বেলা প্রায় সাড়ে দশটা। সাগর আর মিনতিদেবী একটা রিক্শা থেকে নামল বত্রিশ এ গ্রে স্ট্রিটের সামনে। মিনতিদেবী বললেন, ' এই যে এখানে ... 'সাগর বলল, ' হ্যাঁ ... চলুন ভেতরে যাই ... ' কি জানি কি কারণে সদর দরজা খোলাই ছিল। দুজনে ভিতরে ঢুকল। বাঁদিকে পরপর তিনটে ঘর। তিনটে ঘরেই তালা মারা। মিনতি ... ...
রাত প্রায় নটার সময় কালীকিঙ্করবাবু বললেন,' শঙ্করী ... এনার ঘরটা একটু দেখিয়ে দাও তো ... একটু পরিষ্কার করিয়ে দিও ... 'তারপর মিনতিদেবীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ' যান মা, ওর সঙ্গে যান। কোন অসুবিধে হবে না ... তারপর কাল সকালে যা হবার হবে ... 'মিনতিদেবীর হাতে আর কোন উপায় ছিল না। এই রাত কাটানোর ব্যবস্থাটাই তার কাছে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা বলে মনে ... ...
সাগর মন্ডল নানা জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে সন্ধে সাতটা নাগাদ বটতলায় থানায় এসে পৌঁছল। কালীকিঙ্করবাবু তখন এক ঠোঙা ঝালমুড়ি হাতে ঢেলে ঢেলে খাচ্ছিলেন। টেবিলে এক গ্লাস গরম চা রয়েছে। ঝালমুড়িটা শেষ করে চা খাবেন। ----- ' আরে আসেন ... ঝালমুড়ি খাবেন নাকি ? '----- ' নাঃ ... মুড নেই। চা খেতে পারি ... '----- ' শঙ্করি ... একটা চা দেখ তো ... তা মুড নাই কেন ? '----- ' আরে ... ... ...
মাণিকলাল ঘুম থেকে ওঠেন সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ। তিনি ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বসার ঘরের মধ্যে দিয়ে সৌদামিনীর ঘরের দিকে যান মা ঠিকঠাক আছেন কিনা দেখে নেবার জন্য। বহু বছর ধরে এই নির্ঘন্ট বজায় আছে। আজও তিনি নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে ঢুকলেন এবং কাঁচের আলমারির সামনে চোখ পড়তে চমকে উঠলেন। তার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। মাণিকলালবাবু দেখলেন ... ...
প্রাচীন দেয়াল ঘড়ির মৃতদেহ সযত্নে রাখা হয়েছে একটা কাঁচের আলমারির মধ্যে। শুইয়ে নয়, দাঁড় করিয়ে। সে এক প্রাজ্ঞ অভিভাবকের মতো তাকিয়ে আছে সৌদামিনীর সংসারের দিকে। মাণিকলালবাবু মাঝে মাঝে আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ভাবেন, মৃতদেহে যদি আবার বিচিত্র কোন উপায়ে প্রাণ ফিরে আসে, নিশ্চল কাঁটা দুটোয় আবার স্পন্দন ... ...
সুরেশ্বর মল্লিকের দিন একেবারে বিরস কাটছে। জীবনটা যেন পানসা হয়ে গেছে। সাগরের দাবড়ানিতে মল্লিকবাবুর বিশাখাদের পাড়ায় যাওয়া বন্ধ হয়ে আছে প্রায় মাস চার পাঁচ। মনটা হু হু করে বিশাখাদের কথা ভাবলে। মনে শান্তি নেই মোটে। বিকেলবেলা হলে মল্লিকবাবুর রোজই মনে হয় আগের মতো ... ...
বিমলবাবু বাড়ির বাইরে এসে উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে এদিকে ওদিকে তাকাতে লাগলেন। সমস্ত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে তিনি এবং এর পরবর্তী পরিণতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে ভেবে তার হাত পা ছেড়ে যেতে লাগল। সাগর আর কানু তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ----- ' দাদা চিন্তায় পড়ে গেছেন মনে হচ্ছে ... অত কি ভাবছেন ... ...
পান্নালাল নানা অনৈতিক কর্মের বৃত্তে ঘোরাফেরা করা লোক, সে সাগরের নাম শুনেছে কিন্তু চোখে দেখেনি কখনও। এই এলাকায় তাকে হাত নেড়ে কোন নির্দেশ দেবার ক্ষমতা যে কারো থাকতে পারে সেটা তার জানা ছিল না। তার এবং তার জ্যাঠতুতো ভাইয়ের বদ্ধমূল ধারণা পৃথিবীতে একটা জিনিসই শেষ কথা বলে, তা হল ---- টাকা। সে তাই একটা বিড়ি খাওয়া লোক তাকে ... ...
ইউনিফর্ম পরা সেন্ট মার্গারেটের মেয়েরা ঢুকছে স্কুলের ভিতরে। বাইরে কিছু ছাত্রীর মায়েরা তাদের মেয়েদের লেখাপড়া সংক্রান্ত ব্যাপারে গুরুগম্ভীর আলোচনা করছে। দুটো রিক্শাওয়ালা রিক্শা নিয়ে বসে আছে। আইসক্রিম, কামরাঙা,আমড়া, হজমিগুলি এবং ঝালমুড়িওয়ালাদের এখনও বসার সময় হয়নি। দুপুর একটার আগে ওদের দেখা ... ...
বিভূতিবাবু কিন্তু শ্যামবাজারের মেসে দীনবন্ধুর জায়গা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। ওখানে তার যাতায়াত অনেকদিনের। ধীরেন চন্দ্র নামে তার এক পুরনো বন্ধু এখানে থাকত স্বাধীনতার বছর চারেক আগে থেকে। সেই ডিসেম্বর মাসে যখন জাপানীরা বোমা ফেলল কলকাতায় ধীরেন তখন প্রাণের ভয়ে তার গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে গেল। সারা পৃথিবী তখন যুদ্ধে ভেসে যাচ্ছে। ফিরে এসেছিল সাত আট ... ...