সৌভাগ্যক্রমে এম আর আই রিপোর্টে তেমন গন্ডগোলের কিছু পাওয়া গেল না। ডান হাঁটুর পাশের দিকে লিগামেন্টে কিছুটা স্ফীতি আছে। ডক্টর মিত্র তিন চার রকম ওষুধ দিয়েছেন। অন্তত তিনমাস খেতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হাঁটুর ব্যায়াম। সেটা নিয়মিত করে যেতে হবে। সিজন শুরুর আগে অন্তত একমাস বল পায়ে মাঠে না নামাই ভাল।সেটা অবশ্য কার্যত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। অপারেশনের কোন প্রয়োজন নেই এই মুহুর্তে। পরে সুবিধেমতো লিগামেন্টের একটা ছোট সার্জারি করে নিতে পারলে ভাল হয়। ... ...
সবুজের সঙ্গে বাড়ি ফিরে শংকর দেখল কৌশিক দত্ত এবং আর এক ভদ্রলোক বসে আছে। দ্বিতীয় ভদ্রলোককে শংকর চেনে না। কৌশিকবাবু বললেন, ‘আরে ....এই তো এসে গেছে। এই দেখ কেমন ঘাঁটি গেড়ে বসে আছি। মাঠ থেকে সোজা এখানে আসছি। গরজ বড় বালাই ....’। শংকর বলল, ‘হ্যাঁ ... ভাল করেছেন। মাঠে দেখেছি আপনাদের।’ ... ...
মাঠে মেডিক্যাল টিম বলতে তেমন কিছু নেই। এই ধরণের ম্যাচে থাকেও না। দলের অবৈতনিক ফিজিক্যাল ট্রেনার এবং দুজন রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ার মাঠে ঢুকে যতটা সম্ভব শুশ্রূষা করার চেষ্টা করতে লাগল। উৎকন্ঠায় অস্থির হয়ে ক্লাব সভাপতি প্রদীপ ঘোষ মাঠে ঢুকে গেলেন। কিন্তু রেফারির নির্দেশ মেনে তাকে আবার বাইরে চলে যেতে হল। একটানা ঠান্ডা পেন কিলার স্প্রে করতে লাগল ট্রেনার প্রত্যুষ সাহা। একটা পেন কিলার ট্যাবলেটও খাওয়াল শংকরকে। বরফ ঠান্ডা স্প্রের প্রভাবে শংকরের ব্যথা অনেকটা নরম হয়ে আসল। ... ...
কৌশিক দত্ত মনোময় মৈত্রকে কনুইয়ের হাল্কা ঠেলা মেরে বললেন, ‘প্লেয়ারটার স্পট জাম্প দেখেছ? মনে হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো স্টপারে খেলছে। এয়ারে এখন পর্যন্ত একবারও বিট হয়নি।’ — ‘হ্যাঁ সেটাই দেখছি ..... গ্রাউন্ডেও দারুণ স্ট্রং। দুর্দান্ত অ্যান্টিসিপেশান .... একটাও ট্যাকল মিস হচ্ছে না.... ... ...
(তৃতীয় ও শেষ পর্ব) প্রথম দুটো বল গুড লেংথে। আউট সুয়িং করাতে চেয়েছিল মনোজ বরাট। দেবু ডান পা বাড়িয়ে মাথা বলের ওপর নিয়ে গিয়ে ব্লক করল। বল ভাঙতে দিল না। তৃতীয় বলটা কম লেংথের। অফস্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে আসছিল। দেবু ব্যাকফুটে গেল। তার ব্যাট ঝলসে উঠল দেড় দশক আগেকার ঔজ্জ্বল্যের একটা স্কোয়্যার কাটে। কভার পয়েন্ট ফিল্ডার নড়ার সুযোগ পেল না। উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে কৌস্তভ ব্যাটতালি দিল। মাঠের বাইরে বসে সজল দাস বলল, ‘খুব রিস্ক নিল দেবু। মিট করতে না পারলে শিওর বোল্ড।’ ... ...
প্রদ্যুৎ ঘোষেরা ঘরে ঢুকে একবার, আবার বেরোবার সময় একবার গৌরীদেবীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল। গৌরীদেবী ছেলের গৌরবে প্রগাঢ়ভাবে আপ্লুত হলেন। তার জীবনে সুখের মুহূর্ত খুব বেশি আসেনি। যে কবার এসেছে তার মধ্যে এটা একটা। গৌরীদেবী বললেন, ‘বেঁচে থাক বাবা। বড় ভাল লাগল .... আবার এস ‘প্রদ্যুৎবাবু অকৃত্রিম আন্তরিকতার সঙ্গে বললেন, ‘হ্যাঁ মাসীমা নিশ্চয়ই আসব। দেবুর জন্যে আমাদের যা করনীয় সবই করব। ভাল থাকবেন।’ ... ...
‘দেবুদা আপনি তো রনজি খেলেছিলেন না ? ‘কৌস্তভ জিজ্ঞাসা করে।— না রে .... সে সৌভাগ্য হয়নি। স্পোর্টিং ইউনিয়নে তিন বছর আর মোহনবাগানে দু বছর ছিলাম। খুব ইরেগুলার ছিলাম ফার্স্ট ইলেভেনে। আর বাকি কেরিয়ার তো নবদিগন্তে মানে, নবদিগন্ত স্পোর্টিং-এ খেলেই কেটে গেল।’ কৌস্তভ বলল, ‘অম্বরীশ কাকু বলত আপনার মতো টেকনিক্যালি পারফেক্ট ব্যাটসম্যান খুব কম দেখা যায়। আপনার আরও অনেক অপরচুনিটি পাওয়া উচিৎ ছিল।’ ... ...
*** পোস্ট করতে একটু ভুল হয়ে গিয়েছিল। তাই আর একবার দিলাম গল্পটা। মাফ করবেন। একটা আয়না দেয়ালের পেরেকে টানানো ছিল। চৌকো ছোটখাটো তিন বিঘতের আয়না। শুধু মুখটুকু দেখা যায়। একটু পিছিয়ে দাঁড়ালে বুকেরও আধখানা দেখা সম্ভব। ওটার সামনে দাঁড়িয়েই দীপিকা চুল আঁচড়ায়, কপালে বিন্দি লাগায়, সিঁথিতে সিঁদুর ঢালে। মাঝে মাঝে চোখে কাজলও টানে।বাদল কসবার একটা বারের বাউন্সার। পয়সাওয়ালা ঘরের উড়নচন্ডী বেপরোয়া ছেলেমেয়েরা যেখানে বেহিসেবী টাকা ছড়ায় উন্মত্ত অবস্থায়। ... ...
সুভাষবাবু বিকেল বেলায় মুড়ি আর নারকেল খাচ্ছিলেন। সারাদিন রোদ্দুরে অনেক ঘুরেছেন। সেই সকালে বেরিয়েছিলেন পান্তাভাত খেয়ে।গ্রামের ছেলে। গ্রামেই কেটেছে সারাজীবন। পান্তাভাতেই এই শরীর এবং মাথা ঠান্ডা থাকে তার। হৈ হৈ করে ভোটের মেলা এসে পড়েছে। পার্টি এবারেও তাকে টিকিট দিয়েছে। সকলেই জানে সুভাষ গিরির প্রায় অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক জীবন সম্পূর্ণ কলঙ্কহীন। রাস্তায় বেরোলে এলাকার লোক পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। আবার তারা এও জানে সুভাষ গিরি ভোটে জিতবেন না। পার্টির সংগঠন বসে গেছে। সংগঠন মজবুত না হলে ভোটে জেতা যায় না। শুধু ভাল লোক হওয়া কোন কাজে আসবে না। ... ...
(তৃতীয় এবং শেষ পর্ব) সৈকতের বুটটাই চমৎকার ফিট করে গেল নিতুর পায়ে। কয়েক জোড়া অতিরিক্ত হোর্স আর গোলকিপারের জার্সি ক্লাবে ছিল। সেগুলোই কাজে লেগে গেল।ওগুলো কেনাকাটার সময়ও হাতে ছিল না।আড়াইটের মধ্যে স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে পৌঁছে গেল সুহাসিনী স্পোর্টিং। পুরুলিয়ার দলটার নাম বল্লভপুর ইলেভেন। বেশ দাপুটে টিম বলে শোনা যাচ্ছে।স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। কোন টিকিট লাগবে না। প্রবেশ অবারিত। ... ...