( ২ ) দ্বৈপায়নের বোনের বিয়ের কাজ মিটে গেছে। বোন শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে। সে অফিস থেকে তিনদিন ছুটি নিয়েছিল। আজ অফিস যেতে হবে। তৈরি হচ্ছিল সকাল নটা থেকে। এই বাথরুমে ঢুকবে এবার। এই সময়ে দ্বৈপায়নের মোবাইল বেজে উঠল। ---- ' হ্যা... কলতান বল। কি সৌভাগ্য ... সকাল বেলাতেই আমাকে স্মরণ করলি ... তোর তো এখন বিরাট ব্যাপার ... যাক, সেদিন সব ঠিকমতো হয়েছিল তো .... আমি একা লোক ... তেমন দেখাশোনা করতে পারিনি .... আসলে ব্যাপার ... ...
( ১ ) দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের বোনের বিয়ে। সাড়ে নটা নাগাদ বুফে টেবলগুলোর ধারে ভালরকম ভিড় লেগে গেছে। নিমন্ত্রিত অতিথিদের খাদ্যগ্রহণের এটা হল ব্যস্ততম সময়। এই ঢেউটা চলবে আরও প্রায় একঘন্টা। দেখে মনে হচ্ছে অন্তত শ ছয়েক লোককে নেমন্তন্ন করেছে এরা। খাওয়ার হলটা তেমন প্রশস্ত নয়। ফলে বুফে কাউন্টারে গিয়ে বারংবার খাবার নেওয়া এবং ভোজন প্রক্রিয়া খুব মসৃনভাবে হচ্ছে না। সামান্য অনিচ্ছাকৃত ঘাড়ের কাছে ... ...
কাল থেকেই আজ আকাশ মেঘমেদুর। টিপটিপ করে বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। বিবর্ণ নিষ্প্রভ দিন। রাস্তায় লোকজন কম। অঞ্জলি বলল, ' আজ কিন্তু খিচুড়ি খাবার দিন ... ' ----- ' তা কর না ... সঙ্গে মামলেট ... আজ আর অফিস যেতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে পড়ে পড়ে ঘুমোই। দীনবন্ধুর খবর নেই অনেকদিন। কোথাও গেছে নাকি ? ' নিতাইবাবু বললেন। ----- ' না না কোথায় আবার যাবে। ওর বউয়ের ... ...
কালীকিঙ্করবাবুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সেই যে রিটায়ার করার মাসখানেক আগে নিখিল ব্যানার্জীর বাড়িতে এসেছিলেন কিছুক্ষণের জন্য তার পর থেকে তার আর খোঁজ নেই। সাগর আর রাত্রি এর মধ্যে দুবার বটতলায় থানায় গিয়ে খোঁজ করে এসেছে। ওরাও ঠিকমতো কিছু বলতে পারল না। তাছাড়া আগের কর্মীরা প্রায় কেউই এখন এ থানায় নেই। নতুন ওসি বললেন, ' সাত আট মাস আগে একবার এসেছিলেন ... ...
সময় তো আর থেমে থাকবার নয়। বার্ষিক গতিচক্রের নিয়ম মেনে পৃথিবী আরও দুবছরের বুড়ো হয়ে গেল। এল ১৯৬৬ সাল। ১৯৫৯ -এর মতো ১৯৬৬ সালেও শুরু হল ব্যাপক খাদ্য আন্দোলন। চাল ডাল থেকে শুরু করে আলু বেগুনে পর্যন্ত আগুনের ছ্যাঁকা লাগল। চারদিকে সে কি অশান্তি। মধ্যবিত্ত গেরস্থরা একবেলা গমের খিচুড়ি খেতে লাগল। আলুর বদলে কাঁচকলা সেদ্ধ খাওয়া অভ্যেস করে ফেলতে লাগল সরকারের পরামর্শ মেনে। বছর দুই আগে কমিউনিস্টরা দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে চিন ভারতের যুদ্ধ নিয়ে মন কষাকষি করে দলের লোকেদের ... ...
সন্ধে সাড়ে ছটার সময় বিভূতিবাবু পাড়ার প্রবীণ চিকিৎসক হরিপদ মিত্রকে নিয়ে এলেন। জন্মেজয়বাবু তখন অঘোরে ঘুমোচ্ছেন। ধুতি পাঞ্জাবী পরা পক্ককেশ স্থূলকায় প্রচুর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হরিপদ মিত্র মশাই কোন তাড়াহুড়ো করলেন না। জন্মেজয়বাবুকে জাগালেনও না। বিছানার সামনে একটা চেয়ারে বসে তাকে একমনে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন কোলের ওপর হাত রেখে। দেখলেন রোগীর পা বেশ ফোলা। শ্বাসের ধরণ ... ...
সাগর আবার এসে চোরবাগানের গলির মধ্যে ভাঙাচোরা বাড়িটায় এসে কড়া নাড়ল। নেড়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। আবার কড়া নাড়ার পর ঠিক আগের দিনের মতোই দরজা খুলল কানুর বৌদি রানু। সাগরকে দেখে ঠিক আগের দিনের মতোই গায়ে ভাল করে আঁচল জড়িয়ে নিল। সাগরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে আগেই। অর্থ সাহায্যের কথাও সে ভুলে যায়নি। সে সেই রকমই দরজার একটা পাল্লা ধরে ... ...
সাগরের বুঝতে অসুবিধে হল না স্বরূপ খাঁড়ার নির্দেশে শক্তিপদ বিশ্বাস আর মুচিপাড়া থানার ওসি পরিতোষ কর্মকার মিলে কানুর দাদা প্রীতিময়কে টাকার টোপ দিয়ে কানুকে কোথাও ডেকে নিয়ে যায় কাউকে বাঁচানোর নাম করে। তারপর কোথায় কখন কিভাবে কানুকে মারা হল সেটা বার করা গোয়েন্দাদের কাজ। সাগরের গোয়েন্দাগিরি করার কোন উৎসাহ নেই। তার মাথায় ঘুরছে বদলার আগুন। কানুর কথা ভাবলেই তার মাথায় আগুন ... ...
রাত একটা বেজে গেল। কাবেরীর কবিতা লেখার নেশা ধরেছে। লিখছে আর কাটছে। যেন অদৃশ্য কার সঙ্গে কাটাকুটি খেলা চলছে কাবেরীর। কেটেকুটে চেঁচে ছুলে যাহোক একটা দাঁড়াল শেষ পর্যন্ত। রাত সওয়া দুটো বাজে। কাবেরীর বেশ ক্লান্ত লাগছে এবার। এই সব ছাই পাঁশ সে কেন যে লিখছে কে জানে। এগুলো কার কি কাজে লাগবে ? অবশ্য দু একজন শ্রোতা বা পাঠক যাই ... ...
ঘরটায় মনে হচ্ছে অনেকদিন ঝাঁট পড়েনি। দেয়ালের এ কোণে ও কোণে ঝুল জমেছে। ঘরে কয়েকটা চেয়ার আর একটা মাঝারি সাইজের টেবিল আছে। একপাশে একটা ক্যাম্বিশের খাট কাত করে রাখা আছে। মজিদ আর বাবলু রাত ন'টা নাগাদ ঢুকে দেখল মনোরঞ্জনবাবু একটা চেয়ারে বসে সিগারেট টানছেন। ঘরে একটা ষাট পাওয়ারের বাল্ব জ্বলছে। মনোরঞ্জন বললেন, ' হুঁ ... আয় আয় ... পকেটে মেশিন টেশিন ... ...