বাইকটা নিয়ে একটা চক্কর দিতে বেরোল। চোখে লাগানো রয়েছে রোদ চশমা। টুপি আর মাস্ক পরা থাকলে খুব চেনা লোককেও চিনতে পারা যায় না, স্বল্প পরিচিত হলে তো দূরের কথা। লেবুবাগানে একশ তেইশ বি বাড়িটার সামনে ফুটপাথের ধারে এসে দাঁড়াল। সে গাড়িতে বসে বাড়ির ছাদের দিকে তাকাল। আলসেতে নানা ফুলের চারা লাগানো টবের ... ...