দীনবন্ধু জানাকে আপনারা চেনেন না নিশ্চয়ই। কি করেই বা চিনবেন। দীনবন্ধু জানা তো আর কেষ্টবিষ্টু কেউ না। পূর্ব মেদিনীপুরের হেঁড়িয়ায় বাড়ি। কলকাতায় শ্যামবাজারে একটা মেসে থাকে। বউবাজারে একটা নাম করা জুয়েলারির দোকানের কর্মচারি সে। মেসবাড়ি সংস্কৃতি এখন অবলুপ্ত। তবু পুরনো কলকাতায় দু একটা আছে এখনও। সেখানে ঢুকলে মনে হয় চল্লিশ বা পঞ্চাশের দশকে ঢুকে পড়েছি। শ্যামবাজারে এরকম আছে একটা ওই আর জি কর রোডের ওপর। প্রায় অমিয়বাবুর বাজারের ওপর বলা যায়। ওখানে দীনবন্ধুর সঙ্গে আরও পাঁচজনথাকে। তারা হাওড়া, মেদিনীপুর, বর্ধমান, বীরভূম বিভিন্ন জায়গার লোক। তারা অবসর পেলে তাস ... ...
থানার দুজন উর্দিহীন সাব ইন্সপেক্টর চোখের পলক ফেলতে না ফেলতে কলতানের কাছাকাছি এসে তাকে এদিক ওদিক খুঁজতে লাগল। কলতান বলল, ' এই যে ... আমি এখানে ... '। এস আই দুজন সঞ্জয় ঘোষ এবং প্রতীক চক্রবর্তী তার সামনে যেতেই সে তার দাড়ি পাগড়ি সব খুলে ফেলল। প্রতীকবাবু বললেন, ' আরে... কেয়াবাত .... আপনার সত্যি জবাব নেই ... কেউ চিনতেই পারবে না ...'। সঞ্জয়বাবু বললেন, ' মেক আপ দুর্দান্ত হয়েছে .... ' কলতানের কানে এসব কথা ঢুকছে না। সে বলল, ' ওসব বাদ ... ...
নটা বাজার মিনিট পাঁচেক আগে কলতান মাথায় একটা পাগড়ি পরে গালে দাড়ি লাগিয়ে নিল চট করে। এত দ্রুতবেগে কাজটা করল যে আশপাশের কেউ কিছু বুঝতেই পারল না। অনেক বছর ধরেই সে এ কাজটায় অভ্যস্ত। বাইকের রিয়ার ভিউ গ্লাসে নিজের মুখটা দেখে নিল। নিজেকে নিজে চিনতেই পারছে না। বারের ভিতরে ঢুকে কাউন্টারের একপাশে দাঁড়িয়ে ... ...
মাত্র দুবার রিং হবার পর ওদিকে কেউ ফোন তুলল। পুরুষকন্ঠে একটা ছোট আওয়াজ আসল --- ' হুমম্ '। কুলচা নার্ভ ধরে রেখে গলায় মধু ঢেলে বলল, ' হরি ওম '। মোবাইল নিঃশব্দ হয়ে গেল। স্পীকার অন করা করা আছে। বোঝা যাচ্ছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। ওপারের ভদ্রলোক বোধহয় সতর্কভাবে জল মাপছে ....। কুলচা ক্রিজে বেশ তাড়াতাড়ি সেট হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। সে ছোট্ট একটা গিগল মিশিয়ে আবার একবার বলল, ' হরি ... ও..ম '। এবার ছোট্ট একটা জবাবও এল ' লিডার '। এবার কি বলা যায় ভেবে না পেয়ে কলতানের কথা মতো ... ...
ফ্ল্যাটের আসল মালিক সরোজ ভরদ্বাজের ফোন নম্বরটা পাওয়ার পর কলতান বলল, ' রাকেশ মিশ্র, মানে যে এসে মাঝে মাঝে থাকে তার ফোন নাম্বারটাও দিন ... ' ভদ্রলোক রেজিস্টার হাতড়ে ফোন নম্বরটা বার করে কলতানকে দিলেন। কলতান ফোন নম্বরটা সঙ্গে মিলিয়ে দেখল সূর্য শ্রীবাস্তবের নম্বরের সঙ্গে মেলে কিনা। নম্বর মিলবে আশা করেনি এবং মিললও না। কলতান বলল, ' বিল্ডারের নাম এবং ফোন নম্বর দিন ' ভদ্রলোক বাধ্য বালকের মতো চুপচাপ একটা কার্ড বার করে কলতানকে দিল। পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ... ...
মুখের চানাচুর শেষ হলে অচিন্ত্য বলল, ' আপনি কাকে ফোন করেছিলেন ? ' --- ' সূর্য শ্রীবাস্তবকে। অবশ্য ওটাই আসল নাম কিনা শিওর নই। কিংবা সেই ফোন ধরল কিনা বলা মুশকিল। যাই হোক ধরে নেওয়া যাক এটাই সূর্যকুমার। তুমি কখনও ফোনে কথা বলেছ ওর সঙ্গে ? ' --- ' না না ... পাগল নাকি ? ' --- ' ওদের কিছু কোড ল্যাঙ্গুয়েজ জানা আছে তোমার ? ' --- ' হ্যা ... হরি ওম-টা জানি। গ্যাঙের মেম্বাররা একজন আর একজনকে এটা বলে ...' --- ' আর ফক্স টেরিয়ার ? ' --- ' হ্যা এটাও জানি ... এটা একটা সতর্কবার্তা। এর মানে ... ...
--- ' তুমি কি ভয় পাচ্ছ ? ' --- ' ভীষণ স্যার.... আমাকে দিয়ে যা করানোর করানো হয়ে গেছে। ওরা এখন আর আমাকে বাঁচতে দেবে না। আমি যে অনেক কিছু জানি ... ' --- ' কি জান তুমি ? ' বাইরে বৃষ্টি নামল। অচিন্ত্য দলুইকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে কলতান। সুর ইন্ডাস্ট্রিজের পাঁচিলের ধারে অচিন্ত্যর কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল কলতান। অচিন্ত্য কোন কারণে খুব ভয়ে ভয়ে আছে মনে হচ্ছে। বলল, 'আমি কিছু করিনি স্যার.... কিন্তু ওরা আমায় ভয় দেখাচ্ছে। বলছে যে জানে মেরে দেবে .... ' --- ' ওরা মানে কারা ? ভয়ই বা দেখাচ্ছে ... ...
এটা একটা ঘোরালো চক্র বুঝতে পারল কলতান। এটাও অনুমান করল মধুজা নামটা মোটেই আসল নাম নয়। বানানো নাম। মোবাইল নম্বরটা ট্র্যাক করার দরকার। তবে কলতান বিন্দুমাত্র বিচলিত হল না। চ্যালেঞ্জটা দিয়ে কলতান বেশ উত্তেজনা বোধ করতে লাগল। কিন্তু মনে একটা দুশ্চিন্তা জুটল অম্বরীশবাবুর জন্য। কলতান তাড়াতাড়ি অম্বরীশকে ফোন লাগাল। --- ' হ্যা... বলুন মিস্টার গুপ্ত .... কিছু বলবেন ? ' কলতান বুঝতে পারল তেমন কিছু ঘটেনি। বলল, ' না ... তেমন কিছু না ... বলছিলাম যে কোন প্রবলেম হয়নি তো কোন দিক ... ...
বৈকুন্ঠবাবু চিন্তাকুল মুখে বিদায় নিলেন। বিদ্যুৎ বলল, ' কলতানদা ... অম্বরীশবাবুকে দিয়ে এন্টালি থানায় একটা ডায়েরি করাতে হবে। ওটা ওদের জুরিসডিকশানে। আমি তো কাল ওখানে যেতে পারব না। আমি অবশ্য এন্টালি থানার ওসি বিমল মন্ডলকে কেস ডিটেলসটা দিয়ে একটা মেল করছি। ফোনেও কথা বলে নিচ্ছি। তুমি যদি কাল ফার্স্ট আওয়ারে অম্বরীশ চ্যাটার্জীকে দিয়ে একটা জেনারেল ডায়েরি করিয়ে নিতে পার ভাল হয় ... ওই গ্যাঙ অফ ফোরের নামে.... ' ---' হ্যা ... দেখছি ... কিন্তু বিদ্যুৎ ... চারজনের নামে না, ডায়েরিটা একজনের নামে ... ...
ফর্টিফাইভ বাই ওয়ান সূর্য সেন স্ট্রীট। এ টু জেড ডিজিটাল। বেলা এগারোটা। মাঝারি সাইজের দোকানঘর, পাঁচ ছ জন লোক কাজ করছে। অনেকগুলো কম্পিউটার এবং নানারকম যন্ত্রপাতি দেখা যাচ্ছে। একজন দাড়িওয়ালা লোক দোকানে এসে দাঁড়াল। বাইরে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। নানাধরণের কাজ নিয়ে এসেছে। দেখে মনে হচ্ছে বেশ চালু দোকান। একটা দাড়িওয়ালা স্বাস্থ্যবান লোক দোকানের ভিতর পা ... ...