এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  বিবিধ

  • চিনের সাথে ক্যাঁচাল

    দেব
    আলোচনা | বিবিধ | ২০ জুলাই ২০১৭ | ২০৬৮৬ বার পঠিত
  • ১৯৬২র পর ১৯৮৬-৮৭, তারপর এই ২০১৭ এ এসে আবার চিনের সাথে ভাল রকম ঝামেলা শুরু হয়েছে। সেই একই গপ্পো - জমি কার?

    ঘটনার স্থল সিকিম-তিব্বত-ভুটান এই তিনটি রাজ্য ও দেশ যেখানে এসে মিলেছে সেই বিন্দু এবং তার পূর্বদিকের কয়েক বর্গকিমি ক্ষেত্র নিয়ে। সিকিম এবং তিব্বতের সীমানা ১৮৯০ সালে ব্রিটিশ ভারত ও চিনের রাজার মাঝে হওয়া চুক্তিতে স্থির হয়েছিল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Blank | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১২:৪৮367249
  • দারুন লেখা হচ্ছে
  • শঙ্খ | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১৩:৪৫367250
  • সাধু সাধু
  • de | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১৩:৫৩367251
  • এইটা একটা চটি হোক - কিনে সংগ্রহে রাখার মতো লেখা-
  • avi | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১৪:২৬367252
  • নারায়ণ সান্যালের চীন ভারত লঙ মার্চ বইটার আমেজ পাচ্ছি।
  • pi | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১৪:২৭367253
  • দেব, আপনার সাথে কীভাবে যোগাযোগ করা যায়, জানাবেন।
    guruchandali জিমেইলে মেইল করতে পারেন।
  • দেব | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১৫:০৫367254
  • পাইদি মেল আমি পাঠিয়েছিলাম। বোধহয় চাপা পড়ে গেছিল। এখন আরেকটা পাঠালাম।
  • সিকি | ১০ আগস্ট ২০১৭ ১৮:১১367255
  • দেবকে আশীর্বাদ করি, বড় হয়ে দারোগা হোক।

    অসামান্য হচ্ছে। অসামান্য।
  • ঐশিক | ১০ আগস্ট ২০১৭ ২২:৪৩367256
  • খুব ভালো লাগছে
  • PP | ১১ আগস্ট ২০১৭ ০৫:৪০367257
  • দারুন হোচ্ছে। কিন্তু থেমে গেলেন কেনো? বকিটাও লিখে ফেলুন সঙ্গ্রহ করে রাখার মত হবে।
  • PP | ১১ আগস্ট ২০১৭ ০৫:৪০366928
  • দারুন হোচ্ছে। কিন্তু থেমে গেলেন কেনো? বকিটাও লিখে ফেলুন সঙ্গ্রহ করে রাখার মত হবে।
  • শিবাংশু | ১১ আগস্ট ২০১৭ ১৪:০২366929
  • লেখাটি সাগ্রহে পড়ছি।
    কিছুদিন আগে চিন সভ্যতার বাস্তববুদ্ধির উৎস কোথায় খুঁজতে গিয়ে ইতিহাসে সামান্য খোঁজাখুঁজি করেছিলুম। যেটা ঠাহর হয়েছিলো, সেটা একটু অপ্রত্যাশিতই লেগেছিলো। চিনে একধর্ম, এক ভাষা বা এক সংস্কৃতি জাতীয় ধারণাগুলি বস্তুত মিথ। আসলে ওদের জোর হলো ইতিহাসপূর্ব কাল থেকে অভ্যেস করে আসা নিখাদ প্রাত্যহিক বাস্তববুদ্ধির প্রতি আনুগত্য। যা করলে 'ভালো' হবে, তা'কে কোনও রকম ভনিতা না করে আত্মস্থ করার সংকল্প। আমাদের সংস্কৃতির দোষ বা গুণ, দুইই ঐ ভনিতার প্রতি আত্মসমর্পণ। এই অভ্যেসটি সংঘর্ষের সময় স্পেসটা বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু সংকটের সময় ভরসাও দেয়না। পিছুটান বড্ডো বেশি। চিনের মানুষকে এইসব অস্বাচ্ছন্দ্যের বোঝা বইতে হয়না। কেউ কেউ হয়তো আমার লেখাটি তখন দেখেছিলেন। আগ্রহীজনের জন্য লিংকটি রেখে দিলুম।
    http://www.guruchandali.com/blog/2016/02/17/1455689707441.html?author=somashiban
  • 漢族 | ১১ আগস্ট ২০১৭ ১৪:৫৭366930
  • "চিনে একধর্ম, এক ভাষা বা এক সংস্কৃতি জাতীয় ধারণাগুলি বস্তুত মিথ। "

    মিথ না। যদিও ধর্মটা গৌণ হয়ে গেছে, কনফুসিয়ান ভ্যালুজ হয় নি। নারায়ণ সান্যাল টাইপের লোকদের বই পড়ে চিন সম্বন্ধে (বর্তমান বা ঐতিহাসিক) ধারণা না করাই ভালো।
  • DP | ১২ আগস্ট ২০১৭ ২০:০৪366931
  • চীন ভারতের মতই বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতীর দেশ। বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতীর অবেক পার্থক্য আছে। আর ধর্মের ব্যাপারে বলতে গেলে ভারতেও একইরকম পরিস্থিতী ছিল। প্রাচ্য দেশগুলোতে আব্রাহামিকদের মত কখনই ধর্ম সর্বব্যাপী ছিলনা। বা আরও ভালভাববে বকতে গেলে Religion বা মাজহাব বলতে যা বোঝায় ভারত বা চীনে কখনই তা ছিলনা। চীনের মতই প্রাচীন ভারতেও একাধীক দর্শন প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল বৈদিক, ব্রাত্য ও পরবর্তীকালে বৌদ্ধ দর্শন। কিন্তু সাধারন মানুষ কখনই সেসব নিয়ে ভাবেনি। তারা একজন ব্রাহ্মণকে যেমন সম্মান করত, তেমন একজন ব্রাত্য যোগী বা বৌদ্ধ শ্রমনকেও সম্মান করত। কিন্তু তাদের দর্শনের পার্থক্য নিয়ে বিশেষ ভাবিত ছিলনা। সাধারন মানুষ লৌকিক ধর্মগুলো পালন করত যা ছিল চরিত্রে আঞ্চলিক। বলা য়ায় ভারতে ধর্মের এই রমরমা ইসলামের আগমণের পরে। তখনি প্রথম প্রতিটা মানুষকে তার ধর্ম জিজ্ঞাসা করা হয়। ইসলামের সামনে যখন ভারতের প্রথাগত ভ্যালু, দর্শন ও সংস্কৃতি দ্রুত পরাজীত হচ্ছিল তখনই সংগঠিত ধর্মগুলোর সৃষ্টি হয়। সাধারনভাবে মানুষ প্রতিপক্ষের শক্তিশালী দিকটি অর্জন করতে চায়। যার ফলে হিন্দু ধর্ম ক্রমশ ইসলামের ধাঁচে সংস্কারীত হয়। যার ফল আজকের এই পরিস্থিতি। চীনের প্রথাগত দর্শন এই চ্য়ালেঞ্জের মুখে পড়েনি। তা পড়েছিল পশ্চিমের রেনেসাঁস পরবর্তি সংস্কৃতীর আগ্রাসনের মুখে। ফলে একইভাবে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী দিকটি অর্জন করতে গিয়ে চীন আরও বেশী বস্তুবাদী হয়ে গেছে।

    --------------------------

    চীনা দর্শনের মধ্যে তাওবাদই সর্বাধীক ভাববাদী। অপর দিকে কনফুশীয় দর্শন পুরোপুরি বস্তুবাদী। কনফুসিয়াসকে ভারতে চানক্যের সাথে তুলনা করা যায়। অন্তত রাজনৈতীক দিক থেকে। ভারতীয় দর্শন মুখ্যত ভাববাদী, তবে নাস্তিক বা বস্তুবাদী দর্শন চীনের একচেটে নয়। ভারতেও চার্বাক মতবাদ বহু প্রাচীন কাল থেকেই ছিল
  • দেব | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ২১:৩২366932
  • @শিবাংশু, DP - অবশ্যই চিনেও আঞ্চলিক পার্থক্য রয়েছে কিন্তু তুলনামূলকভাবে ভারতের থেকে অনেকটাই কম। বৈচিত্রের ভিত্তিতে ভারতের তুলনা ইউরোপ।
  • দেব | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ২১:৩৯366933
  • ১৮৯৪-৯৫ এর যুদ্ধে জাপানের কাছে হারার পর চিনের ভেতরে রীতিমত আতঙ্ক ছড়াল। ইউরোপ, যতই শক্তিশালী হোক, অনেক দূরে। জাপান একদম পাশে এবং জাপানের ভাবভঙ্গি দেখে চিনের আমলাদের একটা অংশ বুঝে গেলেন ঢিমে তেতালায় সংস্কার করলে হবে না। ইউরোপের থেকে শুধু সামরিক প্রযুক্তি জোগাড় করে জাপান (ও রাশিয়া) কে আটকানো অসম্ভব। অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থার আগাপাশতলা পুনর্নিমাণ প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে - জাপান যদি ১৮৬০এর দশক থেকে দ্রুত সংস্কার করতে পেরে থাকে তাহলে চিন করল না কেন। মূল কারণ মানসিক গোঁড়ামো। এখানে একটু ফেরত যাই। জাপানের সাথে যুদ্ধের আগে চিন সামান্য যেটুকু সংস্কার (মূলত সামরিক) করেছিল সেটা শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় চিন-ব্রিটেন যুদ্ধে (১৮৫৪-৬০) হারার পর। ঐ যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পরের বছর ১৮৬১ সালে তৎকালীন মাঞ্চু সম্রাট, উপাধী - শিয়াং ফেং, মারা যান। তার অনেক স্ত্রীএর মধ্যে একজন - সি খি। সি খির একমাত্র ছেলে, জাইচুং। মারা যাওয়ার ঠিক আগে শিয়াং ফেং সম্রাট জাইচুংকে উত্তরাধীকারী হিসেবে মনোনীত করলেন। ছেলেটির বয়স তখন মাত্র ৬। নাবালক সম্রাটকে সাহায্য করার জন্য শিয়াং ফেং সম্রাট আটজন বিশিষ্ট আমলাকে দায়িত্ব দিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার ঠিক পরেই সি খি, শিয়াং ফেং সম্রাটের এক ভাই - গং এবং আর এক স্ত্রী, সিয়ান, তিনজন মিলে চক্রান্ত করে এই আট আমলাকে সরিয়ে সব ক্ষমতা দখল করলেন। এর পর সি খি গংকেও ল্যাং মারলেন। প্যালেস ক্যু শেষে সব ক্ষমতা সি খির হাতে এল। সাল ১৮৬১। নিজের নাবালক ছেলেকে সামনে রেখে চিনের আসল সম্রাজ্ঞী হলেন সি খি। ভদ্রমহিলা অত্যন্ত গোঁড়া ছিলেন। দরবারের অন্যান্য গোঁড়া রাজপুত্র ও আমলাদের মতন তিনিও ইউরোপ থেকে বিশেষ কিছু শেখার আছে বলে মনে করতেন না। যেসব বুদ্ধিমান রাজপুত্র ও আমলারা দ্রুত সংস্কারের উপদেশ দিচ্ছিলেন তাদেরকে সি খি অগ্রাহ্য করলেন। এইখানেই জাপানের সাথে পার্থক্য হয়ে গেল।

    ১৮৭৫ সালে ছেলে জাইচুং মারা গেলে নিজের এক বোনপোকে গদিতে বসালেন সি খি। উপাধী হল গুয়াংশু। সেও নাবালক। সব ক্ষমতা সি খির হাতেই। দরবারে কাজকর্ম যা হয় ষড়যন্ত্র, পেছনে কাঠি, ল্যাং মারামারি তার চতুর্গুণ। ১৭০৭ এর পর মুঘল দরবারের হাল মনে করুন। প্রত্যেক বছরই কোথাও না কোথাও দেশে দুর্ভিক্ষ। তাইপিং বিদ্রোহ শেষে আমজনতাও এই অবস্থা মেনেই নিয়েছে। সংস্কারপন্থী রাজপুত্র ও আমলারা কোণঠাসা। ১৮৯৪-৯৫ সালে জাপানের কাছে হারা পর্যন্ত সি খির অপশাসন চলল একই ভাবে। মাঞ্চু সাম্রাজ্যের ধ্বংস সি খি নিশ্চিত করলেন। অবশ্য এটা ঠিক যে সি খি একা দায়ী ছিলেন না। দরবারের একটা বড় ও শক্তিশালী অংশও সি খির সাথে দায়ী।

    জাপানের কাছে হারার পর মাঞ্চু শাসনের কঙ্কালসার চেহারাটা পরিস্কার বেড়িয়ে এল। ইউরোপ ততদিনে আফ্রিকায় খাবলাখাবলি সেরে ফেলেছে। চিনের হাল দেখে ইউরোপ বুঝে গেল দেখতে যতই বড় হোক চিন এক্কেরে টসটসে পাকা আম। রেডি হয়ে আছে। শুধু তোলবার অপেক্ষা। জার্মানী, মাচ লেট টু দা পার্টি, ১৮৯৭ সালে জিয়াওঝু উপসাগরটি অধিকার করল। তখন খাতায় কলমে গুয়াংশু সম্রাট (সি খির বোনপো) শাসন করছেন। কিন্তু কলকাঠি তখনও সি খির হাতে। দরবারের এক উচ্চশিক্ষিত আমলা কাং ইয়ুই গুয়াংশু সম্রাটকে পরামর্শ দিলেন দ্রুতবেগে সংস্কার শুরু করতে। গুয়াংশু সম্রাট সেই পরামর্শ মেনে এক ঝটকায় শাসনব্যবস্থায় অনেকগুলি সূদুরপ্রসারী সংস্কার ঘোষণা করলেন ১৮৯৮ সালে। চিনের শাসনব্যবস্থাকে ইউরোপ ও জাপানের ধাঁচে পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা শুরু হল। কিন্তু কড়া প্রতিক্রিয়া এল দরবারে গোঁড়া সদস্যদের ভেতর থেকে। অবস্থা বিগড়োনোর আগে সি খি নিজের বোনপোর ক্ষমতা কেড়ে নিলেন। '১০০ দিনের সংস্কার' নামে পরিচিত এই সংস্কারপ্রক্রিয়া ১০৩ দিনের মাথায় থেমে গেল। গুয়াংশু সম্রাটকে ঘরবন্দি করা হল সামার প্যালেসের একাংশে। যদিও নামে তিনিই সম্রাট রইলেন। বন্দি অবস্থাতে ১৯০৮ সালে মারা গেলেন তিনি।

    গুয়াংশু সম্রাটকে বিদেয় করার ঠিক পরের বছর ১৮৯৯ সালে উত্তর চিন কেঁপে গেল বক্সার বিদ্রোহে। বিগত ৫০ বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলি চিনকে নাচিয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ান মিশনারীদের ধর্মপ্রচার। আমজনতার রাগ ছিল। সেই রাগ ফেটে পড়ল। বিদ্রোহী চিনারা ইউরোপীয় ব্যবসায়ী ও মিশনারীদের আক্রমণ শুরু করলেন। বিদ্রোহীরা অবশ্য কোন আধুনিক ইগালিটারিয়ান আইডিওলজি দ্বারা চালিত হননি। এখনও অবধি অশিক্ষিত চিনা সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল সম্রাটের প্রতি। সম্রাট যে আসলে তার মাসীর হাতের পুতুল সাধারণ চিনাদের কোন ধারণা ছিল না। মাঞ্চু দরবার যেমন গোঁড়ামিতে ঠাসা, আমজনতাও তেমনি। কিন্তু তাদের মধ্যে চিনা জাতীয়তাবাদ ঠিকই ছিল। ইউরোপীয়দের ত্যাঁদরামোর প্রতিক্রিয়ায় সেটা ফাটল। মাঞ্চু দরবারের বেশ কিছু ক্ষমতাশালী রাজপুত্রদের চাপে সি খি কিছুটা দোনামনা করে বিদ্রোহ সমর্থন করলেন। এইবার আটটি দেশ - জাপান, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা, ইটালী, জার্মানী, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরী - একসাথে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চিনে হাজির হল। ১৯০১ নাগাদ বিদ্রোহ দমন করল 'এইট নেশন অ্যালায়েন্স'। সি খি বেজিং ছেড়ে পালালেন। পরবর্তী এক বছর ধরে উত্তর চিনের সব বড় বড় শহরগুলি, বেজিং, তিয়ানজিং ইত্যাদি বহির্শক্তিগুলির দখলে রইল। হাজার হাজার বিদ্রোহীর মুন্ডু গেল। লুটপাট, গণহত্যা করে শেষ করল ইউরোপ ও জাপান। চিনের থেকে 'ক্ষতিপূরণ' আদায় হল ১৭০০০ টন রুপো। বার্ষিক ৪% সুদে চিন সেই টাকা দিতে বাধ্য হবে ১৯৩৯ পর্যন্ত। সি খি মারা গেলেন ১৯০৮ সালে।

    অবশেষে এইবার চিনের সামাজিক জড়তার চিকিৎসা হল। সার্জারী ছাড়া আর উপায় ছিল না। সেই সার্জারী হল ১৯১১-১২ সালে। মাঞ্চু রাজতন্ত্রকে হটাতে শিক্ষিত চিনারা, বিশেষ করে হান জনগোষ্ঠীর চিনারা ১৮৯৪এর পর এক-দেড় দশক ধরে বিভিন্ন সংগঠন তৈরী করছিলেন। কিছু চিনের ভেতরে। কিছু হংকংএ, মালয়, জাপানে বসবাসী চিনাদের ডায়াস্পোরার মধ্যে। ১৯০০এর আশপাশ থেকে সময়টা চিনে মুক্তচিন্তা বিকাশের কাল। কয়েক দশক আগে যেমন ব্রিটিশ শাসনে শুরু হয়েছিল বাংলায়। কনফুসিয় চিন্তাধারায় আচ্ছন্ন মাঞ্চু রাজতন্ত্র ও সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই সময় অনেক চিনা লেখক ও কবি কলম ধরেন। কিছু সহানূভুতিশীল বিদেশী বিশেষ করে জাপানীরাও যোগ দিয়েছিলেন। সান ইয়াৎ সেন, এক হান, ১৯০৬ সালে টোকিওর এক সন্মেলনে এদেরকে একজোট করলেন। যুক্তফ্রন্টের নাম হল তং মেং হুই। চিন সরকারের কিছু হান সেনারাও এদের সাথে যোগ দিল। ১৮৯৯-১৯০১ এর বক্সার বিদ্রোহের পর বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক জুড়ে চিনের বিভিন্ন অঞ্চলে পর পর কয়েকটি ছোট ছোট বিদ্রোহ ঘটল মাঞ্চু রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ১৯০৮ সালে সি খি ও গুয়াংশু সম্রাট উভয়েই মারা গেলে মাঞ্চু দরবার চিনের নতুন সম্রাট ঘোষণা করল। সম্রাটের নাম পু য়ি। বয়স ৩ বছর! অবশেষে ১৯১১ সালের ডিসেম্বরের তং মেং হুই উত্তর চিনে বেজিংএর কাছে উচ্যাং শহরে মাঞ্চু সেনাবাহিনীকে একটা বড় যুদ্ধে হারাল। এরপর সারা চিন জুড়ে রাজ্যে রাজ্যে বিপ্লব ঘটে গেল। তিব্বত ও মঙ্গোলিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করল। চিনে এই বিপ্লব শিংহাই বিপ্লব নামে পরিচিত।

    যদিও মাঞ্চু দরবার তখনও উত্তরে বেজিংএ ক্ষমতাসীন, তং মেং হুই চিনের নতুন সরকার ঘোষণা করল - 'রিপাবলিক অফ চায়না' - ১৯১২র ১লা জানুয়ারী। সান ইয়াৎ সেন প্রেসিডেন্ট ঘোষিত হলেন। রাজধানী হল ইয়াংজি নদীর মোহনা থেকে ৩০০ কিমি ভেতরে সেই নানজিং শহর যেখানে এর আগে তাইপিং বিদ্রোহীরা অর্ধশতক আগে রাজধানী ঘোষণা করেছিল। শহরটি মাঞ্চুদের পূর্ববর্তী মিং সাম্রাজ্যের আমলে (১৩৬৮-১৬৪৪) চিনের রাজধানী ছিল। মিং সাম্রাজ্যের সম্রাটরাও ছিলেন হান জনগোষ্ঠীর। তাইপিং বিদ্রোহ ২.০ সম্পূর্ণ হল। পার্থক্য এই যে ততদিনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হানদের মধ্যে মাঞ্চুশাসন যাবতীয় লেজিটিমেসি হারিয়ে ফেলেছে। মাঞ্চু দরবার হাল ছেড়ে দিয়ে ক্ষমতাবান প্রধানমন্ত্রী ইউয়ান শিকাইকে দায়িত্ব দিল তং মেং হুইএর সাথে আলোচনা শুরু করতে। ইউয়ানের তরফ থেকে প্রতিনিধি অফার দিলেন তিনি মাঞ্চু দরবারকে বোঝাবেন সম্রাট পু য়ির আসন ছেড়ে দিতে। তিনি নিজের অনুসারীদের নিয়ে তং মেং হুইকে সাহায্য করবেন। রিপাবলিকান চিন সরকার স্থাপিত হবে সারা দেশে। বদলে মাঞ্চু রাজপরিবারকে সুরক্ষা দিতে হবে। তাদের কোন ক্ষতি করা চলবে না। এবং সান ইয়াৎ সেন ইউয়ান শিকাইকে চিনের প্রেসিডেন্ট পদটি ছেড়ে দেবেন। সান রাজী হলেন (এমনি এমনি সানকে পার্টি শ্রদ্ধা করে না)। সেইমত ইউয়ান বেজিংএ গিয়ে মাঞ্চু দরবারকে রাজী করালেন সাম্রাজ্যের অবসান মেনে নিতে। ১২ই ফেব্রুয়ারী ৬ বছর বয়সের সম্রাট পু য়ির হয়ে সম্রাজ্ঞী লঙ্গিউ সম্রাটের ক্ষমতার অবসান করতে ডিক্রী জারী করলেন। ১৬৪৪ সাল থেকে চিনে মাঞ্চু শাসন, ভাল নামে কিং সাম্রাজ্য, ১৯১২এ শেষ হল। চিনের ৪০০০ বছরের রাজতন্ত্রের ইতিহাস এইখানে এসে থামল। অবশ্য শেষ সম্রাট পু য়ির রোল এখানেই শেষ হল না। কিছু সময় পরে নির্দেশক তাকে ফিরিয়ে আনবেন অপ্রত্যাশিত ভাবে। চিনের মতন আরো একটি বৃহৎ প্রাচ্য সাম্রাজ্য - অটোমান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটবে প্রায় একই সময়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে। সে আর এক মহাভারত। প্রসঙ্গত বলে রাখি কনফুসিয়াসকে আক্রমণ করেই আধুনিক চিনের চিন্তাবিদদের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমান চিনে কনফুসিয়াস আবার এসেছেন ফিরিয়া। ১৯৭০এর দশকে মাওপনা ছেড়ে টাকা রোজগার শুরু করলেও দেশকে একসূত্রে বাঁধতে গেলে একটা আইডিওলজি লাগে। কমরেডরা আবার কনফুসিয়াসের আঁচল ধরেছেন। সার্কল ফুল হয়েছে। যাকগে। কি আর করা।

    সান পদ ছেড়ে দিলে ১৯১২র ১০ই মার্চ ইউয়ান শিকাই প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন। সেই সময় আরো কয়েকটি ছোট ছোট দল তং মেং হুইতে যোগ দিল। তং মেং হুই নাম পাল্টে হল কুয়োমিং তাং। এর পরেই ইউয়ান ল্যাং মারলেন সান ও কুয়োমিং তাং পার্টিকে। সান জাপানে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। কাউন্টারবিপ্লব শেষে যাবতীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে চিনের নতুন 'সম্রাট' ঘোষণা করলেন! চিন আবার পিছিয়ে গেল। তবে ইউয়ান বেশীদিন টিকলেন না। কারণ বায়োলজি। ১৯১৬ সালে ইউয়ান শিকাই মারা গেলেন। এরপর চিন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। সানের কুয়োমিং তাং মধ্য-দক্ষিণ চিনে নিজেদের শক্তির এলাকায়। অন্যান্য রাজ্যে স্থানীয় মনসবদারেরা ক্ষমতা দখল করলেন। এদের নিজেদের মধ্যে মারপিট শুরু হল বেজিংএর দখল নিয়ে। মঙ্গোলিয়া ও তিব্বত আগেই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। রাশিয়া মঙ্গোলিয়াকে সাপোর্ট দিল। ব্রিটেন টোপ দিল তিব্বতকে। এর মধ্যে আবার জাপান এসে হাজির হল অনেকগুলি দাবী নিয়ে ইনক্লুডিং টেরিটোরিয়াল ক্লেইমস। ২১ দফা দাবী। পশ্চিমী দেশগুলির নিজেরা ধান্দায় ছিল চিনের ভাগা নিয়ে। তারা জাপানকে বাধা দিয়ে ব্যাপারটা তখনকার মতন থামাল। দেশে সেই ডামাডোলের মধ্যে কয়েকজন চিনা সিদ্ধান্ত নিলেন অনেক হয়েছে। আর না। উই হ্যাভ টু টেক সাম নেমস এন্ড কিক সাম অ্যাস। ১৯২১ সালে জন্ম নিল কমিউনিষ্ট পার্টি। তখন চিনে সান ইয়াৎ সেন ও কুয়োমিং তাং পার্টির বিরাট সন্মান। কমিউনিষ্ট পার্টি কুয়োমিং তাং পার্টিকে সমর্থন দিয়ে একসাথে কাজ শুরু করল। ১৯২৫ সালে সান মারা গেলে কুয়োমিং তাং পার্টির নেতা হলেন চিয়াং কাই শেক। চিয়াং কমিদের কোনরকম স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিলেন না।

    ১৯২৬-২৮ নাগাদ রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে চিয়াং কাই শেক উত্তর চিনে বিভিন্ন মনসবদারেদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলেন। কমিউনিষ্ট পার্টি সঙ্গ দিল। কিছু মনসবদারকে যুদ্ধে হারিয়ে, কয়েকজনকে নিজের দলে টেনে চিনকে মোটের উপর এক টুকরোয় ফিরিয়ে আনতে চিয়াং সফল হলেন। কিন্তু সে নেহাতই ভঙ্গুর অ্যালায়েন্স। যাই হোক এর পরেই চিয়াং চড়াও হলেন কমিউনিষ্ট পার্টির ওপর। বিশ্বাসঘাতকতা করে পরপর কয়েকটি শহরে পার্টিসদস্যদের মেরে তাড়ালেন চিয়াং। প্রায় ২০০০০ মেম্বার প্রাণ হারাল ১৯২৭এ। ব্লাড ফয়েডের সেই শুরু। কমিউনিষ্ট পার্টির মূল শক্তি ছিল চিনের বড় শহরগুলিতে। শহর ছেড়ে পার্টি পিছিয়ে গেল গ্রামে ও জঙ্গলে। দেশের দুর্গম এলাকায়। কুয়োমিং তাং পার্টির ভেতরে যারা এই অন্যায়ের বিরোধিতা করেছিলেন চিয়াং তাদের ভাগিয়ে দিলেন। কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্যরা বুঝে গেলেন বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। গেরিলা লড়াই শুরু হল দেশবাসীর এমানসিপেশনের আশায়।

    ---------------------------------------------------------------

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্য নাম দেওয়া যেতে পারে ইউরোপের আত্মহত্যা। অনেক অনেক কিছু বদলায় ঐ যুদ্ধের পর। তার মধ্যে একটি বিশেষ সমাজদর্শনও পড়ে - সায়েন্টিফিক রেসিজম। আজ রেসিজম বা তার ছোঁয়াও পশ্চিমী সমাজের মূলস্রোত থেকে নির্বাসিত। ভেতরে ভেতরে আছে কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ভেরবোটেন। মিডিয়ার কোণাকাঞ্চিতে ঘাপটি মেরে থাকতে হয় তাকে। আমরা এতটাই অভ্যস্থ এই ব্যব্স্থায় যে আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করি ইউরোপকে দেখে ভারতের শেখা উচিত। কি সুন্দর ইউরোপীয় সমাজ থেকে রেসিজমকে দূরে রাখছে।

    হা হা হা হা। হার্ভার্ডে পড়ানো হত মশাই। হার্ভার্ডে। হ্যাঁ একদম কোর্স ছিল। উনবিংশ শতাব্দির দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু। ১৯২০-৩০এর দশকে এসে সেই বিদ্যার কুসুম ফুটে উঠল ইউরোপ আমেরিকার সর্বত্র। আফ্রিকানরা মানুষ ও বাঁদরের মাঝামাঝি পড়ে কি না সেই রীতিমতন গবেষণা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের 'অ্যাপ্লায়েড' সায়েন্টিফিক রেসিজমের ভয়াবহতা পশ্চিমী সমাজের শাসকশ্রেণীকে নড়িয়ে না দিলে সে গবেষণা আজও চলত। ভবিষ্যতেও যে ফিরে আসবে সে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সেদিক দিয়ে দেখলে ভারতের ভাগ্য ভাল ভারত দখল হয়েছিল কিছুটা তাড়াতাড়ি। ১৮০০ সাল নাগাদই ভারত প্রায় পুরো খেয়ে ফেলেছে ব্রিটেন। তখনও ব্রিটেন পুরোপুরি 'আধুনিক' হয়ে ওঠেনি। জাতিবিদ্বেষ সারা পৃথিবীর সর্বত্রই কোন না কোন রূপে মিলেনিয়া ধরে আছে। তার একটি বিশেষ পোটেন্ট ভ্যারাইটি, সায়েন্টিফিক রেসিজম ইউরোপের শাসকশ্রেণীর সমাজচেতনায় শিকড় গাড়তে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। কিন্তু ততদিনে দীর্ঘ ১০০-১৩০ বছর ভারত শাসন করা হয়ে গেছে ব্রিটেনের। গদি হারানোর কোন ভয় নেই দূর দূর পর্যন্ত। ভারতীয়রা ব্রিটিশদের কাছে অবমানুষ ঠিকই কিন্তু তাদের সবংশে লোপাট করার প্রয়োজন বোধ করেনি ব্রিটেন। আফ্রিকা ও চিনের কপাল অতটা ভাল ছিল না।

    ১৯৩০ নাগাদ জাপান পুরোপুরি শিল্পোন্নত। সামরিক শক্তিতে ব্রিটেনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। ১৮৬০এর দশক থেকে শুরু করে পশ্চিমের থেকে প্রায় সব কিছুই গ্রহণ করে চলেছিল জাপান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শাসনপদ্ধতি, স্কুলব্যবস্থা, পোশাক আশাক। সবই যখন হয়েছে তখন ঐ বিশেষ সমাজদর্শনটিই বা বাদ যায় কেন? সায়েন্টিফিক রেসিজম গ্রাস করল জাপানকে। অনোরারি আর্য্যরা পবিত্র কর্তব্য পালনে বেরোলেন পাশের দেশগুলিতে। প্রথম শিকার কোরিয়া।

    ২১ দফা দাবী নিয়ে সফল না হওয়ায় জাপান দেখল আর ভ্যানতারা বাড়িয়ে লাভ নেই। ১৯৩১ সালে সোজাসুজি চিন দখল শুরু করল জাপান। চিয়াং কাই শেকের সেলোটেপ দিয়ে জোড়া চিনের পক্ষে জাপানকে আটকানোর প্রশ্নই ছিল না। ৫ মাসের মধ্যে উত্তর চিনের মাঞ্চুরিয়া - চিনের প্রায় ১৫% এলাকা - দখল করে নিল জাপান। সেখানে জাপান এক পাপেট রাজতন্ত্র বসালো। উনবিংশ শতাব্দীতে যে নিয়ম ছিল, অন্য দেশ দখল করে সরাসরি শাসন, সে ততদিনে আউট অফ ফ্যাশন হয়ে গেছে। এখন অন্য দেশ দখল করলে লীগ অফ নেশনস গোঁসা করে। তা সেই পাপেট দেশের নাম হল নাম হল মাঞ্চুকুয়ো অর্থাৎ মাঞ্চুদেশ। চিনা ভাষায় কুয়ো (বা গুয়ো, আমাদের বর্ণমালার উচ্চারণে কোনটাই ঠিক আসবে না) শব্দটির অর্থ দেশ বা রাজ্য। চিনের নিজের নামও ঝংকুয়ো (মধ্যদেশ)। তা দেশের রাজা কাকে করা যায়? জাপান পকেট থেকে বের করল পু য়িকে! মনে আছে সেই বাচ্চা সম্রাট যাকে ইউয়ান শিকাই ছুটি দিয়ে দিয়েছিলেন। সে ততদিনে আদরে বাঁদর হয়ে বড় হয়ে উঠেছে। ১৯১২ সালে গদি হারানোর পর থেকে পু য়ি শৈশবকাল বেজিংএর রাজপ্রাসাদে কাটান। ১৯২৪ সালে ফেং ইউশিয়াং নামে এক মনসবদার তাকে সেখান থেকে ভাগিয়ে দেন। নিকটবর্তী তিয়ানজিং শহরে বিভিন্ন বাইরের দেশকে ছোট ছোট এলাকা তখন লিজে দেওয়া ছিল। পু য়ি জাপানী এলাকায় একটা ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠেছিলেন। সেইখান থেকে জাপান তাকে নিয়ে এল মাঞ্চুরিয়ায়। পরবর্তী পাঁচ বছর জাপান ধীরে ধীরে মাঞ্চুকুয়ো থেকে উত্তর চিনে প্রভাব বাড়াতে শুরু করল। চিনাদের মধ্যে প্রতিবাদ উঠলেও চিয়াংএর ক্ষমতা ছিল না উত্তর চিনে জাপানকে আটকানোর। কুয়োমিং তাংএর শক্তি ছিল মূলত মধ্য চিনের ইয়াংজি নদীর এলাকায়। আর এমনিতেও চিয়াং তখন জাপানের থেকে কমিউনিষ্টদের হটাতে বেশী ব্যস্ত।

    তবে চিয়াংকে নড়তে হল না। জাপানই চিয়াংএর ঘাড়ে উঠে এল। ১৯৩৭ সালের জুলাই মাসে বেজিংএ কিছু চিনা সেনা ও জাপানী সেনাদের মধ্যে গুলি চললে জাপান বেজিং ও তিয়ানজিং শহরদুটি পুরো দখল করে নিল। অবশেষে চিয়াং জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। ইয়াংজি নদীর মোহনায় চিনের বৃহত্তম শহর সাংহাই। শহরের একটি অংশ জাপানকে লিজে দেওয়া ছিল। সেইখানে হানা দিল চিনের সেনা ও বিমানবাহিনী। জাপান বিশাল সেনাবাহিনী নামিয়ে পাল্টা দিল। তিনমাস ধরে প্রবল লড়াইএর পর চিনের সেনারা পিছু হটতে শুরু করল। পিছু হটলেও এই প্রথম চিনের সেনারা, বিশেষ করে বিমানবাহিনী ভাল লড়াই করল। প্রথম চিন-জাপান যুদ্ধের মতন একতরফা হয় নি। সাংহাই দখল করার পর জাপান এগোল নানজিংএর দিকে, কুয়োমিং তাং সরকারের রাজধানী। চিয়াং ও তার দল নানজিং ছেড়ে আরো ভেতরে চলে গেলেন। শহরটি দখল করার পর জাপান ভয়াবহ গণহত্যা চালাল। প্রায় ৩০০০০০ সাধারণ চিনা নাগরিককে নৃশংস ভাবে ধর্ষণ ও খুন করল জাপানী সেনারা। জাপানীদের সেনাপতি ছিলেন ইয়েন মাসুই। অন্যত্র উত্তর চিনে এক জাপানী যুদ্ধবন্দী, মিশুশিগি মায়েদা*, জাপানের ঐ বর্বরতা দেখে পার্টির সাথে যোগ দিয়ে ছিলেন। পার্টির পরামর্শে তিনি এবং তার মতন আরো কিছু জাপানী সেনারা চিনে যুদ্ধরত জাপানী সেনাদের সেইসময় বোঝাতে চেষ্টা শুরু করেছিলেন চিনের সাথে ঠিক কি করে চলেছে জাপান। নানজিংএর পর সারা চিন জুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে গেল। ততদিনে কমিউনিষ্টদের সঙ্গে নিতে বাধ্য হয়েছেন চিয়াং। অবশ্য সহজে নয়। উত্তর চিনে এক স্থানীয় মনসবদার ঝাং শিলিয়াং ১৯৩৬ সালে চিয়াংকে কিডন্যাপ করলেন। ঝাংএর দায়িত্ব ছিল মাঞ্চুরিয়ার। ১৯৩১ সালে জাপান মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ করলে চিয়াং ঝাংকে নির্দেশ দেন জাপানকে নিয়ে বেশী ভাবতে হবে না। "ওদের আটকাতে যেও না। তুমি কমি ব্রিগেডকে আগে শায়েস্তা কর দেখি।" ঝাং প্রথমে আদেশ মানলেন কিন্তু আর থাকতে পারলেন না। ঝাংএর হাতে কিডন্যাপ হওয়ার পর চিয়াং ভাবলেন এই রে, গেল বোধহয় মুন্ডু! ও হরি। উল্টে ঝাং চিয়াংএর হাতে পায়ে ধরলেন - "জাপান আমাদের শেষ করে দেবে!। আপনি দয়া করে কমিউনিষ্টদের সাথে লড়াই বন্ধ করে জাপানের দিকে মন দিন। কমিউনিষ্টদের দলে নিয়ে জাপানের সাথে লড়ুন।" এরপর চিয়াং ও তার অনুসারীরা নিমরাজী হয়ে কমিউনিষ্টদের সাথে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যৌথ বাহিনী খাড়া করলেন জাপানের বিরুদ্ধে। ১৯৩৮ এ উহান শহরে জাপানের বিরুদ্ধে দু'পক্ষ একসাথে লড়ল। কিন্তু চিয়াংএর কমিভীতি আর গেল না। সম্পর্ক খারাপ হতে হতে দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙ্গে গেল ১৯৪১ এ। এর পর চিয়াং জাপানের সাথে লড়বেন না পার্টির পেছনে ছুটবেন ভাবতে ভাবতে দুটো করাই মনস্থির করলেন। চিয়াং ঘোষণা করলেন - "যতদূর আমি জানি, জাপান খুব বেশী হলে চামড়ার ঘা। কিন্তু কমিউনিষ্টরা চিনের হৃৎপিন্ডের রোগ!" চিনা জনসাধারণ ও চিয়াংএর নিজের কিছু জেনারেলদের মধ্যেও এটার ইমপ্রেশনটা ঠিক ভাল হল না।

    জাপান পার্ল হার্বার আক্রমণ করলে দ্বিতীয় চিন-জাপান যুদ্ধ মিশে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে। নানজিংএর মতন অত বিরাট না হলেও জাপানী সেনাদের হাতে আরো অজস্র গণহত্যা ঘটবে চিনে যুদ্ধ থামা পর্যন্ত। যুদ্ধের শেষে আমেরিকা ইয়েন মাসুইকে ফাঁসি দেয়।

    কিন্তু নানজিংএর ঐ ভয়ঙ্কর গণহত্যাও জাপানের এই সময়ের আরেকটি কীর্তির কাছে ম্লান। সেটা ঘটেছিল অধিকৃত মাঞ্চুকুয়ো অঞ্চলে। সেখানে হারবিন শহরে ১৯৩৫ সালে কয়েকটি গোপন ক্যাম্প স্থাপন করল জাপান। সেখানে ইউনিট ৭৩১ নামে একটি ক্যাম্পে চিনা নাগরিকদের উপরে গিনিপিগের মতন পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করল জাপানের বৈজ্ঞানিকেরা। সাথে কিছু রাশ্যান ও কোরিয়ান বন্দিও ছিল। কয়েকটা নমুনা দিই -

    ১। তরল নাইট্রোজেনে হাত, পা, শরীরের অংশ ডুবিয়ে জমিয়ে দেওয়া। ফ্রষ্টবাইটের প্রভাব দেখার জন্য।
    ২। সজ্ঞান অবস্থায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়া, টরসোয় ভিভিসেকসন।
    ৩। জ্যান্ত মানুষের ওপরে বিভিন্ন কেমিক্যাল ও বায়োলজিকাল এজেন্টের (জীবাণু) পরীক্ষা।

    যুদ্ধ শেষ হওয়ার মুখে এই জাপানী বৈজ্ঞানিকেরা দেশে পালিয়ে যান। জাপান আত্মসমর্পণ করলে আমেরিকা ইউনিট ৭৩১ এর পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে যেসব মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ হয়েছিল, বিশেষ করে মানুষের শরীরের উপরে কেমিক্যাল ও বায়োলজিকাল এজেন্টের প্রভাব সম্পর্কিত, তার বিনিময়ে এদেরকে ইমিউনিটি দিয়ে দেয়। চিন পরে ইউনিট ৭৩১এর এই যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির প্রসঙ্গ তুললে ওসব কিছু হয়নি ওসব কমি প্রোপ্যাগ্যান্ডা বলে ট্রুম্যান কাটিয়ে দেন। অন্যদিকে রাশিয়ার হাতে অল্প যে কিছু জাপানী যুদ্ধাপরাধী ধরা পড়েছিল স্ট্যালিন তাদের দীর্ঘ কারাদন্ড দিয়ে দেন। চিনের হাতে প্রায় কেউই ফেরত আসে নি। জাপান আজও চিনের কাছে এই পৈশাচিক অত্যাচারের জন্য ক্ষমা চায় নি। নানজিং গণহত্যা হয়েছিল বলেই জাপান স্বীকার করে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানের যে সেনাকর্তারা এই সব ঘটনার পেছনে দায়ী ছিলেন তাদের নাম ১৯৬০ এর দশকে জাপান ইয়াসুকুনি স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত করে। ইয়েন মাসুই সমেত। ইয়াসুকুনি স্মৃতিসৌধ তৈরী হয়েছিল ১৮৬৯ সালে। জাপানের যেসব সৈনিক দেশের জন্য কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন তাদের নাম ওখানে সংরক্ষণ করা হয়। সেখানে সম্প্রতিকালে জাপানের রাজনীতিকরা নিয়মিত গিয়ে প্রণাম ঠুকে আসেন। ব্যাপারটা চিন, কোরিয়া, তাইওয়ান এবং কিছুটা রাশিয়ার কাছেও ঠিক কতটা অপমানকর আশা করি ব্যাখ্যা করতে হবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানও ট্রম্যাটাইজড হয়েছিল ঠিকই কিন্তু এই ব্যবহারের যুক্তি পাওয়া মুশকিল।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪৩ সালে চিয়াং, রুজভেল্ট ও চার্চিল কায়রোতে এক যৌথ বিবৃতি দিলেন। ঘোষণা হল জাপানকে হারাতে হবে এবং যুদ্ধের পর চিন থেকে যে যে অংশ জাপান কেড়ে নিয়েছে, যেমন মাঞ্চুরিয়া, তাইওয়ান এবং পেঙ্গু দ্বীপ, সেগুলি সব চিনকে ফেরত দেওয়া হবে।.১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময় থেকে জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য যেসব দ্বীপপুঞ্জ দখল করেছে সেগুলিও ফেরত নেওয়া হবে। এই 'অন্যান্য' দ্বীপপুঞ্জের তালিকায় দুটি দ্বীপপুঞ্জ স্প্র্যাটলি ও প্যারাসেল, দক্ষিণ চিন সাগরে। ফেরত যাবে কার কাছে সেটা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। ধরেই নেওয়া হয়েছিল জাপান এগুলি দখল করার আগে যে যে দেশের ছিল সেই সেই দেশের কাছে ফেরত যাবে। গুয়াম ও মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ যেমন ছিল আমেরিকার। এগুলি ১৮৯৮ সালে স্পেনের কাছ থেকে আমেরিকা কেড়ে নেয়।

    বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে চিয়াং মনের আনন্দে বাড়ী গেলেন। গিয়েই ঘাড়ধাক্কা খেলেন যেমন চার্চিল খেলেন ব্রিটেনে। আমেরিকার থেকে বিপুল সামরিক সাহায্য পেয়েও চিয়াং পার্টিকে আটকাতে পারলেন না। ১৯৪৫-৪৯ এর মধ্যে পার্টির সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষে। কি দিত পার্টি? একটা বন্দুক আর ভাত। জাস্ট ভাত। দেশের অবস্থা তখন এতটাই খারাপ। চিয়াং কোন পাত্তাই দিচ্ছেন না। একটাই লক্ষ্য - ক্ষমতা। জর্জ মার্শাল (যার নামে মার্শাল প্ল্যান) আর থাকতে না পেরে বলে ফেললেন - "চিয়াং যদি সাধারণ মানুষের কথা একটু ভাবতেন তাহলে আজকে কমিউনিষ্টরা এত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত না"। জর্জ মার্শালকে আমেরিকা চিনে পাঠিয়েছিল দু'পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা করতে। চেষ্টা সফল হয়নি। দলে দলে কুয়োমিং তাং সেনাবাহিনীর একের পর এক সেনাপতিরা পুরো বাহিনী সমেত সিসিপির দিকে যোগ দিচ্ছেন তখন।

    ১৯৪৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পার্টির সদস্যরা একবার ফিরে তাকালেন পিছনে। কি গেছে তাদের দেশের ওপর দিয়ে গত একটা শতাব্দীতে। তারপর সামনে তাকালেন। সারা দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ ডাকাতের দল কিলবিল করছে। অনেক স্থানীয় মনসবদারেরা পার্টির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কিন্তু কিছু এলাকায় মনসবদারেরা তখনো নিয়ন্ত্রণে আসে নি। কেউ কেউ নিজেদের এলাকায় নিজেকে রাজা ঘোষণা করে দিয়ে বসে আছেন। পাঁচ কোটি লোক আফিমে আসক্ত। আফিমের নেটওয়ার্ক ভাঙ্গতে হবে। ৮০% লোক নিরক্ষর। সাক্ষরতা বলতে শুধু নামসই। সমাজ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। গড় আয়ু ৩৫ বছর। খাদ্যযোগানের কোন নিশ্চয়তা নেই। ১৯৫০-৬০ এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে চালের জন্য আন্দোলন মনে করুন। ১৯৪৯ সালে চিন তখন তার থেকেও বাজে অবস্থায়। আমেরিকা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। পরবর্তী ২০ বছর চিনের ওপর ওয়াটারটাইট স্যাংশন চাপাবে আমেরিকা। অন্যদিকে রাশিয়া ভেঙ্গে চুরমার। তার মধ্যেও স্ট্যালিন সাহায্য করলেন যেটুকু পারলেন। চিনারা স্ট্যালিনের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন। চিন আবার শুন্য থেকে শুরু করল। প্রথম কাজ ভূমিসংস্কার আর নাইট স্কুল।

    ------------------------------------------------------------

    ১৯৫০ সাল। প্রায় ৫০ বছর জাপানের কলোনী থাকার পর কোরিয়া স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৫এ। তবে দু'টুকরো হয়ে। চিনের মাঞ্চুরিয়ায় জাপানী সেনাবাহিনীকে রাশিয়া ১৯৪৫ সালে আক্রমণ করে। মাঞ্চুরিয়া থেকে জাপানকে তাড়ানোর পর রাশিয়া কোরিয়া উপদ্বীপে ঢোকে। সাথে যোগ দিল কিছু কোরিয়ান কমিউনিষ্ট গেরিলারা। এনারা জাপানের বিরুদ্ধে কোরিয়া ও পার্শ্ববর্তী চিনের মাঞ্চুরিয়া এলাকায় কয়েক বছর ধরে লড়াই চালাচ্ছিলেন। তাদের নেতা - কিম ইল সুং। প্রায় একই সময়ে জাপান (কোরিয়া সমেত) আত্মসমর্পণ করল আমেরিকার কাছে। ৩৮ ডিগ্রী উত্তর অক্ষরেখা বরাবর কোরিয়া দু'ভাগ হল রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে। দু'পক্ষই নিজের এলাকায় নিজের লোকেদের ক্ষমতায় বসাল। কেউই রাজী নয় অন্যকে ক্ষমতা ছাড়তে। জার্মানীর মত। বিভাজনটা ক্রমশঃ পাকা হল কয়েক বছরের মধ্যে। কিম ইল সুংকে ক্ষমতায় রেখে রাশিয়া উত্তর থেকে বিদেয় নিল ১৯৪৮ সালে। অল্প কিছু সেনা মোতায়েন রেখে আমেরিকা দক্ষিণ থেকে বিদেয় নিল ১৯৪৯ সালে। কিম সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনা শুরু করে দিলেন দেশকে আবার এক টুকরোয় আনতে।

    ১৯৫০ সালের ২৫শে জুন উত্তর আক্রমণ করল দক্ষিণকে। পাঁচ দিনের মধ্যে সিওল দখল করল উত্তরের সেনা। আমেরিকা সিদ্ধান্ত নিল উত্তরকে হটাতে হবে। তিন মাসের মধ্যে প্রায় পুরো দক্ষিণ কোরিয়াই উত্তরের দখলে। একেবারে দক্ষিণে বুসান শহরকে ঘিরে কিছুটা এলাকা বাদে। দাঁতে দাঁত চিপে লড়ে আমেরিকা বুসানকে ধরে রেখেছে। ১৫ই সেপ্টেম্বর ডগলাস ম্যাকআর্থারের নেতৃত্বে আমেরিকান নৌবাহিনী কোরিয়ার পুর্ব উপকূলের ইনচোন বন্দরে এসে নামল। তবে শুধু আমেরিকা নয়। সাথে কিছু পরিচিত মুখ। ব্রিটেন ও ফ্রান্স। নিঁখুত অপারেশেন করলেন ম্যাকআর্থার। দশ দিনের মধ্যে সিওল আবার ফেরত চলে গেল আমেরিকার হাতে। সমস্ত উত্তর কোরিয়ান সেনা ৩৮ ডিগ্রী উত্তর অক্ষরেখার উত্তরে পিছিয়ে গেল। উত্তর কোরিয়ার বিমানবাহিনী প্রায় ছিল না। উল্টোদিকে আমেরিকান বিমানবাহিনী একাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আকাশে। দক্ষিণকে পুরো দখল করে ১লা অক্টোবর উত্তর কোরিয়ায় ঢুকল আমেরিকান সেনা, সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা এবং অন্যান্য। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সারা উত্তর কোরিয়া জুড়ে এগোতে এগোতে প্রায় চিনের সীমান্তে, ইয়ালু নদীর ধারে গিয়ে পৌঁছল আমেরিকানরা। চিন ঠিক করল উত্তর কোরিয়াকে আমেরিকার হাতে যেতে দেওয়া চলবে না। তাছাড়া কিমের উত্তর কোরিয়া গৃহযুদ্ধের সময় পার্টিকে অনেক সাহায্য করেছে চিয়াংএর বিরুদ্ধে। ঋণশোধের একটা ব্যাপার ছিল। আমেরিকাকে চিন হুমকি দিল - পিছিয়ে যাও।

    ম্যাকআর্থার হেসে উড়িয়ে দিলেন। বললেন - "খুব বেশী হলে ৫০-৬০০০০ সেনাকে চিন ইয়ালু নদী পেরিয়ে কোরিয়ায় ঢোকাতে পারবে। চিনের কোন বিমানবাহিনী নেই। চিন কিছু করতে চেষ্টা করলে কচুকাটা হবে। চিন ব্লাফ করছে।"** ১৯শে অক্টোবর চিন ইয়ালু পেরোল। ২৫-২৯শে অক্টোবর ওনজংএ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সেনাদল উড়ে গেল। ১লা নভেম্বর উনসানে প্রথম মোলাকাত আমেরিকার সাথে। উড়ে গেল আমেরিকান পজিশন। ১৮৩৯ এর পর এই প্রথম পশ্চিমের দেশকে সরাসরি হারাল চিন। আমেরিকানরা এটাকে এক্সেপশন টু দা রুল ধরল। ২৪শে নভেম্বর ম্যাকআর্থার চিনকে হটাতে আক্রমণের নির্দেশ দিলেন। আশা ছিল ক্রিসমাসের আগেই কাজ শেষ করে দেশে ফেরার। পরবর্তী এক সপ্তাহে সে আশা মিলিয়ে গেল। পেং দে হুয়াই পাল্টা দিলেন। ডিসেম্বরের শুরুতে চনচোং নদীর ধারে পুরোপুরি হারল আমেরিকা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাংজিং হ্রদের কাছে আবার হার। ক্রিসমাস নাগাদ সমস্ত উত্তর কোরিয়া ছেড়ে পিছিয়ে এল আমেরিকান সেনা, সাথে সঙ্গী দেশগুলি। দা ডিফিটস সেন্ট শকওয়েভস থ্রু ইউএস অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন।

    পরবর্তী আড়াই বছর রক্তক্ষয়ী স্টেলমেট চলল দুই কোরিয়ার সীমানার কাছাকাছি এলাকায়। ম্যাকআর্থারের প্রেষ্টিজ পাংচার। চিনকে ধমকি দিয়ে বসলেন পরমাণু বোমার। ট্রুম্যান সেটায় রাজী হলেন না। মাথা গরম করে ট্রুম্যানকে একহাত নিয়ে ফেললেন ম্যাকআর্থার। ১৯৫১ সালে ট্রুম্যান বরখাস্ত করলেন ম্যাকআর্থারকে। আমেরিকান বিমানবাহিনী উত্তর কোরিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই বোমা বৃষ্টি করে চলল। রাশিয়ার বিমানবাহিনী যুদ্ধে যোগ দিয়ে সেটাকে কিছুটা আটকালো, বিশেষ করে চিন-উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে ইয়ালু নদীর অঞ্চলে, যাতে রসদের যোগান চালু রাখা যায়। ফর কনটেক্সট - সারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তিগুলি প্রায় ৩৪ লক্ষ টন বোমা ফেলেছিল অক্ষশক্তি দেশগুলোর। গোটা ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া মিলিয়ে। শুধু পুঁচকে উত্তর কোরিয়ার ওপর পড়ল ৬.৪ লক্ষ টন। কিন্তু চিনকে হটানো গেলনা। ১৯৫৩ সালের জুলাইএ দু'পক্ষ রাজী হল অস্ত্রবিরতিতে। একশ বছর ধরে বহির্শক্তির কাছে হারের চ্যাপটার ক্লোজ করল চিন।

    কোরিয়ার যুদ্ধের পর আমেরিকার সাথে চিনের (ও রাশিয়ার) সম্পর্ক ঠেকল তলানীতে। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করে আমেরিকা বিপুল সহানূভুতি পেয়েছিল সাধারণ চিনাদের কাছে। নানজিংএর বদলা চিনের হয়ে আমেরিকাই নিয়েছিল টোকিও, হিরোশিমা, নাগাসাকিতে। চিনারা আজও সেজন্যে তৃপ্ত। কিন্তু ভূরাজনীতি কঠিন ঠাঁই। চিনের সাথে সুসম্পর্ক বিসর্জন দিলেন ট্রুম্যান। এরপর চিনের সাথে লাগবে রাশিয়ারও। যে পরমাণু বোমার হুমকি ম্যাকআর্থার দিয়েছিলেন সেই একই হুমকি দেবেন ব্রেজনেভ। কিন্তু তার আগে ভারতের সাথে একহাত।

    ------------------------------------------------------------

    *মিশুশিগি মায়েদা এই বছর ১০০ পুরো করলেন।

    **নেহেরুও একই জিনিস ভেবেছিলেন যে চিন বোধহয় ব্লাফ করছে। সম্প্রতি ডোকলামের বিবাদেও অনেকে কাগজে অনেক পন্ডিত আশ্বাস দিচ্ছেন যুদ্ধ টুদ্ধ কিছু হবে না। চিন ব্লাফ করছে। কি আশায় করছেন বলা মুশকিল। নেড়া বেলতলায় কবার যায়?
  • সিকি | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ২২:২৮366934
  • উরেব্বাবা। এক দমে পড়ে ফেললাম।
  • শঙ্খ | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ২২:৪৫366935
  • উফ দমবন্ধ করে পড়ে ফেললুম।

    চিনেদের ওপরে জাপানীদের এই অত্যাচারের ঘটনাটা দেখেছিলুম 'মেন বিহাইন্ড দা সান' সিনেমাটায়। রিসেন্টলি একটা ডকুও বেরিয়েছে শুনেছি, 'ইউনিট ৭৩১' বলে, তবে সেটা লিস্টে আছে, দেখা হয়নি।

    দেব, প্লিজ লিখে চলুন।
  • dd | ১৫ আগস্ট ২০১৭ ২৩:৩৬366936
  • আমার কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যেটা খুব ইন্টেরেস্টিং লাগে সেটা হচ্ছে প্রায় সব অধিকৃত দেশেই কমিউনিস্ট ও তার বিরোধী অংশের লড়াই - দখলদার দেশের বিরুদ্ধে (জার্মানী বা জাপানের) তো বটেই, আবার নিজেদের মধ্যেও।

    সে যুগোস্লোভিয়া বলুন বা গ্রীস, আর এদিকে চীন, স্তালিন কিন্তু সব ক্ষেত্রেই কমিউনিস্ট বিরোধীদেরই আগাগোড়া সাহায্য দিয়ে এসেছেন। আর কমিউনিস্টদের সাহায্য করেছে ব্রিটেইন আর আমেরিকা।

    অহো,কী কৌতূক।
  • সিকি | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ০৯:৫১366937
  • না না, আমার একটাই কথা, এ লেখা এই বছরেই বই হয়ে বেরনো দরকার, নইলে দেরি হয়ে যাবে।
  • কৌতুক | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ১১:০৫366939
  • "স্তালিন কিন্তু সব ক্ষেত্রেই কমিউনিস্ট বিরোধীদেরই আগাগোড়া সাহায্য দিয়ে এসেছেন। আর কমিউনিস্টদের সাহায্য করেছে ব্রিটেইন আর আমেরিকা।"

    কথাটা সম্পূর্ণ ঠিক নয়।

    ১৯২৯ এর দিকে স্টালিন, ট্রটস্কির ওয়র্ল্ড রেভোলুশনের আইডিয়া থেকে সরে 'সোশ্যালিজম ইন ওয়ান কান্ট্রি' মানে নিজের ঘর গোছানোয় মন দেন। এর অন্য মানে হচ্ছে ত্রিশের শুরু থেকে জোরেশোরে সোভিয়েত ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ও কৃষিতে কালেক্টিভাইজেশন এর শুরু (এর অনেক ন্যাক্কারজনক ব্যাপার আছে, শ্রম শিবির, বাধ্যতামূলক শ্রম)।

    এবং সেই সময়ে মস্কোর মনে হয়েছিল মাও ঠিক সেরকম বড় খেলোয়ার হবেন এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এবং বর্তমান দুর্বল অবস্থায় মাওয়ের হয়ে ওকালতি করাটা ঠিক হবে না। ১৯৩৪ এ যখণ জাপান চিনে হামলা করল সরাসরি তখন স্টালিনের নীতি হলো চিয়াং কে ট্যাসিট সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া। কারণ চিয়াং এর চিন একধরণের বাফার ও ডাইভার্শন ক্রিয়েট করছে। ১৯৩৭ এর পরে যখন মাও লংমার্চ করে উত্তরের ইয়েনানে ঘাঁটি গাড়েন তখন স্টালিন মাওকে যথেষ্টই ট্যাক্টিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে গেছেন। যদিও হুকুম ছিল চিয়াং এর সাথে জাপান-বিরোধী ফ্রন্টে কাজ করা। সোভিয়েত সাহয্য ছাড়া মাও এর পক্ষে দুর্গম ইয়েনান অঞ্চলে সেফ জোন বানানো একেবারেই সম্ভব ছিল না।

    ১৯৩৬ স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারে সোভিয়েত সাহায্য ছিল রিপাবলিকানদের প্রতি। যদিও ব্রিটিশ-ফরাসী এমবার্গোতে সোভিয়েতদের সাহায্য পাঠানো কঠিন ছিল। কিন্তু ফাশিস্টফ্রাংকোর জন্য মুসোলিনি আর হিটলারের সাহায্য পৌছুতে কোনো সমস্যা হয় নি। তবে বিনামূল্যে নয়। ৫০০ মিলিয়ন ডলার রিপাবলিকান গোল্ডরিজার্ভ রাশিয়ান সাবমেরিয়ে তোলা হয়। মোটামুটি ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের (১৯৩৯ মূল্যমানের )সাহায্য পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়।

    The German military attache estimated that Soviet and Comintern aid amounted to: 242 aircraft, 703 pieces of artillery, 731 tanks, 1,386 trucks,
    300 armored cars 15,000 heavy machine guns, 500,000 rifles, 30,000 sub-machine guns, 4,000,000 artillery shells, 1,000,000,000 machine gun cartridges, over 69,000 tons of war materiel, and over 29,000 tons of ammunition

    ----

    ১৯৪১ সালের পরে যুগোস্লাভিয়া আক্রান্ত হয়। এর কিছু পরেই সোভিয়েত ইউনিয়নও অপারেশন বার্বারোজায় আক্রান্ত হয়। ঠিক এই সময় যুগোস্লাভ পার্টিজানদের সাহায্য দেবার অবস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল না। কারণ রোমানিয়া থেকে আদ্রিয়াতিক সাগর পুরোটাই জার্মান দখল ছিল। এই সময়ে ব্রিটিশরা তাদের ভুমধ্যসাগরীয় ঘাঁটি থেকে এয়ারলিফট করে টিটো পন্থী পার্টিজানদের সাহায্য করে। এতে কোন ভুল নেই। তবে ১৯৪৪ সালের পরে জার্মান অকুপেশন শিথিল হলে রাশিয়ান সাহায্যও অল্পবিস্তর এসেছে। Yugoslavia was one of only two European countries that were largely liberated by its own forces during World War II. It received significant assistance from the Soviet Union during the liberation of Serbia, and substantial assistance from the Balkan Air Force from mid-1944, but only limited assistance, mainly from the British, prior to 1944

    গ্রিক পার্টিজানদের ভাগ্যও যুগোস্লাভ পার্টিজানদের সাথে বাঁধা ছিল। তবে নন কমুনিস্ট গ্রিক রেসিস্টান্স ফাইটাররা ব্রিটিশ সাহায্য অনেক পেয়েছে। কারণ ব্রিটিশ-আমেরিকানদের নর্থ আফ্রিকান ঘাঁটির প্রক্সিমিটি।

    ১৯৪৭-৪৮ এর টিটো স্টালিন বিবাদ বাঁধে। টিটো প্রতিবেশী আলবেনিয়া-বুলগেরিয়া এবং সম্ভব হলে গ্রিসকে বৃহত যুগোস্লাভিয়ার সাথে একত্র করার একটি উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব পরিকল্পনা নেন। এই ব্যাপারে স্টালিনের মতামত ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শেষ হবার এত অল্পপরে আবার পশ্চিমা শক্তিদের সাথে পাঙ্গা নেবার (টিটোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে অবশ্যই সেটা হতো) ইচ্ছা ছিল না স্টালিনের। অতএব এইসময় 'গ্রিক সিভিল ওয়ার' এর সূচনা হয়। যেটার একদিকে ছিল গ্রিক কমিউনিস্ট গেরিলারা (যারা আবার বেশীরভাগ গত ৪১-৪৫ বিশ্বযুদ্ধের ভেটেরান)। আরেকদিকে গ্রিসের সরকারী বাহিনী, এবং এবার ব্রিটিশ ও আমেরিকা সাহায্য সরকারী বাহিনীর দিকে ঢেলে দেয়া হয়। ওদিকে পার্টিজানরা কেবল যুগোস্লাভিয়া থেকে সাহায্য পেত। স্টালিন এই গ্রিক পার্টিজানদের সাহাজ্য করতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেন। এটা সোভিয়েত-যুগোস্লাফ স্প্লিট ঘটানোর অন্যতম অণুঘটক।

    ১৯৪৯ সালে ন্যাটো ঘোষনার খুব অল্প পরেই গ্রিস আর তুরস্ক এই জোটে ঢুকে পড়ে। তার অন্যতম কারণ বলা যায় গ্রিক সিভিল ওয়ার।

    পোল্যান্ডে সোভিয়েতদের ভুমিকা ন্যাক্কারজনক। কারণ হিটলারের সাথে চুক্তি করে পোল্যান্ড ভাগাভাগি এবং সোভিয়েতভাগের সব সামরিক অফিসার সৈন্যদের শ্রমশিবিরে পাঠিয়ে দেয়া। (এইরকম এক শিবির কাতিন ম্যাসাকার সবচেয়ে কুখ্যাত) পরে যখন জার্মান অধিকৃত পোল্যান্ড পার হয়ে জার্মান বাহিনী ঢুকে পড়ল সোভিয়েত এলাকায়, তখন জার্মান এলাকায় জার্মান এলাকায় পার্টিজান সেল বানানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেগুলো বিশেষ কার্যকর হয়নি।

    -----------
  • দেব | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ১৪:১০366940
  • "এবং সেই সময়ে মস্কোর মনে হয়েছিল মাও ঠিক সেরকম বড় খেলোয়ার হবেন এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এবং বর্তমান দুর্বল অবস্থায় মাওয়ের হয়ে ওকালতি করাটা ঠিক হবে না। ১৯৩৪ এ যখণ জাপান চিনে হামলা করল সরাসরি তখন স্টালিনের নীতি হলো চিয়াং কে ট্যাসিট সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া। কারণ চিয়াং এর চিন একধরণের বাফার ও ডাইভার্শন ক্রিয়েট করছে। ১৯৩৭ এর পরে যখন মাও লংমার্চ করে উত্তরের ইয়েনানে ঘাঁটি গাড়েন তখন স্টালিন মাওকে যথেষ্টই ট্যাক্টিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে গেছেন। যদিও হুকুম ছিল চিয়াং এর সাথে জাপান-বিরোধী ফ্রন্টে কাজ করা। সোভিয়েত সাহয্য ছাড়া মাও এর পক্ষে দুর্গম ইয়েনান অঞ্চলে সেফ জোন বানানো একেবারেই সম্ভব ছিল না।"

    কৌতুকের সাথে একমত।
  • অর্থাৎ | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ১৪:৪৮366941
  • ইতিহাস এটাই শেখায় ওই "দুনিয়ার সর্বহারা ভাই ভাই " জাতীয় লাল স্লোগান গুলো বিশুদ্ধ গুল।ক্রাইসিসে সবাই নিজের স্বার্থই দেখে। দক্ষিণ চীন সাগরেও চীন - ভিয়েতনাম টানাপোড়েনে সেটাই স্পষ্ট।
  • দেব | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ১৬:১৩366942
  • 'বিশুদ্ধ গুল' বলবনা। সেইযুগে লোকে আসলেই ইউটোপিয়াতে বিশ্বাস করতেন বা আশা রাখতেন। সেটা বাস্তবের মাটিতে এসে ধাক্কা খেয়েছে সবকটি দেশেই। আজকে মাথা ঠান্ডা হয়েছে, একটু সচ্ছলতা এসেছে তাই ধীরেসুস্থে জিনিসগুলো দেখা যাচ্ছে।
  • S | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ১৭:২১366943
  • "কিন্তু কংগ্রেসের প্রচেষ্টার প্রতি সম্পূর্ণ সন্মান রেখেও একথা না মেনে উপায় নেই যে ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে মূলত জার্মানী ও জাপানের জন্য।"

    সেকি? আমি যতদুর জানি গান্ধীর সাথে কি একটা চুক্তি হয়েছিলো যে ভারত যদি সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে ব্রিটিশদের দিকে থাকে/সাহায্য করে/লড়াই করে, তাহলে স্বাধীনতা দেওয়া হবে। এরকম একটা চুক্তি ইজরায়েল তৈরী করার সময়েও করা হয়েছিলো। ব্রিটিশরা প্রথমে গাঁইগুঁই করেছিলো, কিন্তু অবস্থার চাপে রাজী হয়। আম্রিগার চাপও ছিলো। এখন যুদ্ধ বাঁধানোর জন্য যদি জার্মানী জাপানকে ক্রেডিট দেওয়া হয়, তাহলে ঠিক আছে। কারণ ১৯৪৬-৪৭ সাল নাগাদ এই দুই দেশের তেমন কিছু জোড় ছিলো বলেও মনে হয়্না।

    গান্ধীর অহিংসার সাথে ম্যান্ডেলার মিল অনেক থাকলেও মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ারের মিলটা সীমিত।

    আর শোধ নেওয়ার ব্যাপারটাই যখন বলছেন তখন রাশিয়ার কোল্ড ওয়ারে হেরে যাওয়ার শোধের ব্যাপারটাও জুড়ে দিন। এই নিয়ে পলিটিকোতে একটা ভালো লেখা বেড়িয়েছিলো, আমি বোধয় অন্য কোথাও লিন্কও দিয়েছিলাম।
  • দেব | ১৬ আগস্ট ২০১৭ ১৯:১১366944
  • হ্যাঁ ক্রেডিট যুদ্ধটা বাধানোর জন্যই। এবং ব্রিটেনের কোমরটা ঠিক অনুপাতে ভাঙ্গার জন্যও। এত কম নয় যে ব্রিটেনের সাম্রাজ্য টিকে গেল আবার এত বেশীও নয় ব্রিটেনকে সরিয়ে জাপানই খেয়ে ফেলল ভারতকে।

    পুরোটাই আনইন্টেনশনাল, অবশ্যই।
  • S | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ০০:৩১366945
  • দেববাবু, এখন ভারত চীন যুদ্ধ না হওয়ার প্রধান কারণ হলো বোমা। ওটাই বোধয় বাঁচিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।

    আপনার লেখাটাও বোমা হচ্ছে। বিশেষত সেই জায়্গা গুলোতে যেখানে আপনি নিরপেক্ষ থাকছেন।

    একটাই পোশ্নোঃ চীনের সাথে সকলের এতো সংঘাত লাগে কেন? চীনের এখন তিন বন্ধু হয়েছেঃ উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, ইরান। আহা।
  • amit | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ০৫:৪১366946
  • এই পুয়ি কে নিয়েই বার্তোলুচি এর " টি লাস্ট এম্পেরর" মুভিটা ছিল, আগে জানতাম না, এখন উইকি দাদু আর দেব এর লেখার কল্যানে জানা হলো। জাপানিদের অত্যাচার এর অনেক গল্প মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ান বন্ধুবান্ধব দের থেকে শুনেছি, তাদের নিজের দাদু দিদার গল্প। তাদের অনেকেই আবার এথিনীকে Chinese, শুনে মনে হতো কিছটা বানিয়ে বলছে হয়তো। কিন্তু সেই গল্প গুলো শুনে মনে হয়, যুদ্ধটা শেষ করার জন্য একটা দ্রাষ্টিক স্টেপ নেওয়া হয়তো দরকারি হয়ে পড়েছিল। এটম বোম্ব দিয়ে অতো লোক মরা দুঃখের ঘটনা সত্যি, কিন্তু উল্টো দিকে জাপানি দের অত্যাচার টাও সত্যি। যদি বলা হয় আমেরিকা কেন এটম ব্যোম এর জন্য ক্ষমা চায়নি, উল্টোদিকে জাপান ও কিন্তু তাদের অত্যাচারের জন্য কোথাও ক্ষমা চায়নি।

    দারুন হচ্ছে লেখাটা, এতো বড়ো একটা দেশের, একটা বড়ো টাইম পিরিয়ড এর এতো ভালো সিনপ্সিস। জাস্ট অসাধারণ। আরো আসুক।
  • সিকি | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ০৭:০৭366947
  • আন্দামান নিকোবর কিছুদিনের জন্য জাপানিদের কব্জায় এসেছিল। পড়েছি, তখন অত্যাচারের নির্মমতায় জাপানিরা ব্রিটিশদের লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল।
  • b | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ০৯:১৬366948
  • রেড সান ওভার ব্ল্যাক ওয়াটার, পড়ে দেখতে পারেন।
    জাপানীরা আন্দামান থেকে যাবার সময় সব নথি পুড়িয়ে দেয়। সুতরাং অনেকটাই ওরাল হিস্ট্রি।
    নেতাজী এসেছিলেন। ততটাই দেখেছিলেন যতটা জাপানীরা তাঁকে দেখতে দিয়েছিলো।
  • Atlee | ১৭ আগস্ট ২০১৭ ০৯:৩৫366950
  • Chakraborthy adds, "My direct question to Attlee was that since Gandhi's Quit India movement had tapered off quite some time ago and in 1947 no such new compelling situation had arisen that would necessitate a hasty British departure, why did they had to leave?"
    "In his reply Attlee cited several reasons, the principal among them being the erosion of loyalty to the British crown among the Indian army and Navy personnel as a result of the military activities of Netaji," Justice Chakraborthy says.
    That's not all. Chakraborthy adds, "Toward the end of our discussion I asked Attlee what was the extent of Gandhi's influence upon the British decision to quit India. Hearing this question, Attlee's lips became twisted in a sarcastic smile as he slowly chewed out the word, m-i-n-i-m-a-l!"

    http://indiatoday.intoday.in/story/exclusive-attlee-told-bengal-governor-netaji-not-gandhi-got-india-freedom-claims-book/1/579741.html
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন