সন্ময় সেদিন মাঠেই বলেছিল, ' হোয়াইট বর্ডারের সঙ্গে খেলাটা কোন মাঠে পড়েছে বড়দা ? ' ---- ' ওদের মাঠেই। '----- ' খুব টাফ টিম। তাছাড়া ওদের মতো উইকেট বানাবে। এই ক'দিনের মধ্যে অন্তত চারদিন সলিড প্র্যাকটিস চাই। এই গেমটা খুব ভাইটাল। এটা জিতে রাখতে পারলে ... অনেকটা অ্যডভান্টৈজ ... ' ইরাবান সন্ময়ের কথাটা সমর্থন করল, ' একদম ঠিক কথা। ওদের ব্যাটিংয়ে ডেপথ আছে। তিনটে ভাল স্পিনারও আছে। ওরা যে স্পিনিং ট্র্যাক বানাবে এটা শিওর .... আর একটা কথা বলে রাখছি, দীপেনদাকে আগেও বলেছি.... আমি কিন্তু উইকে দুদিনের বেশি প্র্যাকটিসে আসতে পারব না ... ...
রাত নটা নাগাদ সন্ময়ের কাছে দীপেন বাবুর একটা ফোন এল। ---- ' হ্যা... বলুন স্যার .... ' ----- ' হ্যা ... সন্ময় একটু ডিসটার্ব করছি ... কাল নেট পড়ছে তো ? '----' হ্যা পড়বার তো কথা আছে ... কেন স্যার ? '---- ' কাল একজন যাবে একটা নাগাদ। তোমার সঙ্গে দেখা করতে বলেছি ... '---- ' কোনও প্লেয়ার ? ' ---- ' হ্যা ... ইরাবান মুখার্জি ... '---- ' ইরাবান মুখার্জি ... মানে বেনিয়াটোলা অ্যথলেটিক্স -এর ওই ... '----- ' হ্যা হ্যা ... ওই। ওর মতো ব্যাটসম্যান এই লেভেলে পাওয়া মুশকিল। অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি ... ওই চার নম্বরের ... ...
মিনতি এগারো দিন হাসপাতালে ছিল। তার মধ্যে পাঁচদিন স্পেশাল কেবিনে। বাইশ রকম টেস্ট হয়েছে। ব্রেনের সি টি স্ক্যানও বাদ যায়নি। সোডিয়াম পটাশিয়ামের মাত্রা ভীষণভাবে নেমে গেছে। মূত্রে ভালোরকম সংক্রমণ আছে। একটা কিডনি স্বাভাবিকের থেকে আয়তনে ছোট। এনলার্জড হার্টের সমস্যা আছে। হিমোগ্লোবিন বেশ কম। তবে কোন সমস্যাই প্রাণঘাতি নয়। মিনতি শতকরা নব্বই ভাগ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এল। টোপাই আর লোকনাথ গিয়ে মিনতিকে বাড়ি নিয়ে এল দীপেনবাবুর গাড়িতে। হাসপাতালের মোট বিল হল চার লাখ একুশ হাজার টাকা। তাছাড়া দীপেন বাবুর নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতাল থেকেই এক মাসের ওষুধ কিনে ... ...
স্বপ্নেন্দু ঘোষ আর আকাশ কুন্ডু ইনিংস ওপেন করল। দুজনেরই গত বছরের পারফর্মেন্স মোটেই আশাপ্রদ নয়। অনেক মাজাঘষা করা হয়েছে এই সিজনের আগে। শিবাজীর বোলিং শক্তি তেমন কিছু নয়। টার্গেটও সামান্য। তবু কিছু বলা যায় না ক্রিকেট খেলায়। আকাশ আর স্বপ্নেন্দু স্বচ্ছন্দে স্ট্রাইক রোটেট করতে লাগল প্রথম ওভার থেকেই। দুটো বাউন্ডারি এল স্বপ্নেন্দুর ব্যাট থেকে পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় আর ষষ্ঠ বলে। পাঁচ ওভারে আঠাশ। নতুন ওভার শুরু করতে যাচ্ছে একজন মিডিয়াম পেসার। আকাশের স্ট্রাইক। আগের ওভারে তার পার্টনারকে দুটো চার মারতে দেখে তার মনে হল তারও কিছু করে দেখানো দরকার। প্রথম বল ... ...
পরের ব্যাটসম্যান সুমিত পাঁজা ব্যাট করতে নামছে। সুমিত ব্যাটিং অলরাউন্ডার। মাঝারি মানের অফস্পিনার। কিন্তু রীতিমতো ভাল ব্যাটসম্যান। ফুটওয়ার্ক খুব ভাল। বিতান কাঞ্জিলালের ওভারের পঞ্চম বল। সন্ময় টোপাইকে স্কোয়্যার লেগ থেকে সরিয়ে লেগ স্লিপে নিয়ে এল। লেগ অ্যন্ড মিডলে পুরো লেংথের ইনসুইং। একটু জড়সড় ভঙ্গীতে হাফকক মতো খেলল সুমিত। ব্যাটের বাইরের দিকের কানায় লেগে উইকেটকিপারের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে গেল বাউন্ডারিতে তড়িৎগতিতে, লেগস্লিপ থেকে টোপাই নড়বার আগেই। শেষ বল লেংথে ছোট। অফস্টাম্পের বাইরে। সুমিত ব্যাকফুটে গেল। নিখুঁত পাঞ্চ। কভার আর এক্স্ট্রাকভারের মাঝখান দিয়ে চার। তিন উইকেটে তেইশ। ক্যাপ্টেন শৌভিক ... ...
সকাল সাতটা নাগাদ ঘুম ভাঙল টোপাইয়ের। দেখল মিনতি আগেই উঠে বসে আছে। বাবাও উঠে পড়েছে। বাইরে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করছে। রুকু আর ভাই সৌমিক এখনও শুয়ে আছে। টোপাই তাড়াতাড়ি মায়ের পাশে গিয়ে বসল। ----- ' এখন শরীরটা কেমন লাগছে মা ? 'কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর আছে কিনা। ----- ' এখন ঠিক আছি ... জ্বরটা নেমেছে মনে হচ্ছে ... '----- ' নামলেই ভাল। নাহলে অজিতাভ পালের কাছে নিয়ে যাব সন্ধেবেলা। 'লোকনাথ গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকল। ----- ' হ্যা ... আবার জ্বর এলে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া উচিৎ ... চারদিকে যা সব হচ্ছে ... ... ...
শশী ঠাকুরমার পুরো নাম শশীবালা ভট্টাচার্য্য। বয়স পঁচাশি পেরিয়ে গেছে। শরীর ঝুঁকে গেছে। একটা লাঠি নিয়ে ঠুক ঠুক করে চলেন। চোখে মোটা ঘোলাটে কাঁচের মান্ধাতার আমলের চশমা। তিনকূলে তেমন কেউ নেই। দূর সম্পর্কের এক ভাগ্নে আছে, শিবশঙ্কর। বড় ভাল লোক। তারও বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। সে আহিড়িটোলা থেকে প্রায় প্রতিদিন এসে মামীর দেখাশোনা করে। যতদিন মামী বাঁচবে শিবশঙ্করকে বিবেকের তাগিদে এ কর্ত্তব্য পালন করে যেতেই হবে। আজও লাঠিটায় ভর দিয়ে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শশীবালা। বোধহয় শিবশঙ্করের আগমনের অপেক্ষা করছিলেন। শিবশঙ্কর সাধারণত সন্ধে সাতটার আগে আসে ... ...
টোপাই বাবার ভাঙা সাইকেলটা নিয়ে মন্ডলপাড়ায় রেশান দোকানের দিকে যাচ্ছিল। পাড়ায় অনিতা মাসী খবর দিল যে, রেশানে কাল চাল ঢুকেছে। যেতে যেতে রাস্তায় দুবার চেন খুলে গেল সাইকেলের। দোকানে গিয়ে দেখল বিরাট লাইন। সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী রাস্তার একপাশে ছোট কার্ড আর থলে হাতে নিয়ে হতাশ মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। টোপাই সিদ্ধেশ্বরবাবুর সামনে গিয়ে সাইকেল থেকে নামল। ----- ' কিরে ..... এখন এলি ? আজ আর কিছু পাবি না .... কাল ভোরে এসে লাইন দিতে হবে আমাদের .... '----- ' কেন ? '----- ' এ...ই আজ বলছে কুড়িজনের বেশি পাবে না। আবার কাল কুড়িজন। লাইনে তো দেখছিঅন্তত ... ...
( শেষ পর্ব )পরদিন দুপুরবেলা বড়পুকুরে ডুবুরি নামল। আদালতের নির্দেশ। কলতানের অনুমান এবং গুল্টুর চাক্ষুষ বিবরণ সত্য প্রমাণিত করে পুকুরে ডুব দেওয়া ডুবুরি জলের তলা থেকে আট ইঞ্চি লম্বা একটা ছুরি তুলে নিয়ে এল। জং ধরেনি, কারণ জলের তলায় অক্সিজেনের অভাব। আদালত আর সময় দিল না। অসুস্থতার আর্জি বিচারক গ্রাহ্য করলেন না। হৃদয় এবং বসন্ত শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনে কোর্টে হাজিরা দিল। সঙ্গে প্রচুর দলবল। তিনটে টাটা সুমোয় করে এসেছে। তারা কোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রচুর হৈ চৈ করছে। দেবমাল্য মৌসুমীকে বলল, ' একদম নার্ভাস হয়ো না ..... ওরা কিচ্ছু করতে ... ...
খালি খাতা জমা দেবার কথা শুনে কলতান বলল, ' এ..টাই আমি ভাবছিলাম। গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে তুই যে রোবট হয়ে যাসনি এটা প্রমাণ হল। সোদপুরে শান্তনীড় আবাসনে ইনভেস্টিগেট করতে গিয়ে আমারও এরকম রেভেলেশান হয়েছিল। ঠিক আছে ... নেভার মাইন্ড ... যা করেছিস বেশ করেছিস ... তুই পারলে কাল সকালের দিকে একবার আয় ... 'মৌসুমী মৃদুস্বরে বলল, ' আ..চ্ছা ' ফোন রেখে দেবমাল্যর দিকে ফিরল কলতান।----- ' মৌসুমী ওভারলোডেড হয়ে গেছে। লোড থেকে রিলিভ করতে হবে এনিহাউ ... বুঝলে ? ----- ' হ্যা ... ঠিক কথা ... ' ----- ' তুমি হিয়ারিং-এর ডেটটা বার করার চেষ্টা কর ... ... ...