মোহিনীবাবুর চুরাশি বছর বয়স হল। তার স্ত্রীর বয়স উনআশি।দুজনেরই শরীর বাতে পঙ্গু। তাছাড়া বয়সজনিত হাজারো আদিব্যধি শরীর জুড়ে বসে আছে। তাদের একটা ছেলে, একটা মেয়ে ছিল। দুজনই আর নেই। একজন ক্যানসারে গেছে, একজন পথ দুর্ঘটনায় নীলরতন সরকার হসপিটালে। সন্তানশোকের ছুঁচ এখন আর অহোরাত্র ফোটে না। তবে প্রায়শই নীরব দুপুরে বা গহন রাত্রে উথলে ওঠে দু:খসাগর। আছড়ে পড়ে বুকের তটে। বুড়োবুড়ির এ সংসারে বোধহয় আর কেউ নেই। থাকলেও তারা সম্পর্ক এড়িয়েই চলে। তারা বুদ্ধিমান লোক। কে নেবে এসব দ মেরে যাওয়া জবুথবু বুড়োবুড়ির ঝক্কি। যাতায়াত করলেই তো ঘাড়ে এসে পড়বে এসব উটকো হ্যাপা। অনাদৃত অবহেলিত থাকতে থাকতে মোহিনীমোহনবাবু এবং তার ... ...
সানি ডিসুজা অফিসিয়াল প্রোটোকল মেনে তাৎক্ষণিক কোন সিদ্ধান্ত দিলেন না। দিল্লীতে ফিরে কমিটিতে আলোচনার পর নির্বাচনের ব্যাপারে নিয়মমাফিক সিদ্ধান্ত জানাবেন। সাধারণ বুদ্ধি বলে, প্রাথমিক স্কোয়াডে শুভর নির্বাচনে কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়। তারপর সামনের অলিম্পিকের জন্য তাদের ক্যাম্পিং এবং ট্রেনিং সেশান চলবে। ডিসুজা এবং সুরিন্দর পরের দিন সকালের ফ্লাইটে ফিরে গেল। ... ...
শুভর জীবন কিন্তু শুভ এবং মঙ্গলময় রাস্তায় হাঁটেনি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে সে তার মাকে দেখেনি। রাজমিস্ত্রির যোগাড়ের কাজ করতে গিয়ে মারা গেছে একটা নির্মিয়মান বাড়ির তিনতলা থেকে পড়ে গিয়ে। শুভর তখন দু বছর বয়স। তখন মাকে খুঁজত। তারপর ধীরে ধীরে মায়ের মুখ আবছা হতে হতে মিলিয়ে গেল কোথায়। বাবা দেবেশ নস্কর পেশায় ভ্যানচালক। মধ্যমগ্রামের অনেক ভিতরে ধানখেতের ধারে শুভদের গ্রাম। ... ...
হোটেল সুখসাগর। বেলা এগারোটা বাজে। ডাইনিং হলে এক কাপ কফি নিয়ে বসে আছে স্পন্দন। জলন্ধরে এসেছে ন্যাশানাল অ্যাথলেটিক মিটে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে। স্পন্দন রায় একজন প্রাক্তন চারশো এবং আটশো মিটার স্প্রিন্টার। জাতীয় স্তরের অ্যাথলিট নি:সন্দেহে। ... ...
( তৃতীয় ও শেষ পর্ব ) আমহার্স্ট স্ট্রীট চোরবাগান লেনে সন্ধে নেমে এসেছে। প্রাচীন বাড়ির দোতলার পাথুরে বারান্দার পাথুরে কার্নিশ। বারান্দার সামনেই একটা সপ্তপর্ণী গাছ। অন্ধকারে একা একা দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো পড়েছে গাছের পাতায়।আমহার্স্ট স্ট্রীটে গাড়ির জ্যাম লেগে গেল হঠাৎ। সম্বুদ্ধ সিংহরায় দোতলার ঘরে বসে জানলা দিয়ে রাস্তার জ্যামের দিকে তাকিয়ে ছিলেন আনমনা হয়ে। তার মনে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে উঠছে উড়ন্ত শ্বেত বলাকার মতো বাতাসে ভেসে আসা এক পেসার। বলটা অফস্টাম্পের একফুট বাইরে থেকে হাওয়ায় ডানদিকে বাঁক খেয়ে ... ...
শাম্ব পাল আর সেন্টু সেন-কে দিয়ে বোলিং ওপেন করাল প্রত্যয়। বোর্ডে অল্প রান। মৈনাক উইকেট নেওয়া বোলার হলেও ওকে প্রথমে আনল না প্রত্যয় কারন শাম্ব আর সেন্টু একদম জায়গায় বল রাখে। মারার জায়গা দেয় না ব্যাটসম্যানকে। তাছাড়া বল একটু পুরনো হলে হয়ত মৈনাক রিভার্স সুয়িং পেতে পারে এই হিসেবও হয়ত মাথায় ছিল।দীপশিখাকে কিন্তু প্রত্যয়ের এই সিদ্ধান্তে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। সে বাঁশের একটা খুঁটি ধরে একটা পা আড়আড়ি করে দাঁড়িয়ে রইল। ... ...
অশোকতরু মুখোপাধ্যায় হুইলচেয়ারে ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তার ছায়াসঙ্গী হল বিনোদ। বিনোদবিহারি জাতে বিহারি। সে-ই অশোকতরুবাবুর অন্ধের যষ্ঠি। রান্নাবান্না, বাজারহাট থেকে শুরু করে অশোকতরুবাবুর যাবতীয় পরিচর্যা সবই করে সে। কাজের একজন মাসি আছে অবশ্য। বাসন মাজা, ঘর মোছা, জামাকাপড় কাচার জন্য।অশোকতরুবাবু রুরকি আই আই টি -র অধ্যাপক ছিলেন মেটালার্জি বিভাগে। ষাট বছরে রিটায়ারমেন্ট। তার পরে বছর তিনেক এক্সটেনশান। কিন্তু স্বাভাবিক মেয়াদই তিনি শেষ করতে পারেননি। ... ...
#বিচকে_২ পরদিন সকালে বাজারে বেছে বেছে চারাপোনা গামলায় তুলছিলেন তপনজ্যোতি দত্ত। একশো ষাট টাকা কেজি। এর কম দামে খাওয়ার যোগ্য মাছ বাজারে পাওয়া গেল না। বাড়িতে তিনটে লোক। তপন-কনিকা দম্পতি ছাড়া তপনবাবুর এক ভাগ্নে তাদের সঙ্গেই থাকে। হাসনাবাদের ওদিকে বাড়ি। কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ইংরীজিতে অনার্স পড়ে। মামার খুব ভক্ত এবং মামীর খুব প্রিয়পাত্র। কনিকার মতে ‘খুব করিতকর্মা ছেলে। মামার মতো লগবগে নয়।’ ... ...
ছেলেটা কালোকোলো বেঁটেখাটো। ওর বয়সের অন্য ছেলেদের তুলনায় মাথায় বেশ নীচু। ওর মা সন্ধ্যার মতে ছেলে বারো বছরে পড়েছে। লোকজন বলে, বড় হলে মারাদোনার হাইটেরই হবে। তার বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। সে যাই হোক, রায় পাড়ার মাঠের চারিধারে দাঁড়িয়ে যারা ম্যাচটা দেখছিল তারা ওর ড্রিবলিং দেখে থ হয়ে গেল। তপন দত্তের ষাট বছর বয়েস হল। সারা জীবন মাঠে ময়দানে ঘুরে ঘুরে জীবন কাটল বা বলা যায় হেলায় নষ্ট হল। ... ...
(পঞ্চম ও শেষ পর্ব) দিন তো আর বসে থাকে না। মানুষের জীবনের ঘটনাগুলো চাকায় বেঁধে সে অবিরাম গড়িয়ে চলে। কৌশিক দত্ত আর মনোময় মৈত্র একদিন দুপুরবেলার দিকে শংকরকে আই এফ এ অফিসে নিয়ে গিয়ে সইসাবুদ করিয়ে আনল।নিয়মকানুন না মেনে উপায় নেই। মেঘলা দিন, বাদুলে হাওয়া বইছে থেকে থেকে। সারা ময়দান জুড়ে পড়েছে মেঘের ছায়া। ধর্মতলা আর ময়দানের আশেপাশে এলেই নানা সুরভিত স্মৃতির হাওয়ায় দোল খায় শংকরের মন। ... ...