এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  সিনেমা

  • গুপি গাইন বাঘা বাইন নিয়ে বাৎচিত

    Arnab913 লেখকের গ্রাহক হোন
    সিনেমা | ১৩ জুলাই ২০১৭ | ৬৪০৯৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কল্লোল | ১৫ জুলাই ২০১৭ ১৯:৩২367671
  • বেশি প্রতিভাবানের ঘরে জন্ম নিলেও সমস্যা ঃপ, পিটি ফর সন্দীপ - না মানা গেল না। সুকুমার আর উপেন্দ্রকিশোর কম প্রতিভাবান ছিলেন না।
  • Arnab913 | ১৫ জুলাই ২০১৭ ২৩:২৩367682
  • তাঁদের সাথে তুলনায় যাচ্ছিনা কল্লোলদা। প্রতিভাবান এর সন্তানদের প্রতি একটা সহজাত এক্সপেকটেশন প্রেসার চলে আসে। সন্দীপদা মানিকবাবুর ছেলে না হলে বোধহয় মানুষ এত সমালোচনা করতনা, তার মাঝেও মানিককে খোঁজে লোকে। উনি কম প্রতিভাবান হতেই পারেন,সেটা ওঁর দোষ তো না!
  • PT | ১৫ জুলাই ২০১৭ ২৩:২৬367693
  • রথীন্দ্রনাথেরও সম্ভব্তঃ বেশ সমস্যা ছিল।
  • কল্লোল | ১৫ জুলাই ২০১৭ ২৩:৫১367704
  • সেটা হয়তো ঠিক।
  • sm | ১৬ জুলাই ২০১৭ ০০:০০367715
  • শ্যামাপ্রসাদের ছিল?
  • B | ১৬ জুলাই ২০১৭ ০১:৪৬367726
  • 'খাপছাড়া'
    ----------
    কাল (বা এখন ইংরিজি ঘড়ি মতে পরশু) সিকি-র একটা কথা ধরে ওকে প্রশ্ন করেছিলাম, ও সেটা সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছিল....., তা বেশ করেছিল।

    গুপী গাইন বাঘা বাইন নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে এখানেই আড্ডা হয়েছিল। ইন্দ্র, অরিজিৎ এবং অনেকেই নানারকম মন্তব্য করেছিল; ঠিক মনে নেই তখনও এরকম তর্ক বা কুতর্ক হয়েছিল কিনা। সেই সময় অরিজিৎ-এর একটা মন্তব্য এখনও মনে আছে, অরিজিৎ-এর ছেলে ঋক ওকে গুপী বিখ্যাত হয়ে তার বাবা(গোবিন্দ চক্রবর্তী অভিনয় করেছিলেন)-র কাছে ফিরে এসেছিল কিনা বা আসে নি কেন এরকম একটা প্রশ্ন করেছিল। কারণ আমলকি গ্রাম থেকে গুপীকে গাধার পিঠে তাড়িয়ে দেবার দৃশ্যে গুপীর বাবার ধুতির খুঁট দিয়ে চোখের জল মোছার সেই করুণ দৃশ্যটা ওর সংবেদনশীল শিশুমনেও দাগ কেটেছিল। এবং হ্যাপী এণ্ডিং-এ বাবার কাছে গিয়ে দাঁড়ানোর কথা মনে হয়েছিল। এর উল্লেখের সাথে অবশ্য এক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ের ত্রুটি বের করার কোন অভিলাষ আমার নেই।
    *******************************************
    প্রসঙ্গটা যখন ভূতের নাচ নিয়ে শুরু হয়েছিল, তাই ভুতের নাচটা নিয়ে বলতে গিয়ে আমার মনে পড়ে ওটা সেই সময় বেশ বেশী বড় লেগেছিল। তখন ১৯৬৯-সাল, আমি ক্লাস এইটে পড়ি, তেরো বছর বয়স তখন। বাড়ির কাছেই বিজলীতে এসেছিল বইটা। মিনার-বিজলী-ছবিঘর হল তিনটেতে প্রথম আসে সিনেমাটা। ওই বিজলীতেই আমি ছ'বার ওটা দেখি। বাড়িতে কোন সমবয়সী ভাই বোন দূর থেকে আসলে এই সিনেমায় নিয়ে যাওয়া ছিল আমাদের অবশ্য ও উপভোগ্য কর্তব্য।
    ********************************************
    তার আগে বাংলা সিনেমার মধ্যে 'মণিহার' সিনেমাটির সবচেয়ে বেশী দিন চলার রেকর্ড ছিল।ওই মিনার-বিজলী-ছবিঘরেই প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী করেছিল সেটি। কিন্তু গুগাবাবা তাকে ছাপিয়ে যায়, তবে এটাও ঠিক যে দর্শক আকর্ষণ যাতে ঝিমিয়ে না পড়ে তাই বেশ কিছুদিন পরে পরে এই সিনেমার আগে আকর্ষণীয় কিছু ঘটনা বা নামকরা কিছু তথ্যচিত্র ইত্যাদি দেখাতে হয়েছিল। প্রথম দিকে কিছুদিন পর সিনেমার আগে নীল আর্মস্ট্রংদের চন্দ্রাভিযান দ্যাখানো শুরু হয় এবং তা রীতিমত বিজ্ঞাপন দিয়ে। এটা দেখার উত্তেজনা থিতিয়ে যাবার কয়েকদিন পর বিনোদ বিহারি'কে নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের তথ্যচিত্র 'ইনার আই' দেখিয়ে আকর্ষণ তৈরি করা হয়। এরও বেশ কিছুদিন পর শেষমেশ ভূতের রাজার মাথার পিছনের নক্ষত্রের লাইটের কারসাজি দিয়ে হলের সামনে সাজিয়ে লোকজনকে টানা হয়েছিল।

    এসব সত্ত্বেও এটা বলতেই হবে যে এই সিনেমাটির একটা তীব্র টান অবশ্যই সেসময়েও ছিল এবং আজও আছে। আজও এটা বাড়ির সবাইকে নিয়ে বসে দেখার মত বই। এবং এটিই প্রথম সিনেমা যেটা আমি একলা আমার দুই বন্ধুর সাথে হল'এ গিয়ে দেখার অনুমতি পাই।

    পরে বড় হওয়ার সময়(যদি আদৌ হয়ে থাকি), এ ছবির অনেক জায়গা নিয়ে নানা প্রশ্ন জেগেছিল, প্রেসিডেন্সী কলেজের বার্ষিক ম্যাগাজিনে এ নিয়ে একটা লেখাও খুব দাগ কেটেছিল মনে। সেই লেখাটা মনে এখনও আছে বলেই তার পরিপ্রেক্ষিতে শমীককে প্রশ্নটা করেছিলাম।
    **************************************
    কল্লোলদা যে কথাটা বলেন নি, সেটা হল আসল গল্পে শুণ্ডীর রাজা খারাপ ছিল, হাল্লার নয়। তা হয়তো গল্পটা পড়ে এখন সবাই জানে, কিন্তু তখন তো সবাই জানতেন না। আমাদের বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই সন্দেশ আসতো, তাই আমার পড়া ছিল। কল্লোলদা আরেকটা কথাও বলেন নি, কিন্তু অবশ্যই জানতেন যে ভূতের নাচে একটা বড় ভূমিকা ছিল সেযুগের গণনাট্য সংঘের বিখ্যাত নাচিয়ে শম্ভু ভট্টাচার্য্যের, যাঁর 'রানার' এক বিখ্যাত সৃষ্টি ছিল।
    ****************************************
    সন্দীপ রায় নিয়ে আমি কিছু বিশদ লিখি নি, কিন্তু তাঁর প্রতি বেশ মায়াদয়া পূর্ণ বক্তব্য পড়ে মনে হল যে সন্দীপ রায়ের যে কোন সিনেমা রিলিজ হবার অনেক আগে থেকেই মিডিয়া, বিশেষতঃ এবিপি ও সুমন 'বাবুদা' বাবুদা' করে তাঁকে বা তাঁর ছবিকে যে মাইলেজটা দিয়ে থাকে সেটা কি সত্যিই ঠিক ঠিক ভাবে করা হয়, বা তিনি এটার আদৌ যোগ্য কিনা, তা নিয়ে বিশেষ কেউ চিন্তা করেন কি? মুশকিল হল, আমাদের দেশে হেরিটেজ'এর ভীষণ কদর, বংশমর্যাদা ও নীল রক্তের প্রতি সম্ভ্রম আমাদের মগজে ছোটবেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
    ***********************************
    উপেন্দ্রকিশোর ও সুকুমার- এ দুজনকে মাথায় রাখলে পরবর্তীকালে ওঁদের গুণাবলীর কিছুটা অধোগমন হয়েছে বলেই আমার মনে হয়, অন্ততঃ মৌলিক চিন্তা ও মৌলিক সৃষ্টিক্ষমতার দিক থেকে।
    **********************************
    গুগাবাবা-তে সেই ৬৯-৭০-এর যুগের আবহাওয়ার মধ্যে থেকেও যথেষ্ট আপত্তিকর গানের কলি এবং কথা ছিল, যাকে ক্লাস স্ট্রাগ্‌ল্‌এর প্রতিরূপ অন্ততঃ বলা যায় না।
  • Arnab913 | ১৬ জুলাই ২০১৭ ০২:২৫367737
  • B কে ধন্যবাদ অসংখ্য। সুন্দর করে এত দিক থেকে বলার জন্য।
    সত্যজিৎ রায় ভীষণ লোক এতে কারোরই সন্দেহ নেই। ভিন্নদৃষ্টি থেকে তাঁর কাজের প্রতি ভিন্নমত দেখানোটা অপরাধ তো না, যদিও লোকে ভীষণ মাইন্ড করে। আদতে আমরা বাঙালি প্রফেসির ছায়ার থাকতে ভালোবাসি কিনা! আপনি যেহেতু ঐ সময়টা দেখে এসেছেন, আমার অনুরোধ একটু খোলাখুলি লিখুন এ নিয়ে। আপনারা না বললে এখন আমরা আর জানতে পারছিনা ওই সময়ের এসেন্সটা।

    আমি ফিল্ম ক্রিটিক নই, তবে সন্দীপ কি বিলো অ্যাভারেজ পরিচালক? সত্যজিৎ নিজেও সন্দীপের ক্যামেরার কাজের ভূয়সী প্রসংশা করেছেন। ওঁনার সংস্পর্শে থেকে সন্দীপ ট্রেইন্ড হয়েছেন অনেক দিন ধরে। তবে কতটুকু আউটপুট আসছে সেটা বিশ্লেষনের ব্যাপার।

    //উপেন্দ্রকিশোর ও সুকুমার- এ দুজনকে মাথায় রাখলে পরবর্তীকালে ওঁদের গুণাবলীর কিছুটা অধোগমন হয়েছে বলেই আমার মনে হয়, অন্ততঃ মৌলিক চিন্তা ও মৌলিক সৃষ্টিক্ষমতার দিক থেকে।
    সিরিয়াসলি? একটু ভেঙে বলবেন?

    //গুগাবাবা-তে সেই ৬৯-৭০-এর যুগের আবহাওয়ার মধ্যে থেকেও যথেষ্ট আপত্তিকর গানের কলি এবং কথা ছিল
    এইটাও একটু জানতে চাই।
  • কল্লোল | ১৬ জুলাই ২০১৭ ১১:৫২367748
  • বি। নাঃ আমার তো মনেই ছিলো না কে খারা কে ভালো রাজা। ভুতের নাচে শম্ভু ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়েও মনে ছিলো না।

    অর্ণব৯১৩।
    উপেন্দ্র, সুকুমার, সত্যজিতের মধ্যে উপেন্দ্রর প্রতিভা বোধহয় খুবই উল্লেখযোগ্য। হাফটোন ব্লক আবিষ্কার করা চাট্টিখানি ব্যাপার না। সুকুমারেরও প্রিন্টিং টেকনোলোজি নিয়ে কিছু ভালো কাজ আছে। সত্যজিতের রে রোমান হরফ বিখ্যাত।
    সাহিত্যিক হিসাবে আমি সুকুমারকে অনেক এগিয়ে রাখবো। ফিল্ম নিয়ে বলার কোন মানে হয় না। কারন ওখানে সত্যজিতই একা।
    বাবু এদের তুলনায় আসে না। আলাদা করে বাবুর একটা দুটো ফিল্ম হয়তো ভালো(ফেলুদা বা ফটিকচাঁদ ধরছি না)। বাবুর লেখা আমি পড়িনি।
  • B | ১৬ জুলাই ২০১৭ ১৫:১৪367759
  • অর্ণব৯১৩,
    প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আপনার স্বীকৃতিদানের জন্য। তবে যে ব্যাপারগুলো নিয়ে আপনি আলোচনা চালানোর অনুরোধ রেখেছেন, তাকে সঠিকভাবে রক্ষা করার যোগ্যতা আমার খুব একটা নেই। এখানে অনেকেই অনেক বড় প্রেক্ষিত নিয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করার ক্ষমতা রাখে বলেই আমার অনুমান। আশা রাখি তারা আপনার অনুসন্ধিৎসাকে সন্তুষ্টি দেবে।

    আমার মন্তব্যের নির্যাসের অনেকটাই বাড়িতে বাবা, কাকা, দাদাদের আলোচনা থেকে প্রভাবিত, আহরণ করা। বাড়ির পরিবেশের জন্য একটা প্রভাব তো ছিলই, যা এখনও আছে। সেযুগের উত্তাল সময়ের কারণে কিছু বায়াস থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বায়াস বাদ দিলেও কয়েকটা প্রশ্ন তো খটকা লাগায়ই এবং সেই খটকার খচখচ পরে আরো দৃঢ় প্রোথিত হয় নানা ঘটনায়, নানা উদাহরণে।

    ১৯৬৬-৬৭ সালে ভিয়েৎনামে অ্যামেরিকা নাজেহাল হবার পর ময়দানে অক্টারলোনী মনুমেন্ট বা শহীদ মিনারের সংলগ্ন ময়দানে এক বিশাল সমাবেশ হয়, যার নাম ছিল যদ্দুর মনে পড়ে "কল্লোল বিজয়োৎসব"। তাতে ভিয়েৎনামের গেরিলা যুদ্ধের উপর নির্মিত উৎপল দত্তের একটি নাটকও মঞ্চস্থ হয়েছিল। সেই সমাবেশে সত্যজিৎ রায় মঞ্চে ছিলেন বলে আমার স্পষ্ট মনে আছে। অতিরিক্ত দুরন্তপনার জন্য আমার বাবা এবং মা আমাকে তাঁদের সঙ্গে এরকম প্রায় সব জায়গাতেই নিয়ে যেতেন। তাই যেমন এটাতেও ছিলাম, তেমনই যুক্তফ্রণ্টের বিজয় সমাবেশেও ছিলাম। তখনই সি পি আই এম এল-ও জন্ম নিচ্ছে; তার জন্য মাঠে ঘাটে অজিত পাণ্ডের 'তরাই কান্দে গো, কান্দে আমার হিয়া, নকশালবাড়ির মাঠ কান্দে সপ্তকন্যার লাগিয়া' গানটিও তাঁরই কণ্ঠে পরিবেশিত হচ্ছে।

    সত্যজিৎ রায়ের ওই সমাবেশে থাকা ও তারপর প্রায় ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতের কিছু কাজ সেই সময় অনেকেরই হজম হয় নি। এখন অবিশ্যি ওটাই নিয়ম। কোন মতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখলেই অন্য মতের লোকেরা রে রে করে পঞ্চাশটা উদাহরণ খাড়া করে।

    যাই হোক, গুগাবাবা-র কথায় পরে আসছি। ঐ সময়ের কিছু আগে বোধহয় কনরাড্‌ রুক্স নামক এক বিদেশী পরিচালকের পরিচালনায় 'সিদ্ধার্থ্‌' বলে একটি সিনেমা হয়, যাতে সিমি গ্রেওয়াল নাম্নী অভিনেত্রীকে নগ্ন দেখানো হয়েছিল, সম্ভবতঃ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সুরকার ছিলেন সে ছবির। ব্যাস্‌, হৈ হৈ রৈ রৈ কাণ্ড। আরও ব্যাস্‌, মানিকবাবু তাঁর ছবি 'অরণ্যের দিনরাত্রি'-তে আদিবাসী মেয়ে দুলি-র ভূমিকায় সিমিকে দিয়ে ওরকমই কিছু দৃশ্যে অভিনয় করান। তখন হয়ত আমাদের বাবা মায়েরা আজকের মত সাহসী ছিলেন না, তাতে কিছু ভুল ত্রুটি হয়ত ছিল, কিন্তু একটা গণ্ডী ছিল আমাদের অনেক কিছুতেই। এর খারাপটা যেটা সেটা হল এগুলোর প্রতি কৈশোরের অমোঘ টান। তার ফলে বাড়ির নিষেধের লক্ষণরেখা পেরিয়েছি কি পেরোই নি, তখনই সদ্য গোঁফ গজানো আমরা দল বেঁধে এসব সিনেমা দেখেছি, বাড়ি থেকে অনেক দূরের হলে। সে যাক গে সত্যজিৎবাবু যেমন সিমিকে নামালেন ওই ছবিতে তেমনই তখনকার বিখ্যাত ক্যাবারে নাচিয়ে শেফালিকে নিলেন তাঁর দুটি ছবিতে, এক 'প্রতিদ্বন্দ্বী', দুই 'সীমাবদ্ধ'তে। তখন বিখ্যাত নাট্যকার রাসবিহারী সরকার ও এই শেফালির কেচ্ছাকাহিনী নিয়ে বিমল মিত্র লিখেছেন 'সম্রাট ও সুন্দরী', যেটি আবার মঞ্চস্থ হচ্ছে রাসবিহারী সরকারেরই প্রযোজনা ও পরিচালনায় বিশ্বরূপা থিয়েটারে। তা সত্যজিৎবাবু বাজার অর্থনীতিটা সেযুগেও ভালো বুঝতেন, ফলে এরকম ভাবেই বাংলাদেশ যুদ্ধকালীন সেখানকার নায়িকা ববিতাকে ভূমিকা অনুযায়ী একটি সম্পূর্ণ বেমানান চেহারার চরিত্রে নামালেন 'অশনি সংকেত'এ।

    হয়তো তাঁদের সঙ্গে তুলনা করলে সবাই রে রে করে উঠবে, কিন্তু, তবুও বলতেই হয় যে তখন অন্যান্য পরিচালকদের কেউ কেউ সামাজিক ছবিটাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তাঁদের ছবিগুলোতে। কেউ সমর্থনে, কেউ বা অসমর্থনে।

    কে জানে কেন, হঠাৎ শেষের দিকে তিনি গণশত্রু, শাখাপ্রশাখা করে মধ্যবিত্ত বিবেককে তাঁর মত করে নাড়তে চাইলেন। যদিও গণশত্রু যে গল্পের থেকে নেওয়া তার একদম বিপরীতে গিয়ে শেষটাকে এক অদ্ভূত পরিণতি দিয়ে দ্যান- যখন ডঃ অশোক গুপ্তের সমর্থনে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল হচ্ছে ও ঘরের মধ্যে ভিষ্ম গুহ ঠাকুরতা ও শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় সৌমিত্রকে আশার আলো দেখাচ্ছেন।

    সেই সময় দেশ পত্রিকার চিত্র সমালোচক লেখেন যে মানিকবাবু 'গণশত্রু'কে শেষে 'গণশক্তি'তে পরিণত করলেন কেন কে জানে। এর জন্য অবশ্য তাঁর দীর্ঘ দিনের চাকরীটি যায়। শোনা যায় যে ঐ মন্তব্যের জন্য পরিচালকমশাই স্বয়ং দেশ-এর তৎকালীন সর্বেসর্বা সাগরময় ঘোষকে ফোন করে ওই ব্যক্তিকে ওই পদ থেকে অপসারণের কথা বলেছিলেন।

    ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে, আসি গুপীবাঘা-র কথায়। কাল (বা আজ) 'আপত্তিকর' শব্দটা ব্যবহার করা আমার উচিত হয় নি, লেখা উচিত ছিল অসমীচীন। ওই যে গানের কলি ও তৎমধ্যবর্তী সংলাপগুলো।
    ***************
    গুপীঃ এক যে ছিল রাজা .....
    বাঘাঃ বাঃ এইভাবেই গাও, চ্যাচায়ো না
    গুপীঃ এক যে ছিল রাজা, তার ভারি দুখ, তার ভারি দুখ..
    বাঘাঃ রাজার বড় দুঃখ হে, আমিও বুঝেছি।
    গুপীঃ দ্যাখো রাজা, কাঁদে রাজা, বেচারা রাজার ভারি দুখ...
    বাঘাঃ বাঃ, বড় ভালো বেঁধেছ তো গানখানা।
    গুপীঃ দুঃখ কিসে হয়, দুঃখ কিসে হয়
    বাঘাঃ কিসে হয় বলো তো?
    গুপীঃ অভাগার অভাবে জেনো শুধু নয়,
    যার ভাণ্ডারে রাশি রাশি, সোনাদানা ঠাসাঠাসি
    যার ভাণ্ডারে রাশি রাশি, সোনাদানা ঠাসাঠাসি
    তারও ভয়
    বাঘাঃ তারই বেশী ভয়
    গুপীঃ জেনো সেও সুখী নয়, সুখী নয়
    বাঘাঃ ডাকাইতের ভয় তো, চোখে ঘুম নাই
    ...........
    আর বাকিটা লিখলাম না, এইটুকু অংশের বাঘার সংলাপ শিশু মনে কি প্রভাব ফেলতে পারে? অবশ্য তখনকার মোটামুটি মধ্যবিত্ত পরিবারের আমাদের চিত্তও এখন রাশি রাশি ঠাসাঠাসি'র 'অসীম শূণ্যের লক্ষ্যে প্রবল বেগে ধাইছে। তাই আমার এই ব্যাখ্যান অনেকেরই পছন্দ হবে না। আর আমাদের বেশীরভাগ সিনেমা গল্পেই জমিদার বা রাজা ভালো, নায়েব বা মন্ত্রী খারাপ দেখিয়ে জমিদার বা রাজার প্রতি একটা সফ্‌ট্‌ অনুভূতি তৈরী করা হয়েছে। হীরক রাজার দেশেও রাজা নিজে মাঠে নেমে 'দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান' করে নিজেই নিজের নিধন করেছেন।
    আহা, লরেনবাউ আর দিদিরাণিও যদি এমনটা হতেন...}8>((

    এতটা পড়তে গিয়েই অনেকে গাল পাড়তে পারেন, তাই অন্য প্রশ্ন, অন্য প্রসঙ্গ, কল্লোলদার উত্তর পরে।
  • কল্লোল | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২২:৫৪367771
  • সত্যজিত চিরকাল মধ্যপন্থী লিবারেল। ওনার প্রচুর বামপন্থী বন্ধুবান্ধব, তাদের ঠেলায় হঠাৎ হঠাৎ ধর্মঘটি শ্রমিকদের অবস্থান অবধি চলে গিয়েও তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না বা দাঁড়ান না।
    ব্যক্তিগত জীবনে ওনার সম্পর্কে নানান কথা শোনা যায়।
    ১) সন্দীপ রায় নামে এক চলচ্চিত্র পরিচালক তার প্রথম ফিল্ম হিমঘর করে খুব প্রশংসা পান। সত্যজিত ওনাকে ডেকে ওনার নাম পাল্টাতে বলেন। উনি রাজি হননি। উনি আর একটাও ফিল্ম করতে পারেন নি।
    ২) ৭৭ সালে অশোক মিত্র বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান। সত্যজিত ওনার পোস্টার দিজাইন করে দেন, তার বিষয়বস্তু ছিলো রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি।
    ৩) উনি তপেন চট্টোকে অন্যদের ফিল্ম করতে বারণ করেন। তপেন গুগাবাবার পর বোধহয় দুটি ফিল্ম করেছিলেন।
    ৪) সুচিত্রা সেন ওনার শর্ত (ওনার শুটিং চলাকাঈন অন্য কোন ফিল্ম করা যাবে না) মানেন নি বলে দেবী চৌধুরাণী করলেন না।
  • sm | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:১৫367804
  • #মানিক দা
  • sm | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:১৫367793
  • উইকি বলছে তপেন মানিকদের বই গুলো ছাড়া -কিছু বই তে পার্ট করেছে। ননী গোপালের বিয়ে, ধন্যি মেয়ে। এদুটোতে বড়ো রোল।
    বাকি ছবি -সঙ্গিনী,রূপসী, আঁচল-এগুলো দেখিনি।
    উত্তম সুচিত্রা ছাড়া প্রায় প্রত্যেকেই মানিকদের ছবিতে কাজ পেলে বর্তে যেত-এমন টাই মনে হয়।
  • Arnab913 | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:২৩367815
  • 'বি' দা,
    আপনার অভিজ্ঞতা ও কথা ভালো লাগলো অনেক। এভাবে কেউ কি সত্যজিতের আলোচনা করেছেন? কোন বই থাকলে বলবেন পড়ে দেখতে চাই।
    আমি ঐ সময়টায় যেহেতু ছিলাম না,আজকে এক দুইটা কথা শুনে বা পড়ে পুরো সিনারিয়ো অনুধাবন করা কঠিন। সত্যজিতের এই ব্যাপারগুলো নিয়ে ঋত্বিকও হতাশ ছিলেন, তাই যুক্তি তক্কো গপ্পো তে শত্রুজিৎ রায় নামে একটা চরিত্র দিয়েছিলেন, যেটা মানিককেই রিপ্রেজেন্ট করে।
    যাহোক, বাজার বুঝে একজন পরিচালক কাজ করবেন, ব্যাপারটা তে সমস্যা কোথায় তা জানিনা। দিনশেষে চলচ্চিত্র তো লোকরঞ্জনের একটা মাধ্যমই, তাই না?
    আপনি গণশত্রু ও শাখাপ্রশাখা নিয়ে বললেন, আমার অসম্ভব প্রিয় দুটি ছবি। আমরা যদি আমাদের পলিটিকাল ভিউ থেকে একজন লেখক বা পরিচালককে জাজ করি তবে দ্বিমত থাকবেই।সত্যজিৎ যদি লিবারেল মধ্যপন্থাকেই সঠিক মনে করেন তবে তখন তাঁর বক্তব্য ওই মতো করে ঠিক বইকি! আপনার দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপারে আমাকে আরো জানতে হবে, যদি আপনার কথা ঠিকমতো বুঝতে চাই।
    দেশ পত্রিকার ঘটনাটা যদি সত্যী হয় তবে খুব নোংরা হয়েছে নিঃসন্দেহে।
    নিরপেক্ষভাবে বোঝাপড়া ব্যপারটা খুবই কঠিন,অধ্যবসায়-সাপেক্ষ।
  • B | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:৩৭367826
  • "উত্তম সুচিত্রা ছাড়া প্রায় প্রত্যেকেই মানিকদের ছবিতে কাজ পেলে বর্তে যেত-এমন টাই মনে হয়।"
    এরকম একটা উক্তির পরিপূর্ণ বিস্তার ঘটিয়ে উদাহরণ দিয়ে লিখলে ব্যাপারটা বোঝা সহজ হ'ত। যদিও 'প্রায় প্রত্যেকেই" বলে একটা ফাঁক রেখে দেওয়া আছে। কিন্তু এই 'প্রায় প্রত্যেকের' কিছু লোকের নাম জানতে পারলে উপকৃত হতাম।
  • sm | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:৫৫367837
  • সৌমিত্র,মাধবী,চিন্ময়,কামু,রবি ঘোষ,তপেন,পাহাড়ি সান্যাল, তুলসী,সন্তোষ দত্ত,উৎপল দত্ত -ইত্যাদি।
    কিছু হিংসুটে আর কুচুটে ছাড়া। যারা কাজ পাইনি বা পেলেও মনের মতন হয়নি -তাদের বাদ দিয়েছি।
    একজন বড়ো শক্তি শালী অভিনেত্রী; যিনি (সাবিত্রী)বলেছেন তিনি ততো আগ্রহী ছিলেন না বা কাজ না পেলেও রিগ্রেট নেই। তবে পেলে খুশি হতেন।
  • B | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:৫৬367848
  • অর্ণব৯১৩,
    আজ আর অত রাত জাগতে চাই না, তাই আজ আর বেশী কিছু লিখছি না। পরে কিছু লিখব হয়তো। কিন্তু কল্লোলদা যে কথাগুলো লিখেছেন, সেটাই কি যথেষ্ট নয়। ওরকমভাবে সমস্ত ঘটনা লিখলে খুব এক তরফা লাগবে অনেকের কাছেই। আর আমরা যেহেতু মনীষীদের গায়ে কোন কালো দাগ দেখতে তীব্রভাবে অপছন্দ করি, তাই এটায় বিরতি দিচ্ছি।

    খুব কম করে একটা দুটো প্রশ্ন করি, সুব্রত মিত্র, বংশী চন্দ্রগুপ্ত, এই নামগুলো আপনার মনে আছে তো? নামগুলো জানেন নিশ্চই! পরবর্তী কালে সৌমেন্দু রায়ের নাম? অথবা পণ্ডিত রবিশঙ্করের খুব কাছের ছাত্র দীপক চৌধুরীর নাম।

    আমি বহু দিন সন্দেশ পত্রিকার গ্রাহক ছিলাম, যখন সত্যজিৎ রায়, লীলা মজুমদার ও সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পাদনা করতেন সেই যুগে। সে সুবাদে এক আধবার শ্রদ্ধেয়া লীলা মজুমদারের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে। তাঁর একটি মন্তব্যও আমাকে সেই সময় অবাক করেছিল, যেটি সত্যজিৎবাবুর কাছে খুব সুখশ্রাব্য বা হৃদয়গ্রাহী হ'ত না অবশ্যই।
  • sm | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০০:০০367859
  • বলে ফেলুন, চেপে রাখবেন না।
  • T | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০০:৩৭367870
  • ঠিক বুঝছি না যে গুপী গাইন বাঘা বাইন সিনেমা সংক্রান্ত আলোচনা বা ভূতের নাচ ইত্যাদির বিশ্লেষণে সত্যজিত রায় কিরম নোংরা লোক ছিলেন সেইটে টেনে এনে কি চতুর্বর্গ উদ্ধার হচ্ছে! কল্লোলদাদের অবশ্য একটা হাস্যকর অ্যাজেন্ডা আছে যে যেকোনো ভাবে ঋত্বিক ঘটকের শ্রেষ্টত্ব প্রমাণিত করা। তো বাল, সেই অনুযায়ী প্রাথমিক খেলা শুরু করেছেন। কিন্তু বি দা ক্যানো। ধান ভানতে শিবের গীতটা সম্পূর্ণ অপ্রোয়জনীয় মনে হল। মানে বলতেনই, সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। এইরম কিছু?

    গান সংক্রান্ত গুপী বাঘার ডায়ালগে শিশুমনে কি মহাভারত অশুদ্ধ হওয়ার মতো এফেক্ট ফেলল সেও বুঝলাম না। ধন্য শিশুমন আর কি।
  • Arnab913 | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০০:৩৮367882
  • আচ্ছা 'বি' দা, আপনি সময় সুযোগ করেই লিখবেন।আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি, তবে একজন মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্ট থেকে দেখাটা খুব জরুরী মনে হয়, নাহলে সেই পীরবাদ শুরু হবে।
    সুব্রত মিত্র, বংশী চন্দ্রগুপ্ত দের কথা শুনেছি। মানিকবাবুর সাথে মনোমালিন্য হয়েছিল শেষমেষ কাজ নিয়ে, এর বেশি কিছু না।
    আমার শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, আপনার সংকোচ বুঝতে পারছি। সে যতোটুক পারেন নাহয় বললেন...
  • aranya | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০২:৫৭367893
  • 'এইটুকু অংশের বাঘার সংলাপ শিশু মনে কি প্রভাব ফেলতে পারে? ' - আমি সত্যি বুঝলাম না, কি প্রভাব ফেলতে পারে। শৈশবে যখন দেখেছিলাম, তখনও বিশেষ কোন প্রভাবের কথা স্মরণে আসছে না।

    বাদবাকি অভিযোগ, যেগুলো ব্যক্তি সত্যজিত-কে নিয়ে, সেগুলো উল্লেখ অপ্রয়োজনীয়, টি-এর মত আমারও মনে হয়। বিশেষতঃ সব অভিযোগ-ই যখন শোনা কথা, প্রমাণের কোন উপায় নেই।

    এবং প্রমাণের উপায় থাকলেও সিনেমার আলোচনা প্রসঙ্গে ব্যক্তি পরিচালক কত খারাপ লোক, তা জেনে লাভ কি?
  • aranya | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০৩:০০367904
  • আর এই মধ্যপন্থী লিবারাল, বামপন্থী আঁতেল, দক্ষিণপন্থী জাঁদরেল - এ সব তকমা-রও কি সত্যিই কোন মানে আছে?
  • PT | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০৮:৩৫367915
  • সম্ভব্তঃ "সৌমিত্র,মাধবী,চিন্ময়,কামু,রবি ঘোষ,তপেন,পাহাড়ি সান্যাল, তুলসী,সন্তোষ দত্ত,উৎপল দত্ত"-ইত্যাদিদের পেয়ে সত্যজিৎ-ও বর্তে গিয়েছিলেন এটাও বলা যায়। পছন্দের অভিনেত্রী না পাওয়ায় ছবিই করেন নি সত্যজিৎ এমনটাও তো জানা আছে।
    মহানগর (১৯৬৩) আর চারুলতা (১৯৬৪) করার আগেই মাধবী সুবর্ণরেখা করেছিলেনঃ It was produced in 1962 but was not released until 1965. কিছুদিন আগেই আবাপ-তে মাধবীকে নিয়ে একটি লেখা থেকে জানা গেল যে মাধবী ঘরে-বাইরে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
    সত্যজিৎ রায় উৎপল দত্তকে না ডাকলেও উৎপলের কিস্যু আসত যেত না। যেমন কিনা শম্ভু মিত্রের কিস্যু আসে যায়নি।
    একই কথা বলা যায় রবি ঘোষ সম্পর্কে। অ-সত্যজিৎ ছবিতে দাপিয়ে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের তুঙ্গে বোধহয় গল্প হলেও সত্যি ছবি। তরুণ মজুমদারের "ঠগিনী" না দেখা থাকলে দেখে নেবেন রবি-উৎপল জুটির অভিনয়। রবির উল্টোদিকে অনুপকুমার। সত্যজিৎ ডকেননি বলে তাঁরও কিস্যু আসে যায় নি।
    সৌমিত্র সত্যজিৎ-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগেই শিশির ভাদুড়ির সঙ্গে কাজ করেছেন। সত্যজিৎ পরবর্তি সময়ে সৌমিত্রর ছবির সংখ্যা কম কিছু নয়। এই বুড়ো বয়সেও দাপিয়ে ছবিতে অভিনয় ও মঞ্চাভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন।
  • sm | ১৭ জুলাই ২০১৭ ০৯:৪৮367925
  • এতো আশ্চর্য্য অজ যুক্তি!মিঠুন কি বুদ্ধদেবের ছবি করেনি?অভিষেক কি ঋতুপর্ণের ছবি করেনি?
    দিলীপ কুমার এর কি এসে যেতো সাগিনা মাহাতো না করলে?
    অনিল কাপুর কি খেতে পেতো না, স্লাম ডগএ অভিনয় না করলে?বহু অভিনেতাই হেদিয়ে মরে, বিখ্যাত পরিচালক দের সঙ্গে কাজ করতে। কারণ তাঁরা শিখতে চান ও তাঁদের কাজ কে চিরকালীন করে যেতে চান।
    স্প্লিবার্গ ডাকলে আজ ও জুলিয়া রবার্টস বা নিকোল কিডম্যান ছুটে যাবেন।
    ঠিক যেমনটি উৎপল দত্ত বা সৌমিত্র ছুটে যেতেন মানিকদার সঙ্গে কাজ করতে।
  • PT | ১৭ জুলাই ২০১৭ ১০:২১367926
  • অদ্ভুত যুক্তির উদ্গাতা আপনিই। কিন্তু উৎপল দত্ত বা সৌমিত্র "ছুটে যেতেন" কোথা থেকে জান গেল?
  • sm | ১৭ জুলাই ২০১৭ ১০:২৬367927
  • কপুর ৭০ -৮০ দশকে বিশপ লেফ্রয় রোডের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিতে পারেন।
  • PT | ১৭ জুলাই ২০১৭ ১০:৪৩367928
  • !!!!!!!!
  • sm | ১৭ জুলাই ২০১৭ ১০:৫২367929
  • অতো অবাক হওয়ার কি আছে?সন্তোষ দত্তের ওই ছুটে আসার দৃশ্য ব্যালকনি থেকে দেখেই তো মানিক বাবুর গুগা বাবার ছুটি -ছুটি দৃশ্যের পরিকল্পনা।
  • কল্লোল | ১৭ জুলাই ২০১৭ ১১:৪৪367930
  • আমি দুরকমের উদাহরণই দিলাম। ওনার সাহস ছিল সুচিত্রাকে বাদ দেওয়ার। রাজনৈতিক বন্দীমুক্তির সমর্থনে পোস্টের করা। সন্দীপ রায় ও ওপেনের সাথে অন্যায় করেছেন।
    ঋত্বিক আর সত্যজিৎ নিয়ে ঝগড়া থাকবেই। তাতে ছোট বড় হবেই। তাতে কারুর কৃতিত্ব কম হয় না।
    উত্তম নায়কে কাজ পেয়ে বর্তে গেছিলো।
    নাসির আফসোস করেছেন সত্যজিতের সাথে কাজ করেননি বলে। সৌমিত্রর আফসোস আছে ঋত্বিকের সাথে কাজ না করার।
  • PT | ১৭ জুলাই ২০১৭ ১৩:১৬367932
  • এগুলো বোধ্হয় অন্তহীন বালখিল্যাতার চর্চা!!
    সৃষ্টিশীল কাজের ক্ষেত্রে কে কার আলোতে উদ্ভাসিত হয় সে তক্কের কোন শেষ নেই। উপযুক্ত অভিনেত্রী পাওয়া যায়নি বলে নাকি লীলা চরিত্রটি বাদ গিয়েছে অপরাজিততে আর সম্পুর্ণ আনকোড়া অভিনেত্রীকে দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘায় অভিনয় করিয়েছে সত্যজিৎ। বাড়িতে যাতায়াত করলেই যে ছবিতে নেওয়া হবে এমন কোন গ্যারান্টি ছিল নাঃ
    "Which are the Ray characters you wanted to do but he didn’t give you?"
    "Goopi (of Goopi Gyne Bagha Byne) is one. And he was correct, I wouldn’t have looked like a poor village farmer. I was supposed to do Kanchenjungha, but my dates clashed with some other film to which I had committed before and he had to take Arun Mukherjee. In his last film Agantuk I wanted to play the protagonist, but he didn’t give it to me. He said, ‘Your image will make the audience believe that this stranger cannot be anything but a nice, honest person. I want to have some suspense that’s why the person needs to have a certain unknown quantity, an element of menace.’ He took Utpal Dutt."
    https://thereel.scroll.in/827001/soumitra-chatterjee-on-working-with-satyajit-ray-our-wavelengths-matched
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন