নাটকের রিহার্সালের দৌলতে বিভূতিবাবুর মন বেশ ফুরফুরে আছে। যদিও তিনি নাটকে কোন চরিত্রে নেই, তার উৎসাহ এবং উদ্যমের শেষ নেই। যেদিন রিহার্সাল থাকে তার মনে হয় উৎসবের দিন। অসিতের ক্যাপ্টেন্সিতে মহড়া ভালই এগোচ্ছে। ছোকরার এলেম আছে বলতে হবে। জিনিসটা দাঁড়িয়ে যাবে মনে হয়। অভিনেতারা সবাই একনিষ্ঠ হয়ে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে। একটু বয়স্ক অনেকের অভিনয় দেখে মনে হচ্ছে জীবনের অনেকটা বেলা ... ...
বিভূতিবাবুর ঘরে জোরদার রিহার্সাল শুরু হয়ে গেল। দুটো নারী চরিত্র আছে বটে। তবে তাদের মুখে ডায়লগ রাখা হল না। সেটা স্টেজ রিহার্সালের সময় পাড়ার মধ্যে থেকেই দুজনকে ঠিক করে নিতে হবে। অসিতই সকলের প্রচ্ছন্ন অনুমোদনে এ নাটকের পরিচালক হয়ে গেল। যতই ছোটখাট ব্যাপার হোক একজন পরিচালক তো চাই। অসিত অবশ্য একটা ফিমেল রোলে, সংলাপহীন ... ...
প্রতিবিম্বর মামা পরমানন্দ বোস বললেন, ' একটু কথা বলতাম ওনার সঙ্গে ... একটা সমস্যা ছিল ... উনি কি আছেন ? ' সুমনা পলকে নিজের মধ্যে ফিরে এল। লজ্জিত স্বরে বলল, ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... আসুন আসুন .... কিছু মনে করবেন না মেসোমশাই ... ' সুমনাকে অনুসরণ করে প্রতিবিম্ব আর তার মামা দোতলায় ... ...
মক্কেল বিদায় হবার পর বিনোদবিহারি বিভূতিবাবুর দিকে ঘুরে বসলেন। ----- ' তারপর ... বলুন বিভূদ্দা। নতুন কি সিনেমা দেখলেন ? '----- ' আরে ... আর বোল না ... সেই এনার্জি আর নেই। তবে আগ্রহটা আছে ... বুঝলে ... এই তো রাধা থেকে ঢুলি দেখে এলাম। আর কোন কাজকম্ম তো নেই ... বেকার মানুষ... তাই এই ... ...
প্রতিবিম্ব রাজবল্লভ পাড়ার কাছে বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরীর মেম্বার হয়েছে মাস ছয়েক হল। ওদিকে তেমন ভাল লাইব্রেরী নেই। লাইব্রেরীটা তাকে চিনিয়েছে অবশ্য সুশোভন, নলিন সরকার স্ট্রীটে যার বাড়িতে মাঝে মাঝে গ্রামাফোনে নতুন গান শুনতে যায় প্রতিবিম্ব। লাইব্রেরী রুমের বাইরে একটা বিরাট টেবিল। টেবিল ঘিরে অনেক চেয়ার পাতা। সেখানে বসে অনেক লোক টেবিলে কনুই রেখে পাতা ভাগাভাগি করে মন দিয়ে খবরের কাগজ পড়ে যতক্ষণ না রাত ... ...
বাসন্তীদেবী খানিকক্ষণ গুম হয়ে বসে রইলেন। তারপর দৃঢ়স্বরে তার রায় ঘোষণা করলেন ---- ' অসম্ভব ... কক্ষনো না .... এ আমি কখনও হতে দেব না ... কানাই, ওদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করার দরকার নেই ... '----- ' আচ্ছা ঠিক আছে মেজদি .... কিন্তু আমারটা ... মানে ... ' ----- ' ও ... ঠিক আছে। তোমার দক্ষিণা নিয়ে চিন্তা কোর না ... ওটা আমি মিটিয়ে দেব'খন ... 'কানাই লাজুক মুখে চুপ ... ...
বিয়ের ঘটক কানাই সিকদার ক'দিন পরে এসে হাজির দুপুর বারোটা নাগাদ। বাড়িতে কাজের লোক জগন্নাথ ছাড়া বাসন্তীদেবী এখন একা। বেশ গরম পড়েছে আজ। মাথার ওপর বড় বড় তিন পাখনার ডি সি ফ্যান ঘুরছে গিটগিট করে। কানাই রুমাল বার করে মুখের, গলার ঘাম মুছতে লাগল। বাসন্তীদেবী এসে ঘরে ... ...
সকাল ছটা বাজল। একতলার তিনদিকে বারান্দা। আর একদিকে দেয়াল। মাঝখানে ছোট্ট শান বাঁধানো উঠোন। তোলা উনুনে কয়লার আঁচ ধরিয়ে উঠোনের মাঝখানে বসিয়ে দিয়েছে অঞ্জলি। গলগল করে ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে ওপর দিকে। রোজই যায়। মিনিট দশেকের জন্য চোখ জ্বালা জ্বালা করলেও কিছু করার নেই। সব বাড়িতেই চুলোয় আঁচ ধরানো হয়েছে। উনুন ধোঁয়া উগরে দিচ্ছে গলগল করে। সবাই এতে ... ...
পাড়ার মধ্যে শুধু দুটো বাড়িতে টেলিফোন আছে। এক মানিকলাল চ্যাটার্জি, যার বাড়িতে ঘড়িবাবু নরেন পাল ঘড়িতে দম লাগাতে আসে। আর দুই নম্বর হল পরিমল শীল। বউবাজারের শীলদের জ্ঞাতি। বেশিদিন না, চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর আগেও বাইজি নাচত ওদের বউবাজারের বাড়িতে। তেমন জরুরী প্রয়োজন পড়লে ওদেরই শরণাপন্ন হতে হয় পাড়ার লোকের। পাড়ার অনেক লোকের কিছু জরুরী ট্রাঙ্ককলও ... ...
বিভূতিবাবু অনিমেষদের তিনজনকে নিয়ে ট্যাক্সি করে বাড়ি ফিরলেন। সংসারনাথবাবুর বাতের ব্যথা ইদানীং খুব বেড়েছে। লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। তিনি রোজ সন্ধেবেলায় হেদুয়ায় গিয়ে টুকটুক করে একটু হাঁটাহাঁটি করেন। ডাক্তার বলেছে একেবারে বসে গেলে শরীরও বসে যাবে। বিকেলের দিকে একটু হাঁটবেন। নকুড়ের দোকানের সামনে বিভূতিবাবুদের সঙ্গে দেখা হয়ে ... ...