Environmental Refugee/Migrant কথাটা আমাদের কাছে নতুন নয়। যারা পরিবেশ নিয়ে খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা এ বিষয়ে পূর্ব পরিচিত। আমরা মতো মোটামাথার লোকজন বোধহয় একটু কনফিউজড, কেউ বলছেন কংক্রিটের বাঁধ চাই, কেউ বলছে ম্যানগ্রোভ গাছ পুঁততে হবে, মাটির বাঁধ চাই নয়তো পরিবেশের ক্ষতি হবে। নানা মুনির নানা মত কিন্তু সুন্দর বনের ভবিষৎ থেকে যায় অন্ধকারে। ... ...
ডোনা আমাদের পাড়ায় একেবারেই বেমানান। ওরকম নামের মেয়ে আমাদের পাড়ায় হয় না। আমাদের পাড়ার মেয়েদের নাম হবে লক্ষ্মী অথচ শরীরে কোনও লক্ষ্মীশ্রী থাকবে না। থাকবে কী করে? পেট পুরে কোনোদিন খেতেই পায় না। কিংবা নাম হবে সরস্বতী। যার পেটে এক আনাও বিদ্যে নেই।
করোনার অতিমারীতে অবসন্ন, বিপর্যস্ত মানুষের মনে অহরহ হানা দিচ্ছে মৃত্যুচিন্তা। অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তো এড়ানো যাবে না। তবে মৃত্যুর পরে নরকবাস এড়াতে চাইলে বেঁচে থাকতে থাকতে অন্তত একটা ভালো কাজ করে যাওয়া ভালো। সুযোগ থাকলে পুঁতে ফেলুন একটা নিম গাছ, একটি পিপুল, একটি বট, দশটি ফুল-ফোটা গাছ বা লতা, দুটো ডালিম, দুটো কমলা আর পাঁচটা আম গাছ। বরাহপুরাণের (১৭২-৩৯) উপদেশ মতো এই কাজ করলে সমাজের মঙ্গল ছাড়া কারও ক্ষতি তো হবে না! বসুন্ধরা দিবসের সূচনা তো মাত্র ১৯৭৪ সালে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ বছরের স্লোগান "ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন" -- বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার। মানুষ যে নির্মম ভাবে সীমাহীন লোভে পরিবেশের স্বাভাবিক ছন্দকে ধ্বংস করেছে সেকথা আজ ... ...
(প্রতিবছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস আসে আর যথানিয়মে চলে যায়। সেমিনার, সিম্পোজিয়ম, সচেতনতা শিবির, নানা ধরনের অনুষ্ঠান, টাকার শ্রাদ্ধ। অথচ মানুষের অসচেতনতা এবং মাত্রাতিরিক্ত লোভের কারণে প্রকৃতি রুদ্ররোষ ধারণ করছে প্রায়শই। উত্তরের পাহাড়, নদী, জঙ্গলে ঘেরা প্রকৃতিকে দুহাত দিয়ে লুটছে মানুষ। প্রকৃতি নিচ্ছে প্রতিশোধ। একুশের গৃহবন্দী পরিবেশ দিবসকে উত্তরের বিস্তীর্ণ ক্ষেত্রে খোঁজার চেষ্টাতে গুরুচন্ডালীর পাতায় উত্তরের পরিবেশ ভাবনা গৌতম চক্রবর্তীর কলামে)খামখেয়ালিপনার পরিণতি হচ্ছে ভয়ঙ্করপ্রকৃতি তার নিজস্ব খামখেয়ালিপনায় চলে। কিন্তু প্রকৃতির চেয়েও অধিকতর মানুষের খামখেয়ালিপনা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নামে প্রকৃতিকে বন্ধনে আবদ্ধ করার খামখেয়ালিপনার পরিণতি হচ্ছে ভয়ঙ্কর। অপরিকল্পিত পর্যটন শিল্পের রমরমা, অবৈজ্ঞানিক গৃহ নির্মাণ পদ্ধতি, যানবাহনের মাত্রাধিক্য চলাচজনিত গ্রীণহাউস এফেক্ট ইত্যাদি মনুষ্যসৃষ্ট ... ...
শিরোনাম বিষয়ক লেখা পেলে আনন্দিত হবো।
আস্তে আস্তে সমস্ত পোশাক খুলে রাখবো একদিন। সব আবরণ একে একে ছেড়ে বেরিয়ে আসবো। এই পরিচয়ের ঢ্যারা বয়ে বেড়ানো অসম্ভব ক্লান্তিকর। যা কিছু দিয়ে দাগিয়ে নিচ্ছি নিজেকে, বা আশেপাশের মানুষ চিনে নিচ্ছে আমায়, আমি আসলে তা নই মোটেই। হলেও, শুধু সেটুকুই নই। এই যে পড়ি, পড়াই, লিখি, এর কোনোকিছুতেই নিজেকে পুরো খুঁজে পাই না। আমি যে আছি, নিজের কাছে এগুলো তার প্রমাণমাত্র। আমি নই। এর বাইরে, একে ছাড়িয়ে আমার মাথার উপর প্রবহমান আকাশ, তার মেঘ আমার পরিচয়ের একাংশ। সেই অংশের ভিতরে আবার গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ এমনভাবে আরও পরিচয়, তারও মধ্যে শুধু বর্ষাতেই হাজারখানেক পরিচয় আমার জড়িয়ে আছে মেঘের অবস্থানে, উপস্থিতিতে। একইভাবে, সূর্য, চাঁদ, ... ...
যে খাতে জীবন বইছে, টুকরো টুকরো আনন্দগুলোর আর কোনও জায়গা নেই। একদিন এই টুকরো আনন্দের টানে সারাদিন ঘরছাড়া থাকতাম। কত গ্রীষ্মের প্রখর দুপুর, কত বৃষ্টিভেজা মেঘলা দুপুর। মনে হতো, এটাই জীবন। তার বৃত্তের বাইরে সবই তুচ্ছ। এই সব পাকামিতেই থার্ড ইয়ারে ইংরেজি অনার্স কেটে গেল। তাতেও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রফুল্লদের বাঁশ ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে মাচা তৈরি। মাথার উপর খড়ের চাল। বৈশাখ, জৈষ্ঠের দুপুরটা বেশ কাটত। মেয়েদের স্কুলের পিছনে শান্তিকাকুদের বাগান। সেখান গিয়ে আম চুরি। গালাগালি না খেলে আমচুরির মজাই নেই। বিকেল গড়ালে ভাগাড়ের মাঠে ক্রিকেট। তবে দুপুর আর সন্ধে তাসের আড্ডায় মন বুঁদ হয়ে থাকত আমাদের। আর থাকত গড়ের ... ...
কবিতা লিখে মাটিতে পুঁতে দেবো / কোনো এক ভবিষ্যতের জন্য
ঋষভ গম্ভীর হল - “শুধু কাগজের পাতায় লিখে, ফেসবুকে হাজারটা লাইক, কমেন্ট পেয়ে আল্টিমেট কি লাভ বলুন তো? এতো বিজ্ঞান মঞ্চের মানুষেরাও করে। চতুর্দিকে প্রচার করে ‘গাছ লাগান, গাছ লাগান’, কিন্তু আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি তাঁরা নিজেরা একটাও গাছ লাগায় না। আরে বাবা, অনেক তো জনগণকে জাগানো হল! আর তাঁদের জাগাবার দরকার নেই। তাঁরা জাগবার হলে অনেক আগেই জাগতো। ছাড়ুন ওসব তত্ত্বকথা। এবারে ইমপ্লিমেন্টেশন দরকার!” ... ...
প্রতি রোববারের রেডিও-বাণী-টাণী বাদ দিন। ও'সব যে আসলে মন কি বাত না গেঁটে বাত, সে আমিও জানি আপনিও জানেন। তার চেয়ে বরং --- পশ্চিমবঙ্গের 'গুরু'দের উদ্দেশ্যে বলা, অতিমারীর সময়ে আমরা অনেকেই মানসিক নানা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছি। অনেকে তার সঙ্গে সমঝোতা করতে পারছি নিজেরাই; কিন্তু অনেকে পেরে উঠছি না একা হাতে, মনে হচ্ছে একজন কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়াতেন, বা অন্ততপক্ষে আমাদের সমস্যার কথা যদি তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারতাম... 'দোসর'-এর প্রয়াস 'আলাপন' আপনার পাশে আছে। প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা আপনার জন্য উপস্থিত থাকছেন প্রতিদিন, বিকেল পাঁচটা থেকে আটটা খোলা থাকছে আলাপনের হেল্পলাইন। মনের যে কোনও দ্বিধা, আশঙ্কা, ভয় ও অসহায়তার কথা বলুন, সংশয় ... ...
"আপনি কেন হাসপাতালে গেলেন?" এই প্রশ্নটা আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন। উত্তরটা দেওয়ার আগে কয়েকটা জরুরী কথা বলে নেওয়া দরকার:১) যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে যাবেন। ২) মনে রাখবেন হাসপাতাল ছাড়া কোভিড-ইমার্জেন্সির ঠিকঠাক চিকিৎসা সম্ভব নয়। ৩) বেড না পেলে বন্ধুবান্ধবদের খুঁজতে দিন আর আপনি স্টপগ্যাপ হিসেবে প্রোনিং (উপুড় হয়ে শোয়া) করুন এবং দরকার হলে অক্সিজেন নিন। কিন্তু এদুটোর কোনোটাই স্থায়ী সমাধান নয়। হাসপাতালে বেড পাওয়া গেলেই সেখানে চলে যাওয়া দরকার। ৪) ঠিক সময়ে হাসপাতালে যাওয়াই হল বাঁচার একমাত্র উপায়।৫) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে অহেতুক আশঙ্কায় দেরী করে নিজের ক্ষতি করবেন না। আমার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছিল - ... ...
আদর্শ বাঙালির সিক্স প্যাক বা সেক্সী প্যাক কিছুই নেই। ভাতখেকো তাই ওপরে নিচের অংশটা সরু, পেটের দিকটা মোটা তাই আদুরে নাম পটলা। চায়ের দোকান থেকে খাবার টেবিলে ভীষন প্রতিবাদী তাই উপাধি পেয়েছি নকশালি। আরে একসময় দেখতেন না, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলেই আপনি হয়ে যেতেন মাওবাদী তেমনিই একটা ব্যাপার। তবে আমি নেতা মন্ত্রীদের বিরোধিতা তো দূরে থাক পাড়াতুতো রাজনৈতিক টিকটিকি গিরিগিটিদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলি নি কখনও। যত হম্বিতম্বি চেনাজানা মহলে আর কি। ... ...
[২০১৬ সালে, ভ্যালেন্টাইন'স ডে-র প্রাক্কালে লিখেছিলাম। এখন বেনামে এই লেখা ফেবুতে মাঝেমাঝে দেখা থাকবেন অনেকে; whatsapp এ ফরোয়ার্ডও করে থাকবেন। এই প্রমাণ রেখে গেলুম গুরুর কাছে, এর রচয়িতা আসলে শ্রীশুভংকরঘোরাচৌ (আসল)।] ১। অঙ্কের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় রাম আর শ্যামের মাধ্যমে। দুজনেই গোপালের চেয়েও বেশি সুবোধ বালক। রাম চারটে লজেন্স নিয়ে খই ভাজছিল, শ্যাম এসে আরও পাঁচটা লজেন্স দিল তাকে। সব মিলিয়ে কটা হল? ৯টা। বন্ধুপ্রীতি দেখে আমার চোখে জলও এসে গেল। অঙ্কও মিলল। ২। একটু বড় হলাম। রাম-শ্যামও। এখন তারা আর অতো সহজ সরল নয়। সামান্য বালখিল্য দুষ্টুমি এসে জুটেছে। মার্বেল চুরি করা, তিনের পাঁচ অংশ পরোটা খেয়ে বাকিটা ফেলে দেওয়া, মাটির ... ...
আমার এক বন্ধু রসিকতার রাংতায় মুড়ে বিষাদের কথা শোনাল সেদিন। ❝ভালো লাগছে না রে! কিচ্ছু ভালো লাগছে না।❞একটু খুঁচিয়ে দিলাম, ❝কীরকম?❞❝ছোটবেলায় খেলাধুলা শেষ করে সন্ধেবেলা ঘরে ফেরামাত্র মা যখন পড়তে বসিয়ে দিতেন তখন কিচ্ছু ভালো লাগত না। আজকাল অনেকটা এইরকমই...❞ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন ঢল নেমেছে সংক্রমণের, মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর তখন মনের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে এহেন অবসাদের সাথে তুলনা টেনেছিল সে। তুলনাটি সঙ্গত ছিল কিনা, সে নিয়ে তর্ক কালক্ষেপের নামান্তর। কারণ একই পরিস্থিতিতে অবসাদের রং-রূপ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান দপ্তরের হেলথ বুলেটিনে মানুষের বাঁচা-মরার হিসেব দেখতে দেখতে আমরা যে সবাই মাত্রা, রূপ ও আকার ভেদে ... ...
কবি ও চিন্তক শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণের এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেল। আর সব কিছুর মতোই, আমরা এই শূন্যতার সঙ্গেও অভ্যস্ত হয়ে যাব। কিন্তু ২১শে এপ্রিল ভাবার চেষ্টা করছিলাম, এই মানুষটি নিজের সঙ্গে বাঙালির আর কী কী নিয়ে গেলেন! সেই সূত্রে আমার একটি ছোট্ট লেখা প্রকাশিত হয়েছিল আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকের পাতায়। গুরুদের সঙ্গেও ভাগ করে নিলাম এখানে। মতামত পেলে ভালো লাগবে। ... ...
'জীবনপণ' সুপার স্পেশালিটি বেসরকারি হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট চেম্বারে মিটিং চলছে খুব গোপনে। সুপারের টেবিলের সামনে মোট তিনজন বসে। তিনজনেই সিনিয়র ডাক্তার। এই হাসপাতাল শুধু নয় তাঁরা প্রত্যেকেই শহরের আরো বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে যুক্ত। "আজকের ভর্তি নিয়ে টোটাল ক'টা পেশেন্ট ?" খুব চাপাস্বরে সুপার জিজ্ঞেস করলেন। "শুধু কি কভিড পেশেন্ট বলব ?" ডা: সুবীর সরকার বললেন। "তা নয়ত কি, অন্য পেশেন্ট নিয়ে কথা বলতে বসেছি ?" সুপারের গলায় ঈষৎ ঝাঁজ। "আজকের নিয়ে টোটাল ছত্রিশ।" "ফিফটি আপ কজন ? আর কদিনের পুরনো ?" "স্যার, প্রায় কুড়ি জন ফিফটি আপ। আঠাশ জন কো-মর্বিডিটি প্লাস। তারমধ্যে বাইশ জন পুরোনো। আইসিইউতে রয়েছে আঠেরো। তার মধ্যে চারজন বিলো ফর্টি।" "ওই বাইশ জনের মধ্যে ... ...
শুধু ভালবাসায় ভর করে হাঁটা যায় যোজনপথ আমাদের সমস্ত শিল্পপ্রকাশই কোনও না কোনওভাবে প্রেম-ভালবাসার কাঙালপনা, আকুতি, চাওয়া পাওয়া, হারানো এই সমস্তকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। ভালবাসা এই চতুর্বর্ণে বর্ণমালা শেষ হয়ে যায়। শুধু ভালবাসায় ভর করে হাঁটা যায় যোজনপথ। প্রতিটি নারী অথবা পুরুষ নিজের মতো করে এক চিরন্তন রাধিকা বা বনমালী। ভালবাসা ক্ষমাপ্রবণ করে তোলে, শান্ত করে অস্থিরতা। বেঁচে থাকা রমণীয় করে তোলে দু’দণ্ড। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু, মা-বাবা, স্বামী স্ত্রী, ভাই-বোন বা নামহীন অজস্র সম্পর্কের সুতোয় টান পড়ে কতবার। অথচ ‘ভালবাসি’ কথাটি সে ভাবে বলে ওঠা হয় না অনেকেরই। ভালবাসার কথা সেভাবে বলে ওঠা হয় না। বলে ওঠা হয় না ভালবাসি, সত্যিই ভালবাসি, ... ...
.