একচল্লিশে এসে কাঞ্চনের শেষমেষ বিয়েটা হল। পুলিশের চাকরিতে বিয়ে করা সম্ভব নয়। আজ বালি তো কাল বলাগড়ে বদলি। তারপরে দিবারাত্র অপরাধীদের সঙ্গে সহবাস। জীবন যেন হাঁসফাঁস। তিতিবিরক্ত জীবনটাকে আর বিয়ের বাঁধনে বাঁধতে উৎসাহী ছিল না। কিন্তু অমলেশ কাকু ছাড়লেন না। প্রায় ঊনসত্তরটি পাত্রী দেখে কামিনীকে ফাইনাল করেই ফেললেন
খড়ের উপর পড়ে থাকা আস্তরন ; শিশিরের ঘাম। / পাড়া গাঁয়ের ছেলে মেয়ে জানে তার ঘ্রান।
নীল-দীঘিতে ঝপাং করে শব্দ সন্ধ্যাকালেসঙ্গে সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়;ভেসে উঠলো কবিতা'দির লাশটা সকালেদূরদর্শনে অকাদেমির খবর!!
আত্মহত্যার কথা ভাবছিলাম আমি, জলের রহস্য ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছিল, পুকুরের এ মাথা থেকে ও মাথা সন্তরণ, আর ঘোলাটে সবুজ শ্যাওলার ফাঁকফোকরে বিচরণ, আর ডুব, আর ডুব অহেতুক, ভুস করে ভেসে ওঠা মাঝে মাঝে...এই তো...এতো অর্থহীনতা, মনোজাগতিক পরিধির এতো সীমাবদ্ধতা আমাকে বিষণ্ন করেছিলো ক্রমাগত
৬০/৭০ বছর আগে --- / ঘরের জানলা খুললে সূর্য ওঠে / বারান্দাতে অস্ত যায়, / দক্ষিণ হাওয়া পাগল করে / এমন বাড়ী পাবে কোথায় ?
কানানদীর ওপরের বাঁশের পোল পেরিয়ে, সদগোপ পাড়া ডাইনে রেখে, ভাঙা শিবমন্দিরের উল্টোদিকে দত্তবাড়ী। তাদের মাটির দোতলা, কাঠের মেঝে। সেই বাড়ির বড় বৌ সাতসকালে এক গামলা, ধোঁয়া ওঠা ফেনেভাতে ঘি আর মটরডালের বড়া মেখে গ্রাস করে খাইয়ে দিত ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের। সেই ছোটদের দলে আমার মাও ছিল।এই চর্বিত চর্বন বারংবার শুনতে আমার বিরক্ত লাগলেও, প্রতিবার ঐ স্মৃতিটুকু বলতে গিয়ে মা মনে মনে পৌঁছে যেত সেই কাঠবারান্দায় ... ...
( দ্বাদশ ও অন্তিম পর্ব ) দীপ্সিতার ফোনের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করে বসে আছে কলতান। সে নিশ্চিত ছিল এ ফোনটা আসবেই। দীপ্সিতার কল এল এগারোটা নাগাদ। ------ ' হ্যা বল দীপ্সিতা ..... কিছু এসেছে ? '----- ' হ্যা স্যার ..... রিপ্লাই এসেছে। সাড়ে চারটের সময় লেকের পাশে দেখা করতে রাজি হয়েছে ..... '----- ' ওহ্ .... ফ্যান্টাস্টিক। তুমি তৈরি হয়ে যাও .... '----- ' কিন্তু .... আমার খুব ভয় করছে স্যার ... ...
পাড়ায় ঢুকতে ঢুকতে পাঁচটা বেজে গেল। স্বস্তিক দাঁড়িয়ে ছিল রাস্তার মোড়ে। ঠিক দাঁড়িয়ে ছিল না, ওখানে অস্থির পায়চারি করছিল। রুদ্রা হাঁচোড়পাঁচোড় করে এসে পড়ল সেখানে। ----- ' কি হল ..... কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছ ? ' তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে হাঁফিয়ে গেছে রুদ্রা ।----- ' তা ... প্রায় কুড়ি মিনিট হবে ..... '----- ' এত ট্র্যাফিক জ্যাম ... ...
ব্রেকিং নিউজ। দত্তবাবুর অপরাজিত দেখলাম এবার রায়বাবুর অপরাজিতকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। আইএমডিবিতে দত্তবাবুর অপরাজিতর রেটিং এই মুহূর্তে ৯.৬। রায়বাবুর অপরাজিতর রেটিং মোটে ৮.৩। বললে বিশ্বাস করবেন না, পথের পাঁচালিরও তাই। সিনেমা রিলিজের আগে খবরের কাগজে ডেন্টিস্টের অস্ত্রোপচারের বিবরণ পড়ে নিজেরই দাঁত কটকট করছিল। রিলিজের পর "জিতুবাবুই কি আসল রায়বাবু?" এই মর্মের "রিভিউ" দেখে ... ...
অঝরে ঝরে যায় শত পাতা খবর রাখেনা কেউ। আবগারি দপ্তরে দেয় ঘিরে থাকে জঞ্জাল স্তূপ। ।কংক্রিটের শহরে ওলি-গলি বেঁকে যায়খবর রাখেনা কেউ। ছেঁড়া বই ভেজা গন্ধ ক্যালেন্ডারের প্রতি তারিখ ভারি ঝাপসা খানিক অস্পষ্ট।
কলতান দীপ্সিতাকে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় থানায় একটা জেনারেল ডায়েরি করালো। দেখা গেল ও সি মোহন সিং কলতান গুপ্তর নামের সঙ্গে ভালভাবেই পরিচিত। কলতানকে অবশ্য এই প্রথম চোখে দেখল সে। যথেষ্ট সম্মান দেখাল কলতানকে। ----- ' আপনি চিন্তা করবেন না ..... কয়েক ঘন্টার মধ্যে ট্রেস করে ফেলব ...... ' মোহন সিং-এর স্বর আত্মবিশ্বাসী ... ...
মানব সভ্যতার পতনের ইতিহাস গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় সেখানে জাতিগুলোর উত্থান-পতনের সাথে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে।.সামরিকভাবে বিজিত জাতি দীর্ঘ সময় পরে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে আত্মপরিচয় উদ্ধার করার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সাংস্কৃতিকভাবে বিজিত জাতি বিজেতার পেটে হজম হয়ে যায়
তাহলে শোন অমিয়, আমার নিজের জীবনের কাহিনী বলি তোমাকে। আমি চাকরী করার এতদিন পরে আজও দুঃস্বপ্ন দেখি আমি চাকরী পাইনি। 1997 এ কলেজ থেকে পাস করার পর আমি এই চাকরী পাই 2002 সালে। এই সময় টা হন্যে হয়ে চাকরী খুঁজেছি। আমার কলেজমেট, সিনিয়র জুনিয়র পাড়ার দাদা, সবার কাছে গিয়ে একটা কাজ চাইতাম। অফিস পাড়া তে গিয়ে নিজের সিভি অফিসে অফিসে জমা দিয়ে আসতাম, কিন্তু কোথাও কোনো চাকরি পাচ্ছিলাম না ... ...
চাইনিজে চান, কোরিয়ানে সিওন, ভিয়েতনামিসে থিয়েন তাই হল গিয়ে জাপানিতে জেন। বৌদ্ধ ধর্মের অনেক শাখার মধ্যে ‘জেন’ বুদ্ধিজম’ এশিয়ায় বহু;প্রচলিত বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম শাখা। ভারি সহজ ও সাধারণ এই জেন বুদ্ধিজম। নেই আচার অনুষ্ঠানের বাড়াবাড়ি। ধ্যানের মাধ্যমে নিজের আত্মিক উন্নতি সাধনই এই ধারার মূলমন্ত্র। সুন্দরের প্রকাশকে নিজের মধ্যে উপলব্ধি করা আর অন্তরের সৌন্দর্যকে সুন্দর করে প্রকাশ করা জেন বুদ্ধিজমের ... ...
মেসেজে ইংরেজি হরফে যা লেখা আছে সেটা হল ------ Je gache se to ar firbe na ..... michi michi mon kharap kore luv ki .... Notun kore jibonta suru karo ... tomar anek kichu pabar ache e jibon theke.... ami sob samay tomar sange achi....
অন্ধত্ব অন্ধ আসে পেরিয়ে পথ -অন্ধকারে মন্দিরে, / কহে 'দর্শন মাঙ্গি শুধু, যা দিবে মোরে / ভালমন্দরে'/ জনে হাসে 'নয়ন বিনে কেমনে হবে তোর / দর্শন ?
বিজয়া / আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় / দূর থেকে বলিলে-ভা -ল -বা -সি--, আগে নাহি বুঝি, / এক স্বপ্ন মেখে বসেছিলাম কিনারায় / আকাশ ছিল ভরা তারায় তারায় / দূর থেকে গুনগুন গান আস ছিল ভাসি।
১২ ই এপ্রিল, শুক্রবার সকালে ওসাকার পাঠ চুকিয়ে আমরা চললাম কিয়োতো। কিয়োতো থেকে সন্ধ্যাবেলায় টোকিও ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের টিকিট হিকারিতে বুক করা আছে। বৃষ্টির জন্য অনেক কিছু দেখা বাকি রেখে কিয়োতো থেকে ওসাকা চলে এসেছিলাম তাই সকাল সকাল কিয়োতো দেখে তারপর সন্ধ্যার ট্রেনে ফিরব এমনটাই ঠিক করলেন আমাদের গাইড দিদিমণি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। জে আর কিয়োতো লাইন ধরে ওসাকা স্টেশন থেকে কিয়োতো পৌঁছতে মিনিট কুড়ি ... ...
বিখ্যাত আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ'র পিগম্যালিয়ন নামে একটা নাটক আছে। সেখানে এক গ্রীক ভাস্কর নারীদের নানা ছলনা দেখে বিরূপ হয়ে চিরকুমার থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু নিজ মনের গহীন কোণে লুকিয়ে থাকা কাঙ্ক্ষিত নারীটির অবয়ব সে একটা মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলে। কাজটি এতই সুন্দর হয় যে ভাস্কর নিজের হাতে গড়ে তোলা মূর্তিটির প্রেমে পড়ে যায়।.কিন্তু হায় ! প্রাণহীন মূর্তির সাথে তো আর মানবিক আবেগ বিনিময় করা যায় না। ভালোবাসার দেবী আফ্রোদিতির বাৎসরিক উৎসবের সময় সে মন্দিরে সর্বোচ্চ নৈবদ্য সাজিয়ে আকুল আবেদন জানায় মূর্তিটির ভেতর প্রাণসঞ্চার করে দিতে। দেবী গোপনে তার প্রার্থনা কবুল করেন। বাড়িতে ফিরে প্রথম চুম্বন দিতেই মূর্তিটির ভেতর ... ...
কুলচা রাত সাড়ে আটটার সময় এল হন্তদন্ত হয়ে। ----- ' আরে ..... এ ক'দিন এত প্রিঅকুপায়েড ছিলাম যে তোমার সঙ্গে একদম কানেক্ট করার সময় পাইনি ..... প্রোজেক্টের কাজ চলছে। তারপর ..... দীপ্সিতার ম্যাটারটার আউটকাম কি হল ? ' ---- ' এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে ..... আউটকাম ইজ কোয়াইট প্রমিসিং