অঞ্জলির এক মামাতো ভাইয়ের ছেলে কাটোয়া থেকে এসেছে। কলকাতায় কোন সরকারি অফিসে নাকি চাকরির ইন্টারভিউ পেয়েছে। আজ রাতটা এখানে থাকবে। কাল ডালহৌসিতে ইন্টারভিউ দিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। অঞ্জলি বলল, ' দীনু কেন রে .... কালই যাবি কেন ? দু চারদিন থাক ... হাতিবাগানে সিনেমা, থিয়েটার ... ...
গোবিন্দর দোকান থেকে চাল নেওয়া হয়ে গেলে সাগর বিডন রো-এর মুখ পর্যন্ত পদ্মাকে পৌঁছে দিল।------ ' এবার যেতে পারবে তো ? '------ ' হ্যাঁ বাবা .... কি আর বলব ... বড় কষ্টে থাকি ... '------ ' ঠিক আছে ... আমি আবার খোঁজ নেব'খন ... ওই লাল বাড়িটার পাশের বাড়িটা তো ? ঠিক আছে .... 'বিভূতিবাবু ওদের অনুসরণ করে পিছন পিছন আসছিলেন। এবার পঞ্চমীর মা-র পাশে এসে দাঁড়ালেন। তার মনে হল তারও বোধহয় কিছু কর্ত্তব্য আছে, যা হয়ত পাড়ার পুরণো বাসিন্দা হিসেবে আগেই করা উচিত ছিল। এখন বলিষ্ঠ একজনকে হাতের কাছে পেয়ে তিনি তার বার্তাটা তার কাছে পৌঁছে দিতে চাইলেন, যেটা ... ...
পঞ্চমীর মা-র মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেল। তা একষট্টি বাষট্টি বছর হবে। তার স্বামী ভূপেন দাস রান্নাঘর এবং শৌচাগার সমেত একটা ঘর করে রেখে গিয়েছিল বেথুন কলেজের পিছন দিকটায়। করে গিয়েছিল তাই রক্ষা। নইলে তো পঞ্চমীর মা-র, মানে পদ্মার কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকত না। ভূপেন মারা গেছে ভারত স্বাধীন হবার আগে, মোটামুটি বিশ বছর আগে। কপাল যাকে মারে তাকে কি সব দিক দিয়ে ... ...
কাবেরী পাড়াতুতো বন্ধু অনামিকার সঙ্গে ধর্মতলা স্ট্রীটে কমলালয় স্টোর্সে গেছে সোয়েটার কেনার জন্য। অনামিকা একটা কার্ডিগান এবং আরও কিছু কিনবে। অনেক দেখাদেখির পর দুই বন্ধুর কোন কিছুই পছন্দ হল না। কাবেরী বলল, ' দূর ... এসব ডিজাইন তো হাতিবাগানেই পাওয়া যায় ... ' অনামিকা বলল, ' চল বরং নিউ মার্কেটে যাই ... ...
সুমনার মনটা ভাল নেই। মুখেও তার একটা ছায়া পড়েছে। সে আগে থেকেই শিরিষ গাছের নীচে এসে বসে আছে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই প্রতিবিম্ব হন্তদন্ত হয়ে এসে হাজির হল। -----' সরি ম্যাডাম... দেরি হয়ে গেল ... ল্যাব ছিল...'----- ' হমম্ ... '------ ' মুখটা কেমন মেঘলা মনে হচ্ছে ... ...
বিবেকানন্দ রোড পেরিয়ে ব্রাহ্মসমাজের বাড়ি। ভিতরের হলে বিশ্বজাগরণ মঞ্চ বলে একটা প্রগতিশীল অরাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে আজ। অপরেশ তাকে সকালবেলায় বাজারে বলল, ' আমাদের সমিতির একটা অনুষ্ঠান আছে আজকে ব্রাহ্ম সমাজে, পাঁচটার সময় ... আসুন না ... ভাল লাগবে ... ' অপরেশ বিভূতিবাবুর চেয়ে অনেক ... ...
পাড়ায় বাড়িতে বাড়িতে কাশ্মীরি শালওয়ালারা ঢুঁ মারছে। ওদের কাছে সোয়েটারও আছে। মোটামুটি সস্তা। এই বছর দুই হল কাশ্মীরিদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। নিতাইবাবু গতবছর একটা লেডিজ শাল কিনেছিলেন অঞ্জলির জন্য। শালটা গায়ে দিয়ে আয়নার সামনে ... ...
উত্তুরে হাওয়া দিচ্ছে থেকে থেকে। আর ক'দিন পরে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়বে বোঝা যাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাটবল বেরিয়ে পড়েছে। পার্কগুলোয় গা ঘেঁসাঘেঁসি করে ক্রিকেটের পিচ পড়েছে। ইডেন গার্ডেনে দলীপ ট্রফির ম্যাচ চলছে মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের। বিজয় মঞ্জরেকার কাল সেঞ্চুরি করেছে। আজ পঙ্কজ রায় পাল্টা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেভেন্টি থ্রি নট আউট। অনিমেষরা তিন বন্ধু পরটা, আলু চচ্চড়ি ... ...
পার্থপ্রতিমের চোখ শান্ত। গলার আওয়াজে একটা বিদ্রোহী অনুরণন আছে, যেটা কাবেরীর মনকে নাড়া দিল। সে বোধহয় এরকম একজনের দেখাই চাইছিল। কাবেরী অবশ্য এটাও ভাবল, কথা শুনে কি আর সব বোঝা যায়। অনেক ধান্দাবাজ লোকই কথায় ওস্তাদ। মিশলে দেখা যাবে সবটাই ফাঁপা।কাবেরী ভাবল, যাক ওসব অদরকারি চিন্তা করে লাভ নেই। আপাতত এদের খপ্পর থেকে ছাড়া পেলে বাঁচে।অমিতাভ বলল, ' এবারে ব্যাপারটা একটু টাফ হবে ... ...
সুমনা প্রতিবিম্বর কাছে পৌঁছতে সে বেসুরো গলায় গেয়ে উঠল, ' বসে আছি পথ চেয়ে ... ফাগুনের গান গেয়ে ... যত ভাবি ভুলে যাব .... 'সুমনা ভ্রু কপালে তুলে চোখ বড় বড় করে বলল,' ও বাবা ... হঠাৎ এত ভাব জেগে উঠল মনে, ভর দুপুরবেলায় ? লক্ষ্মণ তো সুবিধের নয় .... 'প্রতিবিম্ব কোন উত্তর না দিয়ে ... ...