সাত পাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত বিকেলেই চিরশ্রীর লেকটাউনের ফ্ল্যাটে গেল তিতিররা। সাড়ে চারটে নাগাদ পৌঁছল। তিন তলায় থাকে চিরশ্রী। চিরশ্রী দরজা খুলে বলল, ' আয় আয় ... ইশশ্ সকালে এলে কত ভাল হত ... আসুন প্রেরকদা ...'দু কামরার ফ্ল্যাট। আসবাবপত্র বাড়তি কিছু নেই। যেটুকু দরকার সেটুকুই। ঘরদোর কিছুটা অগোছাল। ভিতরের ঘর থেকে নীল পাজামা আর সাদা ফুলশার্ট পরা বেশ লম্বা, ফর্সা একজন তিরিশ বত্রিশ বছরের যুবতী বেরিয়ে এল। প্রেরক আর তিতিরের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে অমায়িকভাবে হেসে বলল, ' নমস্কার... বসুন ... 'তিতিররা প্রতি নমস্কার করে কি বলবে ভেবে না পেয়ে একটা ছোট সোফায় ... ...
বেলা আড়াই থেকে তিনটে পর্যন্ত নিজের সিটে হেলান দিয়ে একটু ঘুমিয়ে নেন পি এন আর। মানে প্রিয়নাথ রায়। অন্তত দশটা অ্যাড এজেন্সিতে কাজ করা হয়ে গেছে প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর ধরে। বিজ্ঞাপনি দুনিয়ায় টেক্সট রাইটার হিসেবে তাকে কিম্বদন্তি বলা যায়। কি বাংলায়, কি ইংরেজিতে। বিরল প্রতিভার মানুষ। ষাট বছর বয়স হয়ে গেল। মোটেই গাম্ভারী কেতার মানুষ নন। হাউসের মেয়ের বয়সী মেয়েদের সঙ্গে অনর্গল নির্বাধ রসিকতা করেন। মেয়ে হোক, ছেলে হোক খোলা মনে পি এন আর -এর মাত্রাহীন রসিকতা উপভোগ করে। সকলেই জানে পি এন আর - এর সাদা মনে কাদা নেই। ... ...
পাঁচ ছবার রিং হবার পর চিরশ্রী ফোন তুলেই বলল, ' বল তিতির ... আমি তোকে আজকেই ফোন করতাম ... 'বোঝা গেল চিরশ্রী নাম্বারটা সেভ করে রেখেছে। ----- ' না সেদিন তেমন কথাবার্তা হল না তাই ভাবলাম ... ' তিতির ভাসিয়ে দিল। ----' ওঃ ... আর বলিসনা যা কেওসের মধ্যে পড়েছিলাম সেদিন .... ওই সিচুয়েশানে আর কথাবলার মুড থাকে ... তারপর বল কি করছিলি এখন ?'----- ' ভ্যারেন্ডা ভাজছিলাম .... হাঃ হাঃ হাঃ ... '----- ' হাঃ হাঃ হাঃ . আমিও তাই ... আর কি করার আছে? '------ ' চিরু তুই এখন থাকিস কোথায় ? '----- ' লেকটাউনে। একটা অ্যাপার্টমেন্টে। ... ...
বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। হাল্কা শীত মাখা নরম রোদে চোবানো বাতাস বইছে সকাল থেকে। হাওয়ায় কেমন যেন ছুটির মেজাজ। প্রেরকের আজ কিছুতেই অফিসে যেতে ইচ্ছে করছে না। তিতিরকে বলল, ‘চল কোথাও বেরিয়ে পড়ি ... কি সুন্দর ওয়েদার.... আজ আর অফিস যেতে ইচ্ছে করছে না ... ...
শুনেছি তোমরা নাকি কাঠকুটো জ্বালিয়ে বসে আছ উচ্ছ্বল আশানদীর পাড়ে। চাল ডাল জোগাড় করে এনেছ চড়ুইভাতিররান্না চড়াবে বলে। সবুজ কলাপাতায় ঢালা তোমাদের উষ্ণ খিচুড়ির মন মাতানো আবেশের আমন্ত্রণ হাতছানি দিচ্ছে ... ...
কোমরের কসি বেঁধে লুঙ্গি বা কাপড়ের, মালিকের আটচালায় বসে বারুদের মন্ডা বানায় কেনারাম, আরমান শেখ আর পাঁচ মাসের গর্ভ পেটে নিয়ে সাবিত্রী দাস। কারো দেড়শো, কারো দুশো টাকা রোজ। পেটের ক্ষিধের আগুন নেভাতে নিদেন নেয়াপাতি রুজি লাগে। মালিকও তাদের মতোই মাঠের ওপারের এলোমেলো কোনমতে খাড়িয়ে ... ...
( শেষ পর্ব )সেদিন দত্ত ভিলা থেকে ফেরবার রাস্তায় লেক থানায় এসে বাইক ভেড়াল কলতান। পার্থসারথিবাবু বললেন, ' আরে .... আসুন আসুন ... আমি আপনার কথাই ভাবছিলাম ...'----- ' আরে ... আর বলেন কেন, হ্যাপা কি কম ... যাক সেসব পরে হবে'খন ... এই মোবাইল দুটো রাখুন .... '----- ' কার মোবাইল এগুলো ? '----- ' সতীনাথ এবং তার ওয়াইফ প্রিয়দর্শিনীর মোবাইল এ দুটো। এগুলোর কল রেকর্ড চেক করতে হবে কোন সাইবার এক্সপার্ট দিয়ে। এদের দুজনের সুনীল ধাড়ার সঙ্গে কল রেকর্ড চাই ইন ডিটেল। ইটস ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট। '----- ' ওকে ওকে .... ... ...
ভোরের আলো পাপড়ি মেলে। কলতান উঠে পায়চারি করতে লাগল। কি মনোরম লাগছে চারপাশ। রাস্তার ধারে গাছগুলোর পাতার আড়ালে আড়ালে পাখিরা জেগে উঠে নানাবিধ জরুরী কথোপকথন শুরু করেছে নিজেদের মধ্যে। আর ঘন্টাখানেক পরে সুনীল ধাড়ার ডিউটি শেষ হবে। সে রাস্তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আনমনে কি সব ভেবে চলেছে। কলতান খানিকক্ষণ পায়চারি করে আবার সুনীলের পাশে এসে বসল। ----- ' আমি তা'লে এখন আসি সুনীল। রাতটা এখানে বেশ ভালই কাটল। তোমার সঙ্গে গল্প করতে করতে কেমন সুন্দর কেটে গেল সময়টা। মনে হয় শিগ্গীর আবার আমাদের মধ্যে অনেক গল্প হবে ...'সুনীল কি বুঝল কে জানে কষ্ট ... ...
সুনীল বলল, ' কি দেখছেন স্যার ? ' গলাটা যেন একটু কেঁপে গেল। ----- ' না কিছু না ... বোতামগুলো দেখছি ... বোতামের কালারগুলো খুব সুন্দর ... '----- ' এটা তো এখানকার এই ইউনিফর্মের সঙ্গেই আছে .... '----- ' সে যাই হোক .... এই রঙটা আমার খুব ভাল লাগে ... ', বলে, কলতান সুনীল ধাড়ার জামার বোতামগুলো আগ্রহভরে আঙুল বুলিয়ে দেখতে লাগল। সুনীল হাল্কা অস্বস্তি এবং বিস্ময়মাখা চোখে কলতানের দিকে তাকিয়ে রইল। ------ ' হ্যা.... ওই আর কি ... আর তো কিছু দেয় না ... মানে, শুধু এই ইউনিফর্মটাই ... ' ----- ' হ্যা, তাই তো .... এটা ... ...
পার্থসারথিবাবু কলতানকে ফরেনসিক রিপোর্টটা মেল করলেন। তাতে টেবল কভার এবং মেঝেতে পড়া মাংসের ঝোলের দাগের সময়কালও জানা গেল। সেটা সতীনাথের বলা সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে। সতীনাথ বলেছিল যে, বেলা তিনটের সময় তারা লাঞ্চ করেছিল। রিপোর্টেও ঝোলের দাগের টাইম আছে ----- সেদিন বেলা তিনটের কাছাকাছি। রাত এগারোটার সময় কলতানের বাইক এসে দাঁড়াল নিউ হরাইজনের সামনে। সুনীল ধাড়ার আজ নাইট ডিউটি আছে। কিয়স্কের ভিতর আর একজন বসে আছে। এর কি নাম কে জানে। #দত্ত_জুয়েলার্স_১২পার্থসারথিবাবু কলতানকে ফরেনসিক রিপোর্টটা মেল করলেন। তাতে টেবল কভার এবং মেঝেতে পড়া মাংসের ঝোলের দাগের সময়কালও জানা গেল ... ...