হেদুয়ায় পুকুরের পশ্চিমদিকে একফালি জমি আছে রাস্তার দিকে। সেখানে একদিন এক বেঁটেখাটো মোটাসোটা ভদ্রলোক এলেন। গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবী এবং ধুতি পরা। ওখানে একজন বলল, ' ইনি হলেন অখিল নিয়োগী মানে, স্বপনবুড়ো। সবপেয়েছির আসর চালান সারা বাংলায়। এখানেও একটা করবেন বলে এসেছেন। ইনি নাকি বইও লেখেন। একটা বই সিনেমাও হয়েছে ---- বাবুই ... ...
বীরেনবাবু নিতাইবাবুর অফিসের সহকর্মী। নিতাইবাবুর বাসায় প্রায়ই আসেন। নিতাইবাবুর ছেলে মেয়ে তখন ছোট ছিল। বীরেনবাবু বাসায় এলেই তাদের মন আনন্দে নেচে ওঠে। তাদের সন্ধেবেলার লেখাপড়া মুলতুবী হয়ে যায়। বাবা মা কিছু বলে না। না না, বীরেন সান্যাল কোন খাবার দাবার আনেন না। কিন্তু অনেক গল্প নিয়ে আসেন। নানা রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চারের গল্প। বেশির ভাগই সমুদ্রের তলায় জলজন্তুদের মোকাবিলা করা ... ...
হেদুয়া পার্কের একপাশে রামদুলাল সরকার স্ট্রীট। কর্ণওয়ালিস স্ট্রিটের বুকের ওপর দিয়ে আড়াআড়ি বেরিয়ে গেছে ওদিকে দর্জিপাড়ার দিকে। ওই রাস্তাতেই মোড়ের মাথায় বইয়ের দোকান বৈকুন্ঠ বুক হাউস। খানকয়েক বাড়ির পরে নিতাইবাবুর মানে, নিতাইচন্দ্র ভট্টাচার্যের বাড়ি। ভাড়াবাড়ি আর কি। নিতাইবাবু পরিবার নিয়ে একতলায় থাকেন। রেল অফিসে চাকরি করেন। দোতলাতেও আর এক ঘর ভাড়াটে আছে। অনিল ঘোষ সেখানে তার পরিবার নিয়ে থাকেন। বাড়িওয়ালা বিভূতিবাবু, বিভূতিভূষণ দত্ত সপরিবারে তিনতলায় থাকেন। তার বয়স প্রায় ষাট বছর। বায়োস্কোপ দেখার খুব শখ। একা একাই দেখেন। তার স্ত্রী যান তার ... ...
(শেষ পর্ব) কলতান হেসে হরিপ্রসাদকে বলল, ' আসুন আপনারা .... আমরা পেছনের ঘরে বসে একটু কথাবার্তা বলি .... 'আগরওয়ালজি একগাল হেসে বললেন, ' হ্যাঁ চলুন স্যার ... 'স্বামী স্ত্রী দুজনে কলতানের পিছন পিছন একটা ঘরে গিয়ে ঢুকল। অনেক পুরণো বাড়ি, ছোট বড় মিলিয়ে অনেকগুলো ঘর। ----- ' বসুন বসুন হরিজি। বসুন ম্যাডাম ... আপনাদের মতো ওয়েল ম্যাচড পেয়ার আমি বেশি দেখিনি। খুব ভাল লাগে আপনাদের ... ...
কুলচাকে নিয়ে কলতান বাড়ি ফিরল রাত দশটা নাগাদ। থানা থেকে বেরোবার সময় গৌতমবাবুকে জিজ্ঞেস করল, ' নিউআলিপুর থানার এনকাউন্টারে কোন ইনজিওরি হয়েছে কিনা জানেন কি ? '----- ' না না ... কোন ইনজিওরি নেই। আমি রিপোর্ট নিয়েছি .... ওটা হলে তো আবার হসপিটালের চক্কর আছে ... ওঃ... '----- ' ঠিক আছে, আমি বেরোচ্ছি। আমার ডিউটিশেষ। এবার আপনারা প্রসিড করুন .... '----- ' কি যে বলেন ... আপনার ডিউটি কখনও শেষ হয় ? যাক কোর্ট কেসটা তো চালু হোক ... '----- ' সেটাই তো বলছি .... বেল আটকানোর জন্য যা করতে হয় করবেন ... অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার স্যারের ... ...
কলতান বলল, ' এনাফ ইজ এনাফ ... মিস্টার রক্ষিত... এবার ওর কাছ থেকে মোবাইলটা নিয়ে নিন ... আশা করি আমাদের কাজ হয়ে গেছে। ওটা সাইবার সেলে পাঠানোর দরকার। আমার ধারণা ওতে এদের কিংপিনের ট্রেস পাবেন .... ' গৌতমবাবু তার পিস্তল লোড করতে করতে বললেন, ' সুনীতা, অপর্ণা ... ওর মোবাইল সিজ কর এক্ষুণি। আর...বডি ফ্রিস্ক করে দেখ কিছু পাও কিনা। কাউন্টার চার্জ করলে কাস্টডি হাজতে লক করে দাও .... হারি আপ .... আমি বাইরে যাচ্ছি ... 'সুনীতা আর অপর্ণা ছুটে গেল জ্যাকলিনের দিকে। জ্যাকলিন কোন বাধা দিলেন না। মোবাইলটা দিয়ে দিল ওদের। সুনীতা ... ...
কলতান বলল, ' আসুন আসুন ... আমি আপনাদের জন্যই ওয়েট করছি ... 'গৌতম রক্ষিত অবাক হয়ে এর ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন। কুলচারও একই অবস্থা। ----- ' আপনি জানতেন আমরা আসব ? ' সুগত সেন বললেন। ----- ' হ্যাঁ .... সেটা তো না জানার কিছু নেই। আমি আপনাদের কোড ল্যাঙ্গুয়েজ না বুঝতে পারি কিন্তু মনের ভাষা তো কিছুটা পড়তে পারি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই আপনাদের মতো ইন্টারেস্টিং লোকেদের ফোনের কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনার আমার খুব শখ। সব কথা যে ঠিক ঠিক ধরতে পারি তা নয়, তবে ধরার চেষ্টা করি। সুগতবাবু কিছু মনে করবেন না ... ... ...
কলতান আর সিদ্ধার্থ সিনহাকে ঘরে ঢুকতে দেখেমিসেস সিনহা মোবাইল থেকে মুখ তুলে ওদের দিকে তাকালেন। মিষ্টি সংবেদনশীল হাসি হেসেসিদ্ধার্থবাবুর দিকে এগিয়ে এলেন। ----- ' ইশশ্ ... দুদিনেই কি চেহারা হয়েছে ... মাগো ... ' দুচোখে বিষণ্ণ ছায়া নেমে এল জ্যাকলিনের। কুলচা সব কিছু ভুলে গিয়ে ওনার অভিনয় দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হতে লাগল । জ্যাকলিন একটা কমলা চিউয়িং গাম মুখে দিল। তারপর একটু সরে গিয়ে দাঁড়াল। কলতান গৌতমবাবুকে বলল, ' আমরা কি পাশের ঘরে বসব ? '----- ' হ্যাঁ, সেটাই বেটার হবে। ওখানেই ... 'কলতানকে একপাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে উনি নীচুগলায় বললেন, ' অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার স্যারকে ... ...
ওপরের ছোট ঘরটাতে একটা ছোট টেবিল আর তিনটে চেয়ার আছে। একপাশে একটা তিন তাকওয়ালা দেয়াল আলমারি আছে। তাতে পুরণো ফাইল আর কাগজপত্র ঠাসা। কোন সিলিং ফ্যান নেই। একটা পেডেস্টাল ফ্যান আছে।বনবন করে ঘুরছে। কলতান বসে আছে মিস্টার সিনহার অপেক্ষায় মিনিট পাঁচেক ধরে। সিদ্ধার্থবাবুকে একজন কনস্টেবল ওপরে পৌঁছে দিয়ে গেল। বিকেল চারটে বাজতে চলল। ------ ' আসুন আসুন মিস্টার সিনহা ... বসুন 'মিস্টার সিনহা কলতানের সামনের চেয়ারটায় বসে পড়লেন। ----- ' আপনার কোন অসুবিধে হচ্ছে না তো এখানে? ' কলতান খোঁজ নেয়। ----- ' মিনিংলেস কোশ্চেন ... এখানে সুবিধেটা কি হবে ... এটা কি মামার বাড়ি ... ...
কলতান এবং কুলচা সহ বালীগঞ্জ থানার দলবল মিসেস সিনহাকে নিয়ে থানায় এসে নামল। কলতান বলেছিল, 'একটা ক্যাব বুক করে দিচ্ছি তুই বাড়ি ফিরে যা ...তোর তো এখন কোন কাজ নেই এখানে ... '। কিন্তু কুলচা ফিরে যেতে রাজি হল না। সে আরও উত্তেজক নাটক দেখার লোভ সংবরণ করতে পারল না। কুলচাকে দেখে গৌতম রক্ষিত কলতানের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে ঠোঁট উল্টে মাথা ওপর নীচ করলেন। কলতান বলল, ' আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট... '----- ' ও আচ্ছা আচ্ছা .... গুড আফটারনুন ... ...