বিভূতিবাবু খবরটা পেলেন সকাল দশটা নাগাদ। তিনি শশধরবাবুর বাড়ির দিকেই যাচ্ছিলেন। পঞ্চমীর মা হন্তদন্ত হয়ে এদিকে আসছিল। বোধহয় গজেন বোসের বাড়ি কাজে যাচ্ছে। বেশ খানিকটা দেরি হয়ে গেছে। পা চালিয়ে আসছিল কি চিন্তা করতে করতে। রাস্তায় বিভূতিবাবুর মুখোমুখি হয়ে গেল। বলল, ' খবর শুনেছেন তো দাদাবাবু ? '---- ' কি ? '---- ' আওনবাড়িতে ওই বুড়ো মানুষটা মারা গেছে আজ ভোরবেলায় ... এখনও নিয়ে যায়নি ... অনেক লোকজন ওখানে ... 'কথাটা ভিতরে ঢুকতে সময় লাগল বিভূতিবাবুর। তিনি হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন পদ্মার মুখের দিকে। প্রায় পঞ্চাশ বছরের নানা স্মৃতি আচমকা তালগোল ... ...
শশধরবাবু বললেন, ' তা তোমার পরিবার ভাল আছে তো ? 'বিভূতিবাবু বললেন, ' আপনাদের আশীর্বাদে টেনে নিয়ে যাচ্ছি আর কি জ্যাঠামশাই... '----- ' আর কি ... টেনে নিয়ে যেতে পারলেই হল ... দেশের অবস্থা কিরকম বুঝছ ? চালাতে পারছে এরা ? '------ ' কি আর বলব জ্যাঠামশাই ... আমরা তখনও ভাল ছিলাম না, আপনারা তো কত ফাইট করেছেন, অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, আর এখনও ভাল নেই ... এখন আর কার সঙ্গে আমরা ফাইট করব বলুন ... এখন নিজেরাই নিজেদের মারছি ...'----- ' তাই তো ... এখন তো আর ব্রিটিশরা নেই... কমিউনাল রায়টও নেই, ... ...
বেশ কিছুদিন পর কাবেরী কফি হাউসে পা রেখেছে। ওরা ভীষণ ব্যস্ত এখন নৈঋত-এর পরের সংখ্যা নিয়ে।অমিতাভ বলল, ' কি রে ... একেবারে বেপাত্তা হয়ে গেলি যে ... কোন কান্ডজ্ঞান নেই ... কত কাজ এদিকে ... 'শুনে কাবেরীর মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। ভাবল, ' সে যেন ঠেকা নিয়ে বসে আছে। আর কোন কথা নেই ... শুধু এই ম্যাগাজিন নিয়ে পড়ে আছে ... কি যে এদের ভবিষ্যত কে জানে ... এখানে না এলেই ভাল হত ... 'মুখে অবশ্য সমঝোতার সুরে বলল, ' বিশ্বাস কর ... পড়ার ভীষণ চাপ ... একটা কোচিং ক্লাসে ভর্তি হয়েছি। একদম সময় পাচ্ছি না ... '----- ' আচ্ছা, ... ...
সুমনা আর কাবেরী দুজনে একসঙ্গে হেদুয়ায় ঢুকল দুপুর আড়াইটের সময়। প্রতিবিম্ব একটা খাতা খুলে খুব মন দিয়ে একটা নোট পড়ছে। সুমনা দূর থেকে বলল, ' ওই দেখ ... জ্যোতিষী ঠাকুর শাস্ত্র পাঠ করছে ... '------ ' ওঃ, তোরা দুটো আছিস ভাল ... কি এক খেলা শুরু করেছিস ... মাসীমাকে ভালমানুষ পেয়ে ... ' কাবেরী বলল। ----- ' আরে ... এটা কি আমরা করেছি নাকি ? স্ক্রিপ্টটা হল বাপির ব্রেনচাইল্ড এবং তিনিই ডিরেক্টর ... '------ ' ওঃ ... স্যার পারেনও বটে ... এত ব্যস্ততার মধ্যেও ... ভাগ্য করে বাবা পেয়েছিস কিন্তু ... '----- ' হ্যাঁ সেটা ... ...
রাত্রি হেসে বলল, ' তা..ই ! বুঝতেই পারছেন না ? তা'লে তো আর চিন্তা নেই ... ব্যথা থাকলে নিশ্চয়ই বোঝা যেত ... তাই না ? ' এখানে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল। অশিক্ষিত, অপরিশীলিত 'অ্যান্টিসোশ্যাল' সাগর ... ...
মাণিকলালবাবুর বাড়ির দেওয়াল ঘড়িটা ঠিক ঠিক চলছে, কিন্তু ওদের চিন্তা যায়নি এখনও। সৌদামিনীদেবী মাঝে মাঝে হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন বুড়ো ঘড়িটার দিকে। অবাক হয়ে ভাবেন ঘড়িটা মরে গিয়ে বেঁচে উঠল কি করে। বেঁচে থাকবে তো ? ঘড়িবাবু নরেন পাল এর মধ্যে দুদিন ঘুরে গেছেন। তিনি বললেন, ' এখনও পনেরদিন চাবি দেবার দরকার নেই। তারপর দেখা যাবে। মনে হচ্ছে ঘড়িটা ... ...
বিভূতিবাবু বললেন, ' তাহলে তো ভালই হয়। আমিও নয় সকালের দিকে একবার করে ... ' পদ্মা বলল, ' দুপুরবেলায় আমারও একটু সময় হতে পারে বাবু ... ' কানু বলল, ' ঠিক আছে ... দাঁড়ান দাঁড়ান, আগে দাদাকে জিজ্ঞেস করি ... তারপর দেখা যাবে ... এখনই এত হড়বড় করবেন না ... ' কানুরা যে ধরণের কর্মকান্ড এবং সর্পিল জীবনধারার ... ...
রাত্রি আর জি কর হাসপাতালে ঢুকে ইমার্জেন্সিতে খোঁজখবর করে সাগর যেখানে ভর্তি আছে, মানে সেই সার্জিকাল ওয়ার্ডের বিল্ডিং - এর সামনে এসে পড়ল। এখন তিনটে বাজে। ভিতরে ঢুকতে গেলে এখনও একঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। দু চারজন এদিকে ওদিকে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কি সব আলোচনা করছে। হয়ত আরও ... ...
গণেশ পাত্র বিড়ি বাঁধা বন্ধ করে দোকানে ঝাঁপ ফেলার তোড়জোড় করছিল। সাগর কোনরকমে নিজেকে এনে ফেলল সেখানে। গণেশ চমকে উঠলেও অভ্যস্ত চোখে নিমেষে বুঝে ফেলল সবকিছু। কোন সময় নষ্ট করল না। ডাকাডাকি করে পনেরটা ছেলে জড়ো করে ফেলল তিন মিনিটের মধ্যে। কানু, মাণিক আর শম্ভু যখন খবর পেল সাগর ততক্ষণে অপারেশন টেবিলে। চল্লিশটা ছেলে ... ...
আজ রবিবার। দীনবন্ধু এ সপ্তাহে বাড়ি যায়নি। অঞ্জলি পিসীর বাড়িতে এসেছে। খাসির মাংস রান্না হচ্ছে। জিভে জল আনা গন্ধ ম ম করছে।অঞ্জলি দীনবন্ধুকে বলল, ' কিছু ঠিক করলি ... ওই যেটা বলেছিলাম ... তোর মার সঙ্গে কথা বলব ? '------ ' কি ব্যাপারে বল তো ? '----- ' কি ব্যাপারে আবার ... ওই সেদিন বললাম না ...----- ' কি ? '----- ' আরে হাঁদা ... তোর বিয়ের কথা রে ... '----- ' ও আচ্ছা ... তাই বল ... সে তো বললাম তোমাদের যদি শান্তি হয় দেখ না ... দেখ ... কে বারণ করছে ? 'নিতাইবাবু লুঙ্গি পরে আনন্দবাজার পড়ছিলেন চোখে ... ...